ঢাকা , রবিবার, ২৩ অগাস্ট ২০২৬, ৭ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

‘হতাশ হয়ো না, নিশ্চয়ই আল্লাহ আমাদের সঙ্গে আছেন’—জাবালে সুরে আসিফ মাহমুদ

নিউজ ডেস্ক, প্রতিদিনের পোস্ট
নিউজ ডেস্ক, প্রতিদিনের পোস্ট
  • প্রকাশের সময় : ০৮:৫৪:৩৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ২২ অগাস্ট ২০২৬
  • / 14 বার পড়া হয়েছে

উমরাহ পালন করতে গিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পবিত্র কোরআনের আয়াত উদ্ধৃত করে বার্তা দিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেতা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া।

শনিবার (২২ আগস্ট) নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে সূরা আত-তাওবার ৪০ নম্বর আয়াতের অংশবিশেষ তুলে ধরে তিনি লেখেন, ‘হতাশ হয়ো না, নিশ্চয়ই আল্লাহ আমাদের সঙ্গে আছেন।’

পোস্টে তিনি লেখেন, কুরআনের এই একটি আয়াতের সঙ্গে জড়িয়ে আছে মক্কার জাবালে সুরের পাথুরে বুকের এক অসাধারণ ইতিহাস। হিজরতের রাত। মক্কা তখন পেছনে। কুরাইশের ষড়যন্ত্র থেকে বেরিয়ে রাসুলুল্লাহ (সা.) ও হযরত আবু বকর (রা.) সরাসরি মদিনার পথে না গিয়ে মক্কার দক্ষিণে জাবালে সুরের দিকে রওনা হলেন। গন্তব্য এই দুর্গম পাহাড়ের গারে সওর।

পোস্টে তিনি আরও লেখেন, তিন রাত তাঁরা সেখানে অবস্থান করেন। বাইরে কুরাইশের তল্লাশি। ভেতরে অপেক্ষা। কিন্তু সেই অপেক্ষাও ছিল পরিকল্পিত। হযরত আবু বকর (রা.)-এর পুত্র আবদুল্লাহ দিনের বেলা মক্কায় থেকে কুরাইশের গতিবিধির খবর সংগ্রহ করে রাতে গুহায় পৌঁছে দিতেন।

আমের ইবনে ফুহাইরা তাঁর পশুপাল নিয়ে এসে সন্ধ্যার পর গুহার কাছ দিয়ে যেতেন, যাতে তাঁদের জন্য দুধের ব্যবস্থা হয় এবং পায়ের চিহ্নও মুছে যায়। তিন রাত পর পথপ্রদর্শক আবদুল্লাহ ইবনে উরাইকিত তাঁদের জন্য উট নিয়ে উপস্থিত হন। তারপর শুরু হয় মদিনার পথে সেই ঐতিহাসিক যাত্রা।

এর মধ্যেই একসময় কুরাইশের অনুসরণকারীরা গুহার মুখ পর্যন্ত পৌঁছে যায়। এত কাছে যে হযরত আবু বকর (রা.) আশঙ্কা করেছিলেন, তারা নিচের দিকে তাকালেই তাঁদের দেখে ফেলবে।

সেই ভয়াবহ মুহূর্তে রাসুলুল্লাহ (সা.) বললেন, হে আবু বকর! এমন দুজন সম্পর্কে তোমার কী ধারণা, যাদের তৃতীয়জন আল্লাহ?” (সহীহ বুখারী) তারপরই আসে সেই আয়াতের পরের অংশ

“অতঃপর আল্লাহ তাঁর ওপর স্বীয় প্রশান্তি নাজিল করলেন এবং এমন বাহিনী দ্বারা তাঁকে সাহায্য করলেন, যা তোমরা দেখতে পাওনি…”

– সূরা আত-তাওবা, ৯:৪০

একটি গুহার অন্ধকারে তিন রাতের সেই অপেক্ষা শেষ পর্যন্ত জন্ম দিয়েছিল এমন এক যাত্রার, যার গন্তব্য শুধু মদিনায় সীমাবদ্ধ ছিল না। যার মধ্য দিয়ে ইসলামের ইতিহাস নতুন এক অধ্যায়ে প্রবেশ করেছিল। ছড়িয়ে গিয়েছিল সারাবিশ্বে।

জাবালে সুর আজও দাঁড়িয়ে আছে। পাথরগুলো বদলায়নি। বদলে গেছে পৃথিবী। ইতিহাস কখনো কখনো বিশাল কোনো প্রাসাদে লেখা হয় না। কখনো তা লেখা থাকে পাথরের গায়ে, নির্জন কোনো গুহার অন্ধকারে আর তার আলো ছড়িয়ে পড়ে শতাব্দীর পর শতাব্দী।

জাবালে সুরের ঐতিহাসিক ঘটনায় যেমন ছিল সতর্ক পরিকল্পনা, তেমনি ছিল নিঃশর্ত তাওয়াক্কুল। ছিল সাধ্যের সবটুকু চেষ্টা আর আল্লাহর ওপর সম্পূর্ণ ভরসা। আল্লাহ আমাদেরও সেই আস্থা, ধৈর্য ও সত্যের পথে অবিচল থাকার তাওফিক দিন। আমিন।

ট্যাগস :
প্রফেশনাল নিউজ পোর্টাল দিচ্ছে থিম বিক্রয় ডটকম

এই নিউজটি শেয়ার করুন

‘হতাশ হয়ো না, নিশ্চয়ই আল্লাহ আমাদের সঙ্গে আছেন’—জাবালে সুরে আসিফ মাহমুদ

প্রকাশের সময় : ০৮:৫৪:৩৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ২২ অগাস্ট ২০২৬

উমরাহ পালন করতে গিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পবিত্র কোরআনের আয়াত উদ্ধৃত করে বার্তা দিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেতা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া।

শনিবার (২২ আগস্ট) নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে সূরা আত-তাওবার ৪০ নম্বর আয়াতের অংশবিশেষ তুলে ধরে তিনি লেখেন, ‘হতাশ হয়ো না, নিশ্চয়ই আল্লাহ আমাদের সঙ্গে আছেন।’

পোস্টে তিনি লেখেন, কুরআনের এই একটি আয়াতের সঙ্গে জড়িয়ে আছে মক্কার জাবালে সুরের পাথুরে বুকের এক অসাধারণ ইতিহাস। হিজরতের রাত। মক্কা তখন পেছনে। কুরাইশের ষড়যন্ত্র থেকে বেরিয়ে রাসুলুল্লাহ (সা.) ও হযরত আবু বকর (রা.) সরাসরি মদিনার পথে না গিয়ে মক্কার দক্ষিণে জাবালে সুরের দিকে রওনা হলেন। গন্তব্য এই দুর্গম পাহাড়ের গারে সওর।

পোস্টে তিনি আরও লেখেন, তিন রাত তাঁরা সেখানে অবস্থান করেন। বাইরে কুরাইশের তল্লাশি। ভেতরে অপেক্ষা। কিন্তু সেই অপেক্ষাও ছিল পরিকল্পিত। হযরত আবু বকর (রা.)-এর পুত্র আবদুল্লাহ দিনের বেলা মক্কায় থেকে কুরাইশের গতিবিধির খবর সংগ্রহ করে রাতে গুহায় পৌঁছে দিতেন।

আমের ইবনে ফুহাইরা তাঁর পশুপাল নিয়ে এসে সন্ধ্যার পর গুহার কাছ দিয়ে যেতেন, যাতে তাঁদের জন্য দুধের ব্যবস্থা হয় এবং পায়ের চিহ্নও মুছে যায়। তিন রাত পর পথপ্রদর্শক আবদুল্লাহ ইবনে উরাইকিত তাঁদের জন্য উট নিয়ে উপস্থিত হন। তারপর শুরু হয় মদিনার পথে সেই ঐতিহাসিক যাত্রা।

এর মধ্যেই একসময় কুরাইশের অনুসরণকারীরা গুহার মুখ পর্যন্ত পৌঁছে যায়। এত কাছে যে হযরত আবু বকর (রা.) আশঙ্কা করেছিলেন, তারা নিচের দিকে তাকালেই তাঁদের দেখে ফেলবে।

সেই ভয়াবহ মুহূর্তে রাসুলুল্লাহ (সা.) বললেন, হে আবু বকর! এমন দুজন সম্পর্কে তোমার কী ধারণা, যাদের তৃতীয়জন আল্লাহ?” (সহীহ বুখারী) তারপরই আসে সেই আয়াতের পরের অংশ

“অতঃপর আল্লাহ তাঁর ওপর স্বীয় প্রশান্তি নাজিল করলেন এবং এমন বাহিনী দ্বারা তাঁকে সাহায্য করলেন, যা তোমরা দেখতে পাওনি…”

– সূরা আত-তাওবা, ৯:৪০

একটি গুহার অন্ধকারে তিন রাতের সেই অপেক্ষা শেষ পর্যন্ত জন্ম দিয়েছিল এমন এক যাত্রার, যার গন্তব্য শুধু মদিনায় সীমাবদ্ধ ছিল না। যার মধ্য দিয়ে ইসলামের ইতিহাস নতুন এক অধ্যায়ে প্রবেশ করেছিল। ছড়িয়ে গিয়েছিল সারাবিশ্বে।

জাবালে সুর আজও দাঁড়িয়ে আছে। পাথরগুলো বদলায়নি। বদলে গেছে পৃথিবী। ইতিহাস কখনো কখনো বিশাল কোনো প্রাসাদে লেখা হয় না। কখনো তা লেখা থাকে পাথরের গায়ে, নির্জন কোনো গুহার অন্ধকারে আর তার আলো ছড়িয়ে পড়ে শতাব্দীর পর শতাব্দী।

জাবালে সুরের ঐতিহাসিক ঘটনায় যেমন ছিল সতর্ক পরিকল্পনা, তেমনি ছিল নিঃশর্ত তাওয়াক্কুল। ছিল সাধ্যের সবটুকু চেষ্টা আর আল্লাহর ওপর সম্পূর্ণ ভরসা। আল্লাহ আমাদেরও সেই আস্থা, ধৈর্য ও সত্যের পথে অবিচল থাকার তাওফিক দিন। আমিন।