ঢাকা , বুধবার, ২৬ অগাস্ট ২০২৬, ১১ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ডলারের নির্ভরতা কমিয়ে রুফিয়াকে শক্তিশালী করতে চায় মালদ্বীপ

মোঃ বাবলু , সিনিয়র রিপোর্টার
মোঃ বাবলু , সিনিয়র রিপোর্টার
  • প্রকাশের সময় : ০৯:৩৬:১৭ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৬ অগাস্ট ২০২৬
  • / 3 বার পড়া হয়েছে

‎দেশের অর্থনীতিতে মার্কিন ডলারের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে স্থানীয় মুদ্রা রুফিয়ার ব্যবহার বাড়াতে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে মালদ্বীপ। ২০৩০ সালের মধ্যে দেশের সব ধরনের আর্থিক লেনদেন স্থানীয় মুদ্রা রুফিয়ায় নিয়ে আসার লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছে মালদ্বীপ মনিটারি অথরিটি (এমএমএ)।

‎এ পরিকল্পনার অংশ হিসেবে বর্তমানে যেসব প্রতিষ্ঠান কর্মীদের বেতন মার্কিন ডলারে পরিশোধ করছে, ভবিষ্যতে তাদের রুফিয়ায় বেতন প্রদানের আওতায় আনার উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন এমএমএ গভর্নর আহমেদ মুনাওয়ার।
‎রাজধানী মালে প্রেসিডেন্ট অফিসে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে গভর্নর মুনাওয়ার বলেন, “মালদ্বীপ এমন একটি দেশ হওয়া উচিত, যেখানে সব লেনদেন রুফিয়ায় হবে।”

‎তিনি উদাহরণ হিসেবে ট্রান্স মালদিভিয়ান এয়ারওয়েজ (টিএমএ) এবং দেশের বিভিন্ন রিসোর্টের কথা উল্লেখ করেন। এসব প্রতিষ্ঠানের অনেকেই বর্তমানে কর্মীদের ডলারে বেতন দিয়ে থাকে। তাদের রুফিয়ায় বেতন প্রদানের আওতায় আনা গেলে স্থানীয় মুদ্রার চাহিদা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়বে এবং এর মাধ্যমে রুফিয়ার স্থিতিশীলতা জোরদার করা সম্ভব হবে বলে মনে করছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

‎গভর্নর জানান, পর্যটন খাতের জমির ভাড়ার একটি বড় অংশও বর্তমানে বৈদেশিক মুদ্রায় সরকারকে পরিশোধ করা হয়। রুফিয়ার ব্যবহার বাড়ানোর ক্ষেত্রে এটিকেও পরিবর্তনের একটি গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র হিসেবে দেখা হচ্ছে।
‎এমএমএর তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে মালদ্বীপের সামগ্রিক অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে বৈদেশিক মুদ্রার ব্যবহার ৪০ শতাংশেরও বেশি। এই নির্ভরতা কমিয়ে রুফিয়ার ব্যবহার বাড়ানোর পাশাপাশি সামষ্টিক অর্থনৈতিক সংস্কার এবং বাজেট ব্যবস্থাপনায় স্থিতিশীলতা আনার ওপরও গুরুত্ব দিচ্ছে সরকার।

‎গভর্নর মুনাওয়ার আরও জানান, ভবিষ্যতে এমএমএ একটি ‘ম্যানেজড ফ্লোট’ মুদ্রা বিনিময় ব্যবস্থা চালুর পরিকল্পনা করছে। এ ব্যবস্থা কার্যকর করতে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পর্যাপ্ত বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ নিশ্চিত করা জরুরি বলে উল্লেখ করেন তিনি।

‎এদিকে দেশের বৈদেশিক মুদ্রা ব্যবস্থাপনা আরও কঠোর করতে ফরেন কারেন্সি অ্যাক্টে সংশোধনী আনার প্রস্তাবও রয়েছে। প্রস্তাবিত সংশোধনী অনুযায়ী, রিসোর্টগুলোর ডলার আয়ের বাধ্যতামূলক বিনিময়ের হার বর্তমান ২০ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ৪০ শতাংশ করার কথা বলা হয়েছে। একই সঙ্গে বৈদেশিক মুদ্রা বিনিময়ের সময়সীমা তিন মাস থেকে কমিয়ে এক মাস করার প্রস্তাব রয়েছে।

‎সংবাদ সম্মেলনে গভর্নর আরও বলেন, এমএমএর তদন্তে উঠে এসেছে যে বৈদেশিক মুদ্রায় বড় অঙ্কের আয়কারী কিছু পক্ষ মানি চেঞ্জার ব্যবহার করে কালোবাজারে বিপুল অর্থ প্রবাহিত করছে। এ ঘটনায় নিয়ম লঙ্ঘনের অভিযোগে ইতোমধ্যে একটি মানি চেঞ্জারের কার্যক্রম স্থগিত করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট আরও কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে বলেও জানান তিনি।

‎সূত্র: পিএসএম নিউজ

প্রফেশনাল নিউজ পোর্টাল দিচ্ছে থিম বিক্রয় ডটকম

এই নিউজটি শেয়ার করুন

ডলারের নির্ভরতা কমিয়ে রুফিয়াকে শক্তিশালী করতে চায় মালদ্বীপ

প্রকাশের সময় : ০৯:৩৬:১৭ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৬ অগাস্ট ২০২৬

‎দেশের অর্থনীতিতে মার্কিন ডলারের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে স্থানীয় মুদ্রা রুফিয়ার ব্যবহার বাড়াতে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে মালদ্বীপ। ২০৩০ সালের মধ্যে দেশের সব ধরনের আর্থিক লেনদেন স্থানীয় মুদ্রা রুফিয়ায় নিয়ে আসার লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছে মালদ্বীপ মনিটারি অথরিটি (এমএমএ)।

‎এ পরিকল্পনার অংশ হিসেবে বর্তমানে যেসব প্রতিষ্ঠান কর্মীদের বেতন মার্কিন ডলারে পরিশোধ করছে, ভবিষ্যতে তাদের রুফিয়ায় বেতন প্রদানের আওতায় আনার উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন এমএমএ গভর্নর আহমেদ মুনাওয়ার।
‎রাজধানী মালে প্রেসিডেন্ট অফিসে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে গভর্নর মুনাওয়ার বলেন, “মালদ্বীপ এমন একটি দেশ হওয়া উচিত, যেখানে সব লেনদেন রুফিয়ায় হবে।”

‎তিনি উদাহরণ হিসেবে ট্রান্স মালদিভিয়ান এয়ারওয়েজ (টিএমএ) এবং দেশের বিভিন্ন রিসোর্টের কথা উল্লেখ করেন। এসব প্রতিষ্ঠানের অনেকেই বর্তমানে কর্মীদের ডলারে বেতন দিয়ে থাকে। তাদের রুফিয়ায় বেতন প্রদানের আওতায় আনা গেলে স্থানীয় মুদ্রার চাহিদা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়বে এবং এর মাধ্যমে রুফিয়ার স্থিতিশীলতা জোরদার করা সম্ভব হবে বলে মনে করছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

‎গভর্নর জানান, পর্যটন খাতের জমির ভাড়ার একটি বড় অংশও বর্তমানে বৈদেশিক মুদ্রায় সরকারকে পরিশোধ করা হয়। রুফিয়ার ব্যবহার বাড়ানোর ক্ষেত্রে এটিকেও পরিবর্তনের একটি গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র হিসেবে দেখা হচ্ছে।
‎এমএমএর তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে মালদ্বীপের সামগ্রিক অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে বৈদেশিক মুদ্রার ব্যবহার ৪০ শতাংশেরও বেশি। এই নির্ভরতা কমিয়ে রুফিয়ার ব্যবহার বাড়ানোর পাশাপাশি সামষ্টিক অর্থনৈতিক সংস্কার এবং বাজেট ব্যবস্থাপনায় স্থিতিশীলতা আনার ওপরও গুরুত্ব দিচ্ছে সরকার।

‎গভর্নর মুনাওয়ার আরও জানান, ভবিষ্যতে এমএমএ একটি ‘ম্যানেজড ফ্লোট’ মুদ্রা বিনিময় ব্যবস্থা চালুর পরিকল্পনা করছে। এ ব্যবস্থা কার্যকর করতে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পর্যাপ্ত বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ নিশ্চিত করা জরুরি বলে উল্লেখ করেন তিনি।

‎এদিকে দেশের বৈদেশিক মুদ্রা ব্যবস্থাপনা আরও কঠোর করতে ফরেন কারেন্সি অ্যাক্টে সংশোধনী আনার প্রস্তাবও রয়েছে। প্রস্তাবিত সংশোধনী অনুযায়ী, রিসোর্টগুলোর ডলার আয়ের বাধ্যতামূলক বিনিময়ের হার বর্তমান ২০ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ৪০ শতাংশ করার কথা বলা হয়েছে। একই সঙ্গে বৈদেশিক মুদ্রা বিনিময়ের সময়সীমা তিন মাস থেকে কমিয়ে এক মাস করার প্রস্তাব রয়েছে।

‎সংবাদ সম্মেলনে গভর্নর আরও বলেন, এমএমএর তদন্তে উঠে এসেছে যে বৈদেশিক মুদ্রায় বড় অঙ্কের আয়কারী কিছু পক্ষ মানি চেঞ্জার ব্যবহার করে কালোবাজারে বিপুল অর্থ প্রবাহিত করছে। এ ঘটনায় নিয়ম লঙ্ঘনের অভিযোগে ইতোমধ্যে একটি মানি চেঞ্জারের কার্যক্রম স্থগিত করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট আরও কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে বলেও জানান তিনি।

‎সূত্র: পিএসএম নিউজ