ঢাকা , শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৬, ৪ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
মৌলভীবাজার সদর হাসপাতালকে মেডিকেল কলেজে রূপান্তরে নাসের রহমানের ডিও গ্ৰামবাসীর ধাওয়ায় ডাকাতের গুলিতে ডাকাত আহত শ্রীমঙ্গলে সাঁড়াশি অভিযানে ৫জন চিহ্নিত অপরাধী গ্রেপ্তার কালীগঞ্জে বর্ণিল সাজে উদযাপিত হলো ১৪৩৩ বাংলা নববর্ষ কালীগঞ্জে আইন-শৃঙ্খলা কমিটির মাসিক সভা অনুষ্ঠিত কালীগঞ্জ ডাকবাংলোকে সম্প্রসারণের মাধ্যমে ৪ তলা বিশিষ্ট করা হবে প্রশাসক-চৌধুরী ইশরাক আহমদ সিদ্দিকী গাজীপুরে কালীগঞ্জে অবৈধ মাটি খনন জরিমানা ২ লাখ টাকা নবীনগরে মিথ্যা মামলা প্রত্যাহারের দাবিতে মানববন্ধন কালীগঞ্জে এলপি গ্যাস প্লান্টে সেনা অভিযান, জরিমানা ৩ লাখ টাকা প্রধানমন্ত্রীর এপিএস পরিচয়ে প্রতারণার অভিযোগ মৌলভীবাজারের যুবক গ্রেপ্তার

সরাইলে তুচ্ছ ঘটনায় সংঘর্ষ, নিহত এক

প্রতিনিধির নাম
  • প্রকাশের সময় : ০৩:৩৬:৫৬ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৫ এপ্রিল ২০২৩
  • / ৩০৬ বার পড়া হয়েছে
৮০

মিহির কুমার দেব : ব্রাহ্মণবাড়িয়া :সরাইল তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে দুইদল গ্রামবাসীর সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এসময় ফয়সাল (২৫) নামের এক যুবক নিহত হয়েছে।inbound7493541960409544775

শুক্রবার (১৪ এপ্রিল) সন্ধ্যায় উপজেলার কালিকচ্ছ বাজারে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। নিহত ফয়সাল উপজেলার কুট্টাপাড়া এলাকার রাকিব মিয়ার ছেলে। সংঘর্ষের ঘটনায় পুলিশ, সাংবাদিকসহ অন্তত ৩০ জন আহত হয়েছেন ।

নিহতের পরিবারের দাবি, ফয়সাল পুলিশের ছোড়া গুলিতে নিহত হয়েছেন। তবে পুলিশ বলছে , দুইপক্ষের সংঘর্ষের ককটেল বিস্ফোরণ হয়। ককটেলের স্প্রিন্টারের আঘাতে ফয়সাল নিহত হন।
স্থানীয়রা জানান, বৃহস্পতিবার (১৩ এপ্রিল) বিকেলে সরাইল উপজেলার কালিকচ্ছ বাজারে কালিকচ্ছ ইউনিয়নের সূর্যকান্দি গ্রামের ইকবাল চৌকিদারের ছেলে অটোরিকশা চালক আকাশ রাস্তা পার হচ্ছিলেন। এসময় ধর্মতীর্থ মূলবর্গ এলাকার হুমায়ন মেম্বারের ছেলে তোফাজ্জলের মোটরসাইকেলের সাথে ধাক্কা লাগে আকাশের। এনিয়ে তাদের মধ্যে বাগবিতণ্ডা হয়, তাদের মধ্যে এসময় হাতাহাতির ঘটনা ঘটে।
এ ঘটনায় শুক্রবার(১৪এপ্রিল) দুপুরে তোফাজ্জলের লোকজন কালিকচ্ছ বাজারে আকাশের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। এতে গুরুতর আহত হয় আকাশ। এ ঘটনা এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে সন্ধ্যায় ইফতারের পর কালিকচ্ছ বাজারে দুই গ্রামের লোকজন দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। এসময় বাজারের কয়েকটি দোকানপাটে ভাঙচুরের ঘটনাও ঘটে।
পরে সরাইল থানা পুলিশ খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে রাবার বুলেট ছুড়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
সংঘর্ষে পুলিশ, সাংবাদিকসহ উভয় পক্ষের অন্তত ৩০ জন আহত হন। আহতদের সরাইল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা দেয়া হয়। এছাড়াও বিভিন্ন প্রাইভেট হাসপাতালেও অনেকে চিকিৎসা নিতে দেখা যায়। এদের মধ্যে গুরতর আহত ফয়সালকে জেলা সদর হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
নিহত ফয়সালের মা হালিমা খাতুন বলেন, ‌‘আমার ছেলেকে পুলিশ মেরে ফেলেছে, পুলিশের ছোড়া গুলিতেই আমার ছেলে মারা গেছে।’
নিহত ফয়সালের মামা ওসমান মিয়া বলেন, ‘ফয়সালের বাড়ি উপজেলার কুট্টাপাড়া এলাকায় হলেও সে আমাদের দোকানে থাকতো। আজ ঝগড়া শুরু হলে আমরা দোকানের তালা লাগাচ্ছিলাম। এসময় পুলিশ হঠাৎ করে এসে আমার ভাগনের ওপর গুলি করে। আমরা তো ঝগড়ার সঙ্গে জড়িতও না? তাইলে কেন আমার ভাগ্নেকে গুলি করা হলো? আমরা এর বিচার চাই।’
এ বিষয়ে সরাইল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আসলাম হোসেন বলেন, সংঘর্ষের খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। সংঘর্ষে ককটেল নিক্ষেপ করা হয়। ককটেলের স্প্রিন্টারের আঘাতে যুবক নিহত হয়। পরিস্থিতি বর্তমানে শান্ত রয়েছে। সংঘর্ষ এড়াতে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রাখা হয়েছে ।

ট্যাগস :

এই নিউজটি শেয়ার করুন

সরাইলে তুচ্ছ ঘটনায় সংঘর্ষ, নিহত এক

প্রকাশের সময় : ০৩:৩৬:৫৬ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৫ এপ্রিল ২০২৩
৮০

মিহির কুমার দেব : ব্রাহ্মণবাড়িয়া :সরাইল তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে দুইদল গ্রামবাসীর সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এসময় ফয়সাল (২৫) নামের এক যুবক নিহত হয়েছে।inbound7493541960409544775

শুক্রবার (১৪ এপ্রিল) সন্ধ্যায় উপজেলার কালিকচ্ছ বাজারে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। নিহত ফয়সাল উপজেলার কুট্টাপাড়া এলাকার রাকিব মিয়ার ছেলে। সংঘর্ষের ঘটনায় পুলিশ, সাংবাদিকসহ অন্তত ৩০ জন আহত হয়েছেন ।

নিহতের পরিবারের দাবি, ফয়সাল পুলিশের ছোড়া গুলিতে নিহত হয়েছেন। তবে পুলিশ বলছে , দুইপক্ষের সংঘর্ষের ককটেল বিস্ফোরণ হয়। ককটেলের স্প্রিন্টারের আঘাতে ফয়সাল নিহত হন।
স্থানীয়রা জানান, বৃহস্পতিবার (১৩ এপ্রিল) বিকেলে সরাইল উপজেলার কালিকচ্ছ বাজারে কালিকচ্ছ ইউনিয়নের সূর্যকান্দি গ্রামের ইকবাল চৌকিদারের ছেলে অটোরিকশা চালক আকাশ রাস্তা পার হচ্ছিলেন। এসময় ধর্মতীর্থ মূলবর্গ এলাকার হুমায়ন মেম্বারের ছেলে তোফাজ্জলের মোটরসাইকেলের সাথে ধাক্কা লাগে আকাশের। এনিয়ে তাদের মধ্যে বাগবিতণ্ডা হয়, তাদের মধ্যে এসময় হাতাহাতির ঘটনা ঘটে।
এ ঘটনায় শুক্রবার(১৪এপ্রিল) দুপুরে তোফাজ্জলের লোকজন কালিকচ্ছ বাজারে আকাশের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। এতে গুরুতর আহত হয় আকাশ। এ ঘটনা এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে সন্ধ্যায় ইফতারের পর কালিকচ্ছ বাজারে দুই গ্রামের লোকজন দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। এসময় বাজারের কয়েকটি দোকানপাটে ভাঙচুরের ঘটনাও ঘটে।
পরে সরাইল থানা পুলিশ খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে রাবার বুলেট ছুড়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
সংঘর্ষে পুলিশ, সাংবাদিকসহ উভয় পক্ষের অন্তত ৩০ জন আহত হন। আহতদের সরাইল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা দেয়া হয়। এছাড়াও বিভিন্ন প্রাইভেট হাসপাতালেও অনেকে চিকিৎসা নিতে দেখা যায়। এদের মধ্যে গুরতর আহত ফয়সালকে জেলা সদর হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
নিহত ফয়সালের মা হালিমা খাতুন বলেন, ‌‘আমার ছেলেকে পুলিশ মেরে ফেলেছে, পুলিশের ছোড়া গুলিতেই আমার ছেলে মারা গেছে।’
নিহত ফয়সালের মামা ওসমান মিয়া বলেন, ‘ফয়সালের বাড়ি উপজেলার কুট্টাপাড়া এলাকায় হলেও সে আমাদের দোকানে থাকতো। আজ ঝগড়া শুরু হলে আমরা দোকানের তালা লাগাচ্ছিলাম। এসময় পুলিশ হঠাৎ করে এসে আমার ভাগনের ওপর গুলি করে। আমরা তো ঝগড়ার সঙ্গে জড়িতও না? তাইলে কেন আমার ভাগ্নেকে গুলি করা হলো? আমরা এর বিচার চাই।’
এ বিষয়ে সরাইল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আসলাম হোসেন বলেন, সংঘর্ষের খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। সংঘর্ষে ককটেল নিক্ষেপ করা হয়। ককটেলের স্প্রিন্টারের আঘাতে যুবক নিহত হয়। পরিস্থিতি বর্তমানে শান্ত রয়েছে। সংঘর্ষ এড়াতে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রাখা হয়েছে ।