ঢাকা , শুক্রবার, ০৯ অক্টোবর ২০২৬, ২৩ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
আদালত চত্বর থেকে পুলিশের বাইক চুরি, তদন্তে বেরিয়ে এলো চোরচক্রের নেটওয়ার্ক বিদ্যাকুটে বশির সমর্থকদের বিশাল মিছিল, চেয়ারম্যান প্রার্থীকে ঘিরে আলোচনা নবীনগরে দুর্গাপূজার নিরাপত্তা নিশ্চিতে পূজামণ্ডপ পরিদর্শন করলেন পুলিশ সুপার চাঁপাইনবাবগঞ্জে জাতীয় নিরাপদ সড়ক দিবস উপলক্ষে সেমিনার ও আলোচনা সভা চাঁপাইনবাবগঞ্জে বিশ্ব দৃষ্টি দিবসে র‍্যালি ও আলোচনা সভা চাঁপাইনবাবগঞ্জে ২৪ ঘণ্টায় নতুন ডেঙ্গু রোগী ৪৯, হাসপাতালে ভর্তি ৯১ ধুলাবালিতে খালেদা জিয়ার ছবি, গঙ্গাচড়ায় তদন্ত কমিটি গঙ্গাচড়ায় কাব স্কাউটদের ক্যাম্পফায়ারে শেষ হলো চার দিনের ক্যাম্পুরি স্বাস্থ্যসেবায় ডা.সিনথিয়া তাসমিন দেশে দ্বিতীয়, বিভাগে স্ক্রিনিংয়ে শ্রেষ্ঠ সিলেটের জিডিএফ’র স্থায়ী উন্নয়ন পরিকল্পনা ও আধুনিক ভবন নির্মাণ বিষয়ে সিসিক বরাবরে স্মারকলিপি পেশ

গাজীপুরে বিয়ের চার মাস না যেতেই অস্ত্রের মুখে নববধূকে ধর্ষণ, আদালতে মামলা

মারুফ হাসান, নিজস্ব প্রতিবেদক
মারুফ হাসান, নিজস্ব প্রতিবেদক
  • প্রকাশের সময় : ০৫:৩২:৪৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৪ অগাস্ট ২০২৬
  • / 156 বার পড়া হয়েছে

গাজীপুরের কালীগঞ্জে বিয়ের চার মাস না যেতেই এক গৃহবধূকে হাত-পা বেঁধে অস্ত্রের মুখে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে এলাকার এক নৈশপ্রহরীর বিরুদ্ধে। গত রবিবার (২ আগস্ট) রাত আনুমানিক সাড়ে ১১টার দিকে কালীগঞ্জ পৌরসভার মূলগাঁও এলাকায় গৃহবধূর নিজ বসতঘরে এ ঘটনা ঘটে বলে মামলার অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। অভিযুক্ত নৈশপ্রহরীর নাম মো. শাহ আলম (৩৭)। তিনি উপজেলার মূলগাঁও এলাকার মোহাম্মদ তাজু মিয়ার ছেলে। এদিকে, ঘটনাটি স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা বিচার-সালিশের মাধ্যমে ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করেছেন বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী। এ ঘটনার পর ভুক্তভোগী আত্মহত্যার চেষ্টা করেছেন বলেও দাবি করেছেন তার স্বামী।
এ ঘটনায় গাজীপুরের বিজ্ঞ আদালত নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলার এজাহার ও আদালতে দাখিল করা নথি অনুযায়ী, গত ২ আগস্ট রাত আনুমানিক সাড়ে ১১টার দিকে কালীগঞ্জের মূলগাঁও এলাকায় বাদীর নিজ বসতঘরে এ ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
মামলার অভিযোগে বলা হয়, অভিযুক্ত ব্যক্তি পূর্বপরিকল্পিতভাবে বাদীর ঘরে প্রবেশ করেন। পরে ভয়ভীতি দেখিয়ে ও জোরপূর্বক তার ইচ্ছার বিরুদ্ধে যৌন নির্যাতন করেন। এ সময় অভিযুক্তকে শনাক্ত করার মতো কিছু আলামত ঘটনাস্থলে থেকে যায় বলেও মামলার নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে। অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, ঘটনার সময় বাদীকে ভয় দেখানো হয় এবং বিষয়টি প্রকাশ করলে ক্ষতি করার হুমকি দেওয়া হয়। পরে অভিযুক্ত ঘটনাস্থল থেকে চলে যান। মামলার আবেদনে ঘটনাস্থল পরিদর্শন, বিছানার চাদরসহ সংরক্ষিত আলামত জব্দ এবং অভিযুক্তের বীর্য, চুল ও দাড়িসহ অন্যান্য আলামত ফরেনসিক ও ডিএনএ পরীক্ষার জন্য পাঠানোর আবেদন করা হয়েছে।
নথিতে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, বাদী প্রথমে গত ৫ আগস্ট কালীগঞ্জ থানায় মামলা করতে গেলে মামলা গ্রহণে অপারগতা প্রকাশ করা হয় বলে অভিযোগ করেন। পরে আইনি প্রতিকার পেতে আদালতে মামলা দায়ের করেন তিনি। এ ঘটনায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০ (সংশোধিত ২০২০)-এর ৯(১) ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে।
ভুক্তভোগীর স্বামী বলেন, “রবিবার রাতে বিদ্যুৎ না থাকায় কয়েল কিনতে বাড়ির বাইরে যাই। এদিকে অসুস্থ স্ত্রী অ্যালার্জির ওষুধ খেয়ে বাড়িতে ঘুমাচ্ছিলেন। দুই থেকে তিন ঘণ্টা পর বাড়িতে ফিরে দেখি ঘরের অবস্থা স্বাভাবিক নয়। বিষয়টি স্ত্রীর কাছে জানতে চাইলে প্রথমে তিনি বিষয়টি পরিষ্কার করে বলেননি। পরদিন সকালে হাঁটতে বের হওয়ার পথে তিনি আমাকে ধর্ষণের ঘটনার বর্ণনা দেন।”
তিনি আরও বলেন, “ঘটনাটি এলাকায় জানাজানি হলে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা বিচার-সালিশের মাধ্যমে ঘটনা ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করেন। একই সঙ্গে অভিযোগ তুলে নেওয়ার জন্য হুমকি দেওয়া হয়।”
এ বিষয়ে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি পনির হোসেন বলেন, “ঘটনাটি আমরা শুনেছি। পরবর্তীতে মীমাংসা করে দেওয়ার চেষ্টাও করা হয়। এ ঘটনায় অভিযুক্ত শাহ আলম দোষ স্বীকার করেছে। ভুক্তভোগী নারী বিচার মেনে নেওয়ার পরেও কেন অভিযোগ করছেন, এ বিষয়ে আমাদের জানা নেই।”
অভিযুক্ত শাহ আলমের ছোট বোনের জামাই রুহুল আমিন বলেন, “ঘটনাটি আমি লোকমুখে শুনেছি। শাহ আলম দোষ স্বীকার করেছে। ভুক্তভোগী নারী অসুস্থ। এরকম একজন নারীর ওপর এই ধরনের ঘটনা সত্যিই দুঃখজনক। আমি অভিযুক্তের কঠিন বিচার দাবি করেছি।”
তিনি আরও বলেন, “ঘটনার পর থেকে অভিযুক্ত শাহ আলম এলাকায় আসে না। আমিও এ ঘটনার সঠিক তদন্ত ও বিচার দাবি করছি।”
ভুক্তভোগী নারী বলেন, “আমার সঙ্গে যে ঘটনা ঘটেছে, এমন ঘটনা যেন দেশে আর কোথাও না ঘটে। আমি অভিযুক্ত শাহ আলমের সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি করছি, যাতে এ দেশের মা-বোনেরা নিরাপদে থাকতে পারেন।”

ট্যাগস :

এই নিউজটি শেয়ার করুন

গাজীপুরে বিয়ের চার মাস না যেতেই অস্ত্রের মুখে নববধূকে ধর্ষণ, আদালতে মামলা

প্রকাশের সময় : ০৫:৩২:৪৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৪ অগাস্ট ২০২৬

গাজীপুরের কালীগঞ্জে বিয়ের চার মাস না যেতেই এক গৃহবধূকে হাত-পা বেঁধে অস্ত্রের মুখে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে এলাকার এক নৈশপ্রহরীর বিরুদ্ধে। গত রবিবার (২ আগস্ট) রাত আনুমানিক সাড়ে ১১টার দিকে কালীগঞ্জ পৌরসভার মূলগাঁও এলাকায় গৃহবধূর নিজ বসতঘরে এ ঘটনা ঘটে বলে মামলার অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। অভিযুক্ত নৈশপ্রহরীর নাম মো. শাহ আলম (৩৭)। তিনি উপজেলার মূলগাঁও এলাকার মোহাম্মদ তাজু মিয়ার ছেলে। এদিকে, ঘটনাটি স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা বিচার-সালিশের মাধ্যমে ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করেছেন বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী। এ ঘটনার পর ভুক্তভোগী আত্মহত্যার চেষ্টা করেছেন বলেও দাবি করেছেন তার স্বামী।
এ ঘটনায় গাজীপুরের বিজ্ঞ আদালত নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলার এজাহার ও আদালতে দাখিল করা নথি অনুযায়ী, গত ২ আগস্ট রাত আনুমানিক সাড়ে ১১টার দিকে কালীগঞ্জের মূলগাঁও এলাকায় বাদীর নিজ বসতঘরে এ ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
মামলার অভিযোগে বলা হয়, অভিযুক্ত ব্যক্তি পূর্বপরিকল্পিতভাবে বাদীর ঘরে প্রবেশ করেন। পরে ভয়ভীতি দেখিয়ে ও জোরপূর্বক তার ইচ্ছার বিরুদ্ধে যৌন নির্যাতন করেন। এ সময় অভিযুক্তকে শনাক্ত করার মতো কিছু আলামত ঘটনাস্থলে থেকে যায় বলেও মামলার নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে। অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, ঘটনার সময় বাদীকে ভয় দেখানো হয় এবং বিষয়টি প্রকাশ করলে ক্ষতি করার হুমকি দেওয়া হয়। পরে অভিযুক্ত ঘটনাস্থল থেকে চলে যান। মামলার আবেদনে ঘটনাস্থল পরিদর্শন, বিছানার চাদরসহ সংরক্ষিত আলামত জব্দ এবং অভিযুক্তের বীর্য, চুল ও দাড়িসহ অন্যান্য আলামত ফরেনসিক ও ডিএনএ পরীক্ষার জন্য পাঠানোর আবেদন করা হয়েছে।
নথিতে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, বাদী প্রথমে গত ৫ আগস্ট কালীগঞ্জ থানায় মামলা করতে গেলে মামলা গ্রহণে অপারগতা প্রকাশ করা হয় বলে অভিযোগ করেন। পরে আইনি প্রতিকার পেতে আদালতে মামলা দায়ের করেন তিনি। এ ঘটনায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০ (সংশোধিত ২০২০)-এর ৯(১) ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে।
ভুক্তভোগীর স্বামী বলেন, “রবিবার রাতে বিদ্যুৎ না থাকায় কয়েল কিনতে বাড়ির বাইরে যাই। এদিকে অসুস্থ স্ত্রী অ্যালার্জির ওষুধ খেয়ে বাড়িতে ঘুমাচ্ছিলেন। দুই থেকে তিন ঘণ্টা পর বাড়িতে ফিরে দেখি ঘরের অবস্থা স্বাভাবিক নয়। বিষয়টি স্ত্রীর কাছে জানতে চাইলে প্রথমে তিনি বিষয়টি পরিষ্কার করে বলেননি। পরদিন সকালে হাঁটতে বের হওয়ার পথে তিনি আমাকে ধর্ষণের ঘটনার বর্ণনা দেন।”
তিনি আরও বলেন, “ঘটনাটি এলাকায় জানাজানি হলে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা বিচার-সালিশের মাধ্যমে ঘটনা ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করেন। একই সঙ্গে অভিযোগ তুলে নেওয়ার জন্য হুমকি দেওয়া হয়।”
এ বিষয়ে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি পনির হোসেন বলেন, “ঘটনাটি আমরা শুনেছি। পরবর্তীতে মীমাংসা করে দেওয়ার চেষ্টাও করা হয়। এ ঘটনায় অভিযুক্ত শাহ আলম দোষ স্বীকার করেছে। ভুক্তভোগী নারী বিচার মেনে নেওয়ার পরেও কেন অভিযোগ করছেন, এ বিষয়ে আমাদের জানা নেই।”
অভিযুক্ত শাহ আলমের ছোট বোনের জামাই রুহুল আমিন বলেন, “ঘটনাটি আমি লোকমুখে শুনেছি। শাহ আলম দোষ স্বীকার করেছে। ভুক্তভোগী নারী অসুস্থ। এরকম একজন নারীর ওপর এই ধরনের ঘটনা সত্যিই দুঃখজনক। আমি অভিযুক্তের কঠিন বিচার দাবি করেছি।”
তিনি আরও বলেন, “ঘটনার পর থেকে অভিযুক্ত শাহ আলম এলাকায় আসে না। আমিও এ ঘটনার সঠিক তদন্ত ও বিচার দাবি করছি।”
ভুক্তভোগী নারী বলেন, “আমার সঙ্গে যে ঘটনা ঘটেছে, এমন ঘটনা যেন দেশে আর কোথাও না ঘটে। আমি অভিযুক্ত শাহ আলমের সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি করছি, যাতে এ দেশের মা-বোনেরা নিরাপদে থাকতে পারেন।”