ঢাকা , রবিবার, ২৩ অগাস্ট ২০২৬, ৭ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

টিকটকে ৪০০ মিলিয়ন ডলার জরিমানা!

মোঃ বাবলু , সিনিয়র রিপোর্টার
মোঃ বাবলু , সিনিয়র রিপোর্টার
  • প্রকাশের সময় : ০৮:২৫:১৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ২২ অগাস্ট ২০২৬
  • / 7 বার পড়া হয়েছে

১৩ বছরের কম বয়সি শিশুদের ব্যক্তিগত তথ্য তাদের বাবা-মায়ের অনুমতি ছাড়াই সংগ্রহ করার অভিযোগে বড় অঙ্কের জরিমানা গুনছে টিকটক। যুক্তরাষ্ট্র সরকারের করা একটি মামলা মেটাতে টিকটক ও তার চীনা মালিক প্রতিষ্ঠান বাইটড্যান্স ৪০০ মিলিয়ন ডলার (প্রায় ৪ হাজার ৮০০ কোটি টাকা) দিতে রাজি হয়েছে। ২০২৪ সালে যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ ও দেশটির বাণিজ্য নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফেডারেল ট্রেড কমিশন যৌথভাবে টিকটকের বিরুদ্ধে এই আইনি পদক্ষেপ নেয়।

মামলার মূল অভিযোগগুলো ছিল টিকটক ১৩ বছরের কম বয়সি লাখ লাখ শিশুর তথ্য চুরি করেছে এবং অভিভাবকেরা বললেও সেসব তথ্য বা অ্যাকাউন্ট মুছে দেয়নি। এ ছাড়া শিশুদের জন্য তৈরি বিশেষ ‘কিডস মোড’ অ্যাকাউন্ট থেকেও শিশুদের ইমেইল ঠিকানা ও অন্যান্য ব্যক্তিগত তথ্য জমা করা হচ্ছিল। এমনকি, অভিভাবকেরা শিশুদের অ্যাকাউন্ট ও তথ্য মুছে ফেলার জন্য টিকটক কর্তৃপক্ষকে অনুরোধ করলেও তারা তা মানেনি।

সমঝোতার শর্ত অনুযায়ী, এই ৪০০ মিলিয়ন ডলার দুই কিস্তিতে দেওয়া হবে। টিকটক এখন সঙ্গে সঙ্গেই ৩০০ মিলিয়ন ডলার জরিমানা জমা দেবে। বাকি ১০০ মিলিয়ন ডলার আইনি প্রক্রিয়া শেষ হলে পরবর্তীতে পরিশোধ করা হবে। মামলার এই নিষ্পত্তিতে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ আইন কর্মকর্তারা।

অ্যাসোসিয়েট অ্যাটর্নি জেনারেল স্ট্যানলি ই. উডওয়ার্ড জুনিয়র বলেন, এই চুক্তি আমেরিকান শিশু ও অভিভাবকদের জন্য এক ধরনের বিজয়। অনলাইন জগতে শিশুরা যেন সুরক্ষিত থাকে এবং যেসব প্রতিষ্ঠান তাদের তথ্য নিচ্ছে তারা যেন আইন মেনে চলে-তা নিশ্চিত করাই আমাদের মূল অগ্রাধিকার।

সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল ব্রেট এ. শুম্যাট মন্তব্য করেন, যেসব প্রতিষ্ঠান শিশুদের ব্যক্তিগত তথ্য সংগ্রহ করে, তাদের অবশ্যই দেশের আইন মেনে চলতে হবে।

মামলাটি চলাকালীন টিকটক তাদের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা নীতিতে বেশ কিছু পরিবর্তন এনেছে। বিশেষ করে মার্কিন বাজারে অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখতে প্রতিষ্ঠানটির মালিকানায় পরিবর্তন আনা হয়েছে। যেখানে বর্তমানে ৮০ শতাংশেরও বেশি মালিকানা রয়েছে মার্কিন বিনিয়োগকারীদের হাতে (যার মধ্যে ওরাকল ও সিলভার লেকের মতো মার্কিন প্রতিষ্ঠান যুক্ত হয়েছে)। বাইটড্যান্সের হাতে বর্তমানে মাত্র ১৯ দশমিক ৯ শতাংশ শেয়ার রয়েছে।

শুধু টিকটকই নয়, বিশ্বজুড়ে শিশুদের নিরাপত্তা জোরদার করতে এখন অন্যান্য প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপরও কঠোর নজরদারি চালানো হচ্ছে। এর আগেও একই ধরনের শিশু প্রাইভেসি আইন লঙ্ঘনের জন্য ইউটিউবকে ১৭০ মিলিয়ন ডলার ও ফোর্টনাইট গেমের নির্মাতা অ্যাপিক গেমসকে ২৭০ মিলিয়ন ডলার জরিমানা গুনতে হয়েছে।

ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) এবং যুক্তরাজ্যের ডিজিটাল নিয়ন্ত্রক সংস্থাও সম্প্রতি শিশুদের সাইবার বুলিং ও ক্ষতিকর কনটেন্ট থেকে সুরক্ষায় টিকটকের বিরুদ্ধে পৃথক তদন্ত ও আইনি প্রক্রিয়া শুরু করেছে। অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রে মেটাও (ইনস্টাগ্রাম ও ফেসবুকের মূল প্রতিষ্ঠান) একইভাবে শিশুদের প্রাইভেসি লঙ্ঘনের অভিযোগে আদালতে বিচার প্রক্রিয়ার মুখোমুখি হচ্ছে।

প্রফেশনাল নিউজ পোর্টাল দিচ্ছে থিম বিক্রয় ডটকম

এই নিউজটি শেয়ার করুন

টিকটকে ৪০০ মিলিয়ন ডলার জরিমানা!

প্রকাশের সময় : ০৮:২৫:১৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ২২ অগাস্ট ২০২৬

১৩ বছরের কম বয়সি শিশুদের ব্যক্তিগত তথ্য তাদের বাবা-মায়ের অনুমতি ছাড়াই সংগ্রহ করার অভিযোগে বড় অঙ্কের জরিমানা গুনছে টিকটক। যুক্তরাষ্ট্র সরকারের করা একটি মামলা মেটাতে টিকটক ও তার চীনা মালিক প্রতিষ্ঠান বাইটড্যান্স ৪০০ মিলিয়ন ডলার (প্রায় ৪ হাজার ৮০০ কোটি টাকা) দিতে রাজি হয়েছে। ২০২৪ সালে যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ ও দেশটির বাণিজ্য নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফেডারেল ট্রেড কমিশন যৌথভাবে টিকটকের বিরুদ্ধে এই আইনি পদক্ষেপ নেয়।

মামলার মূল অভিযোগগুলো ছিল টিকটক ১৩ বছরের কম বয়সি লাখ লাখ শিশুর তথ্য চুরি করেছে এবং অভিভাবকেরা বললেও সেসব তথ্য বা অ্যাকাউন্ট মুছে দেয়নি। এ ছাড়া শিশুদের জন্য তৈরি বিশেষ ‘কিডস মোড’ অ্যাকাউন্ট থেকেও শিশুদের ইমেইল ঠিকানা ও অন্যান্য ব্যক্তিগত তথ্য জমা করা হচ্ছিল। এমনকি, অভিভাবকেরা শিশুদের অ্যাকাউন্ট ও তথ্য মুছে ফেলার জন্য টিকটক কর্তৃপক্ষকে অনুরোধ করলেও তারা তা মানেনি।

সমঝোতার শর্ত অনুযায়ী, এই ৪০০ মিলিয়ন ডলার দুই কিস্তিতে দেওয়া হবে। টিকটক এখন সঙ্গে সঙ্গেই ৩০০ মিলিয়ন ডলার জরিমানা জমা দেবে। বাকি ১০০ মিলিয়ন ডলার আইনি প্রক্রিয়া শেষ হলে পরবর্তীতে পরিশোধ করা হবে। মামলার এই নিষ্পত্তিতে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ আইন কর্মকর্তারা।

অ্যাসোসিয়েট অ্যাটর্নি জেনারেল স্ট্যানলি ই. উডওয়ার্ড জুনিয়র বলেন, এই চুক্তি আমেরিকান শিশু ও অভিভাবকদের জন্য এক ধরনের বিজয়। অনলাইন জগতে শিশুরা যেন সুরক্ষিত থাকে এবং যেসব প্রতিষ্ঠান তাদের তথ্য নিচ্ছে তারা যেন আইন মেনে চলে-তা নিশ্চিত করাই আমাদের মূল অগ্রাধিকার।

সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল ব্রেট এ. শুম্যাট মন্তব্য করেন, যেসব প্রতিষ্ঠান শিশুদের ব্যক্তিগত তথ্য সংগ্রহ করে, তাদের অবশ্যই দেশের আইন মেনে চলতে হবে।

মামলাটি চলাকালীন টিকটক তাদের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা নীতিতে বেশ কিছু পরিবর্তন এনেছে। বিশেষ করে মার্কিন বাজারে অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখতে প্রতিষ্ঠানটির মালিকানায় পরিবর্তন আনা হয়েছে। যেখানে বর্তমানে ৮০ শতাংশেরও বেশি মালিকানা রয়েছে মার্কিন বিনিয়োগকারীদের হাতে (যার মধ্যে ওরাকল ও সিলভার লেকের মতো মার্কিন প্রতিষ্ঠান যুক্ত হয়েছে)। বাইটড্যান্সের হাতে বর্তমানে মাত্র ১৯ দশমিক ৯ শতাংশ শেয়ার রয়েছে।

শুধু টিকটকই নয়, বিশ্বজুড়ে শিশুদের নিরাপত্তা জোরদার করতে এখন অন্যান্য প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপরও কঠোর নজরদারি চালানো হচ্ছে। এর আগেও একই ধরনের শিশু প্রাইভেসি আইন লঙ্ঘনের জন্য ইউটিউবকে ১৭০ মিলিয়ন ডলার ও ফোর্টনাইট গেমের নির্মাতা অ্যাপিক গেমসকে ২৭০ মিলিয়ন ডলার জরিমানা গুনতে হয়েছে।

ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) এবং যুক্তরাজ্যের ডিজিটাল নিয়ন্ত্রক সংস্থাও সম্প্রতি শিশুদের সাইবার বুলিং ও ক্ষতিকর কনটেন্ট থেকে সুরক্ষায় টিকটকের বিরুদ্ধে পৃথক তদন্ত ও আইনি প্রক্রিয়া শুরু করেছে। অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রে মেটাও (ইনস্টাগ্রাম ও ফেসবুকের মূল প্রতিষ্ঠান) একইভাবে শিশুদের প্রাইভেসি লঙ্ঘনের অভিযোগে আদালতে বিচার প্রক্রিয়ার মুখোমুখি হচ্ছে।