ঢাকা , মঙ্গলবার, ১১ অগাস্ট ২০২৬, ২৭ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
শুক্রবার দেশে ফিরবে রোমে নিহত নোয়াখালীর তিনজনের মরদেহ অনিয়মের অভিযোগে নির্বাচন অফিস পরিদর্শন করলেন এমপি মান্নান নোয়াখালীর হাতিয়ায় আগুনে পুড়ল ৭ ঘর, ক্ষতি ২ কোটি টাকার বেশি ধানমন্ডিতে গাছ উপড়ে ৩ প্রাইভেটকারে ব্যাপক ক্ষতি এআই দ্বারা অশ্লীল ভিডিও প্রকাশের অভিযুক্ত দ্বিতীয় আসামি গ্রেপ্তার ৭৫৬ পরিবারে ত্রাণের পর বান্দরবানে ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্প গো আপ ফাউন্ডেশনের ১২০ পরিবারের রাস্তা সংকট, সমাধানের আশ্বাস মেয়র পার্থী ফারুকের কালীগঞ্জে ১০ লাখ টাকার নির্মাণাধীন ড্রেনে ফাটল, ভেঙে পড়ে দেয়াল আপত্তিকর ছবি দেখিয়ে ধর্ষণ, দুই আসামিকে মৃত্যুদণ্ড দিল আদালত ঘুন পোকার গুঁড়োতেই লুকিয়ে ছিল খুনের রহস্য

শুক্রবার দেশে ফিরবে রোমে নিহত নোয়াখালীর তিনজনের মরদেহ

নোয়াখালী প্রতিবেদক
  • প্রকাশের সময় : ০৩:০৩:২৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১১ অগাস্ট ২০২৬
  • / ৬ বার পড়া হয়েছে

ইতালির রাজধানী রোমে নৃশংস হত্যাকাণ্ডের শিকার নোয়াখালীর একই পরিবারের তিন সদস্যের মরদেহ আগামি শুক্রবার দেশে পৌঁছাবে।

পারিবারিক সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, শুক্রবার রাতে নিজ এলাকায় জানাজা শেষে তাদের দাফন সম্পন্ন করা হবে।

নিহতরা হলেন- নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার চরকাঁকড়া ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা কামাল উদ্দিন বাবুল (৩৯), তার স্ত্রী (৩৮) এবং পাঁচ বছরের মেয়ে আরোয়া ইসলাম আরিশা। একই ঘটনায় গুরুতর আহত হয়েছেন পরিবারের একমাত্র ছেলে অয়ন। তিনি মরদেহ নিয়ে শুক্রবার বাড়িতে আসবেন এবং জানাজা ও দাফনে অংশ নেবেন।

পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, আজ মঙ্গলবার ইতালির স্থানীয় সময় সন্ধ্যা ৬টা ৩০ মিনিটে রোমের কাসালোত্তি এলাকার পিয়াজ্জা ওর্মেয়া এলাকায় নিহত তিনজনের প্রথম জানাজার নামাজ অনুষ্ঠিত হবে। এরপর বৃহস্পতিবার তাদের মরদেহ বাংলাদেশের উদ্দেশ্যে পাঠানো হবে।

স্বজনরা জানান, সবকিছু ঠিক থাকলে শুক্রবার সকালে মরদেহ ঢাকায় পৌঁছাবে। পরে বিকেলে নোয়াখালীতে আনা হবে। পরিবারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, শুক্রবার রাতে চরকাঁকড়া ইউনিয়নে নিজ বাড়ির পাশে শিশু নিকেতন স্কুল মাঠে জানাজার নামাজ অনুষ্ঠিত হবে। পরে পারিবারিক কবরস্থানে তাদের দাফন করা হবে।

এর আগে গত ২৬ জুন রাতে ইতালির রোমের পার্শ্ববর্তী ক্যাসালোত্তি এলাকার ভিয়া মন্তিলিওর একটি অ্যাপার্টমেন্টে ছুরিকাঘাতে নিহত হন কামাল উদ্দিন বাবুল, তার স্ত্রী ও মেয়ে। প্রতিবেশীদের কাছ থেকে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তিনজনের মরদেহ উদ্ধার করে। একই সময় গুরুতর আহত অবস্থায় তাদের ছেলে অয়নকে উদ্ধার করে স্থানীয় জেমেলি পলিক্লিনিক হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

নিহত বাবুলের চাচাতো ভাই এডভোকেট ইউনুস বলেন, ইতালিতে থাকা স্বজনদের মাধ্যমে আমরা এ ঘটনার খবর জানতে পারি। বাবুল ভাই দেশে এলে সবার সঙ্গে আন্তরিকভাবে মিশতেন। এলাকার বিভিন্ন সামাজিক কর্মকাণ্ডেও অংশ নিতেন। এমন নির্মম ঘটনায় আমরা বাকরুদ্ধ। এ ঘটনায় অভিযুক্ত শাহাদাতকে এখনও আইনের আওতায় আনা যায়নি। আমরা এতে বিস্ময় প্রকাশ করছি।

এদিকে হত্যাকাণ্ডের কারণ উদঘাটনে ইতালিয়ান পুলিশ তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে। ঘটনার প্রকৃত কারণ জানতে বিভিন্ন আলামত সংগ্রহ ও সংশ্লিষ্টদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।

স্থানীয়দের ভাষ্য, দীর্ঘদিন প্রবাসে থাকলেও বাবুলের সঙ্গে গ্রামের মানুষের যোগাযোগ ছিল নিবিড়। তার মৃত্যুতে এলাকায় গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

উল্লেখ্য, গত বছরের ২ জুলাই চরকাঁকড়া ইউনিয়নে তাদের বাড়ির সামনে ‘লাল বাহিনী’ নামের একটি কথিত ডাকাত দলের রেখে যাওয়া একটি উড়ো চিঠি পাওয়া যায়। চিঠিতে পরিবারের কাছে টাকা ও স্বর্ণালঙ্কার দাবি করা হয়। দাবি পূরণ না করলে ছেলে-নাতিকে হত্যাসহ পরিবারের নারী সদস্যদের ওপর নির্যাতনের হুমকি দেওয়া হয়েছিল বলে অভিযোগ করেন স্বজনরা।

পরে নিহতের বাবা সিরাজুল ইসলাম নিরাপত্তা শঙ্কার কথা উল্লেখ করে কোম্পানীগঞ্জ থানা ও স্থানীয় সেনা ক্যাম্পে লিখিত অভিযোগও করেছিলেন বলে পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে।

নিহতের বাবা সিরাজুল ইসলাম বলেন, আমার ছেলে দেশে ছুটিতে এসে কবরস্থানে মাটি ফেলেছে। সেখানেই তাকে স্ত্রী সন্তানসহ দাফন দেওয়া হবে। আমার বুকটা ফেটে যাচ্ছে। কিন্তু কাউকে বুঝাতে পারছিনা। আমি বিচার চাই। কবে পাবো বিচার তার হিসাব জানিনা।

 

 

ট্যাগস :
প্রফেশনাল নিউজ পোর্টাল দিচ্ছে থিম বিক্রয় ডটকম

এই নিউজটি শেয়ার করুন

শুক্রবার দেশে ফিরবে রোমে নিহত নোয়াখালীর তিনজনের মরদেহ

প্রকাশের সময় : ০৩:০৩:২৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১১ অগাস্ট ২০২৬

ইতালির রাজধানী রোমে নৃশংস হত্যাকাণ্ডের শিকার নোয়াখালীর একই পরিবারের তিন সদস্যের মরদেহ আগামি শুক্রবার দেশে পৌঁছাবে।

পারিবারিক সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, শুক্রবার রাতে নিজ এলাকায় জানাজা শেষে তাদের দাফন সম্পন্ন করা হবে।

নিহতরা হলেন- নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার চরকাঁকড়া ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা কামাল উদ্দিন বাবুল (৩৯), তার স্ত্রী (৩৮) এবং পাঁচ বছরের মেয়ে আরোয়া ইসলাম আরিশা। একই ঘটনায় গুরুতর আহত হয়েছেন পরিবারের একমাত্র ছেলে অয়ন। তিনি মরদেহ নিয়ে শুক্রবার বাড়িতে আসবেন এবং জানাজা ও দাফনে অংশ নেবেন।

পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, আজ মঙ্গলবার ইতালির স্থানীয় সময় সন্ধ্যা ৬টা ৩০ মিনিটে রোমের কাসালোত্তি এলাকার পিয়াজ্জা ওর্মেয়া এলাকায় নিহত তিনজনের প্রথম জানাজার নামাজ অনুষ্ঠিত হবে। এরপর বৃহস্পতিবার তাদের মরদেহ বাংলাদেশের উদ্দেশ্যে পাঠানো হবে।

স্বজনরা জানান, সবকিছু ঠিক থাকলে শুক্রবার সকালে মরদেহ ঢাকায় পৌঁছাবে। পরে বিকেলে নোয়াখালীতে আনা হবে। পরিবারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, শুক্রবার রাতে চরকাঁকড়া ইউনিয়নে নিজ বাড়ির পাশে শিশু নিকেতন স্কুল মাঠে জানাজার নামাজ অনুষ্ঠিত হবে। পরে পারিবারিক কবরস্থানে তাদের দাফন করা হবে।

এর আগে গত ২৬ জুন রাতে ইতালির রোমের পার্শ্ববর্তী ক্যাসালোত্তি এলাকার ভিয়া মন্তিলিওর একটি অ্যাপার্টমেন্টে ছুরিকাঘাতে নিহত হন কামাল উদ্দিন বাবুল, তার স্ত্রী ও মেয়ে। প্রতিবেশীদের কাছ থেকে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তিনজনের মরদেহ উদ্ধার করে। একই সময় গুরুতর আহত অবস্থায় তাদের ছেলে অয়নকে উদ্ধার করে স্থানীয় জেমেলি পলিক্লিনিক হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

নিহত বাবুলের চাচাতো ভাই এডভোকেট ইউনুস বলেন, ইতালিতে থাকা স্বজনদের মাধ্যমে আমরা এ ঘটনার খবর জানতে পারি। বাবুল ভাই দেশে এলে সবার সঙ্গে আন্তরিকভাবে মিশতেন। এলাকার বিভিন্ন সামাজিক কর্মকাণ্ডেও অংশ নিতেন। এমন নির্মম ঘটনায় আমরা বাকরুদ্ধ। এ ঘটনায় অভিযুক্ত শাহাদাতকে এখনও আইনের আওতায় আনা যায়নি। আমরা এতে বিস্ময় প্রকাশ করছি।

এদিকে হত্যাকাণ্ডের কারণ উদঘাটনে ইতালিয়ান পুলিশ তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে। ঘটনার প্রকৃত কারণ জানতে বিভিন্ন আলামত সংগ্রহ ও সংশ্লিষ্টদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।

স্থানীয়দের ভাষ্য, দীর্ঘদিন প্রবাসে থাকলেও বাবুলের সঙ্গে গ্রামের মানুষের যোগাযোগ ছিল নিবিড়। তার মৃত্যুতে এলাকায় গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

উল্লেখ্য, গত বছরের ২ জুলাই চরকাঁকড়া ইউনিয়নে তাদের বাড়ির সামনে ‘লাল বাহিনী’ নামের একটি কথিত ডাকাত দলের রেখে যাওয়া একটি উড়ো চিঠি পাওয়া যায়। চিঠিতে পরিবারের কাছে টাকা ও স্বর্ণালঙ্কার দাবি করা হয়। দাবি পূরণ না করলে ছেলে-নাতিকে হত্যাসহ পরিবারের নারী সদস্যদের ওপর নির্যাতনের হুমকি দেওয়া হয়েছিল বলে অভিযোগ করেন স্বজনরা।

পরে নিহতের বাবা সিরাজুল ইসলাম নিরাপত্তা শঙ্কার কথা উল্লেখ করে কোম্পানীগঞ্জ থানা ও স্থানীয় সেনা ক্যাম্পে লিখিত অভিযোগও করেছিলেন বলে পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে।

নিহতের বাবা সিরাজুল ইসলাম বলেন, আমার ছেলে দেশে ছুটিতে এসে কবরস্থানে মাটি ফেলেছে। সেখানেই তাকে স্ত্রী সন্তানসহ দাফন দেওয়া হবে। আমার বুকটা ফেটে যাচ্ছে। কিন্তু কাউকে বুঝাতে পারছিনা। আমি বিচার চাই। কবে পাবো বিচার তার হিসাব জানিনা।