ঢাকা , বুধবার, ০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৮ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
কালীগঞ্জে সার মজুতে অনিয়ম, দুই ব্যবসায়ীর ২ লাখ টাকা জরিমান মালচিং পদ্ধতিতে বেগুন চাষে মাঈন উদ্দিনের সাফল্য মালদ্বীপে অবৈধ মুদ্রা ব্যবসা, আটক বাংলাদেশিসহ ৬ প্রবাসী নবীনগরে বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত গাইবান্ধায় দুই মোটরসাইকেলের সংঘর্ষ, ঘটনাস্থলেই দুজনের মৃত্যু বিদ্যুৎস্পৃষ্টে একই সঙ্গে প্রাণ গেল স্বামী-স্ত্রী ও চোরসহ ৪ জনের জিয়াউর রহমানের নেতৃত্বে বিএনপির প্রতিষ্ঠা: ফজলুল হক মিলন মাদক কোনো সমাধান নয়; জীবন ধ্বংসের অন্যতম কারণ: ওসি মো. জাকির হোসেন বিএনপিকে ধ্বংস করার ক্ষমতা কারও নেই: রুহুল কুদ্দুস দুলু নজরুলের চেতনায় মুখর গঙ্গাচড়া, শুরু সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতা

৬ বছর পর মৃত ব্যক্তির নামে চাঁদাবাজির মামলা

নিউজ ডেস্ক, প্রতিদিনের পোস্ট
নিউজ ডেস্ক, প্রতিদিনের পোস্ট
  • প্রকাশের সময় : ০৬:২১:৪৯ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৩ ডিসেম্বর ২০২২
  • / 333 বার পড়া হয়েছে

শরীয়তপুর জেলা প্রতিনিধি || ৬ বছর পর মৃত ব্যক্তির নামে চাঁদাবাজির মামলা

শরীয়তপুরের ভেদরগঞ্জে এক মৃত ব্যক্তির নামে চাঁদাবাজি মামলা ও কৃষকদের হয়রানির অভিযোগ উঠেছে। মামলার ৭নং আসামি মুজাফফর হাওলাদার গত ৬ বছর আগে মারা গেছেন। 

একই উপজেলার সখিপুর থানার চরভাগা ইউনিয়নের বকাউল কান্দি গ্রামের মৃত ইদ্রিস আলী বকাউলের ছেলে মিলন বকাউল (৫০) এই মামলা দায়ের করেন। তিনি এই মামলায় মৃত ব্যক্তি ছাড়াও আরও ৭ কৃষকের নামে মামলা করেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ৪৫ বছর আগে ভেদরগঞ্জ উপজেলাধীন চরভাগা ইউনিয়নের খুনিকান্দি এলাকার কৃষক মোতালেব হাওলাদার, আজিজল মাল, মুজাফফর হাওলাদার, হরমুজ মাল ও কাদির মালের কাছে চরভাগা মৌজার আরএস ৪ একর জমি বিক্রি করেন মিলন বকাউলের বাবা ইদ্রিস বকাউল।

জমিতে কৃষকরা নিজেদের মতো করে চাষাবাদ করে আসছিলেন। কিন্তু গত দুই মাস ধরে মিলন বকাউল ও একটি ভূমি দস্যুচক্র ওই জমি তাদের বলে দাবি করেন। ফসলের জমি জোরপূর্ব দখলের চেষ্টাও করেন তবে স্থানীয়দের সম্মিলিত বাধায় দখল চেষ্টায় ব্যর্থ হন মিলন।

পরে গত ২৭ নভেম্বরে শরীয়তপুর আদালতে চাঁদাবাজি মামলার আবেদন করেন তিনি। সেই মামলার একজন আসামি হলেন ৬ বছর আগে মৃত মুজাফফর হাওলাদার।

ভুক্তভোগী নুরু মাল বলেন, আমরা দীর্ঘ ৪৫ বছর ধরে ভোগদখল করে আসা জমি হঠাৎ করেই মিলন বকাউল তার দাবি করছেন। কয়েকদিন আগে তার লোকজন জোরপূর্বক দখল করতে আসে। কিন্তু স্থানীয়দের চাপে তা করতে পারেনি। এখন দখল করতে না পারায় মিথ্যা মামলা দিয়ে আমাদের হয়রানি করছে। আমরা অসহায় মানুষ। এই জমি আমরা তার বাবার থেকে কিনেছিলাম।

মৃত মুজাফফর হাওলাদারের ভাই মোতালেব হাওলাদার বলেন, একজন মৃত ব্যক্তি কীভাবে কাছে চাঁদা চাইতে পারে। আবার তিনি বলছে আমার ভাই তার ফোন নিয়ে গেছে। আমার ভাই গত ছয় বছর আগে মারা গেছেন। মৃত মানুষের বিরুদ্ধে কীভাবে মামলা হয়। আমরা এ হয়রানিমূলক মিথ্যা মামলা থেকে বাঁচতে চাই। 

স্থানীয় ইউপি সদস্য বোরহান বেপারী বলেন, অসহায় কৃষকদের জমি দখলের চেষ্টা করে আসছে একটি চক্র। কিন্তু স্থানীয়দের প্রতিরোধের কারণে তা পারেনি। এখন উদ্দেশ্যেমূলকভাবে হয়রানির করার জন্য মিথ্যা মামলা দিচ্ছে।

সখিপুর থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. আসাদুজ্জামান হাওলাদার মুঠোফোনে বলেন, আদালতের নির্দেশের একটি মামলা রুজু হয়েছে। তদন্ত সাপেক্ষে বিজ্ঞ আদালতে প্রতিবেদন দাখিল করা হবে।

প্রফেশনাল নিউজ পোর্টাল দিচ্ছে থিম বিক্রয় ডটকম

এই নিউজটি শেয়ার করুন

৬ বছর পর মৃত ব্যক্তির নামে চাঁদাবাজির মামলা

প্রকাশের সময় : ০৬:২১:৪৯ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৩ ডিসেম্বর ২০২২

শরীয়তপুর জেলা প্রতিনিধি || ৬ বছর পর মৃত ব্যক্তির নামে চাঁদাবাজির মামলা

শরীয়তপুরের ভেদরগঞ্জে এক মৃত ব্যক্তির নামে চাঁদাবাজি মামলা ও কৃষকদের হয়রানির অভিযোগ উঠেছে। মামলার ৭নং আসামি মুজাফফর হাওলাদার গত ৬ বছর আগে মারা গেছেন। 

একই উপজেলার সখিপুর থানার চরভাগা ইউনিয়নের বকাউল কান্দি গ্রামের মৃত ইদ্রিস আলী বকাউলের ছেলে মিলন বকাউল (৫০) এই মামলা দায়ের করেন। তিনি এই মামলায় মৃত ব্যক্তি ছাড়াও আরও ৭ কৃষকের নামে মামলা করেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ৪৫ বছর আগে ভেদরগঞ্জ উপজেলাধীন চরভাগা ইউনিয়নের খুনিকান্দি এলাকার কৃষক মোতালেব হাওলাদার, আজিজল মাল, মুজাফফর হাওলাদার, হরমুজ মাল ও কাদির মালের কাছে চরভাগা মৌজার আরএস ৪ একর জমি বিক্রি করেন মিলন বকাউলের বাবা ইদ্রিস বকাউল।

জমিতে কৃষকরা নিজেদের মতো করে চাষাবাদ করে আসছিলেন। কিন্তু গত দুই মাস ধরে মিলন বকাউল ও একটি ভূমি দস্যুচক্র ওই জমি তাদের বলে দাবি করেন। ফসলের জমি জোরপূর্ব দখলের চেষ্টাও করেন তবে স্থানীয়দের সম্মিলিত বাধায় দখল চেষ্টায় ব্যর্থ হন মিলন।

পরে গত ২৭ নভেম্বরে শরীয়তপুর আদালতে চাঁদাবাজি মামলার আবেদন করেন তিনি। সেই মামলার একজন আসামি হলেন ৬ বছর আগে মৃত মুজাফফর হাওলাদার।

ভুক্তভোগী নুরু মাল বলেন, আমরা দীর্ঘ ৪৫ বছর ধরে ভোগদখল করে আসা জমি হঠাৎ করেই মিলন বকাউল তার দাবি করছেন। কয়েকদিন আগে তার লোকজন জোরপূর্বক দখল করতে আসে। কিন্তু স্থানীয়দের চাপে তা করতে পারেনি। এখন দখল করতে না পারায় মিথ্যা মামলা দিয়ে আমাদের হয়রানি করছে। আমরা অসহায় মানুষ। এই জমি আমরা তার বাবার থেকে কিনেছিলাম।

মৃত মুজাফফর হাওলাদারের ভাই মোতালেব হাওলাদার বলেন, একজন মৃত ব্যক্তি কীভাবে কাছে চাঁদা চাইতে পারে। আবার তিনি বলছে আমার ভাই তার ফোন নিয়ে গেছে। আমার ভাই গত ছয় বছর আগে মারা গেছেন। মৃত মানুষের বিরুদ্ধে কীভাবে মামলা হয়। আমরা এ হয়রানিমূলক মিথ্যা মামলা থেকে বাঁচতে চাই। 

স্থানীয় ইউপি সদস্য বোরহান বেপারী বলেন, অসহায় কৃষকদের জমি দখলের চেষ্টা করে আসছে একটি চক্র। কিন্তু স্থানীয়দের প্রতিরোধের কারণে তা পারেনি। এখন উদ্দেশ্যেমূলকভাবে হয়রানির করার জন্য মিথ্যা মামলা দিচ্ছে।

সখিপুর থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. আসাদুজ্জামান হাওলাদার মুঠোফোনে বলেন, আদালতের নির্দেশের একটি মামলা রুজু হয়েছে। তদন্ত সাপেক্ষে বিজ্ঞ আদালতে প্রতিবেদন দাখিল করা হবে।