ঢাকা , বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬, ১৪ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

৪১টি দুধের সবকটিতেই মিলল মাইক্রোপ্লাস্টিক

খন্দকার মোঃ আলমগীর হোসেন
  • প্রকাশের সময় : ১১:১০:৫৯ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬
  • / ৭ বার পড়া হয়েছে

গবেষকরা দুধের প্রতিটি নমুনায় প্লাস্টিক কণা খুঁজে পেয়েছে। ছবি: সংগৃহীত

বাংলাদেশের বাজারে বিক্রি হওয়া কাঁচা দুধ, বিভিন্ন ব্র্যান্ডের তরল ও গুঁড়া দুধ এবং অন্যান্য দুগ্ধজাত পণ্যে মাইক্রোপ্লাস্টিকের উপস্থিতি শনাক্ত করেছেন দেশের একদল গবেষক। পরীক্ষায় অন্তর্ভুক্ত ৪১টি নমুনার প্রতিটিতেই ক্ষুদ্র প্লাস্টিক কণা পাওয়া গেছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি মাইক্রোপ্লাস্টিক শনাক্ত হয়েছে ব্র্যান্ডের তরল ও গুঁড়া দুধে।

যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের পুষ্টি ও খাদ্যপ্রযুক্তি বিভাগের গবেষকদের পরিচালিত এ গবেষণায় দেখা গেছে, শিশুদের শরীরের ওজন তুলনামূলক কম এবং তারা বেশি পরিমাণে দুধ পান করায় প্রাপ্তবয়স্কদের তুলনায় তাদের শরীরে মাইক্রোপ্লাস্টিক প্রবেশের সম্ভাবনা বেশি।

বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) গবেষণা অনুদানে পরিচালিত এই গবেষণায় দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে সংগ্রহ করা ১৭টি কাঁচা দুধ, ১২টি ব্র্যান্ডের দুধ এবং ১২টি দুগ্ধজাত পণ্যের নমুনা পরীক্ষা করা হয়। আধুনিক পরীক্ষাগার প্রযুক্তির মাধ্যমে এসব নমুনা থেকে মাইক্রোপ্লাস্টিকের ধরন ও রাসায়নিক গঠন বিশ্লেষণ করা হয়।

গবেষণায় প্রতি ১০০ মিলিলিটার ব্র্যান্ডের দুধে গড়ে ১৫৬টির বেশি, কাঁচা দুধে প্রায় ৯৩টি এবং দুগ্ধজাত পণ্যে প্রায় ৭১টি মাইক্রোপ্লাস্টিক কণা পাওয়া যায়। গবেষকদের মতে, দুধ সংগ্রহ, পরিবহন, প্রক্রিয়াজাতকরণ, সংরক্ষণ এবং প্যাকেটজাত করার সময় প্লাস্টিকের বিভিন্ন উপকরণের সংস্পর্শে আসার কারণেই ব্র্যান্ডের দুধে কণার সংখ্যা বেশি হতে পারে।

পরীক্ষায় পাওয়া অধিকাংশ মাইক্রোপ্লাস্টিক ছিল আঁশের মতো স্বচ্ছ কণা, যার আকার ২৫০ মাইক্রোমিটারের কম। এছাড়া টেফলন (পিটিএফই), পিইটি, পলিইথিলিন, পলিপ্রোপিলিন, নাইলন-৬, পিভিসিসহ বিভিন্ন ধরনের প্লাস্টিক পলিমারও শনাক্ত হয়েছে।

গবেষণায় আরও উল্লেখ করা হয়েছে, কাঁচা দুধে মোট কণার সংখ্যা তুলনামূলক কম হলেও সেখানে শনাক্ত কিছু পলিমারের বৈশিষ্ট্যের কারণে পলিমারভিত্তিক ঝুঁকি বেশি। সে কারণে ঝুঁকি মূল্যায়নে কাঁচা দুধকে উচ্চ, ব্র্যান্ডের দুধকে উল্লেখযোগ্য এবং অন্যান্য দুগ্ধজাত পণ্যকে মাঝারি ঝুঁকির মধ্যে রাখা হয়েছে। তবে গবেষকেরা স্পষ্ট করেছেন, এই সূচকগুলো সরাসরি কোনো রোগের ঝুঁকি নির্দেশ করে না; বরং দূষণের মাত্রা ও প্লাস্টিকের বৈশিষ্ট্য মূল্যায়নের জন্য ব্যবহৃত হয়েছে।

গবেষকদের মতে, বাংলাদেশের দুগ্ধ সরবরাহ ব্যবস্থায় মাইক্রোপ্লাস্টিক দূষণ এখন একটি গুরুত্বপূর্ণ খাদ্যনিরাপত্তার বিষয়। এ সমস্যা কমাতে উৎপাদন ও প্রক্রিয়াজাতকরণে প্লাস্টিকের ব্যবহার কমানো, উন্নত ফিল্টার প্রযুক্তি চালু, কম প্লাস্টিক নির্গমনকারী যন্ত্রপাতি ব্যবহার এবং নিয়মিত মান পরীক্ষার ব্যবস্থা জোরদার করার সুপারিশ করা হয়েছে।

প্রফেশনাল নিউজ পোর্টাল দিচ্ছে থিম বিক্রয় ডটকম

এই নিউজটি শেয়ার করুন

৪১টি দুধের সবকটিতেই মিলল মাইক্রোপ্লাস্টিক

প্রকাশের সময় : ১১:১০:৫৯ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬

বাংলাদেশের বাজারে বিক্রি হওয়া কাঁচা দুধ, বিভিন্ন ব্র্যান্ডের তরল ও গুঁড়া দুধ এবং অন্যান্য দুগ্ধজাত পণ্যে মাইক্রোপ্লাস্টিকের উপস্থিতি শনাক্ত করেছেন দেশের একদল গবেষক। পরীক্ষায় অন্তর্ভুক্ত ৪১টি নমুনার প্রতিটিতেই ক্ষুদ্র প্লাস্টিক কণা পাওয়া গেছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি মাইক্রোপ্লাস্টিক শনাক্ত হয়েছে ব্র্যান্ডের তরল ও গুঁড়া দুধে।

যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের পুষ্টি ও খাদ্যপ্রযুক্তি বিভাগের গবেষকদের পরিচালিত এ গবেষণায় দেখা গেছে, শিশুদের শরীরের ওজন তুলনামূলক কম এবং তারা বেশি পরিমাণে দুধ পান করায় প্রাপ্তবয়স্কদের তুলনায় তাদের শরীরে মাইক্রোপ্লাস্টিক প্রবেশের সম্ভাবনা বেশি।

বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) গবেষণা অনুদানে পরিচালিত এই গবেষণায় দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে সংগ্রহ করা ১৭টি কাঁচা দুধ, ১২টি ব্র্যান্ডের দুধ এবং ১২টি দুগ্ধজাত পণ্যের নমুনা পরীক্ষা করা হয়। আধুনিক পরীক্ষাগার প্রযুক্তির মাধ্যমে এসব নমুনা থেকে মাইক্রোপ্লাস্টিকের ধরন ও রাসায়নিক গঠন বিশ্লেষণ করা হয়।

গবেষণায় প্রতি ১০০ মিলিলিটার ব্র্যান্ডের দুধে গড়ে ১৫৬টির বেশি, কাঁচা দুধে প্রায় ৯৩টি এবং দুগ্ধজাত পণ্যে প্রায় ৭১টি মাইক্রোপ্লাস্টিক কণা পাওয়া যায়। গবেষকদের মতে, দুধ সংগ্রহ, পরিবহন, প্রক্রিয়াজাতকরণ, সংরক্ষণ এবং প্যাকেটজাত করার সময় প্লাস্টিকের বিভিন্ন উপকরণের সংস্পর্শে আসার কারণেই ব্র্যান্ডের দুধে কণার সংখ্যা বেশি হতে পারে।

পরীক্ষায় পাওয়া অধিকাংশ মাইক্রোপ্লাস্টিক ছিল আঁশের মতো স্বচ্ছ কণা, যার আকার ২৫০ মাইক্রোমিটারের কম। এছাড়া টেফলন (পিটিএফই), পিইটি, পলিইথিলিন, পলিপ্রোপিলিন, নাইলন-৬, পিভিসিসহ বিভিন্ন ধরনের প্লাস্টিক পলিমারও শনাক্ত হয়েছে।

গবেষণায় আরও উল্লেখ করা হয়েছে, কাঁচা দুধে মোট কণার সংখ্যা তুলনামূলক কম হলেও সেখানে শনাক্ত কিছু পলিমারের বৈশিষ্ট্যের কারণে পলিমারভিত্তিক ঝুঁকি বেশি। সে কারণে ঝুঁকি মূল্যায়নে কাঁচা দুধকে উচ্চ, ব্র্যান্ডের দুধকে উল্লেখযোগ্য এবং অন্যান্য দুগ্ধজাত পণ্যকে মাঝারি ঝুঁকির মধ্যে রাখা হয়েছে। তবে গবেষকেরা স্পষ্ট করেছেন, এই সূচকগুলো সরাসরি কোনো রোগের ঝুঁকি নির্দেশ করে না; বরং দূষণের মাত্রা ও প্লাস্টিকের বৈশিষ্ট্য মূল্যায়নের জন্য ব্যবহৃত হয়েছে।

গবেষকদের মতে, বাংলাদেশের দুগ্ধ সরবরাহ ব্যবস্থায় মাইক্রোপ্লাস্টিক দূষণ এখন একটি গুরুত্বপূর্ণ খাদ্যনিরাপত্তার বিষয়। এ সমস্যা কমাতে উৎপাদন ও প্রক্রিয়াজাতকরণে প্লাস্টিকের ব্যবহার কমানো, উন্নত ফিল্টার প্রযুক্তি চালু, কম প্লাস্টিক নির্গমনকারী যন্ত্রপাতি ব্যবহার এবং নিয়মিত মান পরীক্ষার ব্যবস্থা জোরদার করার সুপারিশ করা হয়েছে।