ঢাকা , সোমবার, ১৩ জুলাই ২০২৬, ২৮ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
মৌলভীবাজারে ৪০ হাজার মানুষ পানিবন্দি, সংকট চরমে সুইজারল্যান্ডকে ৩-১ গোলে হারিরে সেমিতে আর্জেন্টিনা, প্রতিপক্ষ ইংল্যান্ড মৌলভীবাজারে নদ নদীর পানি কমতে শুরু করলেও নিম্নাঞ্চল প্লাবিত বন্যাদুর্গত এলাকা পরিদর্শন ও আশ্রয়কেন্দ্রে বন্যার্তদের খোঁজ নিতে; জেলা প্রশাসক মৌলভীবাজারে বাড়ছে নদ নদীর পানি; বন্যার শঙ্কা “দেশের গরীব ও অসহায় সাধারণ মানুষ সুবিধা পাওয়া শুরু করেছে” এমপি ফজলুল হক মিলন “জুলাই সনদকে অস্বীকার করছে বিএনপি”এমপি নাহিদ ইসলাম খন্দকার মো. আলমগীর হোসেন-এর জন্মদিন আজ নজরুলের চেতনার আজ আরও বেশি প্রয়োজন-নাসের রহমান আন্তঃজেলা ডাকাত দলের ৫ সদস্য অস্ত্রসহ গ্রেপ্তার

ফরিদপুরের বাঙ্গি চাষি লােকসানের মুখে

এস কে রাজু, ফরিদপুর
  • প্রকাশের সময় : ০৫:৩১:৩৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩০ মার্চ ২০২৪
  • / ৬৬২ বার পড়া হয়েছে

ছবি: প্রতিদিনের পোস্ট

১২৯

ফরিদপুরের সদরপুরে ব্যাপকভাবে চাষ হয় লালমি জাতের বাঙ্গি। এ বছর রোজার শুরুতে বাজারে উঠাতে না পারায় আর্থিক ভাবে ক্ষতির মুখে পড়েছেন চাষিরা। কয়েকটি জেলায় অল্প পরিসরে এ বাঙ্গি চাষ হলেও কৃষি বিভাগের তথ্যমতে এটি ফরিদপুর জেলার ফসল। এ বাঙ্গির চাষ এ জেলায়ই বেশি হয়।

জানা যায়, ফরিদপুরের চরাঞ্চলে পবিত্র রমজান মাসের কথা চিন্তা করেই বাঙ্গি চাষ করা হয়। কিন্তু এ বছর আবহাওয়ার তারতম্যের কারণে সময়মতাে গাছ হয়নি, হয়নি ফলনও। সবই হয়েছে দেরীতে। প্রতি বছর এ বাঙ্গি চাষ করে আর্থিকভাবে লাভবান হলেও এ বছর লােকসান হতে পারে চাষিদের। গত বছর মৌসুমের শুরুতে মাঝারি সাইজেরর ১০০ বাঙ্গি বিক্রি হয়েছে ৫-৭ হাজার টাকা। যা এ বছর সর্বোচ্চ ৩ হাজার টাকা দাম পাচ্ছেন চাষিরা।

সরেজমিনে জানা যায়, জেলার কৃষ্ণপুর থেকে সদরপুর পর্যন্ত রাস্তার দুপাশে বাঙ্গি জমা করে রেখেছেন চাষিরা। পরে পাইকাররা এসে রাস্তা থেকেই কিনে নিয়ে যান। সদরপুর উপজেলার কৃষ্ণপুর ইউনিয়নের রমজান শেখ, মাকসুদ, নেছার, রোকসানাসহ চাষিরা প্রতিদিনের পোস্টকে জানান, তারা প্রতি বছরই বাঙ্গি চাষ করেন। তাদের টার্গেট থাকে রমজান মাসের শুরুতেই যেন তােলা যায়। কিন্তু এ বছর শীত ও কুয়াশার কারণে সময়মতো চাষ করা যায়নি। গাছও সময়মতো হয়নি। তাই এ বছর বাজারে উঠতে দেরী হয়েছে।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের তথ্যমতে, জেলায় এ বছর বাঙ্গি চাষ হয়েছে ৮০২ হেক্টর জমিতে। যার মধ্যে লালমি জাতের ৫৩২ হেক্টরই। এ জাতের বাঙ্গি বেশি চাষ হয় সদরপুর উপজেলায়। এ বছর ছােট সাইজের লালমি প্রতি ১০০ বিক্রি হচ্ছে ৮০০ থেকে ১২০০ টাকা। মাঝারি সাইজেরটা বিক্রি হচ্ছে ১৫০০ থেকে ১৬০০ এবং বড় সাইজটি সর্বোচ্চ ৩ হাজার টাকা হিসেবে বিক্রি হচ্ছে।

সদরপুরের কাটাখালীর চাষি সবুর মোল্লা প্রতিদিনের পোস্টকে বলেন, রােজার শুরুতে লালমি (বাঙ্গি) উঠলে দাম ও চাহিদা বেশি থাকে। এ বছর লালমি কারাে উঠেছে ৬ রােজার পর। বেশিরভাগেরই উঠেছে ১০ রােজার পর। তখন এমনিতেই দাম নেমে যায়। আবার সারাদেশের লালমিও বাজারে ওঠে। সব মিলিয়ে দাম পাওয়া যায় না।

ফরিদপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক কৃষিবিদ মাে. রফিকুল ইসলাম প্রতিদিনের পোস্টকে বলেন, লালমিকে ফরিদপুরের ঐতিহ্যবাহী ফল বলা যেতে পারে। এটি আশপাশের জেলায় কিছুটা চাষ হলেও খুব অল্প। এ বছর শীতের কারণে ফলন আসতে দেরী হয়েছে। যাতে হয়তাে কিছুটা লােকসান হবে। আগামীতে আরও আগে চাষ শুরু করতে হবে। বিশেষ করে উঁচু ও চরের জমিতে চাষ করতে হবে।

ট্যাগস :
প্রফেশনাল নিউজ পোর্টাল দিচ্ছে থিম বিক্রয় ডটকম

এই নিউজটি শেয়ার করুন

ফরিদপুরের বাঙ্গি চাষি লােকসানের মুখে

প্রকাশের সময় : ০৫:৩১:৩৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩০ মার্চ ২০২৪
১২৯

ফরিদপুরের সদরপুরে ব্যাপকভাবে চাষ হয় লালমি জাতের বাঙ্গি। এ বছর রোজার শুরুতে বাজারে উঠাতে না পারায় আর্থিক ভাবে ক্ষতির মুখে পড়েছেন চাষিরা। কয়েকটি জেলায় অল্প পরিসরে এ বাঙ্গি চাষ হলেও কৃষি বিভাগের তথ্যমতে এটি ফরিদপুর জেলার ফসল। এ বাঙ্গির চাষ এ জেলায়ই বেশি হয়।

জানা যায়, ফরিদপুরের চরাঞ্চলে পবিত্র রমজান মাসের কথা চিন্তা করেই বাঙ্গি চাষ করা হয়। কিন্তু এ বছর আবহাওয়ার তারতম্যের কারণে সময়মতাে গাছ হয়নি, হয়নি ফলনও। সবই হয়েছে দেরীতে। প্রতি বছর এ বাঙ্গি চাষ করে আর্থিকভাবে লাভবান হলেও এ বছর লােকসান হতে পারে চাষিদের। গত বছর মৌসুমের শুরুতে মাঝারি সাইজেরর ১০০ বাঙ্গি বিক্রি হয়েছে ৫-৭ হাজার টাকা। যা এ বছর সর্বোচ্চ ৩ হাজার টাকা দাম পাচ্ছেন চাষিরা।

সরেজমিনে জানা যায়, জেলার কৃষ্ণপুর থেকে সদরপুর পর্যন্ত রাস্তার দুপাশে বাঙ্গি জমা করে রেখেছেন চাষিরা। পরে পাইকাররা এসে রাস্তা থেকেই কিনে নিয়ে যান। সদরপুর উপজেলার কৃষ্ণপুর ইউনিয়নের রমজান শেখ, মাকসুদ, নেছার, রোকসানাসহ চাষিরা প্রতিদিনের পোস্টকে জানান, তারা প্রতি বছরই বাঙ্গি চাষ করেন। তাদের টার্গেট থাকে রমজান মাসের শুরুতেই যেন তােলা যায়। কিন্তু এ বছর শীত ও কুয়াশার কারণে সময়মতো চাষ করা যায়নি। গাছও সময়মতো হয়নি। তাই এ বছর বাজারে উঠতে দেরী হয়েছে।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের তথ্যমতে, জেলায় এ বছর বাঙ্গি চাষ হয়েছে ৮০২ হেক্টর জমিতে। যার মধ্যে লালমি জাতের ৫৩২ হেক্টরই। এ জাতের বাঙ্গি বেশি চাষ হয় সদরপুর উপজেলায়। এ বছর ছােট সাইজের লালমি প্রতি ১০০ বিক্রি হচ্ছে ৮০০ থেকে ১২০০ টাকা। মাঝারি সাইজেরটা বিক্রি হচ্ছে ১৫০০ থেকে ১৬০০ এবং বড় সাইজটি সর্বোচ্চ ৩ হাজার টাকা হিসেবে বিক্রি হচ্ছে।

সদরপুরের কাটাখালীর চাষি সবুর মোল্লা প্রতিদিনের পোস্টকে বলেন, রােজার শুরুতে লালমি (বাঙ্গি) উঠলে দাম ও চাহিদা বেশি থাকে। এ বছর লালমি কারাে উঠেছে ৬ রােজার পর। বেশিরভাগেরই উঠেছে ১০ রােজার পর। তখন এমনিতেই দাম নেমে যায়। আবার সারাদেশের লালমিও বাজারে ওঠে। সব মিলিয়ে দাম পাওয়া যায় না।

ফরিদপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক কৃষিবিদ মাে. রফিকুল ইসলাম প্রতিদিনের পোস্টকে বলেন, লালমিকে ফরিদপুরের ঐতিহ্যবাহী ফল বলা যেতে পারে। এটি আশপাশের জেলায় কিছুটা চাষ হলেও খুব অল্প। এ বছর শীতের কারণে ফলন আসতে দেরী হয়েছে। যাতে হয়তাে কিছুটা লােকসান হবে। আগামীতে আরও আগে চাষ শুরু করতে হবে। বিশেষ করে উঁচু ও চরের জমিতে চাষ করতে হবে।