একটু পরেই ফিরছি’ বলে স্ত্রীকে গ্যারেজে রেখে যান মাসুদ, অতঃপর…
- প্রকাশের সময় : ১০:৫৮:৫৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
- / 5 বার পড়া হয়েছে
ফেনীর দাগনভূঞায় এক গৃহবধূকে (২৫) সংঘবদ্ধ ধর্ষণ চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ৬ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) রাতে এ ঘটনা ঘটে। ধর্ষণের শিকার গৃহবধূ নারী ও শিশু নির্যাতন আইনে ৯ জনের নাম উল্লেখ করে দাগনভূঞা থানায় উপস্থিত হয়ে মামলা দায়ের করেছেন।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) বিকেলে চট্টগ্রাম থেকে নিজ মালিকানাধীন অটোরিকশা যোগে নোয়াখালীর চরজব্বার উপজেলার মধ্য বাগ্যা গ্রামের নিজ বাড়ির উদ্দেশে রওয়ানা হন ওই গৃহবধূ ও তার স্বামী। রাতে দাগনভূঞায় পৌঁছলে অটোরিকশার চার্জ কমে যাওয়ায় ফাজিলেঘাট রোডের অটোরিকশা গ্যারেজ জুয়েলের দোকানে রাত আনুমানিক সাড়ে ১২টার দিকে চার্জ দেওয়ার জন্য থামেন তারা। স্বামী মাসুদ দীর্ঘপথ পাড়ি দিয়ে আসায় স্ত্রীকে গ্যারেজে বসিয়ে রেখে খাবার আনতে হোটেলে যান।
এ সুযোগে উপজেলার জগতপুর গ্রামের আবুল বাশার (৪২), নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ উপজেলার কাদিরপুর গ্রামের মো. রাশেদ, নোয়াখালীর রামগতি উপজেলার মো. জাকির হোসেন (১৯), ফেনী সদর উপজেলার আবদুল মান্নান (২৯), ফেনীর সোনাগাজী উপজেলার উত্তর চরদরবেশ গ্রামের দেলোয়ার হোসেন (২৪), দাগনভূঞার উত্তর চণ্ডীপুর গ্রামের শাহেদুল ইসলাম (১৯), দাগনভূঞা পৌরসভার জগতপুর গ্রামের শাহরিয়ার নোমান (১৯), একই গ্রামের জাকের হোসেন (১৯) ও কুমিল্লা জেলার তিতাস উপজেলার কদমতলী গ্রামের মো. শাকিলসহ (১৮) আরও অজ্ঞাতরা সংঘবদ্ধ হয়ে গৃহবধূ ও তার স্বামীকে অপহরণ করে জগতপুরের শাহজালাল হোসেনের বাড়িতে নিয়ে যান।
এ সময় গৃহবধূর স্বামীকে বেঁধে রেখে তার স্ত্রীর বস্ত্র খুলে ধর্ষণের চেষ্টা করা হয়। তার কাকুতি-মিনতি উপেক্ষা করে স্বামীসহ তাদের জগতপুর গ্রামের আবুল কালামের নির্মাণাধীন দালানে হাত-পা বেঁধে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে রাত দেড়টার দিকে বাশারকে দিয়ে ধর্ষণের সহায়তা করা হয় বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।
অভিযোগে আরও বলা হয়, ধর্ষণের সংঘবদ্ধ চক্রটি গৃহবধূর স্মার্টফোন, তার স্বামীর স্মার্টফোন, গায়ে থাকা স্বর্ণালংকার, ১টি সাউন্ডবক্স ও ১টি টেবিল ফ্যান নিয়ে যায়। তারা অটোরিকশার ব্যাটারির তারের কানেকশন ছিঁড়ে ফেলে। উপরন্তু, ঘটনা প্রকাশ করলে প্রাণে মেরে ফেলার হুমকি দেয়।
এ ঘটনা প্রকাশ হলে পুলিশ ভুক্তভোগী ও তার স্বামীকে উদ্ধার করে। পরে ওই গৃহবধূ ৯ জনসহ আরও অনেককে আসামি করে থানায় মামলা করেন।
দাগনভূঞা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফয়জুল আজিম নোমান জানান, ঘটনাটি শোনামাত্র ভুক্তভোগীকে উদ্ধার ও ঘটনার সঙ্গে জড়িত এজাহারনামীয় ৬ আসামিকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়েছে পুলিশ।
ভুক্তভোগীর ধর্ষণের আলামত পরীক্ষা করা হয়েছে কি না জানতে চাইলে তিনি জানান, এজাহারেধর্ষণের চেষ্টা করা হয়েছে এবং থানায় ধর্ষণের শিকার হওয়ার কোনো জবানবন্দি দেননি বিধায় পরীক্ষা করা হয়নি।
বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া ও মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে।






















