ঢাকা , মঙ্গলবার, ১১ অগাস্ট ২০২৬, ২৭ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
কালীগঞ্জে দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির আয়োজনে উপজেলা আন্তঃস্কুল বিতর্ক প্রতিযোগিতা ও ক্রেস্ট বিতরণ ৪৪ পরীক্ষার্থীর কেউই উত্তীর্ণ নয়, শিক্ষক ৩০ জন শেখ হাসিনার জ্বালানি নীতির কারণে বিদ্যুৎ ভোগান্তি: প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন নারীকে পিছিয়ে রেখে উন্নত দেশ গড়া সম্ভব নয়: ডিসি ফরিদা নোয়াখালীতে মাদ্রাসায় ভাঙচুরের খবর পেয়ে তদন্তে গিয়ে হামলার শিকার ৫ পুলিশ, আটক ৭ রোগব্যাধি নিয়ন্ত্রণে না এলে বিপাকে পড়বেন খামারিরা শুক্রবার দেশে ফিরবে রোমে নিহত নোয়াখালীর তিনজনের মরদেহ অনিয়মের অভিযোগে নির্বাচন অফিস পরিদর্শন করলেন এমপি মান্নান নোয়াখালীর হাতিয়ায় আগুনে পুড়ল ৭ ঘর, ক্ষতি ২ কোটি টাকার বেশি ধানমন্ডিতে গাছ উপড়ে ৩ প্রাইভেটকারে ব্যাপক ক্ষতি

৪৪ পরীক্ষার্থীর কেউই উত্তীর্ণ নয়, শিক্ষক ৩০ জন

বেনাপোল প্রতিনিধি
  • প্রকাশের সময় : ০৮:৪৩:৫৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১১ অগাস্ট ২০২৬
  • / ৪ বার পড়া হয়েছে

যশোরের শার্শায় চলতি বছরের এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফলাফলে হতাশাজনক চিত্র দেখা গেছে। উপজেলার তিনটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে ৪৪ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নিলেও কেউই পাস করতে পারেনি। অথচ এসব প্রতিষ্ঠানে ওই শিক্ষার্থীদের পাঠদানে নিয়োজিত ছিলেন ৩০ জন শিক্ষক।

উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা গেছে, দাখিল পরীক্ষায় শার্শার ৩৩টি মাদরাসার মধ্যে বারোপোতা সিদ্দিকীয়া দাখিল মাদরাসা ও ঘিবা দারুল উলুম দাখিল মাদরাসার কোনো পরীক্ষার্থীই পাস করতে পারেনি। এ দুটি মাদরাসায় মোট ৪০ জন পরীক্ষার্থী অংশ নিয়ে সবাই অকৃতকার্য হয়েছে।

অন্যদিকে, সাধারণ শিক্ষা বোর্ডের অধীনে সাড়াতলা মাধ্যমিক বিদ্যালয় থেকে পরীক্ষায় অংশ নেওয়া চারজন শিক্ষার্থীর কেউই পাস করতে পারেনি। এই তিন প্রতিষ্ঠানে মোট ৪৪ জন পরীক্ষার্থীর বিপরীতে শিক্ষক রয়েছেন ৩০ জন।

সাড়াতলা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে চারজন পরীক্ষার্থীর পাঠদানে ৯ জন শিক্ষক রয়েছেন। বারোপোতা সিদ্দিকীয়া দাখিল মাদরাসায় ১৭ জন পরীক্ষার্থীর জন্য শিক্ষক রয়েছেন ১২ জন। আর ঘিবা দারুল উলুম দাখিল মাদরাসায় ২৩ জন পরীক্ষার্থীর বিপরীতে শিক্ষক রয়েছেন ৯ জন। শিক্ষক-শিক্ষার্থীর এমন অনুপাতের পরও কোনো শিক্ষার্থী পাস না করায় স্থানীয় অভিভাবক ও সচেতন মহলে নানা প্রশ্ন উঠেছে।

এই তিন প্রতিষ্ঠানে শতভাগ ফেল করার ঘটনায় শিক্ষক-অভিভাবকদের মধ্যে পাল্টাপাল্টি অভিযোগ উঠেছে। অভিভাবক ও স্থানীয় সচেতন মহলের অভিযোগ, শিক্ষকদের দায়িত্বহীনতা, নিয়মিত প্রতিষ্ঠানে উপস্থিত না থাকা, রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড ও ব্যবসায়িক কাজে মনোযোগের কারণে শিক্ষার পরিবেশ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। পরিচালনা কমিটিতে রাজনৈতিক প্রভাব এবং প্রাতিষ্ঠানিক জবাবদিহির অভাবও এর জন্য দায়ী বলে তারা মনে করেন।

তবে শিক্ষকদের দাবি, শিক্ষার্থীদের অনিয়মিত উপস্থিতি ও অভিভাবকদের উদাসীনতার কারণে ফলাফল খারাপ হয়েছে। প্রতিষ্ঠান থেকে বারবার অভিভাবকদের জানানো হলেও তারা সন্তানদের পড়াশোনার বিষয়ে কার্যকর ভূমিকা রাখেননি বলে দাবি তাদের।

শার্শা উপজেলা একাডেমিক সুপারভাইজার এ.কে.এম. নুরুজ্জামান বলেন, সম্প্রতি এমপিওভুক্ত হওয়া কয়েকটি প্রতিষ্ঠান আগের বছরের তুলনায় এবার অনেক খারাপ ফল করেছে।

তিনি বলেন, ‘শতভাগ ফেল করা প্রতিষ্ঠানগুলোর ফলাফল অত্যন্ত দুঃখজনক ও হতাশাজনক। বিষয়টি আমরা গুরুত্বের সঙ্গে দেখছি। কী কারণে এমন ফল হয়েছে, তা খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। শিক্ষার মানোন্নয়নে শিক্ষকদের আরও দায়িত্বশীল হতে হবে।’

শার্শা উপজেলা অতিরিক্ত মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার এস.এম. সুলতান মাহমুদ মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) উপজেলার ফলাফলের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

ট্যাগস :
প্রফেশনাল নিউজ পোর্টাল দিচ্ছে থিম বিক্রয় ডটকম

এই নিউজটি শেয়ার করুন

৪৪ পরীক্ষার্থীর কেউই উত্তীর্ণ নয়, শিক্ষক ৩০ জন

প্রকাশের সময় : ০৮:৪৩:৫৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১১ অগাস্ট ২০২৬

যশোরের শার্শায় চলতি বছরের এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফলাফলে হতাশাজনক চিত্র দেখা গেছে। উপজেলার তিনটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে ৪৪ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নিলেও কেউই পাস করতে পারেনি। অথচ এসব প্রতিষ্ঠানে ওই শিক্ষার্থীদের পাঠদানে নিয়োজিত ছিলেন ৩০ জন শিক্ষক।

উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা গেছে, দাখিল পরীক্ষায় শার্শার ৩৩টি মাদরাসার মধ্যে বারোপোতা সিদ্দিকীয়া দাখিল মাদরাসা ও ঘিবা দারুল উলুম দাখিল মাদরাসার কোনো পরীক্ষার্থীই পাস করতে পারেনি। এ দুটি মাদরাসায় মোট ৪০ জন পরীক্ষার্থী অংশ নিয়ে সবাই অকৃতকার্য হয়েছে।

অন্যদিকে, সাধারণ শিক্ষা বোর্ডের অধীনে সাড়াতলা মাধ্যমিক বিদ্যালয় থেকে পরীক্ষায় অংশ নেওয়া চারজন শিক্ষার্থীর কেউই পাস করতে পারেনি। এই তিন প্রতিষ্ঠানে মোট ৪৪ জন পরীক্ষার্থীর বিপরীতে শিক্ষক রয়েছেন ৩০ জন।

সাড়াতলা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে চারজন পরীক্ষার্থীর পাঠদানে ৯ জন শিক্ষক রয়েছেন। বারোপোতা সিদ্দিকীয়া দাখিল মাদরাসায় ১৭ জন পরীক্ষার্থীর জন্য শিক্ষক রয়েছেন ১২ জন। আর ঘিবা দারুল উলুম দাখিল মাদরাসায় ২৩ জন পরীক্ষার্থীর বিপরীতে শিক্ষক রয়েছেন ৯ জন। শিক্ষক-শিক্ষার্থীর এমন অনুপাতের পরও কোনো শিক্ষার্থী পাস না করায় স্থানীয় অভিভাবক ও সচেতন মহলে নানা প্রশ্ন উঠেছে।

এই তিন প্রতিষ্ঠানে শতভাগ ফেল করার ঘটনায় শিক্ষক-অভিভাবকদের মধ্যে পাল্টাপাল্টি অভিযোগ উঠেছে। অভিভাবক ও স্থানীয় সচেতন মহলের অভিযোগ, শিক্ষকদের দায়িত্বহীনতা, নিয়মিত প্রতিষ্ঠানে উপস্থিত না থাকা, রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড ও ব্যবসায়িক কাজে মনোযোগের কারণে শিক্ষার পরিবেশ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। পরিচালনা কমিটিতে রাজনৈতিক প্রভাব এবং প্রাতিষ্ঠানিক জবাবদিহির অভাবও এর জন্য দায়ী বলে তারা মনে করেন।

তবে শিক্ষকদের দাবি, শিক্ষার্থীদের অনিয়মিত উপস্থিতি ও অভিভাবকদের উদাসীনতার কারণে ফলাফল খারাপ হয়েছে। প্রতিষ্ঠান থেকে বারবার অভিভাবকদের জানানো হলেও তারা সন্তানদের পড়াশোনার বিষয়ে কার্যকর ভূমিকা রাখেননি বলে দাবি তাদের।

শার্শা উপজেলা একাডেমিক সুপারভাইজার এ.কে.এম. নুরুজ্জামান বলেন, সম্প্রতি এমপিওভুক্ত হওয়া কয়েকটি প্রতিষ্ঠান আগের বছরের তুলনায় এবার অনেক খারাপ ফল করেছে।

তিনি বলেন, ‘শতভাগ ফেল করা প্রতিষ্ঠানগুলোর ফলাফল অত্যন্ত দুঃখজনক ও হতাশাজনক। বিষয়টি আমরা গুরুত্বের সঙ্গে দেখছি। কী কারণে এমন ফল হয়েছে, তা খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। শিক্ষার মানোন্নয়নে শিক্ষকদের আরও দায়িত্বশীল হতে হবে।’

শার্শা উপজেলা অতিরিক্ত মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার এস.এম. সুলতান মাহমুদ মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) উপজেলার ফলাফলের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।