ভুয়া এনএসআই পরিচয়ে প্রেমের সম্পর্ক, টাকা আত্মসাৎ ও ধর্ষণের অভিযোগ
- প্রকাশের সময় : ০৮:৪০:২৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৯ অগাস্ট ২০২৬
- / 9 বার পড়া হয়েছে
রংপুরের গঙ্গাচড়ায় জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা সংস্থার (এনএসআই) কর্মকর্তা পরিচয়ে এক কলেজছাত্রীর সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তোলার অভিযোগ উঠেছে এক যুবকের বিরুদ্ধে। বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে ওই তরুণীর পরিবারের কাছ থেকে পদোন্নতির কথা বলে সাড়ে ১০ লাখ টাকা নেওয়া এবং পরে তাঁকে ধর্ষণের অভিযোগও উঠেছে তাঁর বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী তরুণীর বাবা বাদী হয়ে বুধবার(১৯ আগস্ট) ওই যুবকসহ তাঁর মা-বাবার বিরুদ্ধে মামলা করেছেন।
অভিযুক্ত যুবকের নাম লিয়ন মিয়া ওরফে সম্রাট হোসেন সামিম (৩০)। তিনি গঙ্গাচড়া উপজেলার সয়রাবাড়ী ফুলবাড়ীর চওড়া এলাকার সাফুল মিয়ার ছেলে।
মামলার এজাহার ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, প্রায় এক বছর আগে মোবাইল ফোনে ওই কলেজছাত্রীর সঙ্গে লিয়নের পরিচয় হয়। একপর্যায়ে নিজেকে এনএসআইয়ের কর্মকর্তা পরিচয় দিয়ে তাঁর সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তোলেন তিনি। পরে বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে তরুণীর পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ শুরু করেন।
তরুণীর অভিযোগ, লিয়ন একটি অ্যাফিডেভিটের কপি এনে তাঁকে স্বাক্ষর করতে বলেন। তিনি দাবি করেন, তাঁর কর্মস্থল থেকে বিয়ের অনুমতি এখনো দেওয়া হয়নি। বিষয়টি জানাজানি হলে চাকরি চলে যেতে পারে বলেও জানান তিনি। এরপর পদোন্নতির জন্য সাড়ে ১০ লাখ টাকা প্রয়োজন বলে তরুণীর পরিবারকে জানান লিয়ন।
পরিবার সূত্রে জানা যায়, পদোন্নতির পর বিয়ের বিষয়টি স্বজনদের জানানো হবে—এমন আশ্বাসে বিভিন্ন জায়গা থেকে টাকা সংগ্রহ করে লিয়নকে সাড়ে ১০ লাখ টাকা দেওয়া হয়। এ সময় তাঁর মা-বাবাও তরুণীর বাড়িতে এসেছিলেন বলে স্থানীয় কয়েকজন জানান।
তবে কিছুদিন পর লিয়নের পরিচয় নিয়ে সন্দেহ তৈরি হয়। খোঁজখবর নিয়ে তরুণীর পরিবার জানতে পারে, তিনি এনএসআইয়ের কর্মকর্তা নন।
এদিকে গতকাল মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ৮টার দিকে লিয়ন ওই তরুণীর বাড়িতে যান। পরে তাঁর ঘরে প্রবেশ করে ধর্ষণ করেন বলে মামলার এজাহারে অভিযোগ করা হয়েছে। তরুণীর চিৎকার শুনে পরিবারের সদস্য ও প্রতিবেশীরা সেখানে গিয়ে তাঁকে আটক করেন। পরে তাঁকে মারধর করা হয়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে লিয়নকে উদ্ধার করে গঙ্গাচড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে চিকিৎসা দেয়। পরে তাঁকে থানায় নেওয়া হয়।
ভুক্তভোগী তরুণীর অভিযোগ, লিয়ন বিভিন্ন স্থানে তাঁকে স্ত্রী পরিচয়ে নিয়ে যেতেন এবং সেখানে তাঁর সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক করতেন।
তরুণীর বাবা বলেন, ‘নিজেকে এনএসআই কর্মকর্তা পরিচয় দেওয়ায় আমরা তাঁকে বিশ্বাস করেছিলাম। মেয়েকে বিয়ে করবে এমন আশ্বাসে তাঁকে টাকা দিয়েছি। পরে জানতে পারি, তাঁর পরিচয় ভুয়া। আমরা প্রতারণার শিকার হয়েছি।’
পুলিশ জানায়, লিয়নের কাছ থেকে বিয়ের একটি অ্যাফিডেভিটের কপি ও এনএসআইয়ের একটি কার্ড উদ্ধার করা হয়েছে। অ্যাফিডেভিটে ওই তরুণীকে তাঁর স্ত্রী হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
তবে প্রাথমিকভাবে পুলিশ ধারণা করছে, কাগজটি ভুয়া এবং লিয়ন নিজেই এটি তৈরি করেছেন।
এ ছাড়া লিয়নের আগে বিয়ে হয়েছে এবং তাঁর স্ত্রী রয়েছেন—এমন তথ্যও পেয়েছে পুলিশ। একই কৌশলে আরও কয়েকজনের সঙ্গে তিনি প্রতারণা করেছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
গঙ্গাচড়া মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুস সবুর বলেন, ‘আটকের পর লিয়নের কাছ থেকে বিয়ের অ্যাফিডেভিট ও এনএসআইয়ের কার্ড পাওয়া গেছে। এগুলো ভুয়া বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। তাঁর আগে স্ত্রী থাকার তথ্যও পাওয়া গেছে। আরও কয়েকজনের সঙ্গে একইভাবে প্রতারণার অভিযোগের তথ্য মিলেছে। বিষয়গুলো তদন্ত করা হচ্ছে।’
ওসি আরও বলেন, এ ঘটনায় লিয়ন ও তাঁর মা-বাবার বিরুদ্ধে প্রতারণা ও ধর্ষণের অভিযোগে মামলা হয়েছে। লিয়নকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। তাঁর মা-বাবার সম্পৃক্ততার বিষয়টিও তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।





















