২০০৬ সালের পর জন্ম হলে ‘বড়’ হয়েও ধূমপান করা যাবে না মলদ্বীপে!
- প্রকাশের সময় : ০৯:৩০:১৬ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৩ অগাস্ট ২০২৬
- / 20 বার পড়া হয়েছে
ধূমপানমুক্ত প্রজন্ম গড়ে তুলতে নজিরবিহীন সিদ্ধান্ত নিয়েছে মালদ্বীপ। দেশটিতে ২০০৭ সালের ১ জানুয়ারি বা তার পরে জন্ম নেওয়া ব্যক্তিদের জন্য তামাকজাত পণ্য কেনা, ব্যবহার ও বিক্রি নিষিদ্ধ করা হয়েছে। সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, প্রাপ্তবয়স্ক হওয়ার পরও তাঁদের জন্য এই নিষেধাজ্ঞা বহাল থাকবে।
মালদ্বীপের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ১ নভেম্বর থেকে নতুন এই বিধান কার্যকর হয়েছে। এর আওতায় ২০০৭ সালের ১ জানুয়ারি বা তার পরে জন্ম নেওয়া কোনো ব্যক্তি দেশটিতে তামাকজাত পণ্য কিনতে বা ব্যবহার করতে পারবেন না। তাঁদের কাছে তামাকজাত পণ্য বিক্রিও নিষিদ্ধ।
সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, জনস্বাস্থ্য সুরক্ষা এবং ভবিষ্যতে একটি ‘তামাকমুক্ত প্রজন্ম’ গড়ে তোলাই এই সিদ্ধান্তের মূল লক্ষ্য। চলতি বছরের এপ্রিল মাসে প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ মুইজ্জু এই প্রজন্মভিত্তিক তামাক নিষেধাজ্ঞা কার্যকরের সিদ্ধান্ত ঘোষণা করেন।
নতুন নিয়ম শুধু মালদ্বীপের নাগরিকদের জন্য নয়, দেশটিতে অবস্থানরত বিদেশি নাগরিক ও পর্যটকদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য হবে। ফলে ২০০৭ সালের ১ জানুয়ারি বা তার পরে জন্ম নেওয়া কোনো পর্যটক মালদ্বীপে অবস্থানকালে তামাকজাত পণ্য কিনতে বা ব্যবহার করতে পারবেন না।
তামাকজাত পণ্য বিক্রির আগে ক্রেতার বয়স যাচাই করা বিক্রেতাদের জন্য বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। বয়স ও জন্মতারিখ যাচাইয়ের পরই তামাকজাত পণ্য বিক্রি করা যাবে।
এদিকে ইলেকট্রনিক সিগারেট বা ই-সিগারেটের ক্ষেত্রেও মালদ্বীপে রয়েছে কঠোর নিষেধাজ্ঞা। ই-সিগারেট আমদানি, বিক্রি, ব্যবহার এবং সঙ্গে রাখার ওপর নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। এই বিধান সব বয়সের মানুষের ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য।
নিয়ম ভঙ্গ করলে বিক্রেতাদের জরিমানার মুখে পড়তে হবে। নিষিদ্ধ ব্যক্তির কাছে তামাকজাত পণ্য বিক্রি করলে সর্বোচ্চ ৩ হাজার ২০০ মার্কিন ডলার পর্যন্ত জরিমানা হতে পারে। অন্যদিকে ই-সিগারেট বিক্রির ক্ষেত্রেও জরিমানার বিধান রয়েছে।
মালদ্বীপের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের দাবি, এ ধরনের প্রজন্মভিত্তিক তামাক নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করা বিশ্বের প্রথম নজির। নির্দিষ্ট একটি জন্মসালের পর জন্ম নেওয়া পুরো প্রজন্মের জন্য তামাকজাত পণ্য নিষিদ্ধ করার মাধ্যমে দেশটি দীর্ঘমেয়াদে ধূমপানমুক্ত প্রজন্ম তৈরির লক্ষ্য নিয়েছে।
এর আগে নিউজিল্যান্ডেও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য ধূমপান নিষিদ্ধ করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। তবে আইনটি কার্যকর হওয়ার আগেই ২০২৩ সালে তা বাতিল করা হয়। যুক্তরাজ্যেও একই ধরনের প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা হয়েছে।
মালদ্বীপের নতুন এই আইন দেশটির তামাক নিয়ন্ত্রণ নীতিতে বড় ধরনের পরিবর্তন আনার পাশাপাশি বিশ্বজুড়ে জনস্বাস্থ্য ও ধূমপানবিরোধী নীতিতে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।


























