ঢাকা , সোমবার, ০৪ মে ২০২৬, ২১ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
ফজরের নামাজে এসে লাশ হলো মুসল্লি; আটক-১ ঝড়ে গাছ পড়ে সাড়ে ৫ ঘন্টা যান চলাচল বন্ধ; এখন স্বাভাবিক গর্তে ভরা নবীনগর-আশুগঞ্জ সড়ক শ্রীমঙ্গলে এমআর টিকাদানে অনিয়ম; সমন্বয়হীনতায় ঝূঁকিতে শিশুস্বাস্থ্য ওয়াহিদ সিদ্দেক উচ্চ বিদ্যালয়ের আধুনিক মানের গেইট নির্মাণের ভিত্তিপ্রস্তর আন্তর্জাতিক মে দিবসে কালীগঞ্জে বর্ণাঢ্য র‌্যালী ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত এসপিকে ঘুষ দিতে গিয়ে এক নারী-যুবক আটক এক হাতে রক্তের ব্যাগ অন্য হাতে কলমের ছোঁয়ায় এসএসসি পরীক্ষা সিনড নেতৃবৃন্দের সিলেট জেলার খাসিয়া সম্প্রদায়ের সরকারের উচ্চপর্যায়ের সভা টানা বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলের পানিতে গ্রামের পর গ্রাম প্লাবিত;কৃষকের কপালে ভাঁজ

চা শ্রমিকদের মজুরি আদায়ে কর্মবিরতি

প্রতিনিধির নাম
  • প্রকাশের সময় : ০৩:৩৩:৫৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২২ অগাস্ট ২০২৩
  • / ২০৮ বার পড়া হয়েছে
৭৩

তিমির বনিক,মৌলভীবাজার প্রতিনিধি:

মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে হোসনাবাদ চা-বাগানে চা শ্রমিকদের সাপ্তাহিক মজুরি না দেয়ায় চা-বাগানে কাজ বন্ধ রেখে আন্দোলনে নেমেছেন শ্রমিকরা।

গত শনিবার থেকে এ চা-বাগানে শ্রমিকদের কর্মবিরতি চলছে। চা-শ্রমিকরা জানান, গত বৃহস্পতিবার সাপ্তাহিক মজুরি দেয়ার দিনে চা-বাগান কর্তৃপক্ষ শ্রমিকদের মজুরি দিতে পারেনি, তাই তারা এ কর্মবিরতি পালন করছেন।

সোমবার হোসনাবাদ চা বাগানে দেখা যায় দিন ভর, চা বাগানের শ্রমিকরা বাগানের কাজ বন্ধ রেখে ম্যানেজারের অফিসের সামনে জড়ো হয়ে আন্দোলন করছেন। সেখান থেকে একটি বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে শ্রমিকরা পাশবর্তী নন্দরানী চা বাগানের বটতলায় যান।

সেখানে শ্রমিকদের সঙ্গে একাত্মতা পোষণ করে বক্তব্য দেন বাংলাদেশ চা শ্রমিক ইউনিয়নের সাংগঠনিক সম্পাদক ও বালিশিরা ভ্যালী সভাপতি বিজয় হাজরা, বালিশিরা ভ্যালীর সাংগঠনিক সম্পাদক কর্ণ তাঁতী, উপদেষ্ঠা সুভাষ রবিদাশসহ অনেকে।

হোসনাবাদ চা বাগান পঞ্চায়েত সাধারণ সম্পাদক মালেক মিয়া বলেন, ‘আমরা এই বাগানে ভালো চিকিৎসা পাই না, রেশন পাই না আবার কয়দিন পর পর মজুরির জন্য আন্দোলন করতে হয়। কয়েক মাস পর পর আমাদের মজুরি বন্ধ করে দেয় বাগান মালিক।

‘প্রতি বৃহস্পতিবারে আমাদের চা বাগানে মজুরি দেয়ার কথা থাকলেও অনেক সময় তা আটকে যায়। চা শ্রমিকরা এই মজুরি দিয়ে সারা সপ্তাহের বাজার সদাই করে থাকেন। গত বৃহস্পতিবার আমাদের শ্রমিকদের মজুরি দেয়া হয়নি। বলা হয়েছে পরে দেবে। বৃহস্পতিবার গিয়ে সোমবার এলেও এখন পর্যন্ত কেউ মজুরি পায়নি। এখন টাকা না থাকায় অনেক কষ্ট করে দিন কাটাচ্ছি।’

তিনি আরও বলেন, ‘চা বাগানের বর্তমান মালিক পক্ষ এই চা-বাগানের শ্রমিকদের মানুষ বলে মনে করে না। কয়েকদিন পর পর এভাবে মজুরি বন্ধ করে দেয়। বার বার আন্দোলন করে মজুরি নিতে হবে কেন?

‘আমরা সরকারের কাছে জোর দাবি জানাই, এই বাগান মালিকের কাছ থেকে চা-বাগানটি সরকারের আন্ডারে নিয়ে যাওয়া হোক। আমরা গত শনিবার থেকে চা বাগানের কাজ বন্ধ রেখে আন্দোলন করছি। আমাদের মজুরি না দিলে আমরা কঠোর আন্দোলনে যাওয়ার জন্য প্রস্তুত আছি।’

বাংলাদেশ চা- শ্রমিক ইউনিয়নের সাংগঠনিক সম্পাদক ও বালিশিরা ভ্যালী সভাপতি বিজয় হাজরা বলেন, ‘আমরা বাগান শ্রমিকদের সাথে কথা বলেছি। তারা মজুরি না পেয়ে অনেক কষ্টে চলছেন। যদি দ্রুত সময়ের মধ্যে মজুরি না দেয়া হয় তাহলে শ্রমিকরা কঠোর আন্দোলনে নামবেন বলে আমাদের জানিয়েছেন।

শ্রমিকদের এই আন্দোলনের সাথে আমরা চা-শ্রমিক ইউনিয়ন নেতারা অবশ্যই পাশে থাকব। হোসনাবাদ চা বাগানের এই ধরনের মজুরি আটকে রাখার ঘটনা আজ নতুন নয়। আমরা সরকারের কাছে দাবী জানাই এই চা বাগানের মালিকদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হোক।’

হোসনাবাদ চা বাগানের ব্যবস্থাপক মো. জাকির হোসেন বলেন, ‘আমাদের চা বাগানের মালিক বর্তমানে একটু অর্থনৈতিক সমস্যায় আছেন। যার কারনে সঠিক সময়ে শ্রমিকদের মজুরি দেয়া যাচ্ছে না। আমি এই চা বাগানে দুই মাস হয় জয়েন করেছি। এই দুই মাসের ভিতরে আগে কখনো এমনটি হয়নি।

প্রতি বৃহস্পতিবার আমাদের কাছে টাকা আসে। আমি স্টাফ এর মাধ্যমে টাকাগুলো মজুরি হিসেবে বিতরণ করি। আমি মালিকদের সাথে কথা বলেছি। মজুরি আশা করছি দ্রুতই শ্রমিকরা পাবেন।’

ট্যাগস :
প্রফেশনাল নিউজ পোর্টাল দিচ্ছে থিম বিক্রয় ডটকম

এই নিউজটি শেয়ার করুন

চা শ্রমিকদের মজুরি আদায়ে কর্মবিরতি

প্রকাশের সময় : ০৩:৩৩:৫৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২২ অগাস্ট ২০২৩
৭৩

তিমির বনিক,মৌলভীবাজার প্রতিনিধি:

মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে হোসনাবাদ চা-বাগানে চা শ্রমিকদের সাপ্তাহিক মজুরি না দেয়ায় চা-বাগানে কাজ বন্ধ রেখে আন্দোলনে নেমেছেন শ্রমিকরা।

গত শনিবার থেকে এ চা-বাগানে শ্রমিকদের কর্মবিরতি চলছে। চা-শ্রমিকরা জানান, গত বৃহস্পতিবার সাপ্তাহিক মজুরি দেয়ার দিনে চা-বাগান কর্তৃপক্ষ শ্রমিকদের মজুরি দিতে পারেনি, তাই তারা এ কর্মবিরতি পালন করছেন।

সোমবার হোসনাবাদ চা বাগানে দেখা যায় দিন ভর, চা বাগানের শ্রমিকরা বাগানের কাজ বন্ধ রেখে ম্যানেজারের অফিসের সামনে জড়ো হয়ে আন্দোলন করছেন। সেখান থেকে একটি বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে শ্রমিকরা পাশবর্তী নন্দরানী চা বাগানের বটতলায় যান।

সেখানে শ্রমিকদের সঙ্গে একাত্মতা পোষণ করে বক্তব্য দেন বাংলাদেশ চা শ্রমিক ইউনিয়নের সাংগঠনিক সম্পাদক ও বালিশিরা ভ্যালী সভাপতি বিজয় হাজরা, বালিশিরা ভ্যালীর সাংগঠনিক সম্পাদক কর্ণ তাঁতী, উপদেষ্ঠা সুভাষ রবিদাশসহ অনেকে।

হোসনাবাদ চা বাগান পঞ্চায়েত সাধারণ সম্পাদক মালেক মিয়া বলেন, ‘আমরা এই বাগানে ভালো চিকিৎসা পাই না, রেশন পাই না আবার কয়দিন পর পর মজুরির জন্য আন্দোলন করতে হয়। কয়েক মাস পর পর আমাদের মজুরি বন্ধ করে দেয় বাগান মালিক।

‘প্রতি বৃহস্পতিবারে আমাদের চা বাগানে মজুরি দেয়ার কথা থাকলেও অনেক সময় তা আটকে যায়। চা শ্রমিকরা এই মজুরি দিয়ে সারা সপ্তাহের বাজার সদাই করে থাকেন। গত বৃহস্পতিবার আমাদের শ্রমিকদের মজুরি দেয়া হয়নি। বলা হয়েছে পরে দেবে। বৃহস্পতিবার গিয়ে সোমবার এলেও এখন পর্যন্ত কেউ মজুরি পায়নি। এখন টাকা না থাকায় অনেক কষ্ট করে দিন কাটাচ্ছি।’

তিনি আরও বলেন, ‘চা বাগানের বর্তমান মালিক পক্ষ এই চা-বাগানের শ্রমিকদের মানুষ বলে মনে করে না। কয়েকদিন পর পর এভাবে মজুরি বন্ধ করে দেয়। বার বার আন্দোলন করে মজুরি নিতে হবে কেন?

‘আমরা সরকারের কাছে জোর দাবি জানাই, এই বাগান মালিকের কাছ থেকে চা-বাগানটি সরকারের আন্ডারে নিয়ে যাওয়া হোক। আমরা গত শনিবার থেকে চা বাগানের কাজ বন্ধ রেখে আন্দোলন করছি। আমাদের মজুরি না দিলে আমরা কঠোর আন্দোলনে যাওয়ার জন্য প্রস্তুত আছি।’

বাংলাদেশ চা- শ্রমিক ইউনিয়নের সাংগঠনিক সম্পাদক ও বালিশিরা ভ্যালী সভাপতি বিজয় হাজরা বলেন, ‘আমরা বাগান শ্রমিকদের সাথে কথা বলেছি। তারা মজুরি না পেয়ে অনেক কষ্টে চলছেন। যদি দ্রুত সময়ের মধ্যে মজুরি না দেয়া হয় তাহলে শ্রমিকরা কঠোর আন্দোলনে নামবেন বলে আমাদের জানিয়েছেন।

শ্রমিকদের এই আন্দোলনের সাথে আমরা চা-শ্রমিক ইউনিয়ন নেতারা অবশ্যই পাশে থাকব। হোসনাবাদ চা বাগানের এই ধরনের মজুরি আটকে রাখার ঘটনা আজ নতুন নয়। আমরা সরকারের কাছে দাবী জানাই এই চা বাগানের মালিকদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হোক।’

হোসনাবাদ চা বাগানের ব্যবস্থাপক মো. জাকির হোসেন বলেন, ‘আমাদের চা বাগানের মালিক বর্তমানে একটু অর্থনৈতিক সমস্যায় আছেন। যার কারনে সঠিক সময়ে শ্রমিকদের মজুরি দেয়া যাচ্ছে না। আমি এই চা বাগানে দুই মাস হয় জয়েন করেছি। এই দুই মাসের ভিতরে আগে কখনো এমনটি হয়নি।

প্রতি বৃহস্পতিবার আমাদের কাছে টাকা আসে। আমি স্টাফ এর মাধ্যমে টাকাগুলো মজুরি হিসেবে বিতরণ করি। আমি মালিকদের সাথে কথা বলেছি। মজুরি আশা করছি দ্রুতই শ্রমিকরা পাবেন।’