মালদ্বীপে কর্মরত বাংলাদেশিদের জন্য হাইকমিশনের নির্দেশনা
- প্রকাশের সময় : ০৫:২৩:৩৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
- / 13 বার পড়া হয়েছে
মালদ্বীপে কর্মরত বাংলাদেশি প্রবাসীদের নিরাপত্তা, অধিকার ও কল্যাণ নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ কিছু নির্দেশনা দিয়েছে বাংলাদেশ হাইকমিশন। প্রবাসীদের কর্মস্থলে নিরাপদ থাকা, বৈধ কাগজপত্র সংরক্ষণ এবং মালদ্বীপের প্রচলিত আইন মেনে চলার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
হাইকমিশনের পরামর্শ অনুযায়ী, বিশেষ করে নির্মাণ খাতে কর্মরত শ্রমিকদের হেলমেট, সেফটি জুতা, গ্লাভস ও সেফটি বেল্টসহ প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা সরঞ্জাম ব্যবহার করতে হবে। কোনো ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতিতে কাজ করতে বাধ্য হলে বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানানোর পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
পাসপোর্ট, ওয়ার্ক পারমিট, ভিসা ও আইডি কার্ডের মতো গুরুত্বপূর্ণ নথির মূল কপি নিরাপদে সংরক্ষণের পাশাপাশি মোবাইল ফোনে স্ক্যান কপি রাখার পরামর্শও দেওয়া হয়েছে। চাকরিতে যোগদানের আগে বেতন, কর্মঘণ্টা, ছুটি, থাকা-খাওয়া ও চিকিৎসা সুবিধাসহ নিয়োগকর্তার সঙ্গে চুক্তির সব শর্ত ভালোভাবে বুঝে নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।
নির্ধারিত সময়ে বেতন না পেলে বিষয়টি অবহেলা না করে যথাযথ কর্তৃপক্ষ ও বাংলাদেশ হাইকমিশনকে জানানোর পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে মালদ্বীপের প্রচলিত শ্রম ও অভিবাসন আইন এবং কর্মস্থলের নিরাপত্তা বিধি যথাযথভাবে মেনে চলতে বলা হয়েছে।
কর্মস্থলে কোনো দুর্ঘটনা, আঘাত বা অসুস্থতার ঘটনা ঘটলে তা গোপন না রেখে দ্রুত নিয়োগকর্তাকে জানানোর পাশাপাশি প্রয়োজন হলে চিকিৎসা নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। মাদক, অবৈধ লেনদেন, মারামারি, জাল কাগজপত্রসহ যেকোনো আইনবিরোধী কর্মকাণ্ড থেকে দূরে থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
এ ছাড়া মালদ্বীপের প্রচলিত শ্রম ও অভিবাসন আইন সম্পর্কে নিশ্চিত না হয়ে অবৈধভাবে চাকরি পরিবর্তন না করার জন্যও সতর্ক করা হয়েছে।
হাইকমিশন সহকর্মীদের সঙ্গে সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখার পাশাপাশি মালদ্বীপের স্থানীয় সংস্কৃতি, ধর্মীয় অনুভূতি ও সামাজিক রীতিনীতির প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকার আহ্বান জানিয়েছে। কোনো গুরুতর সমস্যায় পড়লে নীরব না থেকে নিয়োগকর্তা, স্থানীয় কর্তৃপক্ষ কিংবা বাংলাদেশ হাইকমিশনের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলা হয়েছে।
প্রবাসীদের ইংরেজি ভাষা, কারিগরি দক্ষতা এবং স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তা প্রশিক্ষণে অংশ নিয়ে নিজেদের পেশাগত দক্ষতা বাড়ানোর পরামর্শও দেওয়া হয়েছে। এতে ভবিষ্যতে আরও ভালো কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হতে পারে বলে মনে করছে হাইকমিশন।
বাংলাদেশ হাইকমিশন জানিয়েছে, প্রবাসীদের নিরাপত্তা, মর্যাদা ও কল্যাণ বাংলাদেশের কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ কারণে আইন মেনে চলা, নিরাপদে কাজ করা এবং নিজেদের অধিকার সম্পর্কে সচেতন থাকার জন্য সব প্রবাসী কর্মীর প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে।

























