হোয়াটসঅ্যাপ হ্যাক করে প্রতারণার চেষ্টা, টাকা চাওয়া হচ্ছে বিভিন্নজনের কাছে
- প্রকাশের সময় : ০৬:০১:৫৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৯ অগাস্ট ২০২৬
- / 7 বার পড়া হয়েছে
যশোরের শার্শায় হোয়াটসঅ্যাপ অ্যাকাউন্ট হ্যাক করে পরিচিতজনদের কাছে টাকা দাবির ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। গত কয়েক দিনে রাজনৈতিক নেতা-কর্মী, সাংবাদিক, শিক্ষক ও ব্যবসায়ীদের মোবাইল নম্বর ও হোয়াটসঅ্যাপ অ্যাকাউন্ট হ্যাক করে তাদের পরিচয় ও প্রোফাইল ছবি ব্যবহার করে ১০ থেকে ২০ হাজার টাকা পর্যন্ত ধার চাওয়া হচ্ছে।
প্রতারকরা প্রথমে হোয়াটসঅ্যাপ অ্যাকাউন্টের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে ভুক্তভোগীর নাম, ছবি ও পরিচিতির সুযোগ কাজে লাগিয়ে তার কন্টাক্ট লিস্টে থাকা ব্যক্তিদের কাছে মেসেজ পাঠাচ্ছে। মেসেজে ‘বিপদে পড়েছি, জরুরি টাকার প্রয়োজন’ কিংবা ‘এখন টাকা ধার দিন, পরে ফেরত দেব’—এমন নানা কথা লিখে একটি বিকাশ নম্বরে দ্রুত টাকা পাঠাতে বলা হচ্ছে। পরিচিত ব্যক্তির নম্বর ও ছবি দেখে অনেকেই প্রথমে বিষয়টি সত্যি মনে করে বিভ্রান্ত হচ্ছেন। তবে সচেতন অনেকে টাকা পাঠানোর আগে সরাসরি ফোনে যোগাযোগ করায় প্রতারণার হাত থেকে রক্ষা পেয়েছেন।
এই প্রতারণার শিকার হয়েছেন দৈনিক লোকসমাজের বাগআঁচড়া প্রতিনিধি ও সিনিয়র সাংবাদিক আজিজুল ইসলাম। তিনি জানান, তার অ্যাকাউন্ট হ্যাক হওয়ার পরের দিনই কায়বা ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি ও সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান রবিউল হোসেন, উপজেলা বিএনপির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক আনোয়ারা হোসেন বাবু, বাগআঁচড়া ইউনাইটেড মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক খান হাসান আরিফ আহম্মেদ, দীঘা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আশরাফ আলী, উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক মোস্তাফিজোহা সেলিম এবং বেনাপোল পৌরসভার সাবেক মেয়র আশরাফুল আলম লিটনের ব্যবহৃত নম্বরও হ্যাক করা হয়েছে। এসব নম্বর থেকেও পরিচিতদের কাছে টাকা চেয়ে মেসেজ পাঠানো হয়। প্রভাবশালী ও বিশিষ্ট ব্যক্তিদের নম্বর ধারাবাহিকভাবে হ্যাক হওয়ার ঘটনায় স্থানীয়দের মাঝে উদ্বেগ বৃদ্ধি পেয়েছে। ভুক্তভোগীরা দ্রুত তদন্তপূর্বক হ্যাকারদের শনাক্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে শার্শা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শামিনুর ইসলাম বলেন, এ ধরনের ঘটনায় এখন পর্যন্ত থানায় কেউ কোনো লিখিত অভিযোগ দেননি। তবে অভিযোগ পেলে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় হ্যাকারদের শনাক্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তিনি আরও সতর্ক করে বলেন, কোনো পরিচিত নম্বর থেকে হঠাৎ টাকা চেয়ে মেসেজ আসলে যাচাই না করে কোনোভাবেই টাকা পাঠানো যাবে না। সরাসরি ফোন করে বা অন্য মাধ্যমে নিশ্চিত হতে হবে। পাশাপাশি হোয়াটসঅ্যাপে আসা কোনো সন্দেহজনক লিংকে প্রবেশ না করা এবং ওটিপি বা ব্যক্তিগত তথ্য কারও সঙ্গে শেয়ার না করার পরামর্শ দেন তিনি।


























