স্যালুট সুজন’-এর চোখে জুলাই গণঅভ্যুত্থান: ত্যাগের পরও কেন অপ্রাপ্তির বাংলাদেশ?
- প্রকাশের সময় : ১১:২০:৫১ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৫ অগাস্ট ২০২৬
- / ১৭ বার পড়া হয়েছে
জুলাই গণঅভ্যুত্থানে প্রাণ হারানো মানুষের একটি বড় অংশের পরিচয় সামনে এসেছে সরকারি গেজেট ও বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠনের বিশ্লেষণে। প্রকাশিত প্রতিবেদনে দেখা গেছে, এই ঐতিহাসিক অভ্যুত্থানে সবচেয়ে বেশি প্রাণহানি ঘটেছে শ্রমজীবী মানুষের। একই সঙ্গে, আন্দোলনের মূল চেতনা ও সাধারণ মানুষের কাঙ্ক্ষিত বৈষম্যহীন বাংলাদেশ এখনো পুরোপুরি বাস্তবায়িত হয়নি বলে মন্তব্য করেছেন আন্দোলনের অন্যতম আলোচিত মুখ রিকশাচালক মোহাম্মদ সুজন, যিনি ‘স্যালুট সুজন’ নামে পরিচিত।
শ্রমজীবী মানুষের সর্বোচ্চ আত্মত্যাগ
সরকারি গেজেটভুক্ত শহিদদের তালিকা নিয়ে সম্প্রতি প্রকাশিত একটি বিশ্লেষণে জানা যায়, জুলাই অভ্যুত্থানে শহিদদের প্রায় ৩৫ শতাংশই ছিলেন বিভিন্ন পেশার শ্রমজীবী মানুষ। মানবাধিকার সংগঠন হিউম্যান রাইটস সাপোর্ট সোসাইটির (এইচআরএসএস) তথ্যও এই পরিসংখ্যানের সত্যতা নিশ্চিত করে। তাদের সংগৃহীত উপাত্ত অনুযায়ী, শিক্ষার্থীদের পর দ্বিতীয় সর্বোচ্চ প্রাণহানি ঘটেছে শ্রমিক শ্রেণির মানুষের। ম্যানুয়াল ও শিল্প খাতের শত শত শ্রমিকের পাশাপাশি হকার, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী এবং অনানুষ্ঠানিক খাতের কর্মীরাও এই আন্দোলনে জীবন দিয়েছেন।
এদিকে বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব লেবার স্টাডিজের (বিলস) প্রাথমিক তালিকা এবং বিভিন্ন শ্রমিক সংগঠনের দাবি অনুযায়ী, জুলাইয়ের আন্দোলনে তিন শতাধিক শ্রমজীবী মানুষ শহিদ হয়েছেন। শ্রম অধিকারকর্মীরা বলছেন, দেশের অর্থনৈতিক চালিকাশক্তির সঙ্গে জড়িত এই প্রান্তিক মানুষেরা বৈষম্যবিরোধী লড়াইয়েও সামনে থেকে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন।
প্রত্যাশার বাংলাদেশ ও ‘স্যালুট সুজন’-এর মূল্যায়ন
জুলাই আন্দোলনের দুই বছর পূর্তি উপলক্ষে গণমাধ্যমের সঙ্গে আলাপকালে নিজের অনুভূতির কথা জানান আলোচিত রিকশাচালক মোহাম্মদ সুজন। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, এই অভ্যুত্থান কোনো নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের কর্মসূচি ছিল না; এটি ছিল সর্বস্তরের সাধারণ মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত আন্দোলন। একটি সুন্দর, ন্যায়ভিত্তিক ও বৈষম্যহীন দেশ গড়ার স্বপ্ন নিয়েই সেদিন রাজপথে নেমেছিল আপামর জনসাধারণ।
তবে সুজনের মতে, আন্দোলনের লক্ষ্য ও মানুষের প্রত্যাশার সম্পূর্ণ প্রতিফলন এখনো সমাজে দেখা যায়নি। তিনি আক্ষেপ করে বলেন, দেশের মানুষ এখনো নানা সংকটের মধ্য দিয়ে দিন কাটাচ্ছে। কিছু স্বার্থান্বেষী মহলের তৎপরতার কারণে কাঙ্ক্ষিত পরিবর্তন ও সুফল পুরোপুরি অর্জিত হয়নি।
ন্যায়বিচার ও জনকল্যাণের তাগিদ
জুলাই অভ্যুত্থানের মূল অর্জন হিসেবে ছাত্র-জনতার ওপর চালিত নৃশংস হামলা ও হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু বিচার নিশ্চিত করাকে সবচেয়ে বড় শর্ত বলে মনে করেন সুজন। তার মতে, নিরস্ত্র মানুষের রক্ত ঝরানোর সঙ্গে জড়িতদের বিচার না হলে ন্যায়বিচারের মূল ভিত্তি নড়বড়ে হয়ে পড়বে। দ্রুত এই বিচার সম্পন্ন করা গেলে বাংলাদেশ বৈশ্বিক পরিমণ্ডলে মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে পারবে।
সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার মানোন্নয়ন, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি রোধ, জননিরাপত্তা এবং একটি সুরক্ষিত ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করাই ছিল জুলাইয়ের মূল আকুতি। সেই ঐতিহাসিক লক্ষ্য অর্জনে ভেদাভেদ ভুলে দেশের সব নাগরিককে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানিয়েছেন ‘স্যালুট সুজন’।
























