“দুঃখ যাদের চিরসখা, ভাগ্য সেখানে অসহায়”
- প্রকাশের সময় : ০৭:৪৫:২৪ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩ নভেম্বর ২০২২
- / 290 বার পড়া হয়েছে
ক্রীড়া প্রতিবেদক || দুঃখ যাদের চিরসখা, ভাগ্য সেখানে অসহায়।
ম্যাচ শেষ। প্যাভিলিয়নের পথ ধরছেন অপরাজিত থাকা দুই ব্যাটার নুরুল হাসান সোহান ও তাসকিন আহমেদ। ক্যামেরার লেন্স ঘুরে গেল তাসকিনের দিকে। বিষাদ ভরা বদনে তাসকিন চেয়ে দেখছেন সামনেই হাসিতে মেতে থাকা ভারতীয় দুই ক্রিকেটার রোহিত শর্মা ও সূর্যকুমার যাদবকে। তাসকিনের চাহনিতে কি এক যন্ত্রণার ছাপ।
এ ছাপটা বাংলাদেশ ক্রিকেটের। দুঃখ যাদের চিরসখা, হাস্য তাদের কেউ নয়। পিছনে ফিরে তাকালেই কেবল বাংলাদেশ ক্রিকেটের দুঃখে ভরা গল্পের পাতা। এ যেন ফুরোবার নয়।
একের পর এক পৃষ্ঠা ওল্টালেই বিষাদের মহাসমুদ্রে হাবুডুবু খেতে হয়। কাছে গিয়েও হারার এই যন্ত্রণা পেতে পেতেও না পাওয়ার এক বেদনার কাব্য।
যখন থেকে শুরু
দুঃখের এই মহাসমুদ্রে সবচেয়ে বেশিবার নাবিক হয়ে যন্ত্রণা পুষে রাখা মানুষটা সাকিব আল হাসান। ২০১২ সালের এশিয়া কাপ দিয়ে শুরু। মুশফিককে বুকে আগলে নিয়ে ফ্লাডলাইটের আলোর দিকে অপলক চেয়ে অশ্রু ঝরানোর সেই ছবি আজও বাংলাদেশ ক্রিকেটের সবচেয়ে বড় দুঃখের বিজ্ঞাপন।

এই দুঃখবিলাসের গল্পে বিশাল একটা জায়গা দখল করে আছে ‘এশিয়া কাপ’। এই এক আসরেই তিন তিনবার স্বপ্ন ভঙ্গ হয়েছে আমাদের। বেদনার দীর্ঘশ্বাস মিরপুর ছাড়িয়ে পৌঁছে গেছে বাংলার সীমানা প্রান্তরে। বসন্তের দীঘল বাতাসে ঝরা পাতার মতো হু হু করে কাঁদিয়ে গেছে প্রত্যেকটা বাঙালীর অন্তর।

শুধু এশিয়ার আসরই নয়। শেষ বলে হৃদয় ভাঙ্গার গল্পের তালিকাটা খানিকটা দীর্ঘ। এই তালিকায় চোখ রাখলে দেখা মিলবে আন্তর্জাতিক ম্যাচেও শেষ বলে পরাজয়ের উপাখ্যান। ২০১৬ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের সুপার টেনে পরাজয়টা গেঁথে আছে অন্তরে। চতুর ভারতীয় দলনেতা ধোনীর ফাঁদে পরে মুশফিকুর রহিম ও মাহমুদউল্লাহ রিয়াদের আত্মাহুতি আরেকটি করুণ গল্প।

একই বছর ২০১৮ সালে আফগানিস্তানের বিপক্ষেও আরেকবার একই গল্পের পুনরাবৃত্তি মেনে নিয়ে বেশ কষ্টই হয়েছে। উদীয়মান একটা দেশের বিপক্ষে শেষ ম্যাচে হোয়াইটওয়াশ এড়াতে মাঠে নামে বাংলাদেশ। অথচ রচিত হলো শেষ বলে আরেকটি পরাজয়!
সে বছরই নিদাহাস ট্রফির ফাইনালের চিত্রনাট্যটাও একইভাবে সাজালেন ভাগ্যবিধাতা। শেষ ওভারে প্রতিপক্ষের ৬ বলে ১২ রানের সমীকরণে শেষ বলে দীনেশ কার্তিকের ছক্কায় রচিত হলো দুঃখের মহাকাব্য। জায়ান্ট স্ক্রীণে ভেসে উঠেছিল সাকিবের সেই হতাশামাখা মুখ। যার অর্থ বাংলাদেশ ক্রিকেটে আর কোনো রূপকথা নেই।

বাংলাদেশ ক্রিকেটে সবচেয়ে বিষাদ ভরা সালটাই বোধহয় ২০১৮। একই বছর আরেকটি এশিয়া কাপ, আরেকটি ফাইনাল এবং চিরসখা দুঃখের গল্প। ফাইনালে মাশরাফী বিন মোর্ত্তজার বুদ্ধিদীপ্ত অধিনায়কত্বে ম্যাচ গড়ালো শেষ ওভারে। ৬ বলে ৬ রানের মাপা হিসেব। তাতে শেষ বলে লেগবাইতে ১ রান তুলে নিয়ে আরেকবার বাংলাদেশকে বিষাদ উপহার দিলেন কেদার যাদব।

জয়ের দ্বারপ্রান্তে এসে বাংলাদেশের এই পরাজয়ে নিয়তি ছাড়া আর কাউকে দোষও দেয়া যায় না। এমন দিনে প্রকৃতি, ভাগ্য, নিয়তি সব যখন বিপক্ষে যায়; তখন সবচেয়ে বেশি দুঃখে জর্জরিত সাকিব আল হাসান আপন মনে আওড়াতেই পারেন, ‘সুখের সঙ্গ ছেড়ে করি দুঃখের সঙ্গে বসবাস, ইহাই মোদের ব্রত হউক, ইহাই মোদের অভিলাষ।’


























