ঢাকা , বুধবার, ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৫ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
নারীদের নির্যাতন করে বীরত্ব দেখানো যায় না, তারা কাপুরুষ’: রিজভী পুরোনো দিনের ছবি বানিয়ে তাক লাগাতে চান? ব্যবহার করুন এই ১০ নির্দেশনা প্রেমের কথা বলে ডেকে নিয়ে মাদরাসাছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগ রাতের আঁধারে দুই বিঘা জমির কলাগাছ কেটে ফেলল প্রতিপক্ষ! বিরোধীদলীয় নেতাকে প্রধানমন্ত্রীর দাওয়াত, দুপুরের খাবারের বাজেট ১৫০ টাকা হাসিনাকে দেশে ফেরাতে ভারতের সঙ্গে যোগাযোগ চলছে: শামা ওবায়েদ ১০৪ বছর বয়সেও রেহাই নেই, জোড়া খুনের মামলায় নূর মুহাম্মদ কারাগারে ভেনিসে হামলার শিকার বাঁধন, বললেন—‘আমাকে জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু বলতে বাধ্য করা হয়’ শিশুদের নৈতিক ও মানবিক মূল্যবোধে গড়ে তুলতে সম্মিলিতভাবে কাজের আহ্বান বাবার স্মৃতি বাঁচিয়ে রাখতে ২৪ বছর ধরে বৃক্ষ দান

বাবার স্মৃতি বাঁচিয়ে রাখতে ২৪ বছর ধরে বৃক্ষ দান

নিউজ ডেস্ক, প্রতিদিনের পোস্ট
নিউজ ডেস্ক, প্রতিদিনের পোস্ট
  • প্রকাশের সময় : ০৫:৫৬:২২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • / 18 বার পড়া হয়েছে

মৃত বাবার স্মৃতিকে জীবন্ত রাখতে এবং পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় এক অনন্য নজির স্থাপন করেছেন পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়া উপজেলার সাইফুল ইসলাম। প্রায় দুই যুগ ধরে প্রতিবছর তিনি শিক্ষার্থীদের মাঝে বিনামূল্যে গাছের চারা বিতরণ করে আসছেন। এরই ধারাবাহিকতায় মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) দুপুরে উপজেলার শালবাহান ইউনিয়নের ছোট দলুয়াগাছ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে ৬৫০টি বিভিন্ন প্রজাতির গাছের চারা বিতরণ করেন তিনি।

সাইফুল প্রযুক্তি নার্সারির স্বত্বাধিকারী সাইফুল ইসলাম তার প্রয়াত পিতা ও প্রকৃতিপ্রেমী মরহুম হোসেন আলীর স্মরণে এই ব্যতিক্রমী উদ্যোগ নিয়মিত পরিচালনা করছেন।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন তেঁতুলিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আনোয়ার হোসাইন। বিশেষ অতিথি ছিলেন উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সাবরিনা আফরিন, উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা জাহাঙ্গীর আলম এবং সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা সীমান্ত কুমার বসাক। বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোছা. সুলতানা পারভীনের সভাপতিত্বে চারা বিতরণ কার্যক্রম সম্পন্ন হয়।

অনুষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের হাতে ফলজ, বনজ ও ঔষধি গাছের চারা তুলে দেওয়ার পাশাপাশি সেগুলোর নিয়মিত পরিচর্যার বিষয়ে শপথ করানো হয়। প্রধান অতিথির বক্তব্যে ইউএনও মো. আনোয়ার হোসাইন বলেন, বাবাকে স্মরণ করার এর চেয়ে মহৎ কোনো উপায় হতে পারে না। সাইফুল ইসলামের এই উদ্যোগ শুধু পরিবেশ রক্ষা নয়, বরং আগামী প্রজন্মের মধ্যে বৃক্ষরোপণের সচেতনতা সৃষ্টিতে বড় ভূমিকা রাখবে।

নিজের অনুভূতির কথা জানিয়ে সাইফুল ইসলাম বলেন, আমার বাবা হোসেন আলী ছিলেন একজন প্রাকৃতিক পাগল মানুষ। তিনি জীবিত থাকতে মানুষকে গাছ দিতেন। বাবা মারা যাওয়ার পর গত প্রায় দুই যুগ ধরে আমি এই ধারা অব্যাহত রেখেছি। আমি যতদিন বেঁচে আছি, বাবার স্মৃতিতে এই সবুজ বিপ্লব চালিয়ে যেতে চাই।

বক্তারা বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের এই সময়ে বৃক্ষরোপণ অত্যন্ত জরুরি। ব্যক্তিগত উদ্যোগে একজন সাধারণ মানুষের এমন নিরবচ্ছিন্ন সংগ্রাম সমাজের অন্যদের জন্য

অনুপ্রেরণা হয়ে থাকবে। চারা পেয়ে খুদে শিক্ষার্থীরাও অত্যন্ত আনন্দিত এবং তারা বাড়িতে এই গাছগুলো রোপণের অঙ্গীকার ব্যক্ত করে।

ট্যাগস :
প্রফেশনাল নিউজ পোর্টাল দিচ্ছে থিম বিক্রয় ডটকম

এই নিউজটি শেয়ার করুন

বাবার স্মৃতি বাঁচিয়ে রাখতে ২৪ বছর ধরে বৃক্ষ দান

প্রকাশের সময় : ০৫:৫৬:২২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬

মৃত বাবার স্মৃতিকে জীবন্ত রাখতে এবং পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় এক অনন্য নজির স্থাপন করেছেন পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়া উপজেলার সাইফুল ইসলাম। প্রায় দুই যুগ ধরে প্রতিবছর তিনি শিক্ষার্থীদের মাঝে বিনামূল্যে গাছের চারা বিতরণ করে আসছেন। এরই ধারাবাহিকতায় মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) দুপুরে উপজেলার শালবাহান ইউনিয়নের ছোট দলুয়াগাছ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে ৬৫০টি বিভিন্ন প্রজাতির গাছের চারা বিতরণ করেন তিনি।

সাইফুল প্রযুক্তি নার্সারির স্বত্বাধিকারী সাইফুল ইসলাম তার প্রয়াত পিতা ও প্রকৃতিপ্রেমী মরহুম হোসেন আলীর স্মরণে এই ব্যতিক্রমী উদ্যোগ নিয়মিত পরিচালনা করছেন।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন তেঁতুলিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আনোয়ার হোসাইন। বিশেষ অতিথি ছিলেন উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সাবরিনা আফরিন, উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা জাহাঙ্গীর আলম এবং সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা সীমান্ত কুমার বসাক। বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোছা. সুলতানা পারভীনের সভাপতিত্বে চারা বিতরণ কার্যক্রম সম্পন্ন হয়।

অনুষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের হাতে ফলজ, বনজ ও ঔষধি গাছের চারা তুলে দেওয়ার পাশাপাশি সেগুলোর নিয়মিত পরিচর্যার বিষয়ে শপথ করানো হয়। প্রধান অতিথির বক্তব্যে ইউএনও মো. আনোয়ার হোসাইন বলেন, বাবাকে স্মরণ করার এর চেয়ে মহৎ কোনো উপায় হতে পারে না। সাইফুল ইসলামের এই উদ্যোগ শুধু পরিবেশ রক্ষা নয়, বরং আগামী প্রজন্মের মধ্যে বৃক্ষরোপণের সচেতনতা সৃষ্টিতে বড় ভূমিকা রাখবে।

নিজের অনুভূতির কথা জানিয়ে সাইফুল ইসলাম বলেন, আমার বাবা হোসেন আলী ছিলেন একজন প্রাকৃতিক পাগল মানুষ। তিনি জীবিত থাকতে মানুষকে গাছ দিতেন। বাবা মারা যাওয়ার পর গত প্রায় দুই যুগ ধরে আমি এই ধারা অব্যাহত রেখেছি। আমি যতদিন বেঁচে আছি, বাবার স্মৃতিতে এই সবুজ বিপ্লব চালিয়ে যেতে চাই।

বক্তারা বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের এই সময়ে বৃক্ষরোপণ অত্যন্ত জরুরি। ব্যক্তিগত উদ্যোগে একজন সাধারণ মানুষের এমন নিরবচ্ছিন্ন সংগ্রাম সমাজের অন্যদের জন্য

অনুপ্রেরণা হয়ে থাকবে। চারা পেয়ে খুদে শিক্ষার্থীরাও অত্যন্ত আনন্দিত এবং তারা বাড়িতে এই গাছগুলো রোপণের অঙ্গীকার ব্যক্ত করে।