ঢাকা , সোমবার, ০২ নভেম্বর ২০২৬, ১৮ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী হয়েও জিপিএ-৫ পেয়ে স্বপ্নপূরণের একধাপ এগিয়ে মৌমি অপুকে চুমু দেওয়া সেই আদনান কে? বিয়ের সাজ ঘিরে রহস্য একের পর এক অভিযোগে আলোচনায় পারসা মান্দার ১১ কলেজে অধিকাংশ শিক্ষার্থী ফেল, পাসের হার ২০ শতাংশের নিচে নবীনগরে নানা আয়োজনে জাতীয় যুব দিবস পালিত তরুণ উদ্যোক্তাদের জন্য ২০ লাখ টাকা, আবেদন শুরু ৫৬ জেলায় কালীগঞ্জে মেম্বারের বাড়ি থেকে সাতটি গরু চুরি কালীগঞ্জে শুক্রবারে কলেজ ছাত্রের মরদেহ উদ্ধার , শনিবারে আরো একজনের মরদেহ উদ্ধার  কালীগঞ্জে জুয়া ও মাদকের বিরুদ্ধে স্থানীয়দের ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান যুবদলের ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে মৌলভীবাজার জেলা যুবদলের আলোচনা

দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী হয়েও জিপিএ-৫ পেয়ে স্বপ্নপূরণের একধাপ এগিয়ে মৌমি

তিমির বনিক, মৌলভীবাজার প্রতিনিধি
তিমির বনিক, মৌলভীবাজার প্রতিনিধি
  • প্রকাশের সময় : ১২:৫০:০৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ২ নভেম্বর ২০২৬
  • / 2 বার পড়া হয়েছে

পৃথিবীর আলো ও চোঁখে না দেখা দৃশ্য দেখার সৌভাগ্য হয়নি। তবে জন্মগত দৃষ্টিপ্রতিবন্ধকতাকে জয় করে নিজের মেধা মনন, সাহস ও অদম্য ইচ্ছাশক্তির জোরে অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন তাহমিনা আক্তার মৌমি। এবারের উচ্চ মাধ্যমিক সার্টিফিকেট (এইচএসসি) পরীক্ষায় জিপিএ-৫ অর্জন করে তিনি প্রমাণ করেছেন, দৃঢ় মনোবল থাকলে কোনো বাঁধাই স্বপ্নপূরণের পথে চূড়ান্ত প্রতিবন্ধকতা হতে পারে না।

সিলেট শিক্ষা বোর্ডে চলতি বছরের এইচএসসি পরীক্ষার সামগ্রিক পাসের হার কিছুটা নিম্নমুখী হলেও মৌমির এই অসাধারণ সাফল্য শিক্ষাঙ্গনে এক ব্যতিক্রমী ও অনুপ্রেরণাদায়ক বিরল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে।

তাহমিনা আক্তার মৌমি সিলেট সরকারি মদন মোহন কলেজের শিক্ষার্থী। তাঁর বাড়ি মৌলভীবাজারের জুড়ী উপজেলার জায়ফরনগর গ্রামে। তিনি আব্দুল আহাদ ও আমিনা আক্তার পুষ্প দম্পতির মেয়ে। ছোটবেলা থেকেই পড়ালেখার প্রতি অত্যন্ত মনোযোগী ছিলেন মৌমি।

বর্তমানে তিনি সিলেটে দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের কল্যাণে কাজ করা গ্রিন ডিসএবিল্ড ফাউন্ডেশনের (জিডিএফ) আবাসিক শিক্ষার্থী হিসেবে থেকে উচ্চশিক্ষা চালিয়ে যাচ্ছেন।

জিডিএফের নির্বাহী পরিচালক বায়েজিদ আহমদ খান সন্তোষ প্রকাশ করে বলেন, “মৌমি প্রথম শ্রেণি থেকেই আমাদের প্রতিষ্ঠানের আবাসিক শিক্ষার্থী হিসেবে আছেন। তার এই ব্যতিক্রমী ও গৌরবোজ্জ্বল সাফল্যে আমরা অত্যান্ত আনন্দিত ও গর্বিত।”

নিজের সাফল্যের অনুভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে মৌমি বলেন, “চোখে পৃথিবীর আলো দেখতে পাই না সত্যি। কিন্তু স্বপ্ন দেখার অধিকার তো সবারই আছে। এই অর্জন আমার একার নয়। আমার বাবা-মা, শিক্ষক এবং জিডিএফের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানানোর ভাষা আমার নেই। শারীরিক সীমাবদ্ধতা যে পড়াশোনার পথে বাঁধা হতে পারে না, তা আমি কাজের মাধ্যমে প্রমাণ করতে চেয়েছি। ভবিষ্যতে আরও উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করে দেশের সেবা করতে চাই।”

মেয়ের এমন অসাধারণ অর্জনে বাবা আব্দুল আহাদ বলেন, “আমার মেয়ে জন্ম থেকেই চোঁখে দেখে না। কিন্তু ওর পড়াশোনার প্রতি আগ্রহ দেখে আমরা কখনো ওকে পিছু হটতে দিইনি। আজ ওর এই সাফল্যে মা-বাবা হিসেবে আমরা কতটা গর্বিত, তা ভাষায় প্রকাশ করতে পারছি না। সবাই আমার মৌমির জন্য দোয়া করবেন, যেন সে তার লক্ষ্য পূরণ করতে পারে।”

দৃষ্টিশক্তি না থাকায় মৌমিকে এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নিতে হয়েছে শ্রুতিলেখকের সহায়তায়। এবারের পরীক্ষায় তাঁর শ্রুতিলেখক হিসেবে সহযোগিতা করেন পল্লব রায়। তিনি হাজী আব্দুস সাত্তার উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এসএসসি উত্তীর্ণ একজন শিক্ষার্থী। মৌমির মুখে বলা উত্তরগুলো পরীক্ষার খাতায় লিখে দিয়ে তাঁর এই সাফল্যের পেছনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন পল্লব, ওর অসামান্য অবদান চিরদিন মনে থাকবে।

ট্যাগস :

এই নিউজটি শেয়ার করুন

দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী হয়েও জিপিএ-৫ পেয়ে স্বপ্নপূরণের একধাপ এগিয়ে মৌমি

প্রকাশের সময় : ১২:৫০:০৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ২ নভেম্বর ২০২৬

পৃথিবীর আলো ও চোঁখে না দেখা দৃশ্য দেখার সৌভাগ্য হয়নি। তবে জন্মগত দৃষ্টিপ্রতিবন্ধকতাকে জয় করে নিজের মেধা মনন, সাহস ও অদম্য ইচ্ছাশক্তির জোরে অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন তাহমিনা আক্তার মৌমি। এবারের উচ্চ মাধ্যমিক সার্টিফিকেট (এইচএসসি) পরীক্ষায় জিপিএ-৫ অর্জন করে তিনি প্রমাণ করেছেন, দৃঢ় মনোবল থাকলে কোনো বাঁধাই স্বপ্নপূরণের পথে চূড়ান্ত প্রতিবন্ধকতা হতে পারে না।

সিলেট শিক্ষা বোর্ডে চলতি বছরের এইচএসসি পরীক্ষার সামগ্রিক পাসের হার কিছুটা নিম্নমুখী হলেও মৌমির এই অসাধারণ সাফল্য শিক্ষাঙ্গনে এক ব্যতিক্রমী ও অনুপ্রেরণাদায়ক বিরল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে।

তাহমিনা আক্তার মৌমি সিলেট সরকারি মদন মোহন কলেজের শিক্ষার্থী। তাঁর বাড়ি মৌলভীবাজারের জুড়ী উপজেলার জায়ফরনগর গ্রামে। তিনি আব্দুল আহাদ ও আমিনা আক্তার পুষ্প দম্পতির মেয়ে। ছোটবেলা থেকেই পড়ালেখার প্রতি অত্যন্ত মনোযোগী ছিলেন মৌমি।

বর্তমানে তিনি সিলেটে দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের কল্যাণে কাজ করা গ্রিন ডিসএবিল্ড ফাউন্ডেশনের (জিডিএফ) আবাসিক শিক্ষার্থী হিসেবে থেকে উচ্চশিক্ষা চালিয়ে যাচ্ছেন।

জিডিএফের নির্বাহী পরিচালক বায়েজিদ আহমদ খান সন্তোষ প্রকাশ করে বলেন, “মৌমি প্রথম শ্রেণি থেকেই আমাদের প্রতিষ্ঠানের আবাসিক শিক্ষার্থী হিসেবে আছেন। তার এই ব্যতিক্রমী ও গৌরবোজ্জ্বল সাফল্যে আমরা অত্যান্ত আনন্দিত ও গর্বিত।”

নিজের সাফল্যের অনুভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে মৌমি বলেন, “চোখে পৃথিবীর আলো দেখতে পাই না সত্যি। কিন্তু স্বপ্ন দেখার অধিকার তো সবারই আছে। এই অর্জন আমার একার নয়। আমার বাবা-মা, শিক্ষক এবং জিডিএফের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানানোর ভাষা আমার নেই। শারীরিক সীমাবদ্ধতা যে পড়াশোনার পথে বাঁধা হতে পারে না, তা আমি কাজের মাধ্যমে প্রমাণ করতে চেয়েছি। ভবিষ্যতে আরও উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করে দেশের সেবা করতে চাই।”

মেয়ের এমন অসাধারণ অর্জনে বাবা আব্দুল আহাদ বলেন, “আমার মেয়ে জন্ম থেকেই চোঁখে দেখে না। কিন্তু ওর পড়াশোনার প্রতি আগ্রহ দেখে আমরা কখনো ওকে পিছু হটতে দিইনি। আজ ওর এই সাফল্যে মা-বাবা হিসেবে আমরা কতটা গর্বিত, তা ভাষায় প্রকাশ করতে পারছি না। সবাই আমার মৌমির জন্য দোয়া করবেন, যেন সে তার লক্ষ্য পূরণ করতে পারে।”

দৃষ্টিশক্তি না থাকায় মৌমিকে এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নিতে হয়েছে শ্রুতিলেখকের সহায়তায়। এবারের পরীক্ষায় তাঁর শ্রুতিলেখক হিসেবে সহযোগিতা করেন পল্লব রায়। তিনি হাজী আব্দুস সাত্তার উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এসএসসি উত্তীর্ণ একজন শিক্ষার্থী। মৌমির মুখে বলা উত্তরগুলো পরীক্ষার খাতায় লিখে দিয়ে তাঁর এই সাফল্যের পেছনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন পল্লব, ওর অসামান্য অবদান চিরদিন মনে থাকবে।