ঢাকা , রবিবার, ০৭ জুন ২০২৬, ২৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

অপহৃত স্কুলছাত্রী ব্রাহ্মনবাড়ীয়া থেকে উদ্ধার

প্রতিনিধির নাম
  • প্রকাশের সময় : ১১:৫০:৫৮ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৭ এপ্রিল ২০২৩
  • / ২৯৩ বার পড়া হয়েছে
৯২

তিমির বনিক,মৌলভীবাজার প্রতিনিধি:

মৌলভীবাজারের রাজনগর থেকে অপহৃত স্কুলছাত্রীকে ব্রাহ্মনবাড়ীয়ার নাসিরনগর থেকে উদ্ধার করেছে রাজনগর থানা পুলিশ। অভিযোগ দায়েরের ২৪ ঘন্টার মধ্যে পুলিশ অভিযান চালিয়ে স্কুলছাত্রী উদ্ধার ও অপহরণের সাথে যুক্ত প্রধান আসামিসহ ২জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
বুধবার (২৬ এপ্রিল) রাত পৌনে ৪টায় রাজনগর থানা পুলিশ অভিযান চালিয়ে ব্রাহ্মনবাড়ীয়ার নাসিরনগর উপজেলার গুচ্ছগ্রামস্থ সরকারি আশ্রয়ন কেন্দ্র থেকে অপহৃত ৯ম শ্রেনীর স্কুলছাত্রীকে উদ্ধার করে পুলিশ। এসময় মনির মিয়া (১৫) নামের অপহরণকারীকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। গ্রেপ্তারকৃত মনির মিয়া হবিগঞ্জের বানিয়াচং উপজেলার সাংঘর গ্রামের আ: রহিম এর ছেলে। এর আগে অপহরণের অভিযোগ পেয়ে বুধবার রাত দেড়টাার সময় ইমু নাম্বারের সুত্র ধরে এবং তথ্য প্রযুক্তির সহায়তায় হবিগঞ্জের নাতিরাবাদ উপজেলার অমর চন্দ্র দাস এর ছেলে অন্ত চন্দ্র দাসকে হবিগঞ্জ বাসস্টেন্ডের গোলচত্তর থেকে গ্রেপ্তার করে রাজনগর থানা পুলিশ। গ্রেপ্তারের পর অন্ত চন্দ্র দাসকে জিজ্ঞাসাবাদে সে জানায়, তার ঘনিষ্ট সহযোগী মনির মিয়ার জাতীয় পরিচয়পত্র না থাকায় সে তাকে একটি সিম কিনে দেয়। পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে অন্তু দাস আরও জানায়, স্কুলছাত্রীকে অপহরণ করতে তার ঘনিষ্ট সহযোগী মনির মিয়াকে সে সহায়তা করে। অন্তু দাস পুলিশকে জানায়, মনির মিয়া স্কুলছাত্রীকে অপহরণ করে ব্রাহ্মনবাড়ীয়ার নাসিরনগর গুচ্ছগ্রামে অবস্থান করছে। অন্তু দাসের দেওয়া তথ্য মতে পুলিশ অন্তুকে সঙ্গে নিয়ে অভিযান চালিয়ে ব্রাহ্মনবাড়ীয়ার নাসিরনগরের গুচ্ছগ্রাম থেকে অপহৃত স্কুলছাত্রীকে উদ্ধার ও মনির মিয়াকে গ্রেপ্তার করে।
রাজনগর থানায় দায়েরকৃত অভিযোগপত্র থেকে জানা যায়, গত ২০ এপ্রিল সকাল ১০টায় রাজনগর উপজেলার পাঁচগাঁও ইউনিয়নের শ্রীভোগ গ্রামের আজিজুল হক এর নাবালিকা মেয়ে নবম শ্রেনীর স্কুলছাত্রী ঈদের কেনাকাটা করতে গিয়ে অপহরণের শিকার হয়। মেয়েটির স্বজনরা অনেক খোঁজাখুজি করে না পেয়ে বুধবার ২৫ এপ্রিল নিখোঁজ স্কুলছাত্রীর বাবা আজিজুল হক রাজনগর থানায় লিখিত অভিযোগ দেন। লিখিত অভিযোগ থেকে জানা যায়, ২০ এপ্রিল স্কুলছাত্রী নিখোঁজের পর ২৪ এপ্রিল বিকাল সাড়ে ৩টার সময় একটি ইমু নাম্বার থেকে নিখোঁজ স্কুলছাত্রীর বাবা আজিজুল হককে ফোন করে কেউ একজন জানায়, তার মেয়ে তাদের কাছে আছে। পরে মেয়েটির পিতা আজিজুল হক বিষয়টি তার স্বজনদের জানিয়ে রাজনগর থানায় এসে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।
অপহৃত স্কুলছাত্রীর বাবার করা অভিযোগটি নিয়মিত মামলা দেখিয়ে রাজনগর থানার অফিসার ইনর্চাজ বিনয় ভূষণ রায়, মামলাটি তদন্ত করতে এসআই মো: শওকত মাসুদ ভূইয়াকে নির্দেশ দেন। পরে অফিসার ইনচার্জ বিনয় ভূষণ রায় এর সার্বিক দিক নির্দেশনায় এসআই সওকত মাসুদ ভুইয়া, এসআই সুলেমান আহমদ সহ পুলিশের একটি টিম তথ্য প্রযুক্তির সহায়তায় ও ইমু নাম্বারের সুত্র ধরে প্রথমে হবিগঞ্জ থেকে অন্তু চন্দ্র দাসকে গ্রেপ্তার করে। পরে অন্তু চন্দ্র দাসের দেওয়া তথ্য মতে ও তাকে সাথে নিয়ে পুলিশ অভিযান পরিচালনা করে ব্রাম্মণবাড়িয়ার নাসিরনগর থেকে অপহৃত স্কুলছাত্রীকে উদ্ধার ও অপহরণ মামলার প্রধান আসামি মনির মিয়াকে গ্রেপ্তার করেন। গ্রেপ্তারকৃতদের মৌলভীবাজার বিজ্ঞ আদালতের মাধ্যমে করাগারে প্রেরণ করেছে রাজনগর থানা পুলিশ।

ট্যাগস :
প্রফেশনাল নিউজ পোর্টাল দিচ্ছে থিম বিক্রয় ডটকম

এই নিউজটি শেয়ার করুন

অপহৃত স্কুলছাত্রী ব্রাহ্মনবাড়ীয়া থেকে উদ্ধার

প্রকাশের সময় : ১১:৫০:৫৮ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৭ এপ্রিল ২০২৩
৯২

তিমির বনিক,মৌলভীবাজার প্রতিনিধি:

মৌলভীবাজারের রাজনগর থেকে অপহৃত স্কুলছাত্রীকে ব্রাহ্মনবাড়ীয়ার নাসিরনগর থেকে উদ্ধার করেছে রাজনগর থানা পুলিশ। অভিযোগ দায়েরের ২৪ ঘন্টার মধ্যে পুলিশ অভিযান চালিয়ে স্কুলছাত্রী উদ্ধার ও অপহরণের সাথে যুক্ত প্রধান আসামিসহ ২জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
বুধবার (২৬ এপ্রিল) রাত পৌনে ৪টায় রাজনগর থানা পুলিশ অভিযান চালিয়ে ব্রাহ্মনবাড়ীয়ার নাসিরনগর উপজেলার গুচ্ছগ্রামস্থ সরকারি আশ্রয়ন কেন্দ্র থেকে অপহৃত ৯ম শ্রেনীর স্কুলছাত্রীকে উদ্ধার করে পুলিশ। এসময় মনির মিয়া (১৫) নামের অপহরণকারীকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। গ্রেপ্তারকৃত মনির মিয়া হবিগঞ্জের বানিয়াচং উপজেলার সাংঘর গ্রামের আ: রহিম এর ছেলে। এর আগে অপহরণের অভিযোগ পেয়ে বুধবার রাত দেড়টাার সময় ইমু নাম্বারের সুত্র ধরে এবং তথ্য প্রযুক্তির সহায়তায় হবিগঞ্জের নাতিরাবাদ উপজেলার অমর চন্দ্র দাস এর ছেলে অন্ত চন্দ্র দাসকে হবিগঞ্জ বাসস্টেন্ডের গোলচত্তর থেকে গ্রেপ্তার করে রাজনগর থানা পুলিশ। গ্রেপ্তারের পর অন্ত চন্দ্র দাসকে জিজ্ঞাসাবাদে সে জানায়, তার ঘনিষ্ট সহযোগী মনির মিয়ার জাতীয় পরিচয়পত্র না থাকায় সে তাকে একটি সিম কিনে দেয়। পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে অন্তু দাস আরও জানায়, স্কুলছাত্রীকে অপহরণ করতে তার ঘনিষ্ট সহযোগী মনির মিয়াকে সে সহায়তা করে। অন্তু দাস পুলিশকে জানায়, মনির মিয়া স্কুলছাত্রীকে অপহরণ করে ব্রাহ্মনবাড়ীয়ার নাসিরনগর গুচ্ছগ্রামে অবস্থান করছে। অন্তু দাসের দেওয়া তথ্য মতে পুলিশ অন্তুকে সঙ্গে নিয়ে অভিযান চালিয়ে ব্রাহ্মনবাড়ীয়ার নাসিরনগরের গুচ্ছগ্রাম থেকে অপহৃত স্কুলছাত্রীকে উদ্ধার ও মনির মিয়াকে গ্রেপ্তার করে।
রাজনগর থানায় দায়েরকৃত অভিযোগপত্র থেকে জানা যায়, গত ২০ এপ্রিল সকাল ১০টায় রাজনগর উপজেলার পাঁচগাঁও ইউনিয়নের শ্রীভোগ গ্রামের আজিজুল হক এর নাবালিকা মেয়ে নবম শ্রেনীর স্কুলছাত্রী ঈদের কেনাকাটা করতে গিয়ে অপহরণের শিকার হয়। মেয়েটির স্বজনরা অনেক খোঁজাখুজি করে না পেয়ে বুধবার ২৫ এপ্রিল নিখোঁজ স্কুলছাত্রীর বাবা আজিজুল হক রাজনগর থানায় লিখিত অভিযোগ দেন। লিখিত অভিযোগ থেকে জানা যায়, ২০ এপ্রিল স্কুলছাত্রী নিখোঁজের পর ২৪ এপ্রিল বিকাল সাড়ে ৩টার সময় একটি ইমু নাম্বার থেকে নিখোঁজ স্কুলছাত্রীর বাবা আজিজুল হককে ফোন করে কেউ একজন জানায়, তার মেয়ে তাদের কাছে আছে। পরে মেয়েটির পিতা আজিজুল হক বিষয়টি তার স্বজনদের জানিয়ে রাজনগর থানায় এসে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।
অপহৃত স্কুলছাত্রীর বাবার করা অভিযোগটি নিয়মিত মামলা দেখিয়ে রাজনগর থানার অফিসার ইনর্চাজ বিনয় ভূষণ রায়, মামলাটি তদন্ত করতে এসআই মো: শওকত মাসুদ ভূইয়াকে নির্দেশ দেন। পরে অফিসার ইনচার্জ বিনয় ভূষণ রায় এর সার্বিক দিক নির্দেশনায় এসআই সওকত মাসুদ ভুইয়া, এসআই সুলেমান আহমদ সহ পুলিশের একটি টিম তথ্য প্রযুক্তির সহায়তায় ও ইমু নাম্বারের সুত্র ধরে প্রথমে হবিগঞ্জ থেকে অন্তু চন্দ্র দাসকে গ্রেপ্তার করে। পরে অন্তু চন্দ্র দাসের দেওয়া তথ্য মতে ও তাকে সাথে নিয়ে পুলিশ অভিযান পরিচালনা করে ব্রাম্মণবাড়িয়ার নাসিরনগর থেকে অপহৃত স্কুলছাত্রীকে উদ্ধার ও অপহরণ মামলার প্রধান আসামি মনির মিয়াকে গ্রেপ্তার করেন। গ্রেপ্তারকৃতদের মৌলভীবাজার বিজ্ঞ আদালতের মাধ্যমে করাগারে প্রেরণ করেছে রাজনগর থানা পুলিশ।