“আমি আবার নিয়মিত কাজ করতে চাই”
- প্রকাশের সময় : ০৪:২৯:৫৪ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৬ নভেম্বর ২০২২
- / ২৫৪ বার পড়া হয়েছে
নিজস্ব প্রতিবেদক, প্রতিদিনের পোস্ট || আমি আবার নিয়মিত কাজ করতে চাই|
১৯৮৫ সালে পত্রিকায় একটা বিজ্ঞাপন ছাপা হতো- একটি শিশু কোলে নিয়ে এক নারীর ঝকঝকে দাঁতের হাসি! বিজ্ঞাপনটা ছিল স্পার্কেল টুথপেস্টের। ১৯৭৬ সালে যিনি শিশুশিল্পী হিসেবে নতুন কুঁড়িতে পেয়েছিলেন পুরস্কার। খুব ছোট বয়সেই সংগীতেও তালিম নিতে শুরু করেন তিনি। বেশ কিছু দিন সংগীত ও মডেলিংয়ে দাপিয়ে বেড়িয়েছেন; কিন্তু বিয়ের পর থেমে যায় তার পথচলা। স্বামী চাননি স্ত্রী মিডিয়ায় নিয়মিত কাজ করুক। তার পর বয়ে গেছে অনেকটা সময়। দীর্ঘ বিরতির পর আবার তিনি ফিরেছেন মিডিয়ায়। গান ও মডেলিংয়ে নিয়মিত লক্ষ করা যাচ্ছে তার পদচারণা। তা নিয়েই কথা হয় উল্কা হোসেনের সঙ্গে। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন- লাবণ্য লিপি
ইদানীং অনেক কাজ করছেন। গান, মডেলিং- কোন ক্ষেত্রে বেশি ব্যস্ততা?
গান ও নাটক দটোই সমানতালে করছি। আসলে যেটার সুযোগ পাচ্ছি, পছন্দ হলেই করছি। এর মধ্যে অনেক বিজ্ঞাপন করেছি। টিভিসি করেছি বেশ কয়েকটি। রাঁধুনী গুঁড়া মসলা, গ্রামীণফোন, এবি ব্যাংক, ব্র্যাক ব্যাংক, মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংক, এভারকেয়ার হাসপাতাল, মেটলাইফ এলিকো, অ্যাপেক্স শু, কুমারিকা হেয়ার অয়েল, বিভো ফোন, প্রাইম ব্যাংক, সিঙ্গার, আরএফএল, বসুন্ধরা চানাচুর, নরস্যুপ, লুসি অলিভ অয়েল, বেঙ্গল মিট ইত্যাদি। আর গানও করছি প্রায় নিয়মিত। বিটিভিসহ বিভিন্ন চ্যানেলে গান করছি। এ ছাড়া পত্রিকার লাইফস্টাইল পাতায়ও মডেল হিসেবে কাজ করছি।
শিশু শিল্পী থেকে মিডিয়ায় কাজ শুরু করেছিলেন। তার পর একটা দীর্ঘ বিরতি। নতুন করে ফেরার পর কোনো সমস্যায় পড়তে হয়েছিল?
সমস্যা তেমন হয়নি। বরং খুব ভালো রেসপন্স পাই দর্শকদের কাছ থেকে। অনেকেই ফোন করে এবং বিভিন্ন মাধ্যমে তাদের ভালো লাগার কথা জানায়। আমি এতে আরও কাজ করার আগ্রহ পাচ্ছি। সত্যি বলতে কি, খুব আফসোস হয়। মনে হয় যদি কাজে বিরতি না দিতাম তবে এতদিনে একটা ভালো জায়গায় পৌঁছতে পারতাম। তবু সবার প্রতি আমার কৃতজ্ঞতা, আমি সবার ভালোবাসা পেয়েছি!
মডেলিং ও গানের কথা তো জানলাম। নাটকে কাজ করার ইচ্ছে আছে কি? যতদূর জানি আপনি একটা নাটকেও কাজ করেছিলেন…
– জ্বি, ‘আমি ভাঙনের শব্দ শুনি’ নাটকে হুমায়ুন ফরীদির স্ত্রীর চরিত্রে অভিনয় করেছিলাম। অত বড় একজন গুণী শিল্পীর সঙ্গে কাজ করার সুযোগ হয়েছিল আমার; কিন্তু পরবর্তী সময়ে যেহেতু মিডিয়ায় কাজ করা ছেড়ে দিয়েছিলাম, তাই আর সম্ভাবনাটা কাজে লাগাতে পারিনি। এখন আমি আবার নাটকে কাজ করতে চাই। সত্যি বলতে কি, এখন আমি সিরিয়াসলি কাজ করতে চাচ্ছি নাটকে; কিন্তু এখন ভালো অফার পাচ্ছি না। আমি একটা ভালো অফারের অপেক্ষায় আছি। তা হলে অভিনয় দক্ষতাটাও একটু ঝালিয়ে নিতে পারব।
কথা বলতে গিয়ে যেহেতু একটা বিরতির প্রসঙ্গ আসছে। এই বিরতিটা আপনাকে কেন নিতে হয়েছিল?
– আমাদের দেশের মেয়েদের ক্ষেত্রে যা হয় আর কি! বিয়ের পর আমার শ্বশুরবাড়ির লোকেরা, স্বামী তেমন পছন্দ করছিলেন না মিডিয়ায় আমার কাজ করা। তার পর বাচ্চা হলো। ছোট বাচ্চাকে নিয়ে ব্যস্ত হয়ে পড়লাম। সব কিছু মিলিয়ে কাজে বিরতি পড়ল; কিন্তু আমার মনে এক ধরনের অভিমান হয়েছিল। তাই মনে হয় বিরতিটা লম্বা হয়েছিল; কিন্তু আমার রক্তে মিশে আছে গান, অভিনয়। তাই আবার কাজে ফেরা। এখন আমার বাচ্চারা বড় হয়ে গেছে। আমার হাতে প্রচুর সময়। আমি কাজে মন দিতে পারছি।
গান তো শুনেছি আপনি খুব ছোটবেলা থেকে শুরু করেছিলেন। তো আপনার তেমন কোনো গানের অ্যালবাম কেন হয়নি?
– এটা সত্যি যে, খুব ছোটবেলা থেকেই বিভিন্ন ওস্তাদের কাছে আমার গানে তালিম নেওয়া শুরু হয়। ওস্তাদ ফুল মুহাম্মদের কাছে আমি শাস্ত্রীয় সংগীতে তালিম নেই। এ ছাড়াও ওস্তাদ সোহরাব হোসেন, খালিদ হোসেন, সুধীন দাসের কাছে আমি নজরুল সংগীত শিখেছি। শুধু ওনারাই নন, আরও বেশকজন ওস্তাদের কাছে আমি গান শিখেছি। দশ বছর বয়সেই আমি বিটিভির তালিকাভুক্ত শিল্পী হই। আমার মা আমাকে নিয়ে খুব কষ্ট করেছেন। তখন তো একটা অনুষ্ঠানের মহড়া চলত কয়েকদিন ধরে। আম্মা দিনের পর দিন আমাকে নিয়ে পড়ে থাকতেন। সব কিছু খুব মনে পড়ে। আমি আবার নিয়মিত কাজ করতে চাই। আমার যেখানে পৌঁছানোর কথা ছিল সেখানে পৌঁছতে চাই; অন্তত চেষ্টা করতে চাই।
এই ওয়েবসাইটের কোন লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার সম্পূর্ণ বেআইনি এবং শাস্তিযোগ্য অপরাধ । রিপু /প্রতিদিনের পোস্ট























