ঢাকা , সোমবার, ২৪ অগাস্ট ২০২৬, ৯ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
জামায়াতের মতো এনসিপিও বিসমিল্লাহ বলে মিথ্যা শুরু করেছে’ গাজীপুরে বিয়ের চার মাস না যেতেই অস্ত্রের মুখে নববধূকে ধর্ষণ, আদালতে মামলা জাফলং যাওয়ার পথে মর্মান্তিক দুর্ঘটনা, নিহত মেয়ে; মা গুরুতর আহত ঈদে মিলাদুন্নবীর অনুষ্ঠান ঘিরে আয়োজন, কাল উদ্বোধন রাষ্ট্রপতির প্রবাসীর স্ত্রীসহ কোটি টাকা নিয়ে পালালেন স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা গণপতি হত্যা: জবানবন্দি শেষে কারাগারে দুই আসামি নিউইয়র্কে নোয়াখালীর যুবককে গুলি করে হত্যা, আহত ১ অভিনেত্রী সারার ভিডিও ফাঁসের দাবি, নেটদুনিয়ায় কেন তোলপাড়? বাংলা কিউআরের ব্যবহার বাড়ছেই, দৈনিক লেনদেন ১১০ কোটি ছাড়িয়েছে খেলার পথে অরক্ষিত সেফটি ট্যাংকে পড়ে শিশুর মৃত্যু

গাজীপুরে বিয়ের চার মাস না যেতেই অস্ত্রের মুখে নববধূকে ধর্ষণ, আদালতে মামলা

মারুফ হাসান, নিজস্ব প্রতিবেদক
মারুফ হাসান, নিজস্ব প্রতিবেদক
  • প্রকাশের সময় : ০৫:৩২:৪৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৪ অগাস্ট ২০২৬
  • / 10 বার পড়া হয়েছে

গাজীপুরের কালীগঞ্জে বিয়ের চার মাস না যেতেই এক গৃহবধূকে হাত-পা বেঁধে অস্ত্রের মুখে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে এলাকার এক নৈশপ্রহরীর বিরুদ্ধে। গত রবিবার (২ আগস্ট) রাত আনুমানিক সাড়ে ১১টার দিকে কালীগঞ্জ পৌরসভার মূলগাঁও এলাকায় গৃহবধূর নিজ বসতঘরে এ ঘটনা ঘটে বলে মামলার অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। অভিযুক্ত নৈশপ্রহরীর নাম মো. শাহ আলম (৩৭)। তিনি উপজেলার মূলগাঁও এলাকার মোহাম্মদ তাজু মিয়ার ছেলে। এদিকে, ঘটনাটি স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা বিচার-সালিশের মাধ্যমে ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করেছেন বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী। এ ঘটনার পর ভুক্তভোগী আত্মহত্যার চেষ্টা করেছেন বলেও দাবি করেছেন তার স্বামী
এ ঘটনায় গাজীপুরের বিজ্ঞ আদালত নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলার এজাহার ও আদালতে দাখিল করা নথি অনুযায়ী, গত ২ আগস্ট রাত আনুমানিক সাড়ে ১১টার দিকে কালীগঞ্জের মূলগাঁও এলাকায় বাদীর নিজ বসতঘরে এ ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
মামলার অভিযোগে বলা হয়, অভিযুক্ত ব্যক্তি পূর্বপরিকল্পিতভাবে বাদীর ঘরে প্রবেশ করেন। পরে ভয়ভীতি দেখিয়ে ও জোরপূর্বক তার ইচ্ছার বিরুদ্ধে যৌন নির্যাতন করেন। এ সময় অভিযুক্তকে শনাক্ত করার মতো কিছু আলামত ঘটনাস্থলে থেকে যায় বলেও মামলার নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে। অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, ঘটনার সময় বাদীকে ভয় দেখানো হয় এবং বিষয়টি প্রকাশ করলে ক্ষতি করার হুমকি দেওয়া হয়। পরে অভিযুক্ত ঘটনাস্থল থেকে চলে যান। মামলার আবেদনে ঘটনাস্থল পরিদর্শন, বিছানার চাদরসহ সংরক্ষিত আলামত জব্দ এবং অভিযুক্তের বীর্য, চুল ও দাড়িসহ অন্যান্য আলামত ফরেনসিক ও ডিএনএ পরীক্ষার জন্য পাঠানোর আবেদন করা হয়েছে।
নথিতে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, বাদী প্রথমে গত ৫ আগস্ট কালীগঞ্জ থানায় মামলা করতে গেলে মামলা গ্রহণে অপারগতা প্রকাশ করা হয় বলে অভিযোগ করেন। পরে আইনি প্রতিকার পেতে আদালতে মামলা দায়ের করেন তিনি। এ ঘটনায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০ (সংশোধিত ২০২০)-এর ৯(১) ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে।
ভুক্তভোগীর স্বামী বলেন, “রবিবার রাতে বিদ্যুৎ না থাকায় কয়েল কিনতে বাড়ির বাইরে যাই। এদিকে অসুস্থ স্ত্রী অ্যালার্জির ওষুধ খেয়ে বাড়িতে ঘুমাচ্ছিলেন। দুই থেকে তিন ঘণ্টা পর বাড়িতে ফিরে দেখি ঘরের অবস্থা স্বাভাবিক নয়। বিষয়টি স্ত্রীর কাছে জানতে চাইলে প্রথমে তিনি বিষয়টি পরিষ্কার করে বলেননি। পরদিন সকালে হাঁটতে বের হওয়ার পথে তিনি আমাকে ধর্ষণের ঘটনার বর্ণনা দেন।”
তিনি আরও বলেন, “ঘটনাটি এলাকায় জানাজানি হলে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা বিচার-সালিশের মাধ্যমে ঘটনা ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করেন। একই সঙ্গে অভিযোগ তুলে নেওয়ার জন্য হুমকি দেওয়া হয়।”
এ বিষয়ে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি পনির হোসেন বলেন, “ঘটনাটি আমরা শুনেছি। পরবর্তীতে মীমাংসা করে দেওয়ার চেষ্টাও করা হয়। এ ঘটনায় অভিযুক্ত শাহ আলম দোষ স্বীকার করেছে। ভুক্তভোগী নারী বিচার মেনে নেওয়ার পরেও কেন অভিযোগ করছেন, এ বিষয়ে আমাদের জানা নেই।”
অভিযুক্ত শাহ আলমের ছোট বোনের জামাই রুহুল আমিন বলেন, “ঘটনাটি আমি লোকমুখে শুনেছি। শাহ আলম দোষ স্বীকার করেছে। ভুক্তভোগী নারী অসুস্থ। এরকম একজন নারীর ওপর এই ধরনের ঘটনা সত্যিই দুঃখজনক। আমি অভিযুক্তের কঠিন বিচার দাবি করেছি।”
তিনি আরও বলেন, “ঘটনার পর থেকে অভিযুক্ত শাহ আলম এলাকায় আসে না। আমিও এ ঘটনার সঠিক তদন্ত ও বিচার দাবি করছি।”
ভুক্তভোগী নারী বলেন, “আমার সঙ্গে যে ঘটনা ঘটেছে, এমন ঘটনা যেন দেশে আর কোথাও না ঘটে। আমি অভিযুক্ত শাহ আলমের সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি করছি, যাতে এ দেশের মা-বোনেরা নিরাপদে থাকতে পারেন।”

ট্যাগস :
প্রফেশনাল নিউজ পোর্টাল দিচ্ছে থিম বিক্রয় ডটকম

এই নিউজটি শেয়ার করুন

গাজীপুরে বিয়ের চার মাস না যেতেই অস্ত্রের মুখে নববধূকে ধর্ষণ, আদালতে মামলা

প্রকাশের সময় : ০৫:৩২:৪৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৪ অগাস্ট ২০২৬

গাজীপুরের কালীগঞ্জে বিয়ের চার মাস না যেতেই এক গৃহবধূকে হাত-পা বেঁধে অস্ত্রের মুখে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে এলাকার এক নৈশপ্রহরীর বিরুদ্ধে। গত রবিবার (২ আগস্ট) রাত আনুমানিক সাড়ে ১১টার দিকে কালীগঞ্জ পৌরসভার মূলগাঁও এলাকায় গৃহবধূর নিজ বসতঘরে এ ঘটনা ঘটে বলে মামলার অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। অভিযুক্ত নৈশপ্রহরীর নাম মো. শাহ আলম (৩৭)। তিনি উপজেলার মূলগাঁও এলাকার মোহাম্মদ তাজু মিয়ার ছেলে। এদিকে, ঘটনাটি স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা বিচার-সালিশের মাধ্যমে ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করেছেন বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী। এ ঘটনার পর ভুক্তভোগী আত্মহত্যার চেষ্টা করেছেন বলেও দাবি করেছেন তার স্বামী
এ ঘটনায় গাজীপুরের বিজ্ঞ আদালত নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলার এজাহার ও আদালতে দাখিল করা নথি অনুযায়ী, গত ২ আগস্ট রাত আনুমানিক সাড়ে ১১টার দিকে কালীগঞ্জের মূলগাঁও এলাকায় বাদীর নিজ বসতঘরে এ ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
মামলার অভিযোগে বলা হয়, অভিযুক্ত ব্যক্তি পূর্বপরিকল্পিতভাবে বাদীর ঘরে প্রবেশ করেন। পরে ভয়ভীতি দেখিয়ে ও জোরপূর্বক তার ইচ্ছার বিরুদ্ধে যৌন নির্যাতন করেন। এ সময় অভিযুক্তকে শনাক্ত করার মতো কিছু আলামত ঘটনাস্থলে থেকে যায় বলেও মামলার নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে। অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, ঘটনার সময় বাদীকে ভয় দেখানো হয় এবং বিষয়টি প্রকাশ করলে ক্ষতি করার হুমকি দেওয়া হয়। পরে অভিযুক্ত ঘটনাস্থল থেকে চলে যান। মামলার আবেদনে ঘটনাস্থল পরিদর্শন, বিছানার চাদরসহ সংরক্ষিত আলামত জব্দ এবং অভিযুক্তের বীর্য, চুল ও দাড়িসহ অন্যান্য আলামত ফরেনসিক ও ডিএনএ পরীক্ষার জন্য পাঠানোর আবেদন করা হয়েছে।
নথিতে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, বাদী প্রথমে গত ৫ আগস্ট কালীগঞ্জ থানায় মামলা করতে গেলে মামলা গ্রহণে অপারগতা প্রকাশ করা হয় বলে অভিযোগ করেন। পরে আইনি প্রতিকার পেতে আদালতে মামলা দায়ের করেন তিনি। এ ঘটনায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০ (সংশোধিত ২০২০)-এর ৯(১) ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে।
ভুক্তভোগীর স্বামী বলেন, “রবিবার রাতে বিদ্যুৎ না থাকায় কয়েল কিনতে বাড়ির বাইরে যাই। এদিকে অসুস্থ স্ত্রী অ্যালার্জির ওষুধ খেয়ে বাড়িতে ঘুমাচ্ছিলেন। দুই থেকে তিন ঘণ্টা পর বাড়িতে ফিরে দেখি ঘরের অবস্থা স্বাভাবিক নয়। বিষয়টি স্ত্রীর কাছে জানতে চাইলে প্রথমে তিনি বিষয়টি পরিষ্কার করে বলেননি। পরদিন সকালে হাঁটতে বের হওয়ার পথে তিনি আমাকে ধর্ষণের ঘটনার বর্ণনা দেন।”
তিনি আরও বলেন, “ঘটনাটি এলাকায় জানাজানি হলে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা বিচার-সালিশের মাধ্যমে ঘটনা ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করেন। একই সঙ্গে অভিযোগ তুলে নেওয়ার জন্য হুমকি দেওয়া হয়।”
এ বিষয়ে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি পনির হোসেন বলেন, “ঘটনাটি আমরা শুনেছি। পরবর্তীতে মীমাংসা করে দেওয়ার চেষ্টাও করা হয়। এ ঘটনায় অভিযুক্ত শাহ আলম দোষ স্বীকার করেছে। ভুক্তভোগী নারী বিচার মেনে নেওয়ার পরেও কেন অভিযোগ করছেন, এ বিষয়ে আমাদের জানা নেই।”
অভিযুক্ত শাহ আলমের ছোট বোনের জামাই রুহুল আমিন বলেন, “ঘটনাটি আমি লোকমুখে শুনেছি। শাহ আলম দোষ স্বীকার করেছে। ভুক্তভোগী নারী অসুস্থ। এরকম একজন নারীর ওপর এই ধরনের ঘটনা সত্যিই দুঃখজনক। আমি অভিযুক্তের কঠিন বিচার দাবি করেছি।”
তিনি আরও বলেন, “ঘটনার পর থেকে অভিযুক্ত শাহ আলম এলাকায় আসে না। আমিও এ ঘটনার সঠিক তদন্ত ও বিচার দাবি করছি।”
ভুক্তভোগী নারী বলেন, “আমার সঙ্গে যে ঘটনা ঘটেছে, এমন ঘটনা যেন দেশে আর কোথাও না ঘটে। আমি অভিযুক্ত শাহ আলমের সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি করছি, যাতে এ দেশের মা-বোনেরা নিরাপদে থাকতে পারেন।”