আজ কাচাড়ীপাড়া, কাল ভাটির দুই গ্রাম—তিস্তার ভাঙনে আতঙ্ক
- প্রকাশের সময় : ০৩:১১:৫২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬
- / 2 বার পড়া হয়েছে
তিস্তার ভাঙন যেন থামছেই না। নদীর তীব্র স্রোতের ধাক্কায় রংপুরের গঙ্গাচড়া উপজেলার নোহালী ইউনিয়নের চর নোহালীর কাচাড়ীপাড়া এখন চরম ঝুঁকিতে। ভাঙন ঠেকাতে দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে প্রায় ২ হাজার ঘরবাড়ি, স্বেচ্ছাশ্রমে নির্মিত একটি বাঁধ, প্রাথমিক বিদ্যালয়, মাদ্রাসা ও ক্লিনিকসহ বিস্তীর্ণ চরাঞ্চল নদীগর্ভে বিলীন হওয়ার আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।
ভাঙন প্রতিরোধে জরুরি ভিত্তিতে নদীতীরের ২০০ থেকে ৩০০ মিটার এলাকায় পর্যাপ্ত জিওব্যাগ ফেলার দাবিতে সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) বিকেলে তিস্তা নদীর তীরে মানববন্ধন করেছেন এলাকাবাসী।
স্থানীয়রা জানান, চরাঞ্চলের তিনটি গুরুত্বপূর্ণ ভাঙনপ্রবণ পয়েন্টের মধ্যে কাচাড়ীপাড়া সবচেয়ে উজানে। ফলে তিস্তার স্রোতের প্রথম আঘাত আসে এই পয়েন্টে। এটি রক্ষা করা না গেলে ভাটিতে থাকা অন্য দুটি এলাকাতেও ভাঙন ভয়াবহ আকার ধারণ করতে পারে।
মানববন্ধনে স্থানীয় মনিরুজ্জামানসহ কয়েকজন বলেন, কাচাড়ীপাড়া রক্ষা করা গেলে ভাটির দুটি ভাঙনপ্রবণ এলাকাও অনেকটা নিরাপদ রাখা সম্ভব। কিন্তু দ্রুত প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা না নিলে একের পর এক বসতভিটা নদীতে বিলীন হবে। এতে কয়েক হাজার পরিবার শেষ আশ্রয়টুকুও হারাতে পারে।
এলাকাবাসীর দাবি, এবার তিস্তার পানি প্রথম বাড়ার সময়ই কাচাড়ীপাড়ায় ভাঙন শুরু হয়। তাদের হিসাবে, ওই সময় প্রায় ১৫টি বাড়ি নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। ভাঙনের আশঙ্কায় আরও ৫০টির বেশি পরিবার বসতভিটা সরিয়ে নিয়েছে।
স্থানীয়রা বলছেন, এখনই কাচাড়ীপাড়া পয়েন্টে ২০০ থেকে ৩০০ মিটার এলাকায় পর্যাপ্ত জিওব্যাগ ফেলে নদীতীর সংরক্ষণকাজ শুরু করা প্রয়োজন। পাশাপাশি ভাঙনকবলিত এলাকা সরেজমিনে পরিদর্শন করে স্থায়ী প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।
এদিকে চর নোহালীর ভাঙন পরিস্থিতি নিয়ে স্থানীয় পর্যায় থেকে পানি উন্নয়ন বোর্ডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে বলে জানা গেছে।
এলাকাবাসীর আশঙ্কা, সময় যত গড়াবে ততই বাড়বে তিস্তার গ্রাস। দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া না হলে বিপুলসংখ্যক মানুষ বসতভিটা হারিয়ে নিঃস্ব হয়ে পড়তে পারেন। তাই ক্ষয়ক্ষতি ঠেকাতে দ্রুত জিওব্যাগ সরবরাহ ও নদীতীর সংরক্ষণে কার্যকর পদক্ষেপের দাবি জানিয়েছেন তারা।

























