ঢাকা , বুধবার, ১১ মার্চ ২০২৬, ২৬ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
নিখোঁজের ১দিন পর রিপনের লাশ নদীর পাড় থেকে উদ্ধার কমলগঞ্জে কোরআন অবমাননার অভিযোগে মিলনকে গণধোলাই দিয়ে পুলিশে স্বাস্থ্যমন্ত্রী কালীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স পরিদর্শন “কর্মরত ডাক্তার অনুপস্থিত”  মাধবদীর আলোচিত আমেনা হত্যাকান্ডের রহস্য উন্মোচন “সৎ পিতার হত্যার দায় স্বীকার” হাকালুকি হাওরে সূর্যমুখী চাষে কৃষকের স্বস্তি কালীগঞ্জে মেয়াদোত্তীর্ণ পানীয় বিক্রি, জরিমানা ৩০ হাজার কালীগঞ্জের টঙ্গী-ঘোড়াশাল বাইপাসে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ১ আহত ৪ আমতলীতে চাঁদা দাবির অভিযোগে সাংবাদিককে গণধোলাই শেষ বক্তৃতায় যা বলেছিলেন খামেনি খামেনি হত্যার জবাবে কঠোর প্রতিশোধের অঙ্গীকার ইরানের

কমলগঞ্জে কোরআন অবমাননার অভিযোগে মিলনকে গণধোলাই দিয়ে পুলিশে

প্রতিনিধির নাম
  • প্রকাশের সময় : ০২:১০:৪৯ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১১ মার্চ ২০২৬
  • / ৪ বার পড়া হয়েছে

কমলগঞ্জে কোরআন অবমাননার অভিযোগে মিলনকে গণধোলাই দিয়ে পুলিশে

তিমির বনিক,মৌলভীবাজার প্রতিনিধি:

মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলায় পবিত্র কোরআন অবমাননার অভিযোগে মিলন মিয়া (৪০) নামে এক যুবককে গণধোলাই দিয়ে পুলিশে সোপর্দ করেছে স্থানীয় জনতা। এরপর যুবকের ফাঁসির দাবিতে উত্তেজিত জনতা থানার সামনে বিক্ষোভ করেন। ওই যুবকের বিরুদ্ধে অভিযোগ পবিত্র কোরআন শরীফ পায়ের নিচে রেখে অত্যন্ত আপত্তিকর মন্তব্য করেছেন।

সোমবার ৯ই মার্চ ইফতারের আগে উপজেলার আলীনগর ইউনিয়নের বড়খোলা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। পরে উত্তাল হয়ে ওঠে পুরো এলাকা। অভিযুক্ত মিলন মিয়া বড়খোলা গ্রামের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা।

স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রের বরাতে জানা যায়, মিলন মিয়া পারিবারিক কলহের জেরে সম্প্রতি তার স্ত্রীকে তালাক দেন। গত সোমবার বিকেলে তিনি বড়খোলা জামে মসজিদের ইমামের কাছে গিয়ে তার স্ত্রীকে ফিরিয়ে এনে দেওয়ার জন্য চাপ সৃষ্টি করেন। ইমাম এ বিষয়ে অপারগতা প্রকাশ করলে মিলন মিয়া ক্ষিপ্ত হয়ে অশালীন আচরণ শুরু করেন। এক পর্যায়ে তিনি মসজিদের ভেতর থাকা পবিত্র কোরআন শরিফ পায়ের নিচে রেখে অত্যন্ত আপত্তিকর মন্তব্য করেন।

কোরআন অবমাননার খবর ছড়িয়ে পড়লে মুহুর্তের মধ্যে শত শত মুসল্লি ও এলাকাবাসী মসজিদের সামনে জড়ো হন। চরম উত্তেজনার এক পর্যায়ে ক্ষুব্ধ জনতা মিলন মিয়াকে ধরে গণধোলাই দেয়।

এদিকে ঘটনার খবর পেয়ে কমলগঞ্জ থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং অভিযুক্তকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়। পরে ঘটনার প্রতিবাদে সোমবার দিবাগত রাত সাড়ে ১১টার দিকে শতশত বিক্ষোদ্ধ মানুষ অভিযুক্তের ফাঁসির দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল বের করেন। মিছিলটি এলাকার বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে কমলগঞ্জ থানার প্রধান ফটকের সামনে গিয়ে প্রতিবাদ সমাবেশে মিলিত হয়। এসময় বিক্ষুব্ধ জনতা অভিযুক্তের সর্বোচ্চ শাস্তির দাবিতে শ্লোগান দিতে থাকেন।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেতে সহকারী পুলিশ সুপার (কমলগঞ্জ-শ্রীমঙ্গল) সার্কেল মো. ওয়াহিদুজ্জামান রাজু ঘটনাস্থল ও থানা এলাকায় অবস্থান নেন। তিনি বিক্ষুব্ধ জনতাকে শান্ত থাকার আহ্বান জানিয়ে বলেন, ‘ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাতের বিষয়টি অত্যন্ত স্পর্শকাতর। আমরা ঘটনাটি সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করছি। আইনের মাধ্যমে অপরাধীর কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা হবে।’ পুলিশের যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাসে রাত গভীর হলে বিক্ষোভকারীরা স্থান ত্যাগ করেন। বর্তমানে এলাকার পরিস্থিতি স্বাভাবিক থাকলেও পুলিশের নজরদারি জোরদার করা হয়েছে। এ ঘটনায় কমলগঞ্জ থানায় একটি মামলা হয়েছে বলে থানা সূত্রে জানা গেছে।

কমলগঞ্জ থানার ওসি আব্দুল আউয়াল বিষয়টির সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, এ ঘটনায় অভিযুক্ত যুবককে আটক করা হয়েছে এবং থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। বর্তমানে এলাকার পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে।

ট্যাগস :

এই নিউজটি শেয়ার করুন

কমলগঞ্জে কোরআন অবমাননার অভিযোগে মিলনকে গণধোলাই দিয়ে পুলিশে

প্রকাশের সময় : ০২:১০:৪৯ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১১ মার্চ ২০২৬

কমলগঞ্জে কোরআন অবমাননার অভিযোগে মিলনকে গণধোলাই দিয়ে পুলিশে

তিমির বনিক,মৌলভীবাজার প্রতিনিধি:

মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলায় পবিত্র কোরআন অবমাননার অভিযোগে মিলন মিয়া (৪০) নামে এক যুবককে গণধোলাই দিয়ে পুলিশে সোপর্দ করেছে স্থানীয় জনতা। এরপর যুবকের ফাঁসির দাবিতে উত্তেজিত জনতা থানার সামনে বিক্ষোভ করেন। ওই যুবকের বিরুদ্ধে অভিযোগ পবিত্র কোরআন শরীফ পায়ের নিচে রেখে অত্যন্ত আপত্তিকর মন্তব্য করেছেন।

সোমবার ৯ই মার্চ ইফতারের আগে উপজেলার আলীনগর ইউনিয়নের বড়খোলা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। পরে উত্তাল হয়ে ওঠে পুরো এলাকা। অভিযুক্ত মিলন মিয়া বড়খোলা গ্রামের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা।

স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রের বরাতে জানা যায়, মিলন মিয়া পারিবারিক কলহের জেরে সম্প্রতি তার স্ত্রীকে তালাক দেন। গত সোমবার বিকেলে তিনি বড়খোলা জামে মসজিদের ইমামের কাছে গিয়ে তার স্ত্রীকে ফিরিয়ে এনে দেওয়ার জন্য চাপ সৃষ্টি করেন। ইমাম এ বিষয়ে অপারগতা প্রকাশ করলে মিলন মিয়া ক্ষিপ্ত হয়ে অশালীন আচরণ শুরু করেন। এক পর্যায়ে তিনি মসজিদের ভেতর থাকা পবিত্র কোরআন শরিফ পায়ের নিচে রেখে অত্যন্ত আপত্তিকর মন্তব্য করেন।

কোরআন অবমাননার খবর ছড়িয়ে পড়লে মুহুর্তের মধ্যে শত শত মুসল্লি ও এলাকাবাসী মসজিদের সামনে জড়ো হন। চরম উত্তেজনার এক পর্যায়ে ক্ষুব্ধ জনতা মিলন মিয়াকে ধরে গণধোলাই দেয়।

এদিকে ঘটনার খবর পেয়ে কমলগঞ্জ থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং অভিযুক্তকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়। পরে ঘটনার প্রতিবাদে সোমবার দিবাগত রাত সাড়ে ১১টার দিকে শতশত বিক্ষোদ্ধ মানুষ অভিযুক্তের ফাঁসির দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল বের করেন। মিছিলটি এলাকার বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে কমলগঞ্জ থানার প্রধান ফটকের সামনে গিয়ে প্রতিবাদ সমাবেশে মিলিত হয়। এসময় বিক্ষুব্ধ জনতা অভিযুক্তের সর্বোচ্চ শাস্তির দাবিতে শ্লোগান দিতে থাকেন।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেতে সহকারী পুলিশ সুপার (কমলগঞ্জ-শ্রীমঙ্গল) সার্কেল মো. ওয়াহিদুজ্জামান রাজু ঘটনাস্থল ও থানা এলাকায় অবস্থান নেন। তিনি বিক্ষুব্ধ জনতাকে শান্ত থাকার আহ্বান জানিয়ে বলেন, ‘ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাতের বিষয়টি অত্যন্ত স্পর্শকাতর। আমরা ঘটনাটি সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করছি। আইনের মাধ্যমে অপরাধীর কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা হবে।’ পুলিশের যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাসে রাত গভীর হলে বিক্ষোভকারীরা স্থান ত্যাগ করেন। বর্তমানে এলাকার পরিস্থিতি স্বাভাবিক থাকলেও পুলিশের নজরদারি জোরদার করা হয়েছে। এ ঘটনায় কমলগঞ্জ থানায় একটি মামলা হয়েছে বলে থানা সূত্রে জানা গেছে।

কমলগঞ্জ থানার ওসি আব্দুল আউয়াল বিষয়টির সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, এ ঘটনায় অভিযুক্ত যুবককে আটক করা হয়েছে এবং থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। বর্তমানে এলাকার পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে।