ঢাকা , বুধবার, ১২ অগাস্ট ২০২৬, ২৮ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
হামলার আশঙ্কায় আতঙ্কিত পল্লী বিদ্যুতের কর্মীরা, আইজিপিকে চিঠি উঠানে খেলতে গিয়ে পুকুরে, প্রাণ গেল দুই বছরের শিশুর মাদকের নেশায় বেপরোয়া ছেলে, বাধ্য হয়ে পুলিশে দিলেন বাবা কালীগঞ্জে ডায়াগনস্টিক সেন্টার সিলগালা, জরিমানা ২০ হাজার টাকা রাজনৈতিক জীবনে স্ত্রীর ত্যাগ-সহযোগিতার কথা স্মরণ করলেন মির্জা ফখরুল সালমান শাহ হত্যা মামলায় ডনের জামিন আবেদন খারিজ কালীগঞ্জে ৩ মাদকসেবীর বিনাশ্রম কারাদণ্ড পাসপোর্ট কর্মকর্তার বাসভবনে নারী, স্থানীয়দের খবরে আটক দুজন ১৫ বছরের চাকরিতে শতকোটি টাকার সম্পদ, প্রশ্নের মুখে কর্মকর্তা মনিরুজ্জামান কাশিয়ানীতে ট্রেনে কাটা পড়ে প্রাণ গেল দুই যুবকের

মাদকের নেশায় বেপরোয়া ছেলে, বাধ্য হয়ে পুলিশে দিলেন বাবা

ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি
  • প্রকাশের সময় : ০৮:০১:৪০ অপরাহ্ন, বুধবার, ১২ অগাস্ট ২০২৬
  • / ৯ বার পড়া হয়েছে

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইলে মাদকাসক্ত ছেলের অত্যাচারে অতিষ্ঠ হয়ে তাকে পুলিশে সোপর্দ করেছেন এক অসহায় বাবা। রোববার (৯ আগস্ট) দুপুর ২টার দিকে উপজেলার চুন্টা ইউনিয়নের বড়বল্লা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

ওই যুবকের নাম- জিয়াউর রহমান (২৭)। তিনি বড়বল্লা গ্রামের মন মিয়ার ছোট ছেলে।

পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বড়বল্লা গ্রামের মন মিয়ার ছোট ছেলে জিয়াউর রহমান দীর্ঘদিন ধরে মাদকাসক্ত। নেশার টাকা জোগাড় করতে পরিবারের সদস্যদের ওপর বিভিন্ন সময় চাপ সৃষ্টি ও ভয়ভীতি দেখাতেন তিনি। এতে দীর্ঘদিন ধরে আতঙ্ক ও অসহায়ত্বের মধ্যে দিন কাটাচ্ছিল পরিবারটি।

নেশার টাকা সংগ্রহ করতে একপর্যায়ে জিয়াউর রহমান শাবল দিয়ে ঘরের বেড়ার টিন খুলে ফেলেন। পরে সেই টিন বিক্রি করে নেশার টাকা জোগাড় করেন। শুধু তাই নয়, একটি ছাগল মাত্র ৫ হাজার টাকায় বিক্রি করে দেন তিনি। নেশার টাকা না পেলে জিয়াউর রহমান বাবা-মাকে ছুরি-চাকু দেখিয়ে ভয়ভীতি প্রদর্শন করতেন।

টাকা-পয়সার জন্য চাপ সৃষ্টি এবং পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে মারমুখী আচরণ করতেন। তার এমন আচরণে পরিবারের সবাই দীর্ঘদিন ধরে নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছিলেন। সন্তানের ভবিষ্যতের কথা বিবেচনা করে তাকে স্বাভাবিক জীবনে ফেরানোর চেষ্টা করেও কোনো সুফল না পাওয়ায় শেষ পর্যন্ত কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হন বাবা।

সরাইল থানার ওসি মনজুর কাদের ভূঁইয়া বলেন, জিয়াউর রহমান নামের যুবককে ভ্রাম্যমাণ আদালতে সোপর্দ করলে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট তাকে ৬ মাসের কারাদণ্ড দেন। নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি মাদকাসক্তের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। মাদক নির্মূলে সরাইল থানা পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। তবে এটি শুধু মাত্র পুলিশের একার পক্ষে কষ্টসাধ্য, মাদকের বিরুদ্ধে সামাজিকভাবে সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে।

ট্যাগস :
প্রফেশনাল নিউজ পোর্টাল দিচ্ছে থিম বিক্রয় ডটকম

এই নিউজটি শেয়ার করুন

মাদকের নেশায় বেপরোয়া ছেলে, বাধ্য হয়ে পুলিশে দিলেন বাবা

প্রকাশের সময় : ০৮:০১:৪০ অপরাহ্ন, বুধবার, ১২ অগাস্ট ২০২৬

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইলে মাদকাসক্ত ছেলের অত্যাচারে অতিষ্ঠ হয়ে তাকে পুলিশে সোপর্দ করেছেন এক অসহায় বাবা। রোববার (৯ আগস্ট) দুপুর ২টার দিকে উপজেলার চুন্টা ইউনিয়নের বড়বল্লা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

ওই যুবকের নাম- জিয়াউর রহমান (২৭)। তিনি বড়বল্লা গ্রামের মন মিয়ার ছোট ছেলে।

পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বড়বল্লা গ্রামের মন মিয়ার ছোট ছেলে জিয়াউর রহমান দীর্ঘদিন ধরে মাদকাসক্ত। নেশার টাকা জোগাড় করতে পরিবারের সদস্যদের ওপর বিভিন্ন সময় চাপ সৃষ্টি ও ভয়ভীতি দেখাতেন তিনি। এতে দীর্ঘদিন ধরে আতঙ্ক ও অসহায়ত্বের মধ্যে দিন কাটাচ্ছিল পরিবারটি।

নেশার টাকা সংগ্রহ করতে একপর্যায়ে জিয়াউর রহমান শাবল দিয়ে ঘরের বেড়ার টিন খুলে ফেলেন। পরে সেই টিন বিক্রি করে নেশার টাকা জোগাড় করেন। শুধু তাই নয়, একটি ছাগল মাত্র ৫ হাজার টাকায় বিক্রি করে দেন তিনি। নেশার টাকা না পেলে জিয়াউর রহমান বাবা-মাকে ছুরি-চাকু দেখিয়ে ভয়ভীতি প্রদর্শন করতেন।

টাকা-পয়সার জন্য চাপ সৃষ্টি এবং পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে মারমুখী আচরণ করতেন। তার এমন আচরণে পরিবারের সবাই দীর্ঘদিন ধরে নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছিলেন। সন্তানের ভবিষ্যতের কথা বিবেচনা করে তাকে স্বাভাবিক জীবনে ফেরানোর চেষ্টা করেও কোনো সুফল না পাওয়ায় শেষ পর্যন্ত কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হন বাবা।

সরাইল থানার ওসি মনজুর কাদের ভূঁইয়া বলেন, জিয়াউর রহমান নামের যুবককে ভ্রাম্যমাণ আদালতে সোপর্দ করলে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট তাকে ৬ মাসের কারাদণ্ড দেন। নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি মাদকাসক্তের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। মাদক নির্মূলে সরাইল থানা পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। তবে এটি শুধু মাত্র পুলিশের একার পক্ষে কষ্টসাধ্য, মাদকের বিরুদ্ধে সামাজিকভাবে সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে।