ধর্ষণের ক্ষত শুকানোর আগেই ফের শ্লীলতাহানির অভিযোগ, আত্মহত্যা স্কুলছাত্রীর
- প্রকাশের সময় : ১০:৫৯:২৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
- / 7 বার পড়া হয়েছে
পঞ্চগড় সদর উপজেলায় নবম শ্রেণির এক স্কুলছাত্রীকে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে তার কথিত প্রেমিকের বিরুদ্ধে। এই ন্যক্কারজনক ঘটনার পর লোকলজ্জা ও ক্ষোভে বিষপানে ওই কিশোরী আত্মহত্যা করেছে। এ ঘটনায় অভিযুক্ত প্রেমিক ও তার এক সহযোগীকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
গ্রেফতাররা হলো— পঞ্চগড় সদর উপজেলার সোহেল (২৫) এবং তার সহযোগী ইজিবাইক চালক রফিকুল ইসলাম ওরফে বাঘা মন্টু (২৩)।
মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) সকালে পঞ্চগড় আধুনিক সদর হাসপাতাল মর্গে নিহতের মরদেহের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়েছে। এর আগে সোমবার রাতে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যায় ওই স্কুলছাত্রী।
পঞ্চগড় সদর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) আশীষ কুমার শীল বলেন, স্কুলছাত্রীকে অপহরণ ও ধর্ষণের অভিযোগে দায়ের করা মামলায় ইতিমধ্যে দুই প্রধান আসামিকে গ্রেফতার করা হয়েছে। ভুক্তভোগীর মৃত্যু হওয়ায় এখন মামলাটি ভিন্ন মাত্রা পেয়েছে। মরদেহের ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পেলে এবং তদন্তসাপেক্ষে বাকি আসামিদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
পঞ্চগড় আধুনিক সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. রেজওয়ানুল্লাহ জানান, বিষক্রিয়া নিয়ে ওই কিশোরী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিল। চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়েছে। ধর্ষণের অভিযোগ থাকায় প্রয়োজনীয় নমুনা সংগ্রহ করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে।
মামলার এজাহার ও পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, স্কুলে যাতায়াতের পথে ওই ছাত্রীকে প্রায়ই উত্ত্যক্ত করত সোহেল। একপর্যায়ে তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। গত ১০ সেপ্টেম্বর রাত ১০টার দিকে সোহেল কৌশলে ওই ছাত্রীকে বাড়ি থেকে ডেকে নেয়। রফিকুলের ইজিবাইকে একটি বাড়িতে নিয়ে গিয়ে সহযোগীদের সহায়তায় তাকে ধর্ষণ করা হয়। ঘটনাটি কাউকে না জানাতে হুমকি দিয়ে রাত ২টার দিকে ওই ছাত্রীকে একটি ইজিবাইকে তুলে দেওয়া হয়। তবে সেই ইজিবাইকের চালক ও যাত্রীরাও তাকে একা পেয়ে শ্লীলতাহানির চেষ্টা করলে সে চলন্ত অটো থেকে লাফিয়ে পড়ে। পরে স্থানীয় এক শ্রমিকের কাছ থেকে খবর পেয়ে ভুক্তভোগীকে উদ্ধার করে নিয়ে যায় তার বড় ভাই। এমন বিশ্বাসঘাতকতা ও পাশবিকতার গ্লানি সইতে না পেরে পরদিন বিষপান করে ওই স্কুলছাত্রী। হাসপাতালে তিন দিন মৃত্যুর সঙ্গে লড়ে সোমবার রাতে সে মারা যায়।























