ঢাকা , শুক্রবার, ১৩ মার্চ ২০২৬, ২৯ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
কালীগঞ্জে অধিক মূল্যে বিভিন্ন পণ্য বিক্রয় ৫ ব্যবসায়ীকে ১৯০০০ টাকা জরিমান মৌলভীবাজার জেলা বিএনপি’র সদস্য সচিবের বিরুদ্ধে অনাস্থা জানিয়ে লিখিত;মির্জা ফখরুল নিখোঁজের ১দিন পর রিপনের লাশ নদীর পাড় থেকে উদ্ধার কমলগঞ্জে কোরআন অবমাননার অভিযোগে মিলনকে গণধোলাই দিয়ে পুলিশে স্বাস্থ্যমন্ত্রী কালীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স পরিদর্শন “কর্মরত ডাক্তার অনুপস্থিত”  মাধবদীর আলোচিত আমেনা হত্যাকান্ডের রহস্য উন্মোচন “সৎ পিতার হত্যার দায় স্বীকার” হাকালুকি হাওরে সূর্যমুখী চাষে কৃষকের স্বস্তি কালীগঞ্জে মেয়াদোত্তীর্ণ পানীয় বিক্রি, জরিমানা ৩০ হাজার কালীগঞ্জের টঙ্গী-ঘোড়াশাল বাইপাসে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ১ আহত ৪ আমতলীতে চাঁদা দাবির অভিযোগে সাংবাদিককে গণধোলাই

কড়া নির্দেশনায় সেন্টমার্টিন ভ্রমণে পর্যটকদের অনীহা

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • প্রকাশের সময় : ০১:১১:১৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ২ নভেম্বর ২০২৫
  • / ৪২৪ বার পড়া হয়েছে

ছবি: প্রতিদিনের পোস্ট

১১৯

দীর্ঘ ৯ মাস পর সরকার গতকাল ১ নভেম্বর থেকে পর্যটকদের জন্য সেন্টমার্টিন দ্বীপ উন্মুক্ত করেছে। রাতযাপনের অনুমতি না থাকাসহ একই দিনই দ্বীপ ছাড়ার কড়াকড়ি নির্দেশনায় ভরা মৌসুমেও দ্বীপবাসীর জন্য হতাশা তৈরি করছে।

কক্সবাজার শহর থেকে জাহাজে প্রবাল-দ্বীপ সেন্টমার্টিন পৌছতে সময় লাগে সাত-আট ঘন্টা। কিন্তু, পর্যটকদের অনীহার জন্য কক্সবাজারের নুনিয়ারছড়ার বিআইডব্লিউটিএ ঘাট থেকে সেন্টমার্টিনে উদ্দেশ্যে কোন জাহাজ ছাড়েনি।

জাহাজ মালিকরা জানান, প্রাথমিকভাবে নুনিয়ারছড়ার বিআইডব্লিউটিএ ঘাট থেকে এ দিন ‘কর্ণফুলী এক্সপ্রেস’ ও ‘বারো আউলিয়া’ নামে দুটি জাহাজ সেন্টমার্টিন রুটে চলার কথা থাকলেও, জাহাজ মালিকরা এই সিদ্ধান্ত থেকে সরে এসেছেন। কেননা দ্বীপে নভেম্বর থেকে জানুয়ারি পর্যন্ত তিন মাস নির্দিষ্ট শর্তে পর্যটক যাওয়ার অনুমতি দিয়েছে সরকার। তবে নভেম্বরে কেবল দিনের বেলায় ঘুরে ফিরে আসার নিয়মে অনেক ভ্রমণপিপাসুই সেন্টমার্টিন ভ্রমণ বাতিল করেছেন। ফলে বাধ্য হয়ে নভেম্বরে জাহাজ চলাচল বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন জাহাজ মালিকরা।

এ বিষয়ে সি ক্রুজ অপারেটর ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের সাধারণ সম্পাদক হোসাইন ইসলাম বাহাদুর সাংবাদিকদের বলেন, কাল থেকে সেন্টমার্টিন যাওয়ার অনুমতি থাকলেও আমরা জাহাজ ছাড়েনি। কারণ, দিনে গিয়ে দিনে চলে আসলে পর্যটকরা সেন্টমার্টিন যাবেন না। এটা নিশ্চিত হওয়ার পর এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

সেন্টমার্টিন হোটেল-মোটেল মালিক সমিতির আহবায়ক আব্দুর রহমান বলেন, ‘ছোট-বড় মিলে আড়াই শতাধিক হোটেল-মোটেল রয়েছে। কিন্তু আমাদের কোন প্রস্তুতি নেই। রাত্রীযাপন বন্ধ থাকায় কক্সবাজার থেকে ৮ ঘন্টা যাত্রা করে দ্বীপে কোন পর্যটক আসছে না। তবে হয়তো পরের দুই মাসে অল্প কিছু পর্যটক আসার সম্ভবনা রয়েছে। কিন্তু তখনও ২ হাজার পর্যটক আসবে। তখন অবস্থা দেখে অল্প কিছু হোটেল মালিকরা প্রস্তুতি নেওয়ার সম্ভবনা রয়েছে।’

জানতে চাইলে টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শেখ এহসান উদ্দিন বলেন, ‘দ্বীপে পর্যটকদের ভ্রমণের ক্ষেত্রে নৌযানগুলোর কতৃপক্ষের অনুমতি লাগবে। এছাড়া দ্বীপে মটরসাইকেলসহ যেসব নির্দেশনা রয়েছে-সেগুলো বাস্তবায়নে নজরদারী থাকবে। বিশেষ করে দ্বীপে স্থানীয়দের জন্য অনুমতির প্রয়োজন হয়না। ’

এ বিষয়ে সেন্টমার্টিন ইউনিয়নের (ভারপ্রাপ্ত) চেয়ারম্যান ফয়েজুল ইসলাম বলেন, ‘রাত্রীযাপন বন্ধের কারনে সেন্টমার্টিনে পর্যটকরা বেড়াতে আসতে অনীহা-যার কারনে এ ভরা মৌসুমেও পর্যটক শুন্য দ্বীপে। এখানকার মানুষের অধিকাংশ জীবন যাত্রা নির্ভর করে পর্যটন আয় থেকে। ফলে পর্যটন শিল্পের মন্দার কারনে দ্বীপের মানুষের মাঝে হাহাকার চলছে। তাছাড়া কক্সবাজার থেকে ৭-৮ ঘন্টা সমুদ্র পাড়ি দিয়ে দ্বীপে এসে-একই দিন ফিরে যাওয়া অসম্ভ। আর এতো কড়াকড়ির করলে পর্যকরা প্রবাল দ্বীপ থেকে মুখ ফিরিয়ে নেবে। এতে দেশের এক মাত্র প্রবাল দ্বীপ সেন্টমার্টিন পর্যটন খ্যাত থেকে নাম মুছে যাওয়ার শঙ্কা রয়েছে।

দ্বীপে মানতে হবে যে ১২ নির্দেশনা: সেন্টমার্টিনের সৌন্দর্য, পরিবেশ, প্রতিবেশ ও জীববৈচিত্র্য রক্ষায় ভ্রমণের ক্ষেত্রে গত ২২ অক্টোবর পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয় ১২টি নির্দেশনা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করেছে। প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, বিআইডবিউটিএ এবং মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন ছাড়া সেন্টমার্টিন দ্বীপে কোনো নৌযান চলাচলের অনুমতি পাবে না। পর্যটকদের অবশ্যই ট্যুরিজম বোর্ডের স্বীকৃত ওয়েব পোর্টালের মাধ্যমে অনলাইনে টিকিট কিনতে হবে। সেখানে প্রতিটি টিকিটে ট্রাভেল পাস এবং কিউআর কোড সংযুক্ত থাকবে। দ্বীপে ভ্রমণের সময়সূচি এবং পর্যটক উপস্থিতিও এবার কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রিত থাকবে। নভেম্বর মাসে পর্যটকরা শুধু দিনের বেলায় ভ্রমণ করতে পারবেন। ডিসেম্বর ও জানুয়ারিতে রাতযাপনের অনুমতি থাকবে। ফেব্রয়ারিতে দ্বীপে পর্যটক যাতায়াত থাকবে সম্পূর্ণভাবে বন্ধ। প্রতিদিন গড়ে দুই হাজারের বেশি পর্যটক দ্বীপে ভ্রমণ করতে পারবেন না।

দ্বীপের প্রাকৃতিক পরিবেশ অক্ষুন্ন রাখতে রাতে সৈকতে আলো জ্বালানো, শব্দ সৃষ্টি বা বারবিকিউ করা নিষিদ্ধ করা হয়েছে। সৈকতে মোটরসাইকেল, সি-বাইকসহ যে কোনো মোটরচালিত যানবাহন চলাচল সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ থাকবে। নিষিদ্ধ পলিথিন বহন করা যাবে না এবং একবার ব্যবহার্য প্লাস্টিক, যেমন চিপসের প্যাকেট, প্লাস্টিক চামচ, স্ট্র, সাবান ও শ্যাম্পুর মিনিপ্যাক, ৫০০ ও ১০০০ মিলিলিটারের প্লাস্টিক বোতল ইত্যাদি বহন নিরুৎসাহিত করা হয়েছে।

এই নিউজটি শেয়ার করুন

কড়া নির্দেশনায় সেন্টমার্টিন ভ্রমণে পর্যটকদের অনীহা

প্রকাশের সময় : ০১:১১:১৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ২ নভেম্বর ২০২৫
১১৯

দীর্ঘ ৯ মাস পর সরকার গতকাল ১ নভেম্বর থেকে পর্যটকদের জন্য সেন্টমার্টিন দ্বীপ উন্মুক্ত করেছে। রাতযাপনের অনুমতি না থাকাসহ একই দিনই দ্বীপ ছাড়ার কড়াকড়ি নির্দেশনায় ভরা মৌসুমেও দ্বীপবাসীর জন্য হতাশা তৈরি করছে।

কক্সবাজার শহর থেকে জাহাজে প্রবাল-দ্বীপ সেন্টমার্টিন পৌছতে সময় লাগে সাত-আট ঘন্টা। কিন্তু, পর্যটকদের অনীহার জন্য কক্সবাজারের নুনিয়ারছড়ার বিআইডব্লিউটিএ ঘাট থেকে সেন্টমার্টিনে উদ্দেশ্যে কোন জাহাজ ছাড়েনি।

জাহাজ মালিকরা জানান, প্রাথমিকভাবে নুনিয়ারছড়ার বিআইডব্লিউটিএ ঘাট থেকে এ দিন ‘কর্ণফুলী এক্সপ্রেস’ ও ‘বারো আউলিয়া’ নামে দুটি জাহাজ সেন্টমার্টিন রুটে চলার কথা থাকলেও, জাহাজ মালিকরা এই সিদ্ধান্ত থেকে সরে এসেছেন। কেননা দ্বীপে নভেম্বর থেকে জানুয়ারি পর্যন্ত তিন মাস নির্দিষ্ট শর্তে পর্যটক যাওয়ার অনুমতি দিয়েছে সরকার। তবে নভেম্বরে কেবল দিনের বেলায় ঘুরে ফিরে আসার নিয়মে অনেক ভ্রমণপিপাসুই সেন্টমার্টিন ভ্রমণ বাতিল করেছেন। ফলে বাধ্য হয়ে নভেম্বরে জাহাজ চলাচল বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন জাহাজ মালিকরা।

এ বিষয়ে সি ক্রুজ অপারেটর ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের সাধারণ সম্পাদক হোসাইন ইসলাম বাহাদুর সাংবাদিকদের বলেন, কাল থেকে সেন্টমার্টিন যাওয়ার অনুমতি থাকলেও আমরা জাহাজ ছাড়েনি। কারণ, দিনে গিয়ে দিনে চলে আসলে পর্যটকরা সেন্টমার্টিন যাবেন না। এটা নিশ্চিত হওয়ার পর এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

সেন্টমার্টিন হোটেল-মোটেল মালিক সমিতির আহবায়ক আব্দুর রহমান বলেন, ‘ছোট-বড় মিলে আড়াই শতাধিক হোটেল-মোটেল রয়েছে। কিন্তু আমাদের কোন প্রস্তুতি নেই। রাত্রীযাপন বন্ধ থাকায় কক্সবাজার থেকে ৮ ঘন্টা যাত্রা করে দ্বীপে কোন পর্যটক আসছে না। তবে হয়তো পরের দুই মাসে অল্প কিছু পর্যটক আসার সম্ভবনা রয়েছে। কিন্তু তখনও ২ হাজার পর্যটক আসবে। তখন অবস্থা দেখে অল্প কিছু হোটেল মালিকরা প্রস্তুতি নেওয়ার সম্ভবনা রয়েছে।’

জানতে চাইলে টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শেখ এহসান উদ্দিন বলেন, ‘দ্বীপে পর্যটকদের ভ্রমণের ক্ষেত্রে নৌযানগুলোর কতৃপক্ষের অনুমতি লাগবে। এছাড়া দ্বীপে মটরসাইকেলসহ যেসব নির্দেশনা রয়েছে-সেগুলো বাস্তবায়নে নজরদারী থাকবে। বিশেষ করে দ্বীপে স্থানীয়দের জন্য অনুমতির প্রয়োজন হয়না। ’

এ বিষয়ে সেন্টমার্টিন ইউনিয়নের (ভারপ্রাপ্ত) চেয়ারম্যান ফয়েজুল ইসলাম বলেন, ‘রাত্রীযাপন বন্ধের কারনে সেন্টমার্টিনে পর্যটকরা বেড়াতে আসতে অনীহা-যার কারনে এ ভরা মৌসুমেও পর্যটক শুন্য দ্বীপে। এখানকার মানুষের অধিকাংশ জীবন যাত্রা নির্ভর করে পর্যটন আয় থেকে। ফলে পর্যটন শিল্পের মন্দার কারনে দ্বীপের মানুষের মাঝে হাহাকার চলছে। তাছাড়া কক্সবাজার থেকে ৭-৮ ঘন্টা সমুদ্র পাড়ি দিয়ে দ্বীপে এসে-একই দিন ফিরে যাওয়া অসম্ভ। আর এতো কড়াকড়ির করলে পর্যকরা প্রবাল দ্বীপ থেকে মুখ ফিরিয়ে নেবে। এতে দেশের এক মাত্র প্রবাল দ্বীপ সেন্টমার্টিন পর্যটন খ্যাত থেকে নাম মুছে যাওয়ার শঙ্কা রয়েছে।

দ্বীপে মানতে হবে যে ১২ নির্দেশনা: সেন্টমার্টিনের সৌন্দর্য, পরিবেশ, প্রতিবেশ ও জীববৈচিত্র্য রক্ষায় ভ্রমণের ক্ষেত্রে গত ২২ অক্টোবর পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয় ১২টি নির্দেশনা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করেছে। প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, বিআইডবিউটিএ এবং মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন ছাড়া সেন্টমার্টিন দ্বীপে কোনো নৌযান চলাচলের অনুমতি পাবে না। পর্যটকদের অবশ্যই ট্যুরিজম বোর্ডের স্বীকৃত ওয়েব পোর্টালের মাধ্যমে অনলাইনে টিকিট কিনতে হবে। সেখানে প্রতিটি টিকিটে ট্রাভেল পাস এবং কিউআর কোড সংযুক্ত থাকবে। দ্বীপে ভ্রমণের সময়সূচি এবং পর্যটক উপস্থিতিও এবার কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রিত থাকবে। নভেম্বর মাসে পর্যটকরা শুধু দিনের বেলায় ভ্রমণ করতে পারবেন। ডিসেম্বর ও জানুয়ারিতে রাতযাপনের অনুমতি থাকবে। ফেব্রয়ারিতে দ্বীপে পর্যটক যাতায়াত থাকবে সম্পূর্ণভাবে বন্ধ। প্রতিদিন গড়ে দুই হাজারের বেশি পর্যটক দ্বীপে ভ্রমণ করতে পারবেন না।

দ্বীপের প্রাকৃতিক পরিবেশ অক্ষুন্ন রাখতে রাতে সৈকতে আলো জ্বালানো, শব্দ সৃষ্টি বা বারবিকিউ করা নিষিদ্ধ করা হয়েছে। সৈকতে মোটরসাইকেল, সি-বাইকসহ যে কোনো মোটরচালিত যানবাহন চলাচল সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ থাকবে। নিষিদ্ধ পলিথিন বহন করা যাবে না এবং একবার ব্যবহার্য প্লাস্টিক, যেমন চিপসের প্যাকেট, প্লাস্টিক চামচ, স্ট্র, সাবান ও শ্যাম্পুর মিনিপ্যাক, ৫০০ ও ১০০০ মিলিলিটারের প্লাস্টিক বোতল ইত্যাদি বহন নিরুৎসাহিত করা হয়েছে।