প্রেমিকার জন্য বাবার টাকা চুরি, রিসোর্টে অবস্থান; উপহার দিলেন আইফোন
- প্রকাশের সময় : ০৯:৩০:৩৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৬ অগাস্ট ২০২৬
- / 14 বার পড়া হয়েছে
নিজের বাবার ঘরের লকার ভেঙে নগদ অর্থ ও স্বর্ণালংকার চুরির অভিযোগে ২৫ বছর বয়সী এক যুবককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। চুরি করা প্রায় ৫০ লাখ রুপির বড় একটি অংশ তিনি প্রেমিকার পেছনে খরচ করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রেমিকাকে প্রায় দেড় লাখ রুপি মূল্যের একটি আইফোন উপহার দেওয়ার পাশাপাশি বিভিন্ন হোটেল ও রিসোর্টে অবস্থান করেও অর্থ খরচ করেছেন বলে পুলিশের দাবি।
ঘটনাটি ভারতের আসামের যোরহাটে। গ্রেপ্তার যুবকের নাম যশ ধনুকা আগরওয়াল। ঘটনার পর তিনি গুজরাটের আহমেদাবাদে চলে যান। পরে তার বাবা নিজেই আহমেদাবাদ থেকে তাকে যোরহাটে ফিরিয়ে এনে পুলিশের কাছে তুলে দেন।
পুলিশ জানায়, গত ১১ আগস্ট পরিবারের সদস্যরা বাড়ির বাইরে থাকার সুযোগে যশের বাবার ঘরে থাকা একটি লকার ভেঙে নগদ অর্থ ও স্বর্ণালংকার চুরি করা হয়। চুরি হওয়া অর্থের পরিমাণ প্রায় ৫০ লাখ রুপি, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় অন্তত ৬৪ লাখ ৪০ হাজার টাকার সমান।
ঘটনার তদন্তে সাইবার সিকিউরিটি সেলের সহায়তা নেয় পুলিশ। একপর্যায়ে তদন্তকারীদের সন্দেহ হয়, এটি বাইরের কারও কাজ নয়; পরিবারের ভেতরের কেউ পরিকল্পিতভাবে চুরির সঙ্গে জড়িত থাকতে পারেন। ঘটনার পর যশের যোরহাট ছেড়ে আহমেদাবাদে চলে যাওয়া সন্দেহ আরও বাড়িয়ে দেয়। পরে মোবাইল ফোনের অবস্থান শনাক্ত করে পুলিশ তার অবস্থান সম্পর্কে নিশ্চিত হয়।
এরপর যশের বাবা আহমেদাবাদে গিয়ে তাকে খুঁজে বের করেন এবং যোরহাটে ফিরিয়ে এনে পুলিশের হাতে তুলে দেন।
মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) যশকে আদালতে হাজির করা হলে তাকে বিচারিক হেফাজতে পাঠানো হয় বলে জানিয়েছেন যোরহাট সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ঋষিকেশ হাজারিকা।
জিজ্ঞাসাবাদে যশ দাবি করেন, তার দুই বন্ধু জিতেন্দ্র সোমানি ও রোহিত প্রসাদের সঙ্গে মিলে চুরির পরিকল্পনা করেছিলেন। তাদের পরামর্শেই তিনি বাবার ঘরের লকার থেকে টাকা নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন বলে দাবি তার। লকার খোলার জন্য একজন তালাচাবি মিস্ত্রির সহায়তাও নেওয়া হয়েছিল বলে জানান তিনি।
যশের ভাষ্য, চুরির পর তারা পার্টি করেন। সেখানে পাবালি নামের এক তরুণীও উপস্থিত ছিলেন। ওই তরুণীর পেছনে তিনি প্রায় ৫ লাখ রুপি খরচ করেছেন বলেও দাবি করেন।
তদন্তকারীদের ধারণা, চুরি করা অর্থের একটি অংশ যশ তার দীর্ঘদিনের প্রেমিকা পাবালি দত্তের পেছনে ব্যয় করেছেন। তাকে প্রায় ১ লাখ ৫০ হাজার রুপি মূল্যের একটি আইফোন উপহার দেওয়ার পাশাপাশি নগদ টাকা দিয়েছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। এ ছাড়া কয়েক দিন বিভিন্ন হোটেল ও রিসোর্টে অবস্থান করেও অর্থ খরচ করেছেন বলে সন্দেহ পুলিশের।
তবে এখনো পাবালি দত্তকে এ মামলায় আসামি করা হয়নি। তদন্তের প্রয়োজনে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হতে পারে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
চুরির ঘটনায় দায়ের করা এফআইআরে যশের দুই বন্ধু জিতেন্দ্র সোমানি ও রোহিত প্রসাদের নাম রয়েছে। পুলিশের সন্দেহ, চুরির পরিকল্পনায় তারা জড়িত ছিলেন এবং চুরি করা স্বর্ণালংকার সরিয়ে ফেলতেও সহায়তা করেছেন।
তবে বর্তমানে দুজনই পলাতক। তাদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।
পরিবারের পক্ষ থেকে পুলিশকে জানানো হয়েছে, ব্যবসায়িক কাজে ব্যবহারের জন্য বাড়িতে ওই নগদ টাকা রাখা হয়েছিল। পারিবারিক ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত থাকায় বাড়িতে এত টাকা থাকার বিষয়টি যশ জানতেন বলেও অভিযোগ রয়েছে।
এ ঘটনায় ভারতীয় ন্যায় সংহিতার (বিএনএস) সংশ্লিষ্ট ধারায় মামলা হয়েছে। চুরি যাওয়া নগদ অর্থ ও স্বর্ণালংকার উদ্ধারের পাশাপাশি পলাতক দুই সন্দেহভাজনকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। তদন্ত এখনো অব্যাহত রয়েছে।


























