ঢাকা , শুক্রবার, ০৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২০ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
গঙ্গাচড়ায় সাপ খেলার আসরে হত্যাকাণ্ড, মুন্সিগঞ্জে ধরা ৪ প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে গঙ্গাচড়ার রাজপথে বিএনপির আনন্দ মিছিল চাটমোহরে দুই ফার্মেসিকে ৩৩ হাজার টাকা জরিমানা নরসিংদীতে বাবার বিরুদ্ধে কিশোরী কন্যাকে ধর্ষণের অভিযোগ, এলাকায় চাঞ্চল্য মাদকবাহী গাড়ি ছাড়ার অভিযোগে দুই পুলিশ কর্মকর্তা প্রত্যাহার ৫ সেপ্টেম্বরের লংমার্চ সফল করতে নোয়াখালী কোম্পানীগঞ্জে জামায়াতের গণসংযোগ ও লিফলেট বিতরণ শিক্ষকের বিরুদ্ধে ছাত্রীকে হয়রানির অভিযোগ, ক্ষুব্ধ অভিভাবকদের বিক্ষোভ কালীগঞ্জে সার মজুতে অনিয়ম, দুই ব্যবসায়ীর ২ লাখ টাকা জরিমান মালচিং পদ্ধতিতে বেগুন চাষে মাঈন উদ্দিনের সাফল্য মালদ্বীপে অবৈধ মুদ্রা ব্যবসা, আটক বাংলাদেশিসহ ৬ প্রবাসী

গঙ্গাচড়ায় সাপ খেলার আসরে হত্যাকাণ্ড, মুন্সিগঞ্জে ধরা ৪

মোঃ শফিকুজ্জামান সোহেল
মোঃ শফিকুজ্জামান সোহেল, গঙ্গাচড়া (রংপুর) প্রতিনিধি
  • প্রকাশের সময় : ০৭:০৯:৩৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • / 4 বার পড়া হয়েছে

রংপুরের গঙ্গাচড়ায় সাপ খেলা দেখানোর সময় সাপুড়ের মন্ত্র পড়াকে কেন্দ্র করে বিরোধ। এরপর সাপুড়েকে মারধর, বাধা দিতে গিয়ে একে একে আক্রান্ত বাবা-ছেলে। শেষ পর্যন্ত হামলায় প্রাণ যায় ৭৪ বছরের বৃদ্ধ এন্দাজ মিয়ার। ঘটনার পর আত্মগোপনে চলে গেলেন অভিযুক্তরা। অবশেষে মুন্সিগঞ্জ থেকে মামলার প্রধান আসামিসহ চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে র‌্যাব।

‎বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) দুপুরে বিষয়টি নিশ্চিত করেন র‌্যাবের সিনিয়র সহকারী পরিচালক বিপ্লব কুমার গোস্বামী।

‎গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন—মামলার প্রধান আসামি মো. আশরাফুল ইসলাম (৪৫), ৩ নম্বর আসামি মো. মাবু মিয়া (৩০), ৪ নম্বর আসামি মো. লেবু মিয়া (৩০) ও ৫ নম্বর আসামি মো. এরশাদ আলী (৪০)। তাঁরা সবাই রংপুরের গঙ্গাচড়া উপজেলার লক্ষ্মীটারী ইউনিয়নের জয়রাম ওঝা গ্রামের মো. নূর হোসেনের ছেলে।

‎র‌্যাব জানায়, গত ২৫ আগস্ট রাতে গঙ্গাচড়া উপজেলার কাশিয়াবাড়ীর হাটসংলগ্ন কমিউনিটি ক্লিনিক মাঠে সাপ খেলা দেখাচ্ছিলেন এক সাপুড়ে। সাপুড়ের মন্ত্র পড়াকে কেন্দ্র করে একপর্যায়ে কয়েকজনের মধ্যে বিরোধ বাধে। তখন অভিযুক্তরা ও অজ্ঞাতনামা আরও ৯-১০ জন সাপুড়েকে মারধর শুরু করেন।

‎সাপুড়েকে মারধর করতে দেখে এন্দাজ মিয়ার বড় ছেলে আব্দুল মালেক তাঁকে উদ্ধার করে ঘটনাস্থল থেকে সরিয়ে নেন। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে অভিযুক্তরা আব্দুল মালেককে গালাগালির পর মারধর শুরু করেন।

‎ছেলেকে মারধরের খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে ছুটে যান এন্দাজ মিয়া। সেখানে তাঁকেও মারধর করা হয়। একপর্যায়ে ঘটনাস্থলেই তাঁর মৃত্যু হয় বলে জানিয়েছে র‌্যাব।

‎এ ঘটনায় নিহতের ছেলে আব্দুল মালেক বাদী হয়ে ২৬ আগস্ট গঙ্গাচড়া থানায় হত্যা মামলা করেন। মামলাটির নম্বর ৩২। মামলা হওয়ার পর গ্রেপ্তার এড়াতে আসামিরা আত্মগোপনে চলে যান।

‎র‌্যাব-১৩ জানায়, আসামিদের ধরতে গোয়েন্দা নজরদারি শুরু করা হয়। পরে সুনির্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতে র‌্যাব-১৩ রংপুর ও র‌্যাব-১১-এর একটি যৌথ দল মুন্সিগঞ্জে অভিযান চালায়।

‎গত মঙ্গলবার রাতে মুন্সিগঞ্জের টংগিবাড়ী থানার বালিগাঁও বাজার এলাকায় অভিযান চালিয়ে রাত ৮টা ৫ মিনিটে আশরাফুল ইসলাম ও মাবু মিয়াকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে রাত ৯টা ৪৫ মিনিটে একই থানার ইসলামপুর বাজার এলাকায় অভিযান চালিয়ে লেবু মিয়া ও এরশাদ আলীকে গ্রেপ্তার করা হয়।

‎র‌্যাব জানিয়েছে, গ্রেপ্তার চার আসামিকে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।

প্রফেশনাল নিউজ পোর্টাল দিচ্ছে থিম বিক্রয় ডটকম

এই নিউজটি শেয়ার করুন

গঙ্গাচড়ায় সাপ খেলার আসরে হত্যাকাণ্ড, মুন্সিগঞ্জে ধরা ৪

প্রকাশের সময় : ০৭:০৯:৩৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬

রংপুরের গঙ্গাচড়ায় সাপ খেলা দেখানোর সময় সাপুড়ের মন্ত্র পড়াকে কেন্দ্র করে বিরোধ। এরপর সাপুড়েকে মারধর, বাধা দিতে গিয়ে একে একে আক্রান্ত বাবা-ছেলে। শেষ পর্যন্ত হামলায় প্রাণ যায় ৭৪ বছরের বৃদ্ধ এন্দাজ মিয়ার। ঘটনার পর আত্মগোপনে চলে গেলেন অভিযুক্তরা। অবশেষে মুন্সিগঞ্জ থেকে মামলার প্রধান আসামিসহ চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে র‌্যাব।

‎বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) দুপুরে বিষয়টি নিশ্চিত করেন র‌্যাবের সিনিয়র সহকারী পরিচালক বিপ্লব কুমার গোস্বামী।

‎গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন—মামলার প্রধান আসামি মো. আশরাফুল ইসলাম (৪৫), ৩ নম্বর আসামি মো. মাবু মিয়া (৩০), ৪ নম্বর আসামি মো. লেবু মিয়া (৩০) ও ৫ নম্বর আসামি মো. এরশাদ আলী (৪০)। তাঁরা সবাই রংপুরের গঙ্গাচড়া উপজেলার লক্ষ্মীটারী ইউনিয়নের জয়রাম ওঝা গ্রামের মো. নূর হোসেনের ছেলে।

‎র‌্যাব জানায়, গত ২৫ আগস্ট রাতে গঙ্গাচড়া উপজেলার কাশিয়াবাড়ীর হাটসংলগ্ন কমিউনিটি ক্লিনিক মাঠে সাপ খেলা দেখাচ্ছিলেন এক সাপুড়ে। সাপুড়ের মন্ত্র পড়াকে কেন্দ্র করে একপর্যায়ে কয়েকজনের মধ্যে বিরোধ বাধে। তখন অভিযুক্তরা ও অজ্ঞাতনামা আরও ৯-১০ জন সাপুড়েকে মারধর শুরু করেন।

‎সাপুড়েকে মারধর করতে দেখে এন্দাজ মিয়ার বড় ছেলে আব্দুল মালেক তাঁকে উদ্ধার করে ঘটনাস্থল থেকে সরিয়ে নেন। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে অভিযুক্তরা আব্দুল মালেককে গালাগালির পর মারধর শুরু করেন।

‎ছেলেকে মারধরের খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে ছুটে যান এন্দাজ মিয়া। সেখানে তাঁকেও মারধর করা হয়। একপর্যায়ে ঘটনাস্থলেই তাঁর মৃত্যু হয় বলে জানিয়েছে র‌্যাব।

‎এ ঘটনায় নিহতের ছেলে আব্দুল মালেক বাদী হয়ে ২৬ আগস্ট গঙ্গাচড়া থানায় হত্যা মামলা করেন। মামলাটির নম্বর ৩২। মামলা হওয়ার পর গ্রেপ্তার এড়াতে আসামিরা আত্মগোপনে চলে যান।

‎র‌্যাব-১৩ জানায়, আসামিদের ধরতে গোয়েন্দা নজরদারি শুরু করা হয়। পরে সুনির্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতে র‌্যাব-১৩ রংপুর ও র‌্যাব-১১-এর একটি যৌথ দল মুন্সিগঞ্জে অভিযান চালায়।

‎গত মঙ্গলবার রাতে মুন্সিগঞ্জের টংগিবাড়ী থানার বালিগাঁও বাজার এলাকায় অভিযান চালিয়ে রাত ৮টা ৫ মিনিটে আশরাফুল ইসলাম ও মাবু মিয়াকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে রাত ৯টা ৪৫ মিনিটে একই থানার ইসলামপুর বাজার এলাকায় অভিযান চালিয়ে লেবু মিয়া ও এরশাদ আলীকে গ্রেপ্তার করা হয়।

‎র‌্যাব জানিয়েছে, গ্রেপ্তার চার আসামিকে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।