ঢাকা , শনিবার, ০৭ মার্চ ২০২৬, ২২ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

হাকালুকি হাওরে সূর্যমুখী চাষে কৃষকের স্বস্তি

প্রতিনিধির নাম
  • প্রকাশের সময় : ০২:৫৩:০০ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৭ মার্চ ২০২৬
  • / ৮ বার পড়া হয়েছে
১৭

হাকালুকি হাওরে সূর্যমুখী চাষে কৃষকের স্বস্তি

তিমির বনিক,মৌলভীবাজার প্রতিনিধি:

মৌলভীবাজারের জুড়ী উপজেলার বিস্তীর্ণ জলাভূমি বৃহত্তর অঞ্চল হাকালুকি হাওরে এবার শুষ্ক মৌসুমে দেখা যাচ্ছে সোনালি ফসলের সমারোহ। ধান কাটার পর অনাবাদি অবস্থায় পড়ে থাকা জমিতে কৃষকরা ঝুঁকছেন সূর্যমুখী চাষে। কম খরচ,স্বল্প সময়ে অধিক ফলন ও বাজারে ভোজ্যতেলের চাহিদা বৃদ্ধির কারণে এ ফসল এখন হাওরাঞ্চলের কৃষকদের নতুন আশার আলো দেখাচ্ছে। সূর্যমুখী চাষে বাড়তি আয়ে কৃষকদের মাঝে স্বস্তির সাথে আনন্দ দেখা দিয়েছে।

স্থানীয় কৃষি কর্মকর্তারা জানান, হাওরের মাটি সূর্যমুখী চাষের জন্য উপযোগী। ডিসেম্বর থেকে জানুয়ারিতে বীজ বপন করলে মার্চ থেকে এপ্রিলে ফুল ও ফলন পাওয়া যায়।

স্থানীয় কৃষকরা জানিয়েছেন, প্রতি একরে গড়ে হাজার মণ পর্যন্ত ফলন হচ্ছে। বাজারে ভালো দাম পাওয়ায় সূর্যমুখী চাষকে বর্তমানে লাভজনক হিসেবেই দেখছেন তারা।

স্বল্পমেয়াদি এ ফসল আবাদ করে বাড়তি আয় করা সম্ভব হচ্ছে তাদের। এতে পতিত জমি ব্যবহার করে পরিবারের বাড়তি অর্থের চাহিদা মেটাতে পারছেন কৃষকরা।

এলাকার কৃষকদের সাথে আলাপ করে জানা যায়, আগে বর্ষা শেষে যেখানে কৃষি জমি অনাবাদি থাকত এখন সেখানে সূর্যমুখী চাষে উৎপাদনের সুযোগ তৈরি হয়েছে।

হাওরের মেঠো পথ ধরে দেখা হয় বেলাগাঁও গ্রামের কৃষক নুরুজ্জামানের সাথে কথা হয়। নুরুজ্জামান বলেন, ‘যে জমি বর্ষার পর পতিত থাকত সে জমিতে আমরা সূর্যমুখী চাষ করে কয়েক বছর ধরে চাষাবাদ শুরু করে লাভবান হচ্ছি। আমার তিন একর জমিতে সূর্যমুখী চাষ করেছি, ফলন ভালো হয়েছে। আশা করি, হাজার দেড়েক মন বীজ পাবো এবং দুই লাখ টাকার বেশিও লাভ হবে।’

একই গ্রামের মোজাক্কির মিয়া বলেন, ‘আগে জমি পতিত থাকত, কৃষি বিভাগের পরামর্শে আমরা সাত বছর ধরে সূর্যমুখী আবাদ করছি। ফলন ভালো হয়, নিজের পারিবারিক চাহিদা পূরণ করে বাজারে বিক্রি করি। এর ফলে পতিত জমিতে আমাদের বাড়তি আয়ের পথ বের হয়েছে।’

নয়াগাঁও গ্রামের লোকমান মিয়া বলেন, ‘আমার বাড়ি হাকালুকি হাওর পাড়ে। শুকনো মৌসুমে এ জমি অনাবাদি পড়ে থাকত। এখন সূর্যমুখী চাষে কৃষকদের মাঝে প্রাণচাঞ্চল্য দেখা দিয়েছে।’

জুড়ী উপজেলা নয়াগ্রাম, বেলাগাঁও, জাহাঙ্গীররাই ও ইউসুফপুর এলাকায় ১০ হেক্টর জমিতে সূর্যমুখী চাষ হয়েছে।

কৃষিবিদরা মনে করছেন, পরিকল্পিত উদ্যোগ ও সরকারি সহায়তা অব্যাহত থাকলে হাকালুকি হাওরে সূর্যমুখী চাষ ব্যাপক লাভজনক হবে। এতে কৃষকের আয় বাড়ার পাশাপাশি দেশে ভোজ্যতেলের চাহিদা মেটাতে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো: মাহমুদুল আলম খান বলেন, ‘বর্ষা শেষ হওয়ার পর ছয় মাস হাকালুকি হাওরের বিস্তীর্ণ এলাকার জমি অনাবদি থাকে। আমরা বিষয়টি নিয়ে কৃষকেদের সাথে আলাপ করে তাদের উৎসাহিত করি। কৃষি বিভাগ থেকে উন্নত জাতের বীজ সরবরাহের পাশাপাশি প্রয়োজনীয় পরামর্শ ও প্রশিক্ষণ দেয়া হচ্ছে। এছাড়া সেচ ও কীটনাশক ব্যবস্থাপনায় সচেতনতা বাড়ানো হচ্ছে, যাতে ফলন আরো বাড়ে। পাশাপাশি কৃষকেরা অর্থনৈতিক সচ্ছলতা ফিরে পেতে পারে।

ট্যাগস :

এই নিউজটি শেয়ার করুন

হাকালুকি হাওরে সূর্যমুখী চাষে কৃষকের স্বস্তি

প্রকাশের সময় : ০২:৫৩:০০ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৭ মার্চ ২০২৬
১৭

হাকালুকি হাওরে সূর্যমুখী চাষে কৃষকের স্বস্তি

তিমির বনিক,মৌলভীবাজার প্রতিনিধি:

মৌলভীবাজারের জুড়ী উপজেলার বিস্তীর্ণ জলাভূমি বৃহত্তর অঞ্চল হাকালুকি হাওরে এবার শুষ্ক মৌসুমে দেখা যাচ্ছে সোনালি ফসলের সমারোহ। ধান কাটার পর অনাবাদি অবস্থায় পড়ে থাকা জমিতে কৃষকরা ঝুঁকছেন সূর্যমুখী চাষে। কম খরচ,স্বল্প সময়ে অধিক ফলন ও বাজারে ভোজ্যতেলের চাহিদা বৃদ্ধির কারণে এ ফসল এখন হাওরাঞ্চলের কৃষকদের নতুন আশার আলো দেখাচ্ছে। সূর্যমুখী চাষে বাড়তি আয়ে কৃষকদের মাঝে স্বস্তির সাথে আনন্দ দেখা দিয়েছে।

স্থানীয় কৃষি কর্মকর্তারা জানান, হাওরের মাটি সূর্যমুখী চাষের জন্য উপযোগী। ডিসেম্বর থেকে জানুয়ারিতে বীজ বপন করলে মার্চ থেকে এপ্রিলে ফুল ও ফলন পাওয়া যায়।

স্থানীয় কৃষকরা জানিয়েছেন, প্রতি একরে গড়ে হাজার মণ পর্যন্ত ফলন হচ্ছে। বাজারে ভালো দাম পাওয়ায় সূর্যমুখী চাষকে বর্তমানে লাভজনক হিসেবেই দেখছেন তারা।

স্বল্পমেয়াদি এ ফসল আবাদ করে বাড়তি আয় করা সম্ভব হচ্ছে তাদের। এতে পতিত জমি ব্যবহার করে পরিবারের বাড়তি অর্থের চাহিদা মেটাতে পারছেন কৃষকরা।

এলাকার কৃষকদের সাথে আলাপ করে জানা যায়, আগে বর্ষা শেষে যেখানে কৃষি জমি অনাবাদি থাকত এখন সেখানে সূর্যমুখী চাষে উৎপাদনের সুযোগ তৈরি হয়েছে।

হাওরের মেঠো পথ ধরে দেখা হয় বেলাগাঁও গ্রামের কৃষক নুরুজ্জামানের সাথে কথা হয়। নুরুজ্জামান বলেন, ‘যে জমি বর্ষার পর পতিত থাকত সে জমিতে আমরা সূর্যমুখী চাষ করে কয়েক বছর ধরে চাষাবাদ শুরু করে লাভবান হচ্ছি। আমার তিন একর জমিতে সূর্যমুখী চাষ করেছি, ফলন ভালো হয়েছে। আশা করি, হাজার দেড়েক মন বীজ পাবো এবং দুই লাখ টাকার বেশিও লাভ হবে।’

একই গ্রামের মোজাক্কির মিয়া বলেন, ‘আগে জমি পতিত থাকত, কৃষি বিভাগের পরামর্শে আমরা সাত বছর ধরে সূর্যমুখী আবাদ করছি। ফলন ভালো হয়, নিজের পারিবারিক চাহিদা পূরণ করে বাজারে বিক্রি করি। এর ফলে পতিত জমিতে আমাদের বাড়তি আয়ের পথ বের হয়েছে।’

নয়াগাঁও গ্রামের লোকমান মিয়া বলেন, ‘আমার বাড়ি হাকালুকি হাওর পাড়ে। শুকনো মৌসুমে এ জমি অনাবাদি পড়ে থাকত। এখন সূর্যমুখী চাষে কৃষকদের মাঝে প্রাণচাঞ্চল্য দেখা দিয়েছে।’

জুড়ী উপজেলা নয়াগ্রাম, বেলাগাঁও, জাহাঙ্গীররাই ও ইউসুফপুর এলাকায় ১০ হেক্টর জমিতে সূর্যমুখী চাষ হয়েছে।

কৃষিবিদরা মনে করছেন, পরিকল্পিত উদ্যোগ ও সরকারি সহায়তা অব্যাহত থাকলে হাকালুকি হাওরে সূর্যমুখী চাষ ব্যাপক লাভজনক হবে। এতে কৃষকের আয় বাড়ার পাশাপাশি দেশে ভোজ্যতেলের চাহিদা মেটাতে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো: মাহমুদুল আলম খান বলেন, ‘বর্ষা শেষ হওয়ার পর ছয় মাস হাকালুকি হাওরের বিস্তীর্ণ এলাকার জমি অনাবদি থাকে। আমরা বিষয়টি নিয়ে কৃষকেদের সাথে আলাপ করে তাদের উৎসাহিত করি। কৃষি বিভাগ থেকে উন্নত জাতের বীজ সরবরাহের পাশাপাশি প্রয়োজনীয় পরামর্শ ও প্রশিক্ষণ দেয়া হচ্ছে। এছাড়া সেচ ও কীটনাশক ব্যবস্থাপনায় সচেতনতা বাড়ানো হচ্ছে, যাতে ফলন আরো বাড়ে। পাশাপাশি কৃষকেরা অর্থনৈতিক সচ্ছলতা ফিরে পেতে পারে।