ঢাকা , সোমবার, ২৭ এপ্রিল ২০২৬, ১৩ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :

“মায়ের বিরুদ্ধে অভিযোগ এরিকের, পাল্টাপাল্টি বিদিশা-মামুন”

রিপু
  • প্রকাশের সময় : ০২:৫৬:৫২ অপরাহ্ন, বুধবার, ৯ নভেম্বর ২০২২
  • / ৪৪০ বার পড়া হয়েছে
৬৯

নিজস্ব প্রতিবেদক, প্রতিদিনের পোস্ট || মায়ের বিরুদ্ধে অভিযোগ এরিকের, পাল্টাপাল্টি বিদিশা-মামুন|

মা বিদিশা সিদ্দিকের হাত থেকে বাঁচার আকুতি জানিয়েছেন এরশাদপুত্র এরিক এরশাদ। এরিক এখন তার মায়ের কাছে বন্দি। মায়ের বিরুদ্ধে মানসিক অত্যাচারের অভিযোগ তুলে নিজেকে অবরুদ্ধ দশা থেকে উদ্ধার করতে সহায়তা চেয়েছেন এরিক। বিদিশাকে ‘মীরজাফর’, এরশাদ শিকদারের সঙ্গে তুলনা করে বলেছেন, নিজের বেঁচে থাকাটা জরুরি। একই সাথে প্রেসিডেন্ট পার্কের বাসা থেকে বিদিশাকে বের করে দেওয়ারও অনুরোধ জানিয়েছেন এরশাদপুত্র। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় এরশাদ ট্রাস্টের চেয়ারম্যান কাজী মামুনুর রশিদকে ফোন করে মা বিদিশার বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ তোলেন এরিক এরশাদ।

যদিও পরবর্তিতে এরিকই আবার সাংবাদিকদের বলেন, এসব কথা বলতে কাজী মামুনুর রশীদ তাকে শিখিয়ে দিয়েছিলেন।তিনি বলেন, এটা আমাকে দিয়ে বলানো হয়েছে। কাজী মামুনুর রশীদ এটা রেকর্ড করে রেখেছে। আগে ফোন করে শিখিয়েছে। তাহলে এখন কোনো সমস্যা নেই— জানতে চাইলে এরিক বলেন, না এখন কোনো সমস্যা নেই।

এদিকে কাজী মামুনুর রশিদের সঙ্গে এরিকের কথোপকথনের অডিওতে বলতে শোনা যায়, এরিক বলেন-আয়েশা নামে একটি মেয়ে আছে। তার সঙ্গে আমার শারীরিক সম্পর্ক আছে, এই অভিযোগ তুলে আয়েশাকে বের করে দিয়েছে। কিন্তু তার সঙ্গে তো আমার শারীরিক সম্পর্ক নেই।

এদিকে এরিক এখন তার মায়ের কাছে বন্দি রয়েছে বলে জানিয়েছেন এরশাদ ট্রাস্টের চেয়ারম্যান কাজী মামুনুর রশিদ। ট্রাস্টের সব সদস্যসহ গণমাধ্যমকর্মীদের সামনে এরিককে খোলামেলা কথা বলতে দিলে সব পরিষ্কার হয়ে যাবে বলে জানান তিনি।

তিনি আরও বলেন, ‘এরিক আমার কাছে সহায়তা চেয়েছেন। তার মা তাকে মানসিক অত্যাচার করছেন। তার একটি অডিও বার্তা আমার কাছে রয়েছে। জিডির বিষয়ে তিনি বলেন, এই জিডিতে এরিক করেছে কিনা। না অন্য কেউ স্বাক্ষর করেছে তা খতিয়ে দেখা উচিত।

বিষয়টি নিয়ে ট্রাস্টের সদস্য অ্যাডভোকেট রুবায়েত বলেন, ‘এরিকের নিরাপত্তা-সংক্রান্ত বিষয়গুলো নিয়ে ট্রাস্টের বৈঠকে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। এরিক অবরুদ্ধ। এরিকের মা বিদিশা এক মাস আগে এরিকের কাছ থেকে মোবাইল ফোন নিয়ে গেছে।

অন্যদিকে ট্রাস্টের চেয়ারম্যান কাজী মামুনুর রশিদের কাছে সহায়তার চাইলেও তার বিরুদ্ধে থানায় একটি জিডি করা হয়েছে। আর ওই জিডির বাদী হিসেবে এরিকের নাম রয়েছে। যদিও জিডির বিষয়ে সন্দেহ রয়েছে মামুনুর রশিদের।

জিডিতে বলা হয়, এরশাদ ট্রাস্টের চেয়ারম্যান কাজী মামুনুর রশিদ ও কাজী রুবায়েত গংরা যে কোনো সময় প্রেসিডেন্ট পার্কে গিয়ে হামলা চালাতে পারে। ৬ নভেম্বর মামুনুর রশিদ ও কাজী রুবায়েত গংরা প্রেসিডেন্ট পার্কের বাসায় অতির্কিতভাবে চলে আসেন। বাসায় তারা এক ঘণ্টা অবস্থান করেন। তারা বাসাটি দখলে নিতে চান। বাসায় কোনো নাশকতামূলক দ্রব্য রেখে যেতে পারে বলে সন্দেহ হচ্ছে। এরশাদ ট্রাস্টের চেয়ারম্যান কাজী মামুনুর রশিদ নন। বর্তমানে ট্রাস্টের চেয়ারম্যান ব্রিগেডিয়ার (অব.) তানভীর ইকবাল।

বিষয়টি নিয়ে গুলশান থানার ওসি ফরমান আলী বলেন, ‘ওনারা মাঝে মধ্যে এভাবে জিডি করে থাকেন। আমরা সবগুলো তদন্ত করে দেখি। এটি তাদের রুটিন ওয়ার্ক। জিডি হচ্ছে। কিন্তু কেউ সরাসরি মামলা দায়ের করছেন না।

এদিকে বিদিশা অভিযোগ করে বলেন, কাজী মামুনুর রশীদ এখন আর ট্রাস্টের চেয়ারম্যান নেই। তিনি আমাকে গাড়ি চাপা দিয়ে হত্যার হুমকি দিয়েছেন।আমাকে ১৪ হাত মাটির নিচে পুতে ফেলার হুমকি দিয়ে গেছেন। এটা সবাই শুনেছে। এসব ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে গুলশান থানায় সাধারণ ডায়েরি করা আছে।

তবে বিদিশাকে হুমকি দেওয়া অভিযোগ অস্বীকার করেছেন কাজী মামুনুর রশীদ। তিনি বলেন, তাকে কেন হত্যার হুমকি দিতে যাব? এটা মিথ্যা কথা। বিদিশা এরিককে যে নির্যাতন করেন, তা এরিক নিজেই আমাকে ফোন দিয়ে বলেছে। তার রেকর্ড আমার কাছে আছে। আমরা গিয়েছিলাম এরিককে দেখতে। কিন্তু বিদিশা এরিককে লুকিয়ে রাখেন।

ট্রাস্টের চেয়ারম্যান পদ থেকে বাদ দেওয়ার বিষয়ে তিনি বলেন, কে বাদ দিয়েছে আমাকে? কীসেরে ভিত্তিতে বাদ দেওয়া হয়েছে?

জানা গেছে, এরশাদ ট্রাস্টের টাকা ও সম্পত্তি নিয়ে তাদের মূলত কাড়াকাড়ি। এই ট্রাস্টে সাড়ে ১৫ কোটি টাকা এফডিআর করা আছে। যা থেকে প্রতিমাসে ৬ লাখ টাকা আয় হয়। ট্রাস্টের অধীনে গুলশানে ২ হাজার স্কয়ার বর্গফুটের ফ্ল্যাট রয়েছে। যা থেকে মাসে ৪৫ হাজার টাকা আয় হয়। বনানীতে রয়েছে একটি ফ্ল্যাট। এখান থেকে আয় হয় ২৫ হাজার টাকা। গুলশানে একটি দোকান থেকে মাসে ২ লাখ টাকা আয় হয়। রংপুরে একটি কোল্ডস্টোরেজ থেকে সব খরচ বাদ দিয়ে বছরে ৩০ লাখ টাকা আয় হয়। আর এ সব টাকা ট্রাস্টের মাধ্যমে এরিক সুবিধাভোগী

এই ওয়েবসাইটের কোন লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার সম্পূর্ণ বেআইনি এবং শাস্তিযোগ্য অপরাধ । রিপু /প্রতিদিনের পোস্ট

এই নিউজটি শেয়ার করুন

“মায়ের বিরুদ্ধে অভিযোগ এরিকের, পাল্টাপাল্টি বিদিশা-মামুন”

প্রকাশের সময় : ০২:৫৬:৫২ অপরাহ্ন, বুধবার, ৯ নভেম্বর ২০২২
৬৯

নিজস্ব প্রতিবেদক, প্রতিদিনের পোস্ট || মায়ের বিরুদ্ধে অভিযোগ এরিকের, পাল্টাপাল্টি বিদিশা-মামুন|

মা বিদিশা সিদ্দিকের হাত থেকে বাঁচার আকুতি জানিয়েছেন এরশাদপুত্র এরিক এরশাদ। এরিক এখন তার মায়ের কাছে বন্দি। মায়ের বিরুদ্ধে মানসিক অত্যাচারের অভিযোগ তুলে নিজেকে অবরুদ্ধ দশা থেকে উদ্ধার করতে সহায়তা চেয়েছেন এরিক। বিদিশাকে ‘মীরজাফর’, এরশাদ শিকদারের সঙ্গে তুলনা করে বলেছেন, নিজের বেঁচে থাকাটা জরুরি। একই সাথে প্রেসিডেন্ট পার্কের বাসা থেকে বিদিশাকে বের করে দেওয়ারও অনুরোধ জানিয়েছেন এরশাদপুত্র। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় এরশাদ ট্রাস্টের চেয়ারম্যান কাজী মামুনুর রশিদকে ফোন করে মা বিদিশার বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ তোলেন এরিক এরশাদ।

যদিও পরবর্তিতে এরিকই আবার সাংবাদিকদের বলেন, এসব কথা বলতে কাজী মামুনুর রশীদ তাকে শিখিয়ে দিয়েছিলেন।তিনি বলেন, এটা আমাকে দিয়ে বলানো হয়েছে। কাজী মামুনুর রশীদ এটা রেকর্ড করে রেখেছে। আগে ফোন করে শিখিয়েছে। তাহলে এখন কোনো সমস্যা নেই— জানতে চাইলে এরিক বলেন, না এখন কোনো সমস্যা নেই।

এদিকে কাজী মামুনুর রশিদের সঙ্গে এরিকের কথোপকথনের অডিওতে বলতে শোনা যায়, এরিক বলেন-আয়েশা নামে একটি মেয়ে আছে। তার সঙ্গে আমার শারীরিক সম্পর্ক আছে, এই অভিযোগ তুলে আয়েশাকে বের করে দিয়েছে। কিন্তু তার সঙ্গে তো আমার শারীরিক সম্পর্ক নেই।

এদিকে এরিক এখন তার মায়ের কাছে বন্দি রয়েছে বলে জানিয়েছেন এরশাদ ট্রাস্টের চেয়ারম্যান কাজী মামুনুর রশিদ। ট্রাস্টের সব সদস্যসহ গণমাধ্যমকর্মীদের সামনে এরিককে খোলামেলা কথা বলতে দিলে সব পরিষ্কার হয়ে যাবে বলে জানান তিনি।

তিনি আরও বলেন, ‘এরিক আমার কাছে সহায়তা চেয়েছেন। তার মা তাকে মানসিক অত্যাচার করছেন। তার একটি অডিও বার্তা আমার কাছে রয়েছে। জিডির বিষয়ে তিনি বলেন, এই জিডিতে এরিক করেছে কিনা। না অন্য কেউ স্বাক্ষর করেছে তা খতিয়ে দেখা উচিত।

বিষয়টি নিয়ে ট্রাস্টের সদস্য অ্যাডভোকেট রুবায়েত বলেন, ‘এরিকের নিরাপত্তা-সংক্রান্ত বিষয়গুলো নিয়ে ট্রাস্টের বৈঠকে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। এরিক অবরুদ্ধ। এরিকের মা বিদিশা এক মাস আগে এরিকের কাছ থেকে মোবাইল ফোন নিয়ে গেছে।

অন্যদিকে ট্রাস্টের চেয়ারম্যান কাজী মামুনুর রশিদের কাছে সহায়তার চাইলেও তার বিরুদ্ধে থানায় একটি জিডি করা হয়েছে। আর ওই জিডির বাদী হিসেবে এরিকের নাম রয়েছে। যদিও জিডির বিষয়ে সন্দেহ রয়েছে মামুনুর রশিদের।

জিডিতে বলা হয়, এরশাদ ট্রাস্টের চেয়ারম্যান কাজী মামুনুর রশিদ ও কাজী রুবায়েত গংরা যে কোনো সময় প্রেসিডেন্ট পার্কে গিয়ে হামলা চালাতে পারে। ৬ নভেম্বর মামুনুর রশিদ ও কাজী রুবায়েত গংরা প্রেসিডেন্ট পার্কের বাসায় অতির্কিতভাবে চলে আসেন। বাসায় তারা এক ঘণ্টা অবস্থান করেন। তারা বাসাটি দখলে নিতে চান। বাসায় কোনো নাশকতামূলক দ্রব্য রেখে যেতে পারে বলে সন্দেহ হচ্ছে। এরশাদ ট্রাস্টের চেয়ারম্যান কাজী মামুনুর রশিদ নন। বর্তমানে ট্রাস্টের চেয়ারম্যান ব্রিগেডিয়ার (অব.) তানভীর ইকবাল।

বিষয়টি নিয়ে গুলশান থানার ওসি ফরমান আলী বলেন, ‘ওনারা মাঝে মধ্যে এভাবে জিডি করে থাকেন। আমরা সবগুলো তদন্ত করে দেখি। এটি তাদের রুটিন ওয়ার্ক। জিডি হচ্ছে। কিন্তু কেউ সরাসরি মামলা দায়ের করছেন না।

এদিকে বিদিশা অভিযোগ করে বলেন, কাজী মামুনুর রশীদ এখন আর ট্রাস্টের চেয়ারম্যান নেই। তিনি আমাকে গাড়ি চাপা দিয়ে হত্যার হুমকি দিয়েছেন।আমাকে ১৪ হাত মাটির নিচে পুতে ফেলার হুমকি দিয়ে গেছেন। এটা সবাই শুনেছে। এসব ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে গুলশান থানায় সাধারণ ডায়েরি করা আছে।

তবে বিদিশাকে হুমকি দেওয়া অভিযোগ অস্বীকার করেছেন কাজী মামুনুর রশীদ। তিনি বলেন, তাকে কেন হত্যার হুমকি দিতে যাব? এটা মিথ্যা কথা। বিদিশা এরিককে যে নির্যাতন করেন, তা এরিক নিজেই আমাকে ফোন দিয়ে বলেছে। তার রেকর্ড আমার কাছে আছে। আমরা গিয়েছিলাম এরিককে দেখতে। কিন্তু বিদিশা এরিককে লুকিয়ে রাখেন।

ট্রাস্টের চেয়ারম্যান পদ থেকে বাদ দেওয়ার বিষয়ে তিনি বলেন, কে বাদ দিয়েছে আমাকে? কীসেরে ভিত্তিতে বাদ দেওয়া হয়েছে?

জানা গেছে, এরশাদ ট্রাস্টের টাকা ও সম্পত্তি নিয়ে তাদের মূলত কাড়াকাড়ি। এই ট্রাস্টে সাড়ে ১৫ কোটি টাকা এফডিআর করা আছে। যা থেকে প্রতিমাসে ৬ লাখ টাকা আয় হয়। ট্রাস্টের অধীনে গুলশানে ২ হাজার স্কয়ার বর্গফুটের ফ্ল্যাট রয়েছে। যা থেকে মাসে ৪৫ হাজার টাকা আয় হয়। বনানীতে রয়েছে একটি ফ্ল্যাট। এখান থেকে আয় হয় ২৫ হাজার টাকা। গুলশানে একটি দোকান থেকে মাসে ২ লাখ টাকা আয় হয়। রংপুরে একটি কোল্ডস্টোরেজ থেকে সব খরচ বাদ দিয়ে বছরে ৩০ লাখ টাকা আয় হয়। আর এ সব টাকা ট্রাস্টের মাধ্যমে এরিক সুবিধাভোগী

এই ওয়েবসাইটের কোন লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার সম্পূর্ণ বেআইনি এবং শাস্তিযোগ্য অপরাধ । রিপু /প্রতিদিনের পোস্ট