আমাকে আর কে ডাকবে?’—চার স্বজন হারিয়ে শোকে পাথর পূজা
- প্রকাশের সময় : ০৯:২৮:৪৪ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৩ অগাস্ট ২০২৬
- / 28 বার পড়া হয়েছে
রংপুর নগরীর মাছুয়াপাড়ার নিজ বাড়ি থেকে জিলা স্কুলের সাবেক শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী, তার স্ত্রী প্রীতিলতা চক্রবর্তী ও দুই সন্তানের মরদেহ উদ্ধারের ঘটনা কিছুতেই মেনে নিতে পারছেন না স্বজনরা। তাদের সঙ্গে এমন কিছু হতে পারে তা অবিশ্বাস্য ঠেকছে তাদের কাছে। তাই আহাজারিও যেন থামছে না।
রোববার (২৩ আগস্ট) ভোরে যখন শিক্ষক পরিবারের মরদেহ উদ্ধার করা হচ্ছি তখন স্বজনদের কান্নায় ভারী হয়ে ওঠে পুরো এলাকা।
‘বিদায় দিদি! পাপীদের শাস্তি হবে দিদি।’ বোন, দুলাভাই ও ভাগনে-ভাগনির মরদেহ উদ্ধারের পর অ্যাম্বুলেন্সে তোলার সময় কথাগুলো বলছিলেন নিহত প্রীতিলতা চক্রবর্তীর বোন পূজা চক্রবর্তী।
বোনের মরদেহ সামনে পূজা চক্রবর্তী বলতে থাকেন, ‘এটা কী হয়ে গেল দিদি, আমাকে ছেড়ে কোথায় গেলে? আমাদেরকে শেষ করে দিল। আমাকে আর কে ডাকবে? প্রিয়ম (ভাগ্নে) আর আমাকে ডাকবে না?’ কথাগুলো বলতেই কান্নায় ভেঙে পড়েন তিনি। তাকে ধরে রেখেছেন তার স্বামী, দুই কন্যা ও মামাতো ভাই।’
এর আগে রংপুর নগরীর মাছুয়াপাড়ায় নিজ বাড়ি থেকে রংপুর জিলা স্কুলের সাবেক শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তীসহ একই পরিবারের চারজনের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। নিহত ব্যক্তিরা হলেন গণপতি চক্রবর্তী (৬৫), তার স্ত্রী প্রীতিলতা চক্রবর্তী (৫০), মেয়ে আগামী চক্রবর্তী পার্থী (২৪) ও ছেলে আয়ুশ চক্রবর্তী প্রিয়ম (১২)।
শনিবার (২২ আগস্ট) রাতে গণপতি চক্রবর্তীর বাড়ির ভেতর থেকে দুর্গন্ধ বের হলে স্থানীয়রা পুলিশকে খবর দেন। পরে পুলিশ বাড়িতে গিয়ে মরদেহগুলো উদ্ধার করে। দুইতলা বাড়ির ছাদে গণপতি চক্রবর্তীর মরদেহ, সিঁড়িতে তার স্ত্রী ও মেয়ের মরদেহ এবং শোবার ঘরে খাটের নিচ থেকে ছেলে প্রিয়মের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরে ভোর চারটার দিকে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে নেওয়া হয়।
গণপতি চক্রবর্তী গত বছরের ডিসেম্বরে শিক্ষকতা থেকে অবসর নেন। তিনি হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসার চেম্বার পরিচালনা করতেন। তার মেয়ে আগামী চক্রবর্তী কারমাইকেল কলেজের ইংরেজি বিভাগ থেকে মাস্টার্স পরীক্ষা দিয়েছেন। ছেলে প্রিয়ম ছিল রংপুর জিলা স্কুলের পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী।
পুলিশের ধারণা, ঘটনাটি দুই থেকে তিন দিন আগে ঘটে থাকতে পারে। বাড়ির বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন পাওয়া গেছে এবং আসবাবপত্রের টাকা ও স্বর্ণালংকার রাখার স্থানগুলো ভাঙা ছিল। প্রাথমিকভাবে ডাকাতির বিষয়টি সামনে এলেও ঘটনার প্রকৃত কারণ জানতে তদন্ত চলছে।
ঘটনাস্থল সিআইডির ক্রাইম সিন ইউনিট ঘটনাস্থল থেকে আলামত সংগ্রহ করেছে। এছাড়া মহানগর পুলিশ, গোয়েন্দা বিভাগ, র্যাবসহ আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী ঘটনার তদন্ত কাজ করছে।
রংপুর মহানগর পুলিশের উপকমিশনার (ডিবি) সনাতন চক্রবর্তী বলেন, ‘প্রাথমিকভাবে মনে হচ্ছে তাদের শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়েছে। হত্যার উদ্দেশ্য স্পষ্ট নয়। তবে বাড়িঘর যেভাবে তছনছ করা হয়েছে, তাতে টাকা-পয়সা ও মূল্যবান জিনিসপত্র লুটপাট করা হয়েছে বলে আমরা মনে করছি। আমরা বিভিন্ন বিষয় মাথায় রেখে তদন্ত করছি। খুব দ্রুত সময়ের মধ্যে এ ঘটনায় জড়িতদের গ্রেপ্তার করতে পারব বলে আশা করছি।’


























