ঢাকা , বুধবার, ০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৮ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
মালচিং পদ্ধতিতে বেগুন চাষে মাঈন উদ্দিনের সাফল্য মালদ্বীপে অবৈধ মুদ্রা ব্যবসা, আটক বাংলাদেশিসহ ৬ প্রবাসী নবীনগরে বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত গাইবান্ধায় দুই মোটরসাইকেলের সংঘর্ষ, ঘটনাস্থলেই দুজনের মৃত্যু বিদ্যুৎস্পৃষ্টে একই সঙ্গে প্রাণ গেল স্বামী-স্ত্রী ও চোরসহ ৪ জনের জিয়াউর রহমানের নেতৃত্বে বিএনপির প্রতিষ্ঠা: ফজলুল হক মিলন মাদক কোনো সমাধান নয়; জীবন ধ্বংসের অন্যতম কারণ: ওসি মো. জাকির হোসেন বিএনপিকে ধ্বংস করার ক্ষমতা কারও নেই: রুহুল কুদ্দুস দুলু নজরুলের চেতনায় মুখর গঙ্গাচড়া, শুরু সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতা গঙ্গাচড়ায় ডাসের উদ্যোগে বিনামূল্যে ছাগল বিতরণ

মালচিং পদ্ধতিতে বেগুন চাষে মাঈন উদ্দিনের সাফল্য

নিউজ ডেস্ক, প্রতিদিনের পোস্ট
নিউজ ডেস্ক, প্রতিদিনের পোস্ট
  • প্রকাশের সময় : ০২:২৯:৫১ অপরাহ্ন, বুধবার, ২ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • / 5 বার পড়া হয়েছে

 

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর উপজেলার বিদ্যাকুট ইউনিয়নের বিদ্যাকুট গ্রামের কৃষক মাঈন উদ্দিন। একসময় তাঁর পেশা ছিল সেলুন ব্যবসা। তবে ছোটবেলা থেকেই বাবাকে কৃষিকাজ করতে দেখে কৃষির প্রতি তাঁর আলাদা ভালো লাগা তৈরি হয়। প্রায় তিন বছর আগে বাবা মারা যাওয়ার পর পরিবারের দায়িত্ব নিজের কাঁধে তুলে নিতে পেশা হিসেবে কৃষিকেই বেছে নেন তিনি। এরপর থেকে বিভিন্ন ধরনের সবজি চাষ করে সংসারের হাল ধরেছেন মাঈন উদ্দিন। স্বল্প পরিসরে কখনো লাউ, করলা, শিম, বেগুন ও মরিচসহ বিভিন্ন সবজি চাষ করছেন। চলতি মৌসুমে উপজেলা কৃষি অফিসের পরামর্শ ও বি-স্ট্রং প্রকল্পের আওতায় প্রথমবারের মতো আধুনিক প্রযুক্তির মাধ্যমে উন্নত মানের বীজ এবং মালচিং পদ্ধতিতে বেগুন চাষ করেন তিনি। আধুনিক এ পদ্ধতিতে চাষ করে প্রথমবারেই ভালো ফলন পাওয়ায় তাঁর মধ্যে নতুন উৎসাহ তৈরি হয়েছে।

মাঈন উদ্দিন বলেন, “আমার বাবা কৃষিকাজ করতেন। ছোটবেলা থেকেই বাবার সঙ্গে মাঠে যাওয়া-আসা করতাম। তখন থেকেই কৃষির প্রতি একটা ভালো লাগা তৈরি হয়। শুরুতে বিভিন্ন সবজি চাষ করেছি। এবার কৃষি অফিসের পরামর্শে প্রথমবার মালচিং পদ্ধতিতে পার্পল কিং জাতের বেগুন চাষ করি। আগে এভাবে চাষ করিনি। মালচিং দেওয়ার পর জমিতে আগাছা কম হয়েছে, মাটিতে আর্দ্রতাও ভালো থাকছে। গাছের বৃদ্ধি ও ফলনও ভালো হয়েছে। বর্তমানে প্রতিদিন প্রায় ৪০ থেকে ৪৫ কেজি বেগুন তুলতে পারছি, বর্তমানেপ্রতি কেজি বেগুন ৮০ থেকে ১০০ টাকা দরে বিক্রি করা যাচ্ছে। বাজারে দাম ভালো থাকলে কোনো কোনো দিন ১২০ টাকা কেজি দরেও বেগুন বিক্রি করা যাচ্ছে”।

সরেজমিনে দেখা যায় মাঠে যে পরিমাণ বেগুন আছে আরো দুই মাস নিয়মিত হারভেস্ট করা যাবে।

স্থানীয় কৃষক খোকন মিয়া জানান, কৃষি অফিসের পরামর্শ ও আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারের কারণে বেগুন চাষে সাফল্য পাওয়া সহজ হয়েছে। বেগুন চাষে বাজার ভালো তাই লাভবান হওয়ার সুযোগ অনেক।

বিদ্যাকুট ইউনিয়নের উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা সফুরুল্লাহ বলেন, “মাঈন উদ্দিন প্রথমবার মালচিং পদ্ধতিতে বেগুন চাষ করে ভালো ফলন পেয়েছেন। তাঁর জমি নিয়মিত পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে কৃষকের উৎপাদন ও আয় বাড়ানো সম্ভব, আশাকরি সম্পূর্ণ মৌসুম শেষে তিন লক্ষাধিক টাকা লাভবান হবেন।”

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা, মো. জাহাঙ্গীর আলম লিটন জানান, “বি-স্ট্রং প্রকল্পের আওতায় কৃষকদের আধুনিক প্রযুক্তিতে চাষাবাদে উদ্বুদ্ধ করা হচ্ছে। মাঈন উদ্দিন মালচিং পদ্ধতিতে বেগুন চাষ করে ভালো ফলন ও বাজারমূল্য পেয়েছেন। মাঈন উদ্দিন নিজের সাফল্য দেখে চলতি মৌসুমে প্রায় ৪ বিঘা জমিতে মালচিং পদ্ধতিতে বেগুন চাষের পরিকল্পনা করা হয়েছে।”

সেলুন ব্যবসা ছেড়ে কৃষিকে পেশা হিসেবে বেছে নেওয়া মাঈন উদ্দিনের এই সাফল্য এখন এলাকার অন্য কৃষকদেরও আধুনিক প্রযুক্তিতে চাষাবাদে উৎসাহিত করছে। কৃষি বিভাগ আধুনিক কৃষি প্রযুক্তি সম্প্রসারণ করতে নিয়মিত প্রদর্শনী, প্রশিক্ষণ এবং মাঠ দিবসের আয়োজন করছে।

ট্যাগস :
প্রফেশনাল নিউজ পোর্টাল দিচ্ছে থিম বিক্রয় ডটকম

এই নিউজটি শেয়ার করুন

মালচিং পদ্ধতিতে বেগুন চাষে মাঈন উদ্দিনের সাফল্য

প্রকাশের সময় : ০২:২৯:৫১ অপরাহ্ন, বুধবার, ২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

 

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর উপজেলার বিদ্যাকুট ইউনিয়নের বিদ্যাকুট গ্রামের কৃষক মাঈন উদ্দিন। একসময় তাঁর পেশা ছিল সেলুন ব্যবসা। তবে ছোটবেলা থেকেই বাবাকে কৃষিকাজ করতে দেখে কৃষির প্রতি তাঁর আলাদা ভালো লাগা তৈরি হয়। প্রায় তিন বছর আগে বাবা মারা যাওয়ার পর পরিবারের দায়িত্ব নিজের কাঁধে তুলে নিতে পেশা হিসেবে কৃষিকেই বেছে নেন তিনি। এরপর থেকে বিভিন্ন ধরনের সবজি চাষ করে সংসারের হাল ধরেছেন মাঈন উদ্দিন। স্বল্প পরিসরে কখনো লাউ, করলা, শিম, বেগুন ও মরিচসহ বিভিন্ন সবজি চাষ করছেন। চলতি মৌসুমে উপজেলা কৃষি অফিসের পরামর্শ ও বি-স্ট্রং প্রকল্পের আওতায় প্রথমবারের মতো আধুনিক প্রযুক্তির মাধ্যমে উন্নত মানের বীজ এবং মালচিং পদ্ধতিতে বেগুন চাষ করেন তিনি। আধুনিক এ পদ্ধতিতে চাষ করে প্রথমবারেই ভালো ফলন পাওয়ায় তাঁর মধ্যে নতুন উৎসাহ তৈরি হয়েছে।

মাঈন উদ্দিন বলেন, “আমার বাবা কৃষিকাজ করতেন। ছোটবেলা থেকেই বাবার সঙ্গে মাঠে যাওয়া-আসা করতাম। তখন থেকেই কৃষির প্রতি একটা ভালো লাগা তৈরি হয়। শুরুতে বিভিন্ন সবজি চাষ করেছি। এবার কৃষি অফিসের পরামর্শে প্রথমবার মালচিং পদ্ধতিতে পার্পল কিং জাতের বেগুন চাষ করি। আগে এভাবে চাষ করিনি। মালচিং দেওয়ার পর জমিতে আগাছা কম হয়েছে, মাটিতে আর্দ্রতাও ভালো থাকছে। গাছের বৃদ্ধি ও ফলনও ভালো হয়েছে। বর্তমানে প্রতিদিন প্রায় ৪০ থেকে ৪৫ কেজি বেগুন তুলতে পারছি, বর্তমানেপ্রতি কেজি বেগুন ৮০ থেকে ১০০ টাকা দরে বিক্রি করা যাচ্ছে। বাজারে দাম ভালো থাকলে কোনো কোনো দিন ১২০ টাকা কেজি দরেও বেগুন বিক্রি করা যাচ্ছে”।

সরেজমিনে দেখা যায় মাঠে যে পরিমাণ বেগুন আছে আরো দুই মাস নিয়মিত হারভেস্ট করা যাবে।

স্থানীয় কৃষক খোকন মিয়া জানান, কৃষি অফিসের পরামর্শ ও আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারের কারণে বেগুন চাষে সাফল্য পাওয়া সহজ হয়েছে। বেগুন চাষে বাজার ভালো তাই লাভবান হওয়ার সুযোগ অনেক।

বিদ্যাকুট ইউনিয়নের উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা সফুরুল্লাহ বলেন, “মাঈন উদ্দিন প্রথমবার মালচিং পদ্ধতিতে বেগুন চাষ করে ভালো ফলন পেয়েছেন। তাঁর জমি নিয়মিত পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে কৃষকের উৎপাদন ও আয় বাড়ানো সম্ভব, আশাকরি সম্পূর্ণ মৌসুম শেষে তিন লক্ষাধিক টাকা লাভবান হবেন।”

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা, মো. জাহাঙ্গীর আলম লিটন জানান, “বি-স্ট্রং প্রকল্পের আওতায় কৃষকদের আধুনিক প্রযুক্তিতে চাষাবাদে উদ্বুদ্ধ করা হচ্ছে। মাঈন উদ্দিন মালচিং পদ্ধতিতে বেগুন চাষ করে ভালো ফলন ও বাজারমূল্য পেয়েছেন। মাঈন উদ্দিন নিজের সাফল্য দেখে চলতি মৌসুমে প্রায় ৪ বিঘা জমিতে মালচিং পদ্ধতিতে বেগুন চাষের পরিকল্পনা করা হয়েছে।”

সেলুন ব্যবসা ছেড়ে কৃষিকে পেশা হিসেবে বেছে নেওয়া মাঈন উদ্দিনের এই সাফল্য এখন এলাকার অন্য কৃষকদেরও আধুনিক প্রযুক্তিতে চাষাবাদে উৎসাহিত করছে। কৃষি বিভাগ আধুনিক কৃষি প্রযুক্তি সম্প্রসারণ করতে নিয়মিত প্রদর্শনী, প্রশিক্ষণ এবং মাঠ দিবসের আয়োজন করছে।