ঢাকা , বৃহস্পতিবার, ০৮ অক্টোবর ২০২৬, ২৩ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
স্বাস্থ্যসেবায় ডা.সিনথিয়া তাসমিন দেশে দ্বিতীয়, বিভাগে স্ক্রিনিংয়ে শ্রেষ্ঠ সিলেটের জিডিএফ’র স্থায়ী উন্নয়ন পরিকল্পনা ও আধুনিক ভবন নির্মাণ বিষয়ে সিসিক বরাবরে স্মারকলিপি পেশ চাঁপাইনবাবগঞ্জে ৩০টি হারানো মোবাইল উদ্ধার, মালিকদের হাতে তুলে দিলেন পুলিশ সুপার  অবরোধের আগের দিন পায়রায় নিখোঁজ জেলে ওমর আলী  ​ডেঙ্গু প্রতিরোধে জনগণের সচেতনতার কোনো বিকল্প নেই এমপি নূরুল ইসলাম বুলবুল রংপুরের নগর উন্নয়নে সরকারের বড় বিনিয়োগ, অনুমোদন পেল দুই প্রকল্প চাঁপাইনবাবগঞ্জ ডেঙ্গু প্রতিরোধে ৬নং ওয়ার্ডে মশক নিধন বিশেষ অভিযান  ইতালিতে রিজভীর সঙ্গে আমান উল্লাহ আমানের সৌজন্য সাক্ষাৎ চাঁপাইনবাবগঞ্জ ডেঙ্গু প্রতিরোধে বিশেষ অভিযান  বাংলাদেশ ভ্রমণের নতুন হিসাব, নিজের জেলা ভ্রমণ ম্যাপ বানাবেন যেভাবে

সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে জালিয়াতির সময় সিভিল কোর্ট কমিশনার আটক

তানভীর আহমেদ মনোহরদী (নরসিংদী) প্রতিনিধি
তানভীর আহমেদ মনোহরদী (নরসিংদী) প্রতিনিধি
  • প্রকাশের সময় : ০৮:৫৩:০৪ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৪ অগাস্ট ২০২৬
  • / 124 বার পড়া হয়েছে

নরসিংদীর পলাশ উপজেলায় সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে জালিয়াতির মাধ্যমে তৈরি করা ভুয়া খাজনার দাখিলা ব্যবহার করে দলিল রেজিস্ট্রি করার সময় রিফাত মোল্লা (২৪) নামের এক কথিত ‘সিভিল কোর্ট কমিশনার’কে হাতেনাতে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। বুধবার (১২ আগস্ট) দুপুরে পলাশ সাব-রেজিস্ট্রি অফিস চত্বরে এ ঘটনা ঘটে।

​রিফাত শিবপুর উপজেলার সাধারচর ইউনিয়নের দক্ষিণ সাধারচর গ্রামের বাসিন্দা। দীর্ঘদিন ধরে তিনি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমসহ বিভিন্ন মাধ্যমে নিজেকে নিবন্ধিত একজন সিভিল কোর্ট কমিশনার হিসেবে পরিচয় দিয়ে দলিল লেখা, জমি পরিমাপসহ ভূমিসংক্রান্ত নানা কাজ করে আসছিলেন।

​সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, বুধবার দুপুরে পলাশ সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে উপজেলার ডাঙ্গা ইউনিয়নের একটি জমির দলিল রেজিস্ট্রি করার জন্য আসেন রিফাত মোল্লা। এ সময় তার দাখিলকৃত খাজনার দাখিলা রশিদ দেখে সাব-রেজিস্টার মো. মিজানুর রহমানের সন্দেহ হয়। তাৎক্ষণিকভাবে তিনি বিষয়টি পলাশ উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. রাকীন মাশরুর খানকে অবহিত করেন।

​মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, খাজনা পরিশোধ করার কথা বলে ভুক্তভোগী স্বপন মিয়ার কাছ থেকে ১৭ হাজার টাকা নেন রিফাত। কিন্তু ভূমি অফিস থেকে সরকারি কোষাগারে টাকা জমা না দিয়ে, তিনি নিজে জাল-জালিয়াতির মাধ্যমে একটি ভুয়া খাজনার দাখিলা তৈরি করে দলিল রেজিস্ট্রি অফিসে জমা দেন।

​খবর পেয়ে সহকারী কমিশনার (ভূমি) সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে উপস্থিত হয়ে কাগজপত্র যাচাই-বাছাই করেন। প্রাথমিক যাচাইয়েই দাখিলাটি সম্পূর্ণ জাল বলে প্রমাণিত হয়। ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত হওয়ার পর তাৎক্ষণিকভাবে অভিযুক্তকে আটক করে পলাশ থানা পুলিশকে খবর দেওয়া হয়। পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে তাকে থানায় নিয়ে যায়।

​এ ঘটনায় পলাশ সাব-রেজিস্ট্রি অফিসের অফিস সহকারী আমেনা বেগম বাদী হয়ে রিফাত মোল্লাকে আসামি করে জাল-জালিয়াতি ও ভূমি উন্নয়ন কর জালিয়াতির অভিযোগে একটি মামলা করেন।

​এ বিষয়ে পলাশ উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. রাকীন মাশরুর খান জানান, সাব-রেজিস্টারের সন্দেহের ভিত্তিতে ঘটনাস্থলে গিয়ে জালিয়াতির সত্যতা পাওয়া যায়। পরবর্তীতে তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হয়।

​পলাশ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহেদ আল মামুন জানান, সংবাদ পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই পুলিশ পাঠিয়ে অভিযুক্তকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে প্রতারণা ও জালিয়াতির অপরাধে সুনির্দিষ্ট ধারায় মামলা রুজু করে আইনি প্রক্রিয়া শুরু করা হয়েছে। ভূমি সংক্রান্ত প্রতারণা রোধে প্রশাসনের এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।

ট্যাগস :

এই নিউজটি শেয়ার করুন

সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে জালিয়াতির সময় সিভিল কোর্ট কমিশনার আটক

প্রকাশের সময় : ০৮:৫৩:০৪ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৪ অগাস্ট ২০২৬

নরসিংদীর পলাশ উপজেলায় সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে জালিয়াতির মাধ্যমে তৈরি করা ভুয়া খাজনার দাখিলা ব্যবহার করে দলিল রেজিস্ট্রি করার সময় রিফাত মোল্লা (২৪) নামের এক কথিত ‘সিভিল কোর্ট কমিশনার’কে হাতেনাতে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। বুধবার (১২ আগস্ট) দুপুরে পলাশ সাব-রেজিস্ট্রি অফিস চত্বরে এ ঘটনা ঘটে।

​রিফাত শিবপুর উপজেলার সাধারচর ইউনিয়নের দক্ষিণ সাধারচর গ্রামের বাসিন্দা। দীর্ঘদিন ধরে তিনি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমসহ বিভিন্ন মাধ্যমে নিজেকে নিবন্ধিত একজন সিভিল কোর্ট কমিশনার হিসেবে পরিচয় দিয়ে দলিল লেখা, জমি পরিমাপসহ ভূমিসংক্রান্ত নানা কাজ করে আসছিলেন।

​সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, বুধবার দুপুরে পলাশ সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে উপজেলার ডাঙ্গা ইউনিয়নের একটি জমির দলিল রেজিস্ট্রি করার জন্য আসেন রিফাত মোল্লা। এ সময় তার দাখিলকৃত খাজনার দাখিলা রশিদ দেখে সাব-রেজিস্টার মো. মিজানুর রহমানের সন্দেহ হয়। তাৎক্ষণিকভাবে তিনি বিষয়টি পলাশ উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. রাকীন মাশরুর খানকে অবহিত করেন।

​মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, খাজনা পরিশোধ করার কথা বলে ভুক্তভোগী স্বপন মিয়ার কাছ থেকে ১৭ হাজার টাকা নেন রিফাত। কিন্তু ভূমি অফিস থেকে সরকারি কোষাগারে টাকা জমা না দিয়ে, তিনি নিজে জাল-জালিয়াতির মাধ্যমে একটি ভুয়া খাজনার দাখিলা তৈরি করে দলিল রেজিস্ট্রি অফিসে জমা দেন।

​খবর পেয়ে সহকারী কমিশনার (ভূমি) সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে উপস্থিত হয়ে কাগজপত্র যাচাই-বাছাই করেন। প্রাথমিক যাচাইয়েই দাখিলাটি সম্পূর্ণ জাল বলে প্রমাণিত হয়। ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত হওয়ার পর তাৎক্ষণিকভাবে অভিযুক্তকে আটক করে পলাশ থানা পুলিশকে খবর দেওয়া হয়। পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে তাকে থানায় নিয়ে যায়।

​এ ঘটনায় পলাশ সাব-রেজিস্ট্রি অফিসের অফিস সহকারী আমেনা বেগম বাদী হয়ে রিফাত মোল্লাকে আসামি করে জাল-জালিয়াতি ও ভূমি উন্নয়ন কর জালিয়াতির অভিযোগে একটি মামলা করেন।

​এ বিষয়ে পলাশ উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. রাকীন মাশরুর খান জানান, সাব-রেজিস্টারের সন্দেহের ভিত্তিতে ঘটনাস্থলে গিয়ে জালিয়াতির সত্যতা পাওয়া যায়। পরবর্তীতে তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হয়।

​পলাশ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহেদ আল মামুন জানান, সংবাদ পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই পুলিশ পাঠিয়ে অভিযুক্তকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে প্রতারণা ও জালিয়াতির অপরাধে সুনির্দিষ্ট ধারায় মামলা রুজু করে আইনি প্রক্রিয়া শুরু করা হয়েছে। ভূমি সংক্রান্ত প্রতারণা রোধে প্রশাসনের এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।