ঢাকা , মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬, ২৮ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
গাজীপুরের কালীগঞ্জে আন্তর্জাতিক দুর্যোগ প্রশমন দিবস পালিত আমতলীতে ৪৯ পিস ইয়াবা ট্যাবলেটসহ ২ জন গ্রেপ্তার। গঙ্গাচড়ায় দুর্যোগ মোকাবিলায় আগাম প্রস্তুতির বার্তা ধামইরহাটে আন্তর্জাতিক দুর্যোগ প্রশমন দিবস পালিত  বিয়ের পর গুগলে কী সার্চ করেন নারীরা? জানলে অবাক হবেন! কালীগঞ্জে পৃথক সড়ক দুর্ঘটনায় ২ জন নিহত গঙ্গাচড়ায় সংবাদ দিগন্তের ১৪তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদ্‌যাপন গঙ্গাচড়ায় দুর্গাপূজার নিরাপত্তায় কঠোর নির্দেশনা, মণ্ডপে সতর্ক পাহারার তাগিদ গঙ্গাচড়ায় কন্যাশিশু দিবস উদযাপন, বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে গুরুত্ব ধামইরহাটে ফ্যামিলি কার্ড ব্যাস্তবায়নে অবহিতকরন প্রেস কনফারেন্স

৭৫৬ পরিবারে ত্রাণের পর বান্দরবানে ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্প গো আপ ফাউন্ডেশনের

নিউজ ডেস্ক, প্রতিদিনের পোস্ট
নিউজ ডেস্ক, প্রতিদিনের পোস্ট
  • প্রকাশের সময় : ১০:৩২:১১ অপরাহ্ন, সোমবার, ১০ অগাস্ট ২০২৬
  • / 136 বার পড়া হয়েছে

২০২৬ সালের ভয়াবহ বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত বান্দরবানের পাহাড়ি এলাকার মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছে অলাভজনক ও অরাজনৈতিক সংস্থা গো আপ ফাউন্ডেশন। প্রথম ধাপে ৭৫৬টি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের মাঝে ত্রাণ সহায়তা দেওয়ার পর এবার দ্বিতীয় ধাপে বিনামূল্যে চিকিৎসা সেবা ও ওষুধ বিতরণ করেছে সংগঠনটি।

ফুটস্টেপস বাংলাদেশের সহযোগিতায় এবং জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের মাধ্যমে ইউনিসেফের সরবরাহ করা হাইজিন কিট বিতরণ করা হয়। পাশাপাশি এরিস্টো ফার্মার সহযোগিতায় বন্যাকবলিত মানুষের মাঝে বিনামূল্যে ওষুধ বিতরণ করা হয়েছে।

আয়োজকদের তথ্য অনুযায়ী, এ কার্যক্রমের আওতায় প্রায় ৩০০ পরিবারকে বিনামূল্যে চিকিৎসা সেবা ও প্রয়োজনীয় ওষুধ দেওয়া হয়। বন্যা পরবর্তী সময়ে পানিবাহিত রোগ, চর্মরোগ ও অন্যান্য স্বাস্থ্যঝুঁকিতে পড়েছেন বান্দরবানের অনেক বাসিন্দা।

১৫ জন স্বেচ্ছাসেবী ও দুইজন চিকিৎসকের সমন্বয়ে এই মানবিক কার্যক্রম পরিচালিত হয়। কার্যক্রম পরিদর্শনে আসেন গো আপ ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা ও নির্বাহী পরিচালক। এ সময় তিনি স্থানীয় বাসিন্দা ও রোগীদের আশ্বস্ত করে বলেন, “বন্যার শুরু থেকে আমরা যেভাবে আপনাদের পাশে আছি, ঠিক সেভাবেই পুনর্বাসন পর্যন্ত আপনাদের পাশে থাকব।”

তিনি জানান, বন্যায় যাদের ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত বা ভেঙে গেছে, তাদের বাসস্থান মেরামতের উদ্যোগ নেওয়া হবে। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের মাঝে বীজ, সার ও প্রয়োজনীয় কৃষি উপকরণ বিতরণ করা হবে। পাশাপাশি প্রয়োজনীয় এলাকায় স্যানিটেশন ব্যবস্থা বা টয়লেট নির্মাণের পরিকল্পনাও রয়েছে।

বন্যায় যেসব শিক্ষার্থীর বই-খাতা নষ্ট হয়েছে, তাদের পড়াশোনা অব্যাহত রাখতে শিক্ষা উপকরণ সরবরাহের কথাও জানান তিনি। এছাড়া বেকার যুবকদের জীবিকার সুযোগ তৈরি করতে তাদের মাঝে মাল্টি কার্ট বিতরণের ঘোষণা দেওয়া হয়।

বক্তব্যে গো আপ ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা বান্দরবানের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য রক্ষায় সবাইকে যত্রতত্র বর্জ্য না ফেলার আহ্বান জানান।

ক্যাম্পে দায়িত্ব পালন করা এক চিকিৎসক বলেন, “বন্যা পরবর্তী সময়ে ডায়রিয়া, চর্মরোগ ও শ্বাসকষ্টজনিত সমস্যা নিয়ে অনেক রোগী আমাদের কাছে এসেছেন। আমরা চেষ্টা করেছি প্রত্যেককে যথাযথ চিকিৎসা সেবা ও প্রয়োজনীয় ওষুধ দিতে।”

স্বেচ্ছাসেবী জাহিদ বলেন, “আমরা যখন প্রথম বান্দরবানে পৌঁছাই, তখন পরিস্থিতি ছিল খুবই কঠিন। আমাদের পুরো টিম রাত-দিন এক করে কাজ করেছে। খাবার প্যাকেজিং থেকে শুরু করে ঘরে ঘরে পৌঁছে দেওয়া এবং মেডিকেল ক্যাম্প ব্যবস্থাপনা পর্যন্ত সব কাজ আমরা করেছি। মানুষের মুখে যখন একটু স্বস্তি দেখি, তখন সব ক্লান্তি ভুলে যাই।”

তিনি আরও বলেন, স্থানীয় প্রশাসন ও ফুটস্টেপস বাংলাদেশের সহযোগিতা ছাড়া এ কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা কঠিন হতো।

আরেক স্বেচ্ছাসেবী সানজিদা বলেন, “বন্যার্ত মানুষের কষ্ট সরাসরি দেখে আমরা আরও দায়িত্ববোধ অনুভব করেছি। গো আপ ফাউন্ডেশনের এই উদ্যোগে অংশ নিতে পেরে আমি গর্বিত।”

গো আপ ফাউন্ডেশন জানায়, শিগগিরই দ্বিতীয় ধাপে আরও ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে তালিকাভুক্ত করে দীর্ঘমেয়াদি পুনর্বাসন কার্যক্রম শুরু করা হবে। এ মানবিক উদ্যোগ অব্যাহত রাখতে সকলের সহযোগিতাও কামনা করেছে সংস্থাটি।

এদিকে, পুরো কার্যক্রমে স্থানীয় প্রশাসন নিরাপত্তা ও প্রয়োজনীয় সহযোগিতা প্রদান করেছে।

ট্যাগস :

এই নিউজটি শেয়ার করুন

৭৫৬ পরিবারে ত্রাণের পর বান্দরবানে ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্প গো আপ ফাউন্ডেশনের

প্রকাশের সময় : ১০:৩২:১১ অপরাহ্ন, সোমবার, ১০ অগাস্ট ২০২৬

২০২৬ সালের ভয়াবহ বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত বান্দরবানের পাহাড়ি এলাকার মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছে অলাভজনক ও অরাজনৈতিক সংস্থা গো আপ ফাউন্ডেশন। প্রথম ধাপে ৭৫৬টি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের মাঝে ত্রাণ সহায়তা দেওয়ার পর এবার দ্বিতীয় ধাপে বিনামূল্যে চিকিৎসা সেবা ও ওষুধ বিতরণ করেছে সংগঠনটি।

ফুটস্টেপস বাংলাদেশের সহযোগিতায় এবং জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের মাধ্যমে ইউনিসেফের সরবরাহ করা হাইজিন কিট বিতরণ করা হয়। পাশাপাশি এরিস্টো ফার্মার সহযোগিতায় বন্যাকবলিত মানুষের মাঝে বিনামূল্যে ওষুধ বিতরণ করা হয়েছে।

আয়োজকদের তথ্য অনুযায়ী, এ কার্যক্রমের আওতায় প্রায় ৩০০ পরিবারকে বিনামূল্যে চিকিৎসা সেবা ও প্রয়োজনীয় ওষুধ দেওয়া হয়। বন্যা পরবর্তী সময়ে পানিবাহিত রোগ, চর্মরোগ ও অন্যান্য স্বাস্থ্যঝুঁকিতে পড়েছেন বান্দরবানের অনেক বাসিন্দা।

১৫ জন স্বেচ্ছাসেবী ও দুইজন চিকিৎসকের সমন্বয়ে এই মানবিক কার্যক্রম পরিচালিত হয়। কার্যক্রম পরিদর্শনে আসেন গো আপ ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা ও নির্বাহী পরিচালক। এ সময় তিনি স্থানীয় বাসিন্দা ও রোগীদের আশ্বস্ত করে বলেন, “বন্যার শুরু থেকে আমরা যেভাবে আপনাদের পাশে আছি, ঠিক সেভাবেই পুনর্বাসন পর্যন্ত আপনাদের পাশে থাকব।”

তিনি জানান, বন্যায় যাদের ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত বা ভেঙে গেছে, তাদের বাসস্থান মেরামতের উদ্যোগ নেওয়া হবে। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের মাঝে বীজ, সার ও প্রয়োজনীয় কৃষি উপকরণ বিতরণ করা হবে। পাশাপাশি প্রয়োজনীয় এলাকায় স্যানিটেশন ব্যবস্থা বা টয়লেট নির্মাণের পরিকল্পনাও রয়েছে।

বন্যায় যেসব শিক্ষার্থীর বই-খাতা নষ্ট হয়েছে, তাদের পড়াশোনা অব্যাহত রাখতে শিক্ষা উপকরণ সরবরাহের কথাও জানান তিনি। এছাড়া বেকার যুবকদের জীবিকার সুযোগ তৈরি করতে তাদের মাঝে মাল্টি কার্ট বিতরণের ঘোষণা দেওয়া হয়।

বক্তব্যে গো আপ ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা বান্দরবানের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য রক্ষায় সবাইকে যত্রতত্র বর্জ্য না ফেলার আহ্বান জানান।

ক্যাম্পে দায়িত্ব পালন করা এক চিকিৎসক বলেন, “বন্যা পরবর্তী সময়ে ডায়রিয়া, চর্মরোগ ও শ্বাসকষ্টজনিত সমস্যা নিয়ে অনেক রোগী আমাদের কাছে এসেছেন। আমরা চেষ্টা করেছি প্রত্যেককে যথাযথ চিকিৎসা সেবা ও প্রয়োজনীয় ওষুধ দিতে।”

স্বেচ্ছাসেবী জাহিদ বলেন, “আমরা যখন প্রথম বান্দরবানে পৌঁছাই, তখন পরিস্থিতি ছিল খুবই কঠিন। আমাদের পুরো টিম রাত-দিন এক করে কাজ করেছে। খাবার প্যাকেজিং থেকে শুরু করে ঘরে ঘরে পৌঁছে দেওয়া এবং মেডিকেল ক্যাম্প ব্যবস্থাপনা পর্যন্ত সব কাজ আমরা করেছি। মানুষের মুখে যখন একটু স্বস্তি দেখি, তখন সব ক্লান্তি ভুলে যাই।”

তিনি আরও বলেন, স্থানীয় প্রশাসন ও ফুটস্টেপস বাংলাদেশের সহযোগিতা ছাড়া এ কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা কঠিন হতো।

আরেক স্বেচ্ছাসেবী সানজিদা বলেন, “বন্যার্ত মানুষের কষ্ট সরাসরি দেখে আমরা আরও দায়িত্ববোধ অনুভব করেছি। গো আপ ফাউন্ডেশনের এই উদ্যোগে অংশ নিতে পেরে আমি গর্বিত।”

গো আপ ফাউন্ডেশন জানায়, শিগগিরই দ্বিতীয় ধাপে আরও ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে তালিকাভুক্ত করে দীর্ঘমেয়াদি পুনর্বাসন কার্যক্রম শুরু করা হবে। এ মানবিক উদ্যোগ অব্যাহত রাখতে সকলের সহযোগিতাও কামনা করেছে সংস্থাটি।

এদিকে, পুরো কার্যক্রমে স্থানীয় প্রশাসন নিরাপত্তা ও প্রয়োজনীয় সহযোগিতা প্রদান করেছে।