হামলার আশঙ্কায় আতঙ্কিত পল্লী বিদ্যুতের কর্মীরা, আইজিপিকে চিঠি
- প্রকাশের সময় : ০৮:২৬:৪৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ১২ অগাস্ট ২০২৬
- / ৫ বার পড়া হয়েছে
জ্বালানি সংকট ও তীব্র গরমে বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যাহত হয়ে সারা দেশে লোডশেডিং বেড়ে যাওয়ায় পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির উপকেন্দ্র ও অফিসগুলোয় হামলার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এ পরিস্থিতিতে দেশের ৮০টি পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির গ্রিড, উপকেন্দ্র ও অফিসে নিরাপত্তা জোরদারের জন্য পুলিশ মহাপরিদর্শকের (আইজিপি) কাছে চিঠি দিয়েছে বাংলাদেশ পল্লী বিদ্যুৎ অ্যাসোসিয়েশন (বাপবিএ)।
বুধবার (১২ আগস্ট) সংগঠনটির দপ্তর সম্পাদক মাহবুবুর রহমান স্বাক্ষরিত চিঠিটি আইজিপির কাছে পাঠানো হয়।
চিঠিতে বলা হয়েছে, জ্বালানি সংকট ও তীব্র তাপদাহের কারণে চাহিদার তুলনায় বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। ফলে বিদ্যুৎ সরবরাহ কমে যাওয়ায় সারা দেশে, বিশেষ করে গ্রামাঞ্চলে পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির আওতাধীন এলাকায় অতিরিক্ত লোডশেডিং হচ্ছে। এতে জনরোষ বাড়ছে এবং কিছু এলাকায় বিদ্যুৎ উপকেন্দ্র ও অফিসে হামলার ঘটনাও ঘটছে।
চিঠিতে বলা হয়, পল্লী বিদ্যুৎ সমিতিগুলো বিদ্যুৎ উৎপাদন করে না। চাহিদার ভিত্তিতে উৎপাদিত বিদ্যুতের বরাদ্দ অনুযায়ী তারা গ্রাহকদের সরবরাহ করে। বর্তমানে পল্লী বিদ্যুৎ সমিতিগুলোর গড় চাহিদা প্রায় ৮ থেকে ৯ হাজার মেগাওয়াট হলেও বরাদ্দ পাওয়া যাচ্ছে গড়ে ৫ থেকে ৬ হাজার মেগাওয়াট। ফলে কোথাও কোথাও দৈনিক গড়ে ৮, ১০ ও ১২ ঘণ্টা পর্যন্ত লোডশেডিং হচ্ছে।
এতে দেশের বিভিন্ন স্থানে সাধারণ মানুষ ক্ষুব্ধ হয়ে পল্লী বিদ্যুতের উপকেন্দ্রে হামলা ও ভাঙচুরের মতো ঘটনা ঘটাচ্ছে বলে চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে উপকেন্দ্র ও সেখানে দায়িত্ব পালনকারী পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির কর্মীরা ‘নিরাপত্তাহীনতা ও আতঙ্কের’ মধ্যে রয়েছেন।
চিঠিতে আরও বলা হয়, দেশের মোট ৫ কোটি ২০ হাজার গ্রাহকের মধ্যে প্রায় ৪ কোটি গ্রাহককে পল্লী বিদ্যুৎ সমিতিগুলো বিদ্যুৎ সেবা দিয়ে থাকে, যা মোট গ্রাহকের প্রায় ৮০ শতাংশ। উৎপাদিত বিদ্যুতের প্রায় ৬০ শতাংশও পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির আওতাধীন এলাকায় সরবরাহ করা হয় বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
এ অবস্থায় দেশের প্রতিটি পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির আওতাধীন গ্রিড, উপকেন্দ্র ও অফিসে নিরাপত্তা জোরদারে স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়ার অনুরোধ জানিয়েছে বাংলাদেশ পল্লী বিদ্যুৎ অ্যাসোসিয়েশন।
এদিকে বিদ্যুৎ সাশ্রয় ও বিদ্যুৎ ব্যবস্থাপনা কার্যক্রম জোরদারে নতুন সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। বুধবার (১২ আগস্ট) থেকে দেশের সব শপিংমল, মার্কেট ও দোকান সকাল ১১টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত খোলা রাখা যাবে। একই সঙ্গে সন্ধ্যা ৭টার মধ্যে সব ধরনের আলোকিত বিলবোর্ড বন্ধ করতে হবে। বন্ধ রাখতে হবে সব ধরনের আলোকসজ্জাও।
বুধবার এক বার্তায় বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রণালয় এ তথ্য জানিয়েছে।
মন্ত্রণালয়ের বার্তায় বলা হয়, বিদ্যুৎ বিভাগের ১১
জুনের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী শপিংমল, মার্কেট ও দোকানপাট রাত ৯টা পর্যন্ত খোলা রাখার অনুমতি ছিল। তবে বিদ্যমান পরিস্থিতি বিবেচনায় নতুন সময়সূচি নির্ধারণ করা হয়েছে, যা ১২ আগস্ট থেকে কার্যকর হবে।
নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, দেশের বিভিন্ন স্থানে চলমান ও অনুষ্ঠিতব্য মেলা, বাণিজ্য মেলা এবং সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানও রাত ৮টার মধ্যে শেষ করতে হবে। তবে খাবারের দোকান, হাসপাতাল, ফার্মেসি ও ওষুধের দোকানসহ জরুরি সেবাসংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলো এ নির্দেশনার আওতার বাইরে থাকবে।
বিদ্যুৎ বিভাগ সংশ্লিষ্ট সব প্রতিষ্ঠান ও কর্তৃপক্ষকে এ সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বিদ্যুৎ ব্যবহারে সাশ্রয় আনা এবং বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থার ওপর চাপ কমাতেই এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
এর মধ্যে সন্ধ্যা থেকে বিদ্যুৎ পরিস্থিতি কিছুটা উন্নতির আশা প্রকাশ করেছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত। জ্বালানি ও বিদ্যুৎ সংকটের পেছনে বিগত সরকারের ‘ভুল নীতি’ দায়ী বলেও মন্তব্য করেছেন তিনি। একই সঙ্গে চলমান ভোগান্তির জন্য দেশবাসীর কাছে দুঃখ প্রকাশ করেন প্রতিমন্ত্রী।
বুধবার দুপুরে গণমাধ্যমকর্মীদের প্রশ্নের জবাবে বিদ্যুৎ সংকটের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘গ্যাস যদি আপনি পর্যাপ্ত সাপ্লাই না করতে পারেন তাহলে বিদ্যুতের সংকট হবে।’ তিনি আরও বলেন, ‘আমরা একটা কৌশল নিয়েছি গতকাল সন্ধ্যা থেকে নিয়েছি। আমরা আশা করছি, আজকে সন্ধ্যা থেকে বিদ্যুৎ পরিস্থিতির কিছুটা হলে উন্নতি হবে ইনশাআল্লাহ।’

























