ঢাকা , সোমবার, ১৩ জুলাই ২০২৬, ২৮ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
মৌলভীবাজারে ৪০ হাজার মানুষ পানিবন্দি, সংকট চরমে সুইজারল্যান্ডকে ৩-১ গোলে হারিরে সেমিতে আর্জেন্টিনা, প্রতিপক্ষ ইংল্যান্ড মৌলভীবাজারে নদ নদীর পানি কমতে শুরু করলেও নিম্নাঞ্চল প্লাবিত বন্যাদুর্গত এলাকা পরিদর্শন ও আশ্রয়কেন্দ্রে বন্যার্তদের খোঁজ নিতে; জেলা প্রশাসক মৌলভীবাজারে বাড়ছে নদ নদীর পানি; বন্যার শঙ্কা “দেশের গরীব ও অসহায় সাধারণ মানুষ সুবিধা পাওয়া শুরু করেছে” এমপি ফজলুল হক মিলন “জুলাই সনদকে অস্বীকার করছে বিএনপি”এমপি নাহিদ ইসলাম খন্দকার মো. আলমগীর হোসেন-এর জন্মদিন আজ নজরুলের চেতনার আজ আরও বেশি প্রয়োজন-নাসের রহমান আন্তঃজেলা ডাকাত দলের ৫ সদস্য অস্ত্রসহ গ্রেপ্তার
ডিজিএফআই পরিচয়ে যুবককে অপহরণ, যুবক উদ্ধার সহ আটক ৯

ডিজিএফআই পরিচয়ে যুবককে অপহরণ, যুবক উদ্ধার সহ আটক ৯

নবীনগর উপজেলা প্রতিনিধি
  • প্রকাশের সময় : ১০:৩৩:২১ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৯ এপ্রিল ২০২৫
  • / ৪৩২ বার পড়া হয়েছে

পুলিশের উপস্থিতিতে ডিজিএফআই পরিচয়ে যুবককে অপহরণ

১৫৭

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগরে ডিজিএফআই’র সদস্য পরিচয়ে প্রবাসীর ছেলে রিফাত (১৯)কে তুলে নিয়ে গিয়ে ৩ কোটি টাকা মুক্তিপণ দাবি করেন। সোমবার (৭ এপ্রিল) রাত ১২টার দিকে উপজেলার লাউর ফতেহপুর ইউনিয়নের প্রবাসী মালুর মিয়ার বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে। রিফাত উপজেলার ফতেহপুর গ্রামের সৌদি আরব প্রবাসী শহিদুল ইসলাম মালু মিয়ার ছেলে।

জানাযায়, ৭ এপ্রিল (সোমবার) রাতে লাউর ফতেহপুর গ্রামের শহিদুল ইসলাম মালু মিয়ার বাড়িতে একটি হাইএক্স গাড়িতে চড়ে এসে  ১০-১২ জনের একটি দল দেয়াল টপকে বাড়ির ভেতরে প্রবেশ করে তল্লাশি শুরু করে। পরে বিষয়টি নবীনগর থানা পুলিশকে অবগত করা হলে পুলিশ এসে তাদের পরিচয় জানতে চাইলে তারা নিজেদের ডিজিএফআইয়ের সদস্য বলে পরিচয় দেন। বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার জন্য উপস্থিত পুলিশের কর্মকর্তারা সেনাবাহিনী ও পুলিশ বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সাথে কথা বলেন এবং অপহরণকারীরাও ফোনে কথা বলে নিজেদেরকে ডিজিএফআইয়ের সদস্য বলে পরিচয় দিয়ে রিফাতকে গাড়িতে তুলে নিয়ে যায়। এসময় পুলিশ ওই গাড়ির নাম্বার ভিডিও ধারণ ও ড্রাইভারের ফোন নাম্বার রেখে দেয় ।

পরে অপহরণকারীরা রাত ৩ টার দিকে রিফাতের পিতা মালু মিয়ার কাছে ফোন করে ৫০ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে, পরদিন ৮ এপ্রিল সকালে রিফাতের মায়ের ফোনে আবার কল দিয়ে মুক্তিপণের পরিমাণ বাড়িয়ে ৩ কোটি টাকা দাবি করে।

মুক্তিপণ দাবি এবং নবীনগরে ডিজিএফআইয়ের কোন দল অভিযান পরিচালনা করেনি, এই তথ্য পাওয়ার পরপরই সক্রিয় হয়ে উঠে আইনশৃংখলা বাহিনী।

দিনভর অভিযান চালিয়ে গতকাল মঙ্গলবার বিকেলে কসবা রেললাইনের পাশে সীমান্ত লাগোয়া স্থান থেকে রিফাতকে উদ্ধার ও ক্যাপ্টেন পরিচয় দেওয়া রেজাউল করিম রেজাকে আটক করা হয় এবং গাড়ির নাম্বার ও ড্রাইভারের ফোন নাম্বারের সূত্রধরে তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহার করে অপহরণের সাথে জড়িত থাকা ৮ জনকে খুলনা থেকে আটক করা হয়।

মঙ্গলবার রাত ১ টায় কসবা থেকে নবীনগর থানায় আসার পর রিফাত জানান, মঙ্গলবার দিনভর কসবা রেললাইনের পাশে সীমান্তের কাছাকাছি মাইক্রোবাসে আমাকে বসিয়ে রাখা হয়। আমি তাদের সাথে চুক্তি করি, আমাকে ছেড়ে দিলে ৩ কোটি টাকা এনে দিবে। চুক্তি মোতাবেক দুই ধাপে ১০ লাখ টাকা দেওয়া হয়, তারা বাকি টাকা পাওয়ার প্রতিশ্রুতি পেয়ে একটি অ্যাকাউন্ট নাম্বার দিয়ে আমাকে ছেড়ে দেয়। ওই অ্যাকাউন্ট নাম্বার আমার পরিবারের কাছে পাঠালে, অ্যাকাউন্ট নাম্বারের সূত্রধরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী আমাকে উদ্ধার ও রেজাকে আটক করে।

অপহরণকারীরা তল্লাশির নামে আলমারি তালা খুলে নগদ ২ লাখ টাকা ও ২৬ ভরি স্বর্ণালংকার নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ করেন মালু মিয়ার স্ত্রী।

এ ঘটনায় শহিদুল ইসলাম বাদী হয়ে নবীনগর থানায় নিজ এলাকার মো: কামাল মিয়া, আবু কালাম আজাদ, কামাল খন্দকারসহ অজ্ঞাত আরো ১৫ জনকে আসামি করে একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।

এ বিষয়ে নবীনগর থানার সেকেন্ড অফিসার ও দায়িত্বরত ইনচার্জ আবদুল মোনাফ বলেন, অপহরণকৃত যুবককে উদ্ধার এবং ক্যাপটেন পরিচয় দেওয়া রেজাকে কসবা থেকে এবং আরও ৮ জনকে খুলনা থেকে আটক করা হয়েছে। তাদেরকে নবীনগর আনতে রাতেই পুলিশ খুলনা রওনা দিয়েছে।

আটককৃত রেজা, কসবা পৌর সদরের মৃত মিলন মিয়ার ছেলে, সে বিমান বাহিনীর সাবেক লিডিং এয়ারক্রাফটম্যান হিসেবে ২০১৪ থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত চাকরি করছে। বাকি ৮ জনের নাম পরিচয় নবীনগর থানায় আনারপর জানা যাবে।

ভিডিও নিউজ দেখুন এই লিংকে

প্রফেশনাল নিউজ পোর্টাল দিচ্ছে থিম বিক্রয় ডটকম

এই নিউজটি শেয়ার করুন

ডিজিএফআই পরিচয়ে যুবককে অপহরণ, যুবক উদ্ধার সহ আটক ৯

ডিজিএফআই পরিচয়ে যুবককে অপহরণ, যুবক উদ্ধার সহ আটক ৯

প্রকাশের সময় : ১০:৩৩:২১ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৯ এপ্রিল ২০২৫
১৫৭

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগরে ডিজিএফআই’র সদস্য পরিচয়ে প্রবাসীর ছেলে রিফাত (১৯)কে তুলে নিয়ে গিয়ে ৩ কোটি টাকা মুক্তিপণ দাবি করেন। সোমবার (৭ এপ্রিল) রাত ১২টার দিকে উপজেলার লাউর ফতেহপুর ইউনিয়নের প্রবাসী মালুর মিয়ার বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে। রিফাত উপজেলার ফতেহপুর গ্রামের সৌদি আরব প্রবাসী শহিদুল ইসলাম মালু মিয়ার ছেলে।

জানাযায়, ৭ এপ্রিল (সোমবার) রাতে লাউর ফতেহপুর গ্রামের শহিদুল ইসলাম মালু মিয়ার বাড়িতে একটি হাইএক্স গাড়িতে চড়ে এসে  ১০-১২ জনের একটি দল দেয়াল টপকে বাড়ির ভেতরে প্রবেশ করে তল্লাশি শুরু করে। পরে বিষয়টি নবীনগর থানা পুলিশকে অবগত করা হলে পুলিশ এসে তাদের পরিচয় জানতে চাইলে তারা নিজেদের ডিজিএফআইয়ের সদস্য বলে পরিচয় দেন। বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার জন্য উপস্থিত পুলিশের কর্মকর্তারা সেনাবাহিনী ও পুলিশ বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সাথে কথা বলেন এবং অপহরণকারীরাও ফোনে কথা বলে নিজেদেরকে ডিজিএফআইয়ের সদস্য বলে পরিচয় দিয়ে রিফাতকে গাড়িতে তুলে নিয়ে যায়। এসময় পুলিশ ওই গাড়ির নাম্বার ভিডিও ধারণ ও ড্রাইভারের ফোন নাম্বার রেখে দেয় ।

পরে অপহরণকারীরা রাত ৩ টার দিকে রিফাতের পিতা মালু মিয়ার কাছে ফোন করে ৫০ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে, পরদিন ৮ এপ্রিল সকালে রিফাতের মায়ের ফোনে আবার কল দিয়ে মুক্তিপণের পরিমাণ বাড়িয়ে ৩ কোটি টাকা দাবি করে।

মুক্তিপণ দাবি এবং নবীনগরে ডিজিএফআইয়ের কোন দল অভিযান পরিচালনা করেনি, এই তথ্য পাওয়ার পরপরই সক্রিয় হয়ে উঠে আইনশৃংখলা বাহিনী।

দিনভর অভিযান চালিয়ে গতকাল মঙ্গলবার বিকেলে কসবা রেললাইনের পাশে সীমান্ত লাগোয়া স্থান থেকে রিফাতকে উদ্ধার ও ক্যাপ্টেন পরিচয় দেওয়া রেজাউল করিম রেজাকে আটক করা হয় এবং গাড়ির নাম্বার ও ড্রাইভারের ফোন নাম্বারের সূত্রধরে তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহার করে অপহরণের সাথে জড়িত থাকা ৮ জনকে খুলনা থেকে আটক করা হয়।

মঙ্গলবার রাত ১ টায় কসবা থেকে নবীনগর থানায় আসার পর রিফাত জানান, মঙ্গলবার দিনভর কসবা রেললাইনের পাশে সীমান্তের কাছাকাছি মাইক্রোবাসে আমাকে বসিয়ে রাখা হয়। আমি তাদের সাথে চুক্তি করি, আমাকে ছেড়ে দিলে ৩ কোটি টাকা এনে দিবে। চুক্তি মোতাবেক দুই ধাপে ১০ লাখ টাকা দেওয়া হয়, তারা বাকি টাকা পাওয়ার প্রতিশ্রুতি পেয়ে একটি অ্যাকাউন্ট নাম্বার দিয়ে আমাকে ছেড়ে দেয়। ওই অ্যাকাউন্ট নাম্বার আমার পরিবারের কাছে পাঠালে, অ্যাকাউন্ট নাম্বারের সূত্রধরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী আমাকে উদ্ধার ও রেজাকে আটক করে।

অপহরণকারীরা তল্লাশির নামে আলমারি তালা খুলে নগদ ২ লাখ টাকা ও ২৬ ভরি স্বর্ণালংকার নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ করেন মালু মিয়ার স্ত্রী।

এ ঘটনায় শহিদুল ইসলাম বাদী হয়ে নবীনগর থানায় নিজ এলাকার মো: কামাল মিয়া, আবু কালাম আজাদ, কামাল খন্দকারসহ অজ্ঞাত আরো ১৫ জনকে আসামি করে একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।

এ বিষয়ে নবীনগর থানার সেকেন্ড অফিসার ও দায়িত্বরত ইনচার্জ আবদুল মোনাফ বলেন, অপহরণকৃত যুবককে উদ্ধার এবং ক্যাপটেন পরিচয় দেওয়া রেজাকে কসবা থেকে এবং আরও ৮ জনকে খুলনা থেকে আটক করা হয়েছে। তাদেরকে নবীনগর আনতে রাতেই পুলিশ খুলনা রওনা দিয়েছে।

আটককৃত রেজা, কসবা পৌর সদরের মৃত মিলন মিয়ার ছেলে, সে বিমান বাহিনীর সাবেক লিডিং এয়ারক্রাফটম্যান হিসেবে ২০১৪ থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত চাকরি করছে। বাকি ৮ জনের নাম পরিচয় নবীনগর থানায় আনারপর জানা যাবে।

ভিডিও নিউজ দেখুন এই লিংকে