এসপিকে ঘুষ দিতে গিয়ে এক নারী-যুবক আটক
- প্রকাশের সময় : ০৪:২০:৪৪ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১ মে ২০২৬
- / ৩ বার পড়া হয়েছে
এসপিকে ঘুষ দিতে গিয়ে নারী-যুবক আটক
তিমির বনিক,মৌলভীবাজার প্রতিনিধি:
মৌলভীবাজারের কুলাউড়ায় জেলা পুলিশ সুপারকে ঘুষ দেওয়ার চেষ্টায় এক নারী ও এক যুবককে আটক করেছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার (৩০শে এপ্রিল) দুপুরের দিকে কুলাউড়া থানায় এ ঘটনাটি ঘটে।
আটককৃতরা হলেন-কুলাউড়া উপজেলার রাউৎগাঁও ইউনিয়নের ভবানীপুর গ্রামের বাসিন্দা মৃত আতিকুর রহমান চৌধুরীর ছেলে ও চৌধুরী বাজার ব্যবসায়ী মইনুল ইসলাম চৌধুরী সামাদ এবং একই ইউনিয়নের আব্দুলপুর গ্রামের মৃত তাহির আলীর মেয়ে জেসমিন আক্তার।
পুলিশ সূত্রের বরাতে জানা যায়, জেসমিন আক্তারের সাবেক স্বামী মাহতাব মিয়ার সঙ্গে পারিবারিক বিরোধ চলমান এবং আদালতে মামলা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে দ্বন্দ্ব চলছিল। অভিযোগ রয়েছে, স্বামীকে বিভিন্নভাবে হয়রানির চেষ্টা করে আসছিলেন তিনি। স্বামী প্রবাসে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন-এমন খবর পেয়ে তার প্রবাসযাত্রা বাঁধা তৈরি করতে উদ্যোগ নেন জেসমিন।
এহেন এ উদ্দেশ্যে বৃহস্পতিবার নগদ দুই লাখ টাকা নিয়ে ব্যবসায়ী সামাদ চৌধুরীকে সঙ্গে নিয়ে কুলাউড়া থানায় যান তিনি। ওই সময় থানায় সিলেট রেঞ্জের ডিআইজি মো. মুশফেকুর রহমানের দ্বি-বার্ষিক পরিদর্শন অনুষ্ঠান চলছিল। উপস্থিত ছিলেন মৌলভীবাজার জেলা পুলিশ সুপার মোহাম্মদ বিল্লাল হোসেন, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (কুলাউড়া সার্কেল) মো. আজমল হোসেন এবং কুলাউড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান মোল্যা।
পরিদর্শন শেষে জেসমিন আক্তার পুলিশ সুপারের সঙ্গে দেখা করে তার সমস্যার কথা জানান। এ সময় সামাদ চৌধুরী জেসমিনের কাছ থেকে নগদ টাকা নিয়ে একটি খামের মাধ্যমে পুলিশ সুপারের হাতে দেওয়ার চেষ্টা করেন। খাম খুলে টাকার বান্ডিল দেখতে পেয়ে তাৎক্ষণিকভাবে তাদের আটক করার নির্দেশ দেন পুলিশ সুপার।
পুলিশ জানায়, দুই লাখ টাকার মধ্যে ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা সরিয়ে রেখে ৪০ হাজার টাকা ঘুষ হিসেবে দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছিল বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে।
ঘটনার খবর জানাজানি হলে কুলাউড়া উপজেলা জুড়ে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।
কুলাউড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান মোল্যা জানান, এ ঘটনায় পুলিশ বাদী হয়ে আটক দু’জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছে। শুক্রবার(১লা মে) তাদের মৌলভীবাজার বিজ্ঞ আদালতে পাঠানো হবে।
মৌলভীবাজার জেলা পুলিশ সুপার মোহাম্মদ বিল্লাল হোসেন বলেন, জেসমিন আক্তার কয়েকদিন ধরে তার সঙ্গে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করে সাক্ষাতের চেষ্টা করছিলেন। পরে তাকে কুলাউড়া থানায় দেখা করতে বলা হয়। সাক্ষাৎকালে সামাদ নামে এক ব্যক্তি তার হাতে একটি খাম দিলে সন্দেহের সৃষ্টি হলে খুলে দেখতেই টাকার বান্ডিল পাওয়া যায় এবং সঙ্গে সঙ্গে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য আটক করা হয়। তিনি আরও জানান, ঘুষ দেওয়ার চেষ্টা বরদাস্ত করা হবে না এবং এ ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। আইন বহির্ভূত কোন কর্মকান্ড মেনে নিবে না মৌলভীবাজার জেলা পুলিশ।











