“কাদেরের হ্যাটট্রিক নাকি আউট, সম্ভাবনা দু’দিকে”
- প্রকাশের সময় : ১২:০০:০৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৮ নভেম্বর ২০২২
- / ২৪৫ বার পড়া হয়েছে
নিজস্ব প্রতিবেদক, প্রতিদিনের পোস্ট || কাদেরের হ্যাটট্রিক নাকি আউট, সম্ভাবনা দু’দিকে|
ক্ষমতাসীন দল বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের বর্তমান সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের টানা দুই মেয়াদে এই দায়িত্বে আছেন। এর আগে কোনো সাধারণ সম্পাদক টানা তিন মেয়াদে দায়িত্ব পালন করেননি। তাই এবার মূল আলোচনা ওবায়দুল কাদের কি বাদ যাচ্ছেন, নাকি তিনি হ্যাটট্রিক করছেন?
আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে রাজনীতির মাঠ। বিএনপির বিপুল জমায়েত নিয়ে সমাবেশের পাল্টায় আওয়ামী লীগও নানা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে নিজেদের শক্তি দেখাচ্ছে। এরই মধ্যে আগামী ২৪ ডিসেম্বর জাতীয় সম্মেলন আয়োজন করছে ক্ষমতাসীন দলটি। ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে ওই সম্মেলনেই ঠিক হবে আগামী তিন বছরের জন্য কারা আওয়ামী লীগের নেতৃত্ব দেবেন।
আওয়ামী লীগের নীতিনির্ধারণী সূত্র বলছে, সভাপতি হিসেবে শেখ হাসিনাই থাকছেন—এটা প্রায় নিশ্চিত। আর সাধারণ সম্পাদক ঠিক করেন সভাপতি নিজেই। এবার কে হতে পারেন সাধারণ সম্পাদক—এ বিষয়ে দলীয় সভাপতি এখন পর্যন্ত তার মনোভাব প্রকাশ্যে বা ঘনিষ্ঠ নেতাদের কাছে প্রকাশ করেননি। সাধারণত তিনি জাতীয় সম্মেলনের তিন থেকে সাত দিন আগে বিষয়টি খোলাসা করেন। এবারও এমনটাই হওয়ার কথা।
আওয়ামী লীগের দলীয় সূত্রে জানা গেছে, আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনের এক বছর আগের এই সম্মেলনে ওবায়দুল কাদেরকে সাধারণ সম্পাদক হিসেবে রেখে দেওয়া এবং নতুন কাউকে নির্বাচন করা—এই দুটি সম্ভাবনা নিয়েই আলোচনা আছে। কেউ কেউ বলছেন, জাতীয় নির্বাচন ও বিরোধীদের আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে ওবায়দুল কাদেরকে রেখে দেওয়া হতে পারে। সাম্প্রতিক সময়ে সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডে ওবায়দুল কাদেরের বাড়তি তৎপরতাও দেখা যাচ্ছে। নানা কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে তিনি বিএনপি নেতাদের অভিযোগের জবাব দিয়ে আসছেন। বিএনপির সঙ্গে আন্দোলন ও ভোটের মাঠে ‘খেলা হবে’ বলেও বলছেন তিনি। করোনা মহামারির মধ্যে দীর্ঘদিন দৃশ্যত বাইরে না আসা ওবায়দুল কাদেরের এই রাজনৈতিক তৎপরতা তার অনুসারীদের আশা দেখাচ্ছে।
অপর দিকে ভেতরে-ভেতরে এক ডজনের মতো নেতা সাধারণ সম্পাদক পদের দাবিদার হিসেবে নিজেদের উপস্থাপন করার চেষ্টা করছেন বলে জানা গেছে।
আওয়ামী লীগের টানা ক্ষমতায় থাকার গত ১৩ বছরে দলের জাতীয় সম্মেলন হয়েছে তিনবার। প্রতিবারই নেতৃত্ব নির্বাচন হয়েছে সমঝোতার ভিত্তিতে, কাউন্সিলরদের গোপন ভোটে নয়। সম্মেলনের আগে কোনো পদে কেউ আনুষ্ঠানিক প্রার্থিতা ঘোষণা করেননি, প্রচারেও নামেননি কেউ। তবে ভেতরে-ভেতরে কাঙ্ক্ষিত পদ পেতে দৌড়ঝাঁপ করেছেন নেতারা। এবারও এর ব্যতিক্রম হবে না বলেই মনে করছেন দলের নেতারা।
সাধারণ সম্পাদক পদে আলোচনায় যারা:
২০০৯ সালে দলের সাধারণ সম্পাদক হন প্রয়াত সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম। এর আগে থেকেই বর্তমান সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের এই পদে আসার সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা ছিল। সৈয়দ আশরাফ দুই মেয়াদে দায়িত্ব পালনের পর ওবায়দুল কাদের এই পদে আসেন ২০১৬ সালে। এখন তিনি দ্বিতীয় মেয়াদে দায়িত্ব পালন করছেন। গত দুই সম্মেলনে ওবায়দুল কাদেরের পাশাপাশি দলের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য আব্দুর রাজ্জাকের নামও জোরালোভাবে আলোচনায় ছিল।
আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতাদের কেউ কেউ এবার সাধারণ সম্পাদক পদে আব্দুর রাজ্জাকের সম্ভাবনা দেখেন। এর বাইরে সাধারণ সম্পাদক হতে আগ্রহী আরও কয়েকজন নেতা নানাভাবে সক্রিয় আছেন। তাদের মধ্যে রয়েছেন জাহাঙ্গীর কবির নানক, মাহবুব উল আলম হানিফ, হাছান মাহমুদ, দীপু মনি ও আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম।
দলীয় সূত্র জানায়, গত জাতীয় সম্মেলনের আগে দলের সাংগঠনিক পর্যায়ের কয়েকজন নেতাও সাধারণ সম্পাদক পদে আলোচনায় ছিলেন। এর মধ্যে বর্তমান নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী অন্যতম। এবার তিনি কেন্দ্রীয় কমিটিতে নেই। তবে আলোচনায় আছেন। নতুন করে আলোচনায় যুক্ত হয়েছেন দুই সাংগঠনিক সম্পাদক আবু সাঈদ আল মাহমুদ ও মির্জা আজম। এর বাইরে রাজশাহী সিটি করপোরেশনের মেয়র এ এইচ এম খায়রুজ্জামান লিটনের সম্ভাবনাও দেখছেন কেউ কেউ।
এই ওয়েবসাইটের কোন লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার সম্পূর্ণ বেআইনি এবং শাস্তিযোগ্য অপরাধ । রিপু /প্রতিদিনের পোস্ট























