ঢাকা , শনিবার, ১৪ মার্চ ২০২৬, ২৯ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
নিষিদ্ধ ঘোষিত হাইড্রোজ খাদ্যে ব্যবহারে জরিমানা ও প্রতিষ্ঠান সিলগালা কালীগঞ্জে অধিক মূল্যে বিভিন্ন পণ্য বিক্রয় ৫ ব্যবসায়ীকে ১৯০০০ টাকা জরিমান মৌলভীবাজার জেলা বিএনপি’র সদস্য সচিবের বিরুদ্ধে অনাস্থা জানিয়ে লিখিত;মির্জা ফখরুল নিখোঁজের ১দিন পর রিপনের লাশ নদীর পাড় থেকে উদ্ধার কমলগঞ্জে কোরআন অবমাননার অভিযোগে মিলনকে গণধোলাই দিয়ে পুলিশে স্বাস্থ্যমন্ত্রী কালীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স পরিদর্শন “কর্মরত ডাক্তার অনুপস্থিত”  মাধবদীর আলোচিত আমেনা হত্যাকান্ডের রহস্য উন্মোচন “সৎ পিতার হত্যার দায় স্বীকার” হাকালুকি হাওরে সূর্যমুখী চাষে কৃষকের স্বস্তি কালীগঞ্জে মেয়াদোত্তীর্ণ পানীয় বিক্রি, জরিমানা ৩০ হাজার কালীগঞ্জের টঙ্গী-ঘোড়াশাল বাইপাসে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ১ আহত ৪
গোপনে ঢাকামুখী হচ্ছেন আ. লীগের নেতাকর্মীরা, ফের অস্থিরতার আশঙ্কা!

গোপনে ঢাকামুখী হচ্ছেন আ. লীগের নেতাকর্মীরা, ফের অস্থিরতার আশঙ্কা!

প্রতিনিধির নাম
  • প্রকাশের সময় : ১১:৩৬:২৪ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১১ এপ্রিল ২০২৫
  • / ৪১৪ বার পড়া হয়েছে
৬০

সরকার পরিবর্তনের পর সারাদেশে সহিংসতা, হত্যা, ধর্ষণ, চাঁদাবাজি ও হামলার মতো অপরাধ বেড়ে চলেছে। বিশেষ করে চট্টগ্রামে এসব অপরাধের মাত্রা উদ্বেগজনকভাবে বাড়তে থাকায় জেলার প্রতিটি থানাকে বিশেষ নজরদারির আওতায় এনেছে পুলিশ। এরই মধ্যে গণমাধ্যম সূত্রে জানা যায়, একটি গোপন গোয়েন্দা প্রতিবেদনে উঠে এসেছে, আওয়ামী লীগের বিভিন্ন স্তরের নেতাকর্মীরা গোপনে দলবদ্ধভাবে ঢাকামুখী হচ্ছেন। ধারণা করা হচ্ছে, তারা রাজধানীতে অস্থিরতা তৈরির পাশাপাশি সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ফিরিয়ে আনার দাবিতে আন্দোলনের প্রস্তুতি নিচ্ছেন।

পুলিশ ও গোয়েন্দা সূত্রগুলো বলছে, গত ৫ আগস্ট সরকারের পতনের পর চট্টগ্রামে সহিংসতা, দখল, রাজনৈতিক প্রতিহিংসা ও সংঘর্ষের ঘটনায় সরাসরি জড়িয়ে পড়েছে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা। পুলিশের মনোবল ভেঙে পড়ার সুযোগে সংঘবদ্ধ অপরাধচক্র আবারও সক্রিয় হয়ে উঠেছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

গণমাধ্যম সূত্র বলছে, এই প্রেক্ষাপটে গত বুধবার (৯ এপ্রিল) চট্টগ্রাম জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিএসবি) থেকে জেলার সব থানায় একটি নির্দেশনা পাঠানো হয়। এতে পুলিশ সদস্যদের জন্য আটটি সতর্কতামূলক নির্দেশনা দেওয়া হয়, যার মধ্যে রয়েছে—সন্দেহভাজনদের গতিবিধি পর্যবেক্ষণ, যাদের নামে মামলা রয়েছে তাদের মোবাইল ট্র্যাক করে অবস্থান শনাক্ত ও গ্রেপ্তার, গুরুত্বপূর্ণ স্থানে চেকপোস্ট বসানো এবং নৌঘাট, রেলস্টেশন ও বাসস্ট্যান্ডে বাড়তি নজরদারি করা।

এছাড়াও ঢাকামুখী যাত্রা প্রতিহত করতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নজরদারি করে উসকানিদাতাদের শনাক্ত করা, অর্থদাতাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া এবং ভাড়ায় চালিত যানবাহন ও স্ট্যান্ডগুলোতে পর্যবেক্ষণ জোরদার করার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে। গণমাধ্যমের প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, গোয়েন্দা পুলিশের ওই প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে ঢাকায় সমবেত হওয়ার জন্য দলীয় নেতাকর্মীদের আহ্বান জানানো হয়েছে। এতে রাজধানীতে রাজনৈতিক অস্থিরতা তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এমন তথ্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ায় সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ও উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে।

চট্টগ্রাম জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (শিল্পাঞ্চল ও ডিবি) মোহাম্মদ রাসেল গণমাধ্যমকে বলেন, “সরকার পরিবর্তনের সময় কিছুটা ধাক্কা খেলেও পুলিশের মনোবল এখন পুনরুদ্ধার হয়েছে। নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে এবং অপরাধে জড়িত কাউকে ছাড় দেওয়া হচ্ছে না।” চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত উপকমিশনার (মিডিয়া) মাহমুদা বেগম বলেন, “নগরীতে পুট ও নাইট পেট্রোল জোরদার করা হয়েছে। পাশাপাশি নতুন চেকপোস্ট স্থাপন এবং মিনি টিম গঠন করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখার চেষ্টা চলছে। যেসব এলাকা অস্থিরতার ঝুঁকিতে রয়েছে, সেখানে বাড়তি ফোর্স মোতায়েন করা হয়েছে।”

চট্টগ্রাম জেলা ডিএসবির অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোহাম্মদ জুনায়েত কাউছার বলেন, “নির্দিষ্ট কোনো চিঠির বিষয়ে আমি নিশ্চিত নই। তবে আমরা নিয়মমাফিক যেকোনো হুমকি বা গুজব পেলে তা মোকাবিলায় প্রস্তুতি নিই। পুলিশ সবসময় সতর্ক ও সচেতন রয়েছে।” রাজনৈতিক অস্থিরতার এই পটভূমিতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সম্ভাব্য সংঘাত মোকাবিলায় নতুন করে তৎপর হয়ে উঠেছে। তবে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং সামগ্রিক পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখা এখন অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

ট্যাগস :

এই নিউজটি শেয়ার করুন

গোপনে ঢাকামুখী হচ্ছেন আ. লীগের নেতাকর্মীরা, ফের অস্থিরতার আশঙ্কা!

গোপনে ঢাকামুখী হচ্ছেন আ. লীগের নেতাকর্মীরা, ফের অস্থিরতার আশঙ্কা!

প্রকাশের সময় : ১১:৩৬:২৪ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১১ এপ্রিল ২০২৫
৬০

সরকার পরিবর্তনের পর সারাদেশে সহিংসতা, হত্যা, ধর্ষণ, চাঁদাবাজি ও হামলার মতো অপরাধ বেড়ে চলেছে। বিশেষ করে চট্টগ্রামে এসব অপরাধের মাত্রা উদ্বেগজনকভাবে বাড়তে থাকায় জেলার প্রতিটি থানাকে বিশেষ নজরদারির আওতায় এনেছে পুলিশ। এরই মধ্যে গণমাধ্যম সূত্রে জানা যায়, একটি গোপন গোয়েন্দা প্রতিবেদনে উঠে এসেছে, আওয়ামী লীগের বিভিন্ন স্তরের নেতাকর্মীরা গোপনে দলবদ্ধভাবে ঢাকামুখী হচ্ছেন। ধারণা করা হচ্ছে, তারা রাজধানীতে অস্থিরতা তৈরির পাশাপাশি সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ফিরিয়ে আনার দাবিতে আন্দোলনের প্রস্তুতি নিচ্ছেন।

পুলিশ ও গোয়েন্দা সূত্রগুলো বলছে, গত ৫ আগস্ট সরকারের পতনের পর চট্টগ্রামে সহিংসতা, দখল, রাজনৈতিক প্রতিহিংসা ও সংঘর্ষের ঘটনায় সরাসরি জড়িয়ে পড়েছে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা। পুলিশের মনোবল ভেঙে পড়ার সুযোগে সংঘবদ্ধ অপরাধচক্র আবারও সক্রিয় হয়ে উঠেছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

গণমাধ্যম সূত্র বলছে, এই প্রেক্ষাপটে গত বুধবার (৯ এপ্রিল) চট্টগ্রাম জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিএসবি) থেকে জেলার সব থানায় একটি নির্দেশনা পাঠানো হয়। এতে পুলিশ সদস্যদের জন্য আটটি সতর্কতামূলক নির্দেশনা দেওয়া হয়, যার মধ্যে রয়েছে—সন্দেহভাজনদের গতিবিধি পর্যবেক্ষণ, যাদের নামে মামলা রয়েছে তাদের মোবাইল ট্র্যাক করে অবস্থান শনাক্ত ও গ্রেপ্তার, গুরুত্বপূর্ণ স্থানে চেকপোস্ট বসানো এবং নৌঘাট, রেলস্টেশন ও বাসস্ট্যান্ডে বাড়তি নজরদারি করা।

এছাড়াও ঢাকামুখী যাত্রা প্রতিহত করতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নজরদারি করে উসকানিদাতাদের শনাক্ত করা, অর্থদাতাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া এবং ভাড়ায় চালিত যানবাহন ও স্ট্যান্ডগুলোতে পর্যবেক্ষণ জোরদার করার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে। গণমাধ্যমের প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, গোয়েন্দা পুলিশের ওই প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে ঢাকায় সমবেত হওয়ার জন্য দলীয় নেতাকর্মীদের আহ্বান জানানো হয়েছে। এতে রাজধানীতে রাজনৈতিক অস্থিরতা তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এমন তথ্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ায় সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ও উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে।

চট্টগ্রাম জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (শিল্পাঞ্চল ও ডিবি) মোহাম্মদ রাসেল গণমাধ্যমকে বলেন, “সরকার পরিবর্তনের সময় কিছুটা ধাক্কা খেলেও পুলিশের মনোবল এখন পুনরুদ্ধার হয়েছে। নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে এবং অপরাধে জড়িত কাউকে ছাড় দেওয়া হচ্ছে না।” চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত উপকমিশনার (মিডিয়া) মাহমুদা বেগম বলেন, “নগরীতে পুট ও নাইট পেট্রোল জোরদার করা হয়েছে। পাশাপাশি নতুন চেকপোস্ট স্থাপন এবং মিনি টিম গঠন করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখার চেষ্টা চলছে। যেসব এলাকা অস্থিরতার ঝুঁকিতে রয়েছে, সেখানে বাড়তি ফোর্স মোতায়েন করা হয়েছে।”

চট্টগ্রাম জেলা ডিএসবির অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোহাম্মদ জুনায়েত কাউছার বলেন, “নির্দিষ্ট কোনো চিঠির বিষয়ে আমি নিশ্চিত নই। তবে আমরা নিয়মমাফিক যেকোনো হুমকি বা গুজব পেলে তা মোকাবিলায় প্রস্তুতি নিই। পুলিশ সবসময় সতর্ক ও সচেতন রয়েছে।” রাজনৈতিক অস্থিরতার এই পটভূমিতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সম্ভাব্য সংঘাত মোকাবিলায় নতুন করে তৎপর হয়ে উঠেছে। তবে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং সামগ্রিক পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখা এখন অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।