ঢাকা , শুক্রবার, ২১ অগাস্ট ২০২৬, ৬ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
নববধূর সঙ্গে নতুন জীবনের শুরুতেই বিদ্যুৎস্পৃষ্টে বরের মৃত্যু নোয়াখালীতে যুবদল নেতাকে গায়েবি চুরি মামলায় ফাঁসানোর অভিযোগ সাবেক প্রেমিকাকে হত্যার ছক, চ্যাটজিপিটির মাধ্যমেই জানল গোয়েন্দারা মৌলভীবাজারের বাবার হৃদয়বিদারক আর্তনাদ-“আমার মতো ভুল করবেন না” শ্রীমঙ্গল স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের অসামান্য অর্জন! নোয়াখালীতে আবাসিক হোটেলে অভিযান, অসামাজিক কাজে জড়িত থাকার অভিযোগে ১২ জন গ্রেফতার বর্ষার নতুন পানিতে চলনবিলে দেশি মাছের আমদানি বেড়েছে, জমে উঠেছে বেচাকেনা কন্যাসন্তান জন্মের ‘অপরাধে’ স্ত্রীকে হত্যা, স্বামীর যাবজ্জীবন দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হলেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর কোম্পানীগঞ্জে ঘুম থেকে উঠে শিশুর নিথর দেহ, হত্যার অভিযোগ বাবা-মায়ের পরস্পরের বিরুদ্ধে

নোয়াখালীতে যুবদল নেতাকে গায়েবি চুরি মামলায় ফাঁসানোর অভিযোগ

হিমেল আহাম্মেদ, নোয়াখালী জেলা প্রতিনিধি
হিমেল আহাম্মেদ, নোয়াখালী জেলা প্রতিনিধি
  • প্রকাশের সময় : ০৪:০৫:০৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২১ অগাস্ট ২০২৬
  • / 10 বার পড়া হয়েছে

নোয়াখালীর হাতিয়া উপজেলায় তমরুদ্দী ইউনিয়ন যুবদলের প্রচার সম্পাদক মোহাম্মদ হানিফকে গ্রেপ্তারের পর সুনির্দিষ্ট প্রমাণ ছাড়াই তিনটি চুরি মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে কারাগারে পাঠানোর অভিযোগ উঠেছে হাতিয়া থানা পুলিশের বিরুদ্ধে। তবে পুলিশ বলছে, গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তি যুবদল নেতা মোহাম্মদ হানিফ নন; একই নামের অন্য একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) বিকেলে স্থানীয় বিএনপি নেতারা গণমাধ্যমকর্মীদের কাছে এ অভিযোগ করেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বুধবার সন্ধ্যায় হাতিয়ার তমরুদ্দী ইউনিয়নের কাটাখালি এলাকা থেকে মোহাম্মদ হানিফকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। অভিযোগ রয়েছে, গ্রেপ্তারের পর তাকে হাতিয়া থানায় না নিয়ে নলচিরা নৌ-পুলিশ ক্যাম্পে নেওয়া হয়। পরে বৃহস্পতিবার তাকে নোয়াখালী জেলা শহরের সুধারাম থানায় পাঠানো হয়। সেখান থেকে তিনটি চুরি মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে দুপুরে নোয়াখালীর চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে পাঠানো হয়। পরে আদালতের মাধ্যমে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়।

দলীয় সূত্র ও স্থানীয়দের ভাষ্য, ২০২৫ সালের একটি রাজনৈতিক মারামারির মামলায় সম্প্রতি আদালত থেকে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি হওয়ার পর হানিফকে গ্রেপ্তার করা হয়। তবে তার পরিবার ও স্থানীয় বিএনপি নেতাদের অভিযোগ, ওই মামলায় গ্রেপ্তারের পর উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে ২০২৬ সালের তিনটি চুরি মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।

তমরুদ্দী ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি তানভীর হায়দার বলেন, মোহাম্মদ হানিফ ইউনিয়ন যুবদলের প্রচার সম্পাদক। রাজনৈতিক কারণে অতীতেও তার বিরুদ্ধে একাধিক মামলা হয়েছে। তিনি অভিযোগ করেন, কোনো সুনির্দিষ্ট তথ্য-প্রমাণ ছাড়াই পুরোনো রাজনৈতিক মামলায় গ্রেপ্তারের পর তাকে নতুন তিনটি চুরি মামলায় জড়ানো হয়েছে।

তিনি বলেন, “সে যদি অপরাধী হয়, প্রচলিত আইনে তার বিচার হবে। কিন্তু গায়েবি মামলায় তাকে কেন গ্রেপ্তার করা হবে? সে কোনো পেশাদার চোর বা অপরাধী নয়। পুলিশ কোনো তথ্য-প্রমাণ ছাড়াই তাকে তিনটি চুরির মামলায় ফাঁসিয়েছে।”

তানভীর হায়দার আরও অভিযোগ করেন, “ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগের মতো নিরীহ মানুষকে মিথ্যা ও গায়েবি মামলায় হয়রানি করা হচ্ছে। হাতিয়া থানার ওসির এমন কর্মকাণ্ডের পেছনে প্রশাসনের মধ্যে কারা রয়েছেন, সেটি খতিয়ে দেখা দরকার।”

তবে বিএনপি নেতাদের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন হাতিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কবির হোসেন। তিনি বলেন, “যাকে গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠানো হয়েছে, তার বিএনপির কোনো পদ নেই। আপনি স্থানীয়দের কাছ থেকে ভালোভাবে খোঁজ নেন।”

পুলিশের দাবি ও বিএনপি নেতাদের অভিযোগের বিষয়ে স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

প্রফেশনাল নিউজ পোর্টাল দিচ্ছে থিম বিক্রয় ডটকম

এই নিউজটি শেয়ার করুন

নোয়াখালীতে যুবদল নেতাকে গায়েবি চুরি মামলায় ফাঁসানোর অভিযোগ

প্রকাশের সময় : ০৪:০৫:০৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২১ অগাস্ট ২০২৬

নোয়াখালীর হাতিয়া উপজেলায় তমরুদ্দী ইউনিয়ন যুবদলের প্রচার সম্পাদক মোহাম্মদ হানিফকে গ্রেপ্তারের পর সুনির্দিষ্ট প্রমাণ ছাড়াই তিনটি চুরি মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে কারাগারে পাঠানোর অভিযোগ উঠেছে হাতিয়া থানা পুলিশের বিরুদ্ধে। তবে পুলিশ বলছে, গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তি যুবদল নেতা মোহাম্মদ হানিফ নন; একই নামের অন্য একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) বিকেলে স্থানীয় বিএনপি নেতারা গণমাধ্যমকর্মীদের কাছে এ অভিযোগ করেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বুধবার সন্ধ্যায় হাতিয়ার তমরুদ্দী ইউনিয়নের কাটাখালি এলাকা থেকে মোহাম্মদ হানিফকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। অভিযোগ রয়েছে, গ্রেপ্তারের পর তাকে হাতিয়া থানায় না নিয়ে নলচিরা নৌ-পুলিশ ক্যাম্পে নেওয়া হয়। পরে বৃহস্পতিবার তাকে নোয়াখালী জেলা শহরের সুধারাম থানায় পাঠানো হয়। সেখান থেকে তিনটি চুরি মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে দুপুরে নোয়াখালীর চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে পাঠানো হয়। পরে আদালতের মাধ্যমে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়।

দলীয় সূত্র ও স্থানীয়দের ভাষ্য, ২০২৫ সালের একটি রাজনৈতিক মারামারির মামলায় সম্প্রতি আদালত থেকে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি হওয়ার পর হানিফকে গ্রেপ্তার করা হয়। তবে তার পরিবার ও স্থানীয় বিএনপি নেতাদের অভিযোগ, ওই মামলায় গ্রেপ্তারের পর উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে ২০২৬ সালের তিনটি চুরি মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।

তমরুদ্দী ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি তানভীর হায়দার বলেন, মোহাম্মদ হানিফ ইউনিয়ন যুবদলের প্রচার সম্পাদক। রাজনৈতিক কারণে অতীতেও তার বিরুদ্ধে একাধিক মামলা হয়েছে। তিনি অভিযোগ করেন, কোনো সুনির্দিষ্ট তথ্য-প্রমাণ ছাড়াই পুরোনো রাজনৈতিক মামলায় গ্রেপ্তারের পর তাকে নতুন তিনটি চুরি মামলায় জড়ানো হয়েছে।

তিনি বলেন, “সে যদি অপরাধী হয়, প্রচলিত আইনে তার বিচার হবে। কিন্তু গায়েবি মামলায় তাকে কেন গ্রেপ্তার করা হবে? সে কোনো পেশাদার চোর বা অপরাধী নয়। পুলিশ কোনো তথ্য-প্রমাণ ছাড়াই তাকে তিনটি চুরির মামলায় ফাঁসিয়েছে।”

তানভীর হায়দার আরও অভিযোগ করেন, “ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগের মতো নিরীহ মানুষকে মিথ্যা ও গায়েবি মামলায় হয়রানি করা হচ্ছে। হাতিয়া থানার ওসির এমন কর্মকাণ্ডের পেছনে প্রশাসনের মধ্যে কারা রয়েছেন, সেটি খতিয়ে দেখা দরকার।”

তবে বিএনপি নেতাদের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন হাতিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কবির হোসেন। তিনি বলেন, “যাকে গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠানো হয়েছে, তার বিএনপির কোনো পদ নেই। আপনি স্থানীয়দের কাছ থেকে ভালোভাবে খোঁজ নেন।”

পুলিশের দাবি ও বিএনপি নেতাদের অভিযোগের বিষয়ে স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।