ঢাকা , শনিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৬, ৯ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
গর্ভবতী বোনকে হাসপাতালে রেখে গেল স্বজনরা পথেই মৃত সন্তান প্রসব বোদায় টাকার ব্যাগসহ আটক এলজিইডির প্রকৌশলী কালীগঞ্জে ১২ বছর বয়সী স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণ ও গর্ভপাতের অভিযোগে গ্রেপ্তার ৩ কালীগঞ্জে আয়েশা মেমোরিয়াল হাসপাতালের আয়োজনে বিনামূল্যে চিকিৎসা সেবা কালীগঞ্জে পুকুরে ডুবে ৪ বছরের শিশুর মৃত্যু সাভারে নাকে ভুল চিকিৎসায় শিশুর মৃত্যু, পলাতক চিকিৎসক-নার্স রংপুরে ইয়াবার গোপন মজুত, গ্রেপ্তার মা; ছেলের খোঁজ নেই বিড়ির বাজার নিয়ে বিরোধ, গঙ্গাচড়ায় বিএনপি কার্যালয়ে ভাঙচুর ঘোড়াশালে উদ্ধার হওয়া বৃদ্ধার মরদেহের পরিচয় শনাক্ত নবীনগরে মাসব্যাপী বাণিজ্য মেলার শুভ উদ্ভোদন

পেকিন হাঁস পালন করে দারিদ্রতাকে জয় করেছে জয়পুরহাটের রোকেয়া

নিউজ ডেস্ক, প্রতিদিনের পোস্ট
নিউজ ডেস্ক, প্রতিদিনের পোস্ট
  • প্রকাশের সময় : ০৮:৩৮:২৩ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২২ অক্টোবর ২০২২
  • / 553 বার পড়া হয়েছে

জয়পুরহাট প্রতিনিধি, প্রতিদিনের পোস্ট: বিদেশী জাতের পেকিন হাঁস পালন করে দারিদ্রতাকে জয় করেছেন জয়পুরহাটের ক্ষেতলাল উপজেলার প্রত্যন্ত অঞ্চল বাঘোপাড়া গ্রামের রোকেয়া বেগম। সরকারের আয় বর্ধনমূলক নানা কাজে অংশগ্রহন করে সফলতায় এখন গ্রামীণ নারীরা।

সরেজমিন বাঘোপাড়া ঘুরে সফল হাঁস খামারী রোকেয়া বেগমের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, স্থানিয় বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা এ্যাহেড সোস্যাল অর্গানাইজেশনের (এসো) সহযোগিতায় ৫০ টি পেকিন নিয়ে ২০২১ সালের ২৪ জানুয়ারি থেকে শুরু করেন হাঁস পালন। সেই সঙ্গে সংস্থার পক্ষ থেকে দেওয়া হয় খাদ্য সহায়তাও।

প্রথমে ঋণ প্রদান করা হয় ২০ হাজার টাকা। বর্তমানে রোকেয়া বেগমের মূলধনের পরিমান হচ্ছে ৩ লাখ ৩৪ হাজার টাকা। দু:খের সংসারে এখন সুখের বাতাস। একমাত্র ছেলে রাকিবুল ইসলাম অনার্স ১ম বর্ষে লেখাপড়া করছে। সেও লেখাপড়ার ফাঁকে ফাঁকে মা রোকেয়া বেগমকে হাঁস লালন পালনে সহায়তা করে।

রোকেয়া বেগমের খামারে এখন ৮০ টি পেকিন হাঁস রয়েছে। পেকিন হাঁসের বাচ্চা বিক্রি হয় ৭০ টাকা, ডিম বিক্রি হয় ১৫ টাকা পিচ ও প্রতি কেজি মাংস বিক্রি হয় ২শ টাকা।

চাহিদা অনেক বেশি থাকায় খামার থেকেই ক্রেতারা এসে নিয়ে যাওয়ায় বাজারে যেতে হয়না। একেকটি হাঁসের ওজন হচ্ছে সাড়ে তিন কেজি থেকে শুরু করে ৪/৫ কেজি পর্যন্ত। প্রতিটি হাঁস বছরে ডিম দেয় ১৭০ থেকে ১৮০ টি। মাংস খেতে বেশ সুসাদু, পুষ্টিগুণাগুণ সমৃদ্ধ ও নরম হওয়ায় সব বয়সের লোকজন এই পেকিন হাঁসের মাংস খেতে পারেন।

দেশি হাঁসের তুলনায় রোগবালাই কম আবার ২ মাসেই ওজন আসে ৩ কেজি ফলে পেকিন হাঁস পালন বেশ লাভজনক। পেকিন হাঁস পালনে রোকেয়া বেগমের সফলতা দেখে অনেকেই এগিয়ে আসছেন এই হাঁস পালনে। এসো’র তত্বাবধানে জয়পুরহাটের ক্ষেতলাল, আক্কেলপুর ও কালাই উপজেলায় ১২৮টি খামার গড়ে উঠেছে।

আক্কেলপুর উপজেলার ভান্ডারিপাড়া গ্রামের জীবন নাহার, কালাই উপজেলার শাইলগুন গ্রামের রেহেনা বেগম ও ক্ষেতলাল উপজেলার নিশ্চিন্তা গ্রামের দুলাল হোসেন পেকিন হাঁস পালনে সফলতার কথা জানান। এ্যাহেড সোস্যাল অর্গানাইজেশন (এসো)’র নির্বাহী পরিচালক মো: মতিনূর রহমান বলেন, পল্লী কর্ম সহায়ক ফাউন্ডেশনের দিক নির্দেশনায় আয় বর্ধনমূলক কাজে সম্পৃক্ততার মাধ্যমে দারিদ্র বিমোচনে কাজ করছে এসো।

এই নিউজটি শেয়ার করুন

পেকিন হাঁস পালন করে দারিদ্রতাকে জয় করেছে জয়পুরহাটের রোকেয়া

প্রকাশের সময় : ০৮:৩৮:২৩ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২২ অক্টোবর ২০২২

জয়পুরহাট প্রতিনিধি, প্রতিদিনের পোস্ট: বিদেশী জাতের পেকিন হাঁস পালন করে দারিদ্রতাকে জয় করেছেন জয়পুরহাটের ক্ষেতলাল উপজেলার প্রত্যন্ত অঞ্চল বাঘোপাড়া গ্রামের রোকেয়া বেগম। সরকারের আয় বর্ধনমূলক নানা কাজে অংশগ্রহন করে সফলতায় এখন গ্রামীণ নারীরা।

সরেজমিন বাঘোপাড়া ঘুরে সফল হাঁস খামারী রোকেয়া বেগমের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, স্থানিয় বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা এ্যাহেড সোস্যাল অর্গানাইজেশনের (এসো) সহযোগিতায় ৫০ টি পেকিন নিয়ে ২০২১ সালের ২৪ জানুয়ারি থেকে শুরু করেন হাঁস পালন। সেই সঙ্গে সংস্থার পক্ষ থেকে দেওয়া হয় খাদ্য সহায়তাও।

প্রথমে ঋণ প্রদান করা হয় ২০ হাজার টাকা। বর্তমানে রোকেয়া বেগমের মূলধনের পরিমান হচ্ছে ৩ লাখ ৩৪ হাজার টাকা। দু:খের সংসারে এখন সুখের বাতাস। একমাত্র ছেলে রাকিবুল ইসলাম অনার্স ১ম বর্ষে লেখাপড়া করছে। সেও লেখাপড়ার ফাঁকে ফাঁকে মা রোকেয়া বেগমকে হাঁস লালন পালনে সহায়তা করে।

রোকেয়া বেগমের খামারে এখন ৮০ টি পেকিন হাঁস রয়েছে। পেকিন হাঁসের বাচ্চা বিক্রি হয় ৭০ টাকা, ডিম বিক্রি হয় ১৫ টাকা পিচ ও প্রতি কেজি মাংস বিক্রি হয় ২শ টাকা।

চাহিদা অনেক বেশি থাকায় খামার থেকেই ক্রেতারা এসে নিয়ে যাওয়ায় বাজারে যেতে হয়না। একেকটি হাঁসের ওজন হচ্ছে সাড়ে তিন কেজি থেকে শুরু করে ৪/৫ কেজি পর্যন্ত। প্রতিটি হাঁস বছরে ডিম দেয় ১৭০ থেকে ১৮০ টি। মাংস খেতে বেশ সুসাদু, পুষ্টিগুণাগুণ সমৃদ্ধ ও নরম হওয়ায় সব বয়সের লোকজন এই পেকিন হাঁসের মাংস খেতে পারেন।

দেশি হাঁসের তুলনায় রোগবালাই কম আবার ২ মাসেই ওজন আসে ৩ কেজি ফলে পেকিন হাঁস পালন বেশ লাভজনক। পেকিন হাঁস পালনে রোকেয়া বেগমের সফলতা দেখে অনেকেই এগিয়ে আসছেন এই হাঁস পালনে। এসো’র তত্বাবধানে জয়পুরহাটের ক্ষেতলাল, আক্কেলপুর ও কালাই উপজেলায় ১২৮টি খামার গড়ে উঠেছে।

আক্কেলপুর উপজেলার ভান্ডারিপাড়া গ্রামের জীবন নাহার, কালাই উপজেলার শাইলগুন গ্রামের রেহেনা বেগম ও ক্ষেতলাল উপজেলার নিশ্চিন্তা গ্রামের দুলাল হোসেন পেকিন হাঁস পালনে সফলতার কথা জানান। এ্যাহেড সোস্যাল অর্গানাইজেশন (এসো)’র নির্বাহী পরিচালক মো: মতিনূর রহমান বলেন, পল্লী কর্ম সহায়ক ফাউন্ডেশনের দিক নির্দেশনায় আয় বর্ধনমূলক কাজে সম্পৃক্ততার মাধ্যমে দারিদ্র বিমোচনে কাজ করছে এসো।