নবীনগরে চিকিৎসকদের অবহেলায় সাপে কাটা রোগীর মৃত্যুর অভিযোগ!
- প্রকাশের সময় : ০৬:৪৬:১৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬
- / 4 বার পড়া হয়েছে
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগরে বিষধর সাপের কামড়ে উজ্জল মিয়া (৩০) নামে এক অটোচালকের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে।
সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় উপজেলার শ্রীরামপুর ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের তালতলা মধ্যপাড়ায় এ ঘটনা ঘটে। উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় নেওয়ার পথে রাত ১০টার দিকে ভৈরব এলাকায় অ্যাম্বুলেন্সেই তার মৃত্যু হয়।
নিহত উজ্জল মিয়া ওই এলাকার মৃত এহসান মিয়ার ছেলে। তিনি দুই কন্যাসন্তানের জনক ছিলেন। তার স্ত্রী বর্তমানে অন্তঃসত্ত্বা। জীবিকার তাগিদে তিনি বিভিন্ন সময়ে অটোচালক, সিএনজি চালক ও রাজমিস্ত্রির কাজ করতেন।
স্থানীয় ও পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, সোমবার সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে বাড়ির পাশে একটি খানকা শরীফের কাছাকাছি সড়কের পাশে অন্ধকার জায়গায় গেলে অজ্ঞাত একটি বিষধর সাপ তাকে কামড় দেয় বলে ধারণা করা হচ্ছে। কামড়ের পর পায়ে রক্ত দেখতে পান উজ্জল। বিষয়টি সঙ্গে থাকা লোকজনকে জানালে তারা দ্রুত তাকে নবীনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান।
নিহতের স্বজনদের অভিযোগ, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়ার পর চিকিৎসকদের পরামর্শে ফার্মেসি থেকে চারটি ইনজেকশন কিনে আনা হয়। তবে তাদের দাবি, এর মধ্যে মাত্র দুটি ইনজেকশন প্রয়োগের পর উজ্জলকে দ্রুত ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা সদর হাসপাতালে রেফার করা হয়। সেখানে অবস্থার অবনতি হলে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়। পরে ঢাকার উদ্দেশে রওনা হওয়ার পর ভৈরব এলাকায় অ্যাম্বুলেন্সেই তার মৃত্যু হয়।
নিহতের মা আম্বিয়া বেগম ছেলের অকালমৃত্যুতে কান্নায় ভেঙে পড়ে চিকিৎসায় অবহেলার অভিযোগ করেন। স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দাও দাবি করেন, নবীনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সাপে কাটা রোগীর চিকিৎসার জন্য সরকারি অ্যান্টিভেনম মজুত থাকার পরও তা প্রয়োগ করা হয়নি।
তবে চিকিৎসায় অবহেলার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন নবীনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের তৎকালীন কর্তব্যরত মেডিকেল অফিসার ডা. মোসলিমা সাঈদিয়া। তিনি জানান, রোগী হাসপাতালে আসার পর সাপে কাটার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ২০ মিনিটের পুরো রক্ত জমাট বাঁধার পরীক্ষা (20WBCT) করা হয়। পরীক্ষায় রক্ত স্বাভাবিক ছিল এবং তখন বিষক্রিয়ার প্রত্যক্ষ কোনো লক্ষণ পাওয়া যায়নি। তার ভাষ্য অনুযায়ী, শরীরে স্পষ্ট বিষক্রিয়ার লক্ষণ ছাড়া অ্যান্টিভেনম প্রয়োগ করলে গুরুতর অ্যালার্জিক প্রতিক্রিয়া বা শকে যাওয়ার ঝুঁকি থাকে। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এ ধরনের জটিলতা মোকাবিলায় প্রয়োজনীয় আইসিইউ সুবিধা না থাকায় ঝুঁকি এড়াতে রোগীকে জেলা সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়।
অন্যদিকে নবীনগর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. হাবিবুর রহমান বলেন, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পর্যাপ্ত পরিমাণ অ্যান্টিভেনম মজুত রয়েছে। তার দাবি, রোগীর স্বজনরা চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী হাসপাতালে চিকিৎসা না নিয়ে তাকে অন্যত্র নিয়ে যান।
প্রেরক,
মো. আলমগীর হোসেন
নবীনগর (ব্রাহ্মণবাড়িয়া) প্রতিনিধি
মোবাইল: ০১৭১১-৮৭২৩৩৫
ই-মেইল: alamgirpfile@gmail.com
তারিখ: বুধবার, ৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ইং























