একটি মাছেই ভাগ্য খুলল জেলেদের, ২২ কেজির দাতিনার দাম আড়াই লাখ
- প্রকাশের সময় : ১০:৩০:৪৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৩ অগাস্ট ২০২৬
- / ১১ বার পড়া হয়েছে
ভরা মৌসুমেও বাগেরহাটের কেবি মৎস্য বাজারে ইলিশের কাঙ্ক্ষিত সরবরাহ নেই। এতে হতাশ জেলে, আড়তদার ও ক্রেতারা। এরই মধ্যে গভীর সমুদ্রে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে মাছ ধরতে গিয়ে বাগেরহাটের এক জেলের জালে ধরা পড়েছে ২২ কেজি ওজনের বিশাল আকৃতির একটি দাতিনা মাছ।
বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) মাছটি কেবি মৎস্য বাজারের হাজী মিরাজের আড়তে ২ লাখ ৫৫ হাজার টাকায় বিক্রি হয়েছে।
স্থানীয় জেলে ও ব্যবসায়ীরা জানান, বাগেরহাটের কচুয়া এলাকার জেলে ইলিয়াস মাঝি মৌসুমের শুরু থেকেই গভীর সমুদ্রে মাছ ধরছেন। তবে আশানুরূপ মাছ না পাওয়ায় তিনি ও তার ট্রলারের জেলেরা লোকসানে রয়েছেন। সম্প্রতি মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে সমুদ্র উত্তাল থাকলেও ঝুঁকি নিয়ে সাগরে জাল ফেলেন ইলিয়াস মাঝি। একপর্যায়ে তার জালে উঠে আসে ২২ কেজি ওজনের বড় আকারের দাতিনা মাছটি।
মাছটি নিয়ে সারারাত ট্রলার চালিয়ে বৃহস্পতিবার সকালে কেবি মৎস্য বাজারে পৌঁছান ইলিয়াস মাঝি। বিশাল আকৃতির মাছটি দেখতে সকাল থেকেই বাজারে ভিড় করেন শত শত উৎসুক মানুষ ও বিভিন্ন এলাকার পাইকার। প্রচণ্ড বৃষ্টির মধ্যেও মাছটি ঘিরে বাজারে তৈরি হয় ব্যাপক কৌতূহল।
আড়ত সূত্রে জানা যায়, কেবি বাজারের হাজী মিরাজের আড়তে মাছটির নিলাম অনুষ্ঠিত হয়। মাছটির দর ওঠে ২ লাখ ৫৫ হাজার টাকা। পরে পার্শ্ববর্তী আড়তদার হারুন মীর মাছটি কিনে নেন।
ক্রেতা হারুন মীর বলেন, ‘মাছটির কেজিপ্রতি দাম পড়েছে প্রায় ১৫ হাজার টাকা। অধিক মুনাফার আশায় মাছটি চট্টগ্রামের ফিশারি ঘাটে পাঠানো হবে।’
তিনি বলেন, “মাছটির পেটের ভেতরের ‘প্যাটা’র দাম বেশি। এ কারণে চট্টগ্রামের ব্যবসায়ীদের সঙ্গে যোগাযোগ করেই মাছটি কিনেছি। শেষ পর্যন্ত মাছটি বিদেশেও চালান হতে পারে। এতো বেশি দাম হওয়ায় সাধারণ মানুষের পক্ষে এই মাছ কেনা বা খাওয়া সম্ভব নয়।”
ট্রলারের মাঝি ইলিয়াস বলেন, ‘মৌসুমের শুরু থেকেই আমরা লোকসানে আছি। সাগরে যেন মাছই নেই। তবে এই দাতিনা মাছটি পাওয়ায় ট্রলারের সব জেলেই খুব খুশি। সবার মুখে এখন হাসি ফুটেছে।’
স্থানীয় ব্যবসায়ীরা বলছেন, ভরা মৌসুমে ইলিশের সরবরাহ কম থাকায় কেবি মৎস্য বাজারে হতাশা বিরাজ করছে। এরমধ্যে বড় আকারের একটি দাতিনা মাছ ধরা পড়ায় জেলে ও ব্যবসায়ীদের মধ্যে কিছুটা স্বস্তি ফিরেছে।






















