ঢাকা , বৃহস্পতিবার, ১৯ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ৬ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

চা শ্রমিকদের বিরুদ্ধে মামলা; সংসদ সদস্যের হস্তক্ষেপ

প্রতিনিধির নাম
  • প্রকাশের সময় : ০১:১৩:২৭ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৯ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • / ৪ বার পড়া হয়েছে

চা শ্রমিকদের বিরুদ্ধে মামলা; সংসদ সদস্যের হস্তক্ষেপ

তিমির বনিক,মৌলভীবাজার প্রতিনিধি:

মৌলভীবাজারের বড়লেখায় বাংলাদেশ চা-বোর্ড নিয়ন্ত্রিত নিউ সমনবাগ, পাথারিয়া ও মোকাম চা বাগানের শ্রমিক ও অডিট টিমের মধ্যকার সীমাংসিত একটি ঘটনায় তিন বাগানের কর্মকর্তা-কর্মচারিসহ মোট ৯৪ জনের বিরুদ্ধে ফৌজদারি অপরাধে মামলা দায়েরের নির্দেশ দিয়েছে চা-বোর্ড কতৃপক্ষ। আর এতে চরম ক্ষোভ, অসন্তোষ ও উত্তেজনা বিরাজ করছে। চা বোর্ডের এমন অন্যায় ও অমানবিক মামলার খবর শুনে মঙ্গলবার সকালে ভুক্তভোগি চা শ্রমিক ও শ্রমিক নেতারা বাগান ব্যবস্থাপকের কার্যালয় ঘিরে প্রতিবাদ ও নিন্দা জানান।

এদিকে, নবনির্বাচিত স্থানীয় সংসদ সদস্য নাসির উদ্দিন আহমেদ মিঠু শপথগ্রহণ শেষে নির্বাচনী এলাকায় ফিরেই বিষয়টি দেখে দিবেন জানিয়ে ততক্ষণ পর্যন্ত শ্রমিক-কর্মচারিদের বিরুদ্ধে কোনো মামলা না করতে প্রতিনিধির মাধ্যমে বাগান ম্যানেজারকে বার্তা পাঠিয়েছেন।

জানা গেছে, নিউ সমনবাগ, মোকাম সেকশন ও পাথারিয়া চা বাগানের শ্রমিকদের মজুরি বন্ধের ও অডিট টিমের সদস্যদের আপত্তিকর মন্তব্যের জের ধরে গত ১৩ই জানুয়ারি প্রায় দেড় হাজার বিক্ষুব্ধ চা শ্রমিক বাগান ম্যানেজার, বাগান কর্মচারি ও অডিট টিমের সদস্যদের অবরুদ্ধ করে রাখে। এতে বাগানে চরম উত্তেজনা দেখা দেয়। খবর পেয়ে ইউএনও গালিব চৌধুরী, থানার ওসি মো. মনিরুজ্জামান খান, স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান ইমরান আহমদসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ ছুটে গেলে তাদের হস্তক্ষেপে অডিট টিমের প্রধান মো. সাইফুল ইসলাম নারী শ্রমিকদের প্রতি অডিট টিমের সদস্যদের অসদাচরণ ও আপত্তিকর মন্তব্যের ঘটনায় দুঃখ প্রকাশ ও ক্ষমা চান। তিনি শ্রমিকদের বকেয়া মজুরী পরিশোধ ও অন্যান্য দাবি-দাওয়া পুরণে টি বোর্ডকে যথাযথভাবে অবহিত করবেন আশ্বস্ত করায় বিক্ষুব্দ চা শ্রমিকরা অবরোধ প্রত্যাহার করেন। ইউএনও, থানার ওসি, ইউপি চেয়ারম্যান, শ্রমিক নেতা ও রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ তখনই বিষয়টির মীমাংসার মাধ্যমে সমাপ্তি করেন।

এদিকে, ঘটনাটি মীমাংসার একমাস তিন দিন পর ১৬ই ফেব্রুয়ারি চা বোর্ডের সচিব মো. মমিনুর রশীদ স্বাক্ষরিত চিঠিতে ১৩ই জানুয়ারির ঘটনায় বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির অভিযোগ এনে বাগানের সহকারি ববস্থাপক রাজ নারায়ন পাল, করণিক রামসুজন ভর, ষ্টোর ক্লার্ক শ্রীকুমার, হেডক্লার্ক এসএম শাহিন, টিলা ক্লার্ক দীপক কুর্মি, কামাল হোসেন, সঞ্জিত রবিদাস, সন্দ্বিপ সিংহ, টিলা স্টাফ জিতেন, নিখিল সাঁওতাল, অজিত রবি দাসসহ ৯৪ জন কর্মকর্তা, শ্রমিক-কর্মচারির বিরুদ্ধে ১৭ই ফেব্রুয়ারির মধ্যে থানায় ফৌজদারি মামলা দায়েরের জন্য নিউ সমনবাগ চা বাগান ব্যবস্থাপক এমদাদুর রহমানকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আর এই খবরে ফুঁসে উঠেছে সমনবাগ, পাথারিয়া ও মোকাম সেকশনের চা শ্রমিকরা। মঙ্গলবার সকালেই তারা ব্যবস্থাপকের কার্যালয় ঘিরে প্রতিবাদ ও নিন্দা জানিয়েছে।

শ্রমিক নেতারা জানান, শ্রমিকদের বকেয়া বেতন-ভাতা পরিশোধের ব্যবস্থা না নিয়ে চা বোর্ড তাদের চাকুরিচ্যুতির ষড়যন্ত্র চালাচ্ছে। ওইদিন অডিটের লোকজন আমাদের মা-বোনদের নিয়ে অশ্লীল মন্তব্য করায় আমরা প্রতিবাদ করেছি। উনারা এমন ব্যবহারের জন্য ক্ষমা চাইল ও দুঃখ প্রকাশ করল। একমাস পর এখন আমাদের বিরুদ্ধে ফৌজদারি অপরাধে মামলার নির্দেশ কিসের ইঙ্গিত। টি বোর্ডের কিছু অফিসার আমাদের চা বাগান ধ্বংস লিলায় মেতেছে। নিউ সমনবাগ চা বাগানের ম্যানেজার এমদাদুর রহমান জানান, টি বোর্ড থেকে ৯৪ জন কর্মকর্তা-কর্মচারি ও শ্রমিকদের একটি তালিকা পাঠানো হয়েছে। ১৩ই জানুয়ারি ঘটনায় তাদের বিরুদ্ধে মঙ্গলবারের মধ্যে থানায় ফৌজদারি মামলা দায়েরের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এই আসনের নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য নাসির উদ্দিন আহমেদ মিঠু প্রতিনিধির মাধ্যমে তিনি এলাকায় ফেরার পূর্ব পর্যন্ত মামলা দায়ের না করার অনুরোধ করেছেন। তিনি বিষয়টি চা বোর্ডকে জানিয়েছেন।

সংসদ সদস্য নাসির উদ্দিন আহমেদ মিঠুর প্রতিনিধি উপজেলা যুবদলের সদস্য সচিব ইকবাল হোসেন ও দক্ষিণভাগ দক্ষিণ ইউনিয়ন বিএনপি’র সভাপতি সাইফুল ইসলাম জানান, ১৩ই জানুয়ারি ঘটনাটি ইউএনও ও থানার ওসিসহ মীমাংসা করেছেন। তখন অনেকের সাথে তারা উপস্থিত ছিলেন। ওই ঘটনায় নিরীহ শ্রমিক-কর্মচারিদের বিরুদ্ধে মামলা দেওয়ার মতো কিছু ঘটেনি। বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের সরকার গঠনের মুহূর্তে দেশকে অস্থিতিশীল করার লক্ষ্যে ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনার কতিপয় আমলা পরিকল্পিতভাবে ষড়যন্ত্র করছে। তারা ইচ্ছে করে শ্রমিকদের উসকে দিতে চাচ্ছে যা অসুভনীয়। চা শ্রমিক-কর্মচারিদের বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের নির্দেশনার বিষয়টি আমাদের এমপি অবহিত হন। তিনি এলাকায় ফেরার পূর্ব পর্যন্ত মামলা দায়ের না করতে ম্যানেজারকে জানাতে আমাদের পাঠিয়েছেন। আমরা এমপির প্রতিনিধিদল ম্যানেজারকে অবহিত করেছি।

ট্যাগস :

এই নিউজটি শেয়ার করুন

চা শ্রমিকদের বিরুদ্ধে মামলা; সংসদ সদস্যের হস্তক্ষেপ

প্রকাশের সময় : ০১:১৩:২৭ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৯ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

চা শ্রমিকদের বিরুদ্ধে মামলা; সংসদ সদস্যের হস্তক্ষেপ

তিমির বনিক,মৌলভীবাজার প্রতিনিধি:

মৌলভীবাজারের বড়লেখায় বাংলাদেশ চা-বোর্ড নিয়ন্ত্রিত নিউ সমনবাগ, পাথারিয়া ও মোকাম চা বাগানের শ্রমিক ও অডিট টিমের মধ্যকার সীমাংসিত একটি ঘটনায় তিন বাগানের কর্মকর্তা-কর্মচারিসহ মোট ৯৪ জনের বিরুদ্ধে ফৌজদারি অপরাধে মামলা দায়েরের নির্দেশ দিয়েছে চা-বোর্ড কতৃপক্ষ। আর এতে চরম ক্ষোভ, অসন্তোষ ও উত্তেজনা বিরাজ করছে। চা বোর্ডের এমন অন্যায় ও অমানবিক মামলার খবর শুনে মঙ্গলবার সকালে ভুক্তভোগি চা শ্রমিক ও শ্রমিক নেতারা বাগান ব্যবস্থাপকের কার্যালয় ঘিরে প্রতিবাদ ও নিন্দা জানান।

এদিকে, নবনির্বাচিত স্থানীয় সংসদ সদস্য নাসির উদ্দিন আহমেদ মিঠু শপথগ্রহণ শেষে নির্বাচনী এলাকায় ফিরেই বিষয়টি দেখে দিবেন জানিয়ে ততক্ষণ পর্যন্ত শ্রমিক-কর্মচারিদের বিরুদ্ধে কোনো মামলা না করতে প্রতিনিধির মাধ্যমে বাগান ম্যানেজারকে বার্তা পাঠিয়েছেন।

জানা গেছে, নিউ সমনবাগ, মোকাম সেকশন ও পাথারিয়া চা বাগানের শ্রমিকদের মজুরি বন্ধের ও অডিট টিমের সদস্যদের আপত্তিকর মন্তব্যের জের ধরে গত ১৩ই জানুয়ারি প্রায় দেড় হাজার বিক্ষুব্ধ চা শ্রমিক বাগান ম্যানেজার, বাগান কর্মচারি ও অডিট টিমের সদস্যদের অবরুদ্ধ করে রাখে। এতে বাগানে চরম উত্তেজনা দেখা দেয়। খবর পেয়ে ইউএনও গালিব চৌধুরী, থানার ওসি মো. মনিরুজ্জামান খান, স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান ইমরান আহমদসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ ছুটে গেলে তাদের হস্তক্ষেপে অডিট টিমের প্রধান মো. সাইফুল ইসলাম নারী শ্রমিকদের প্রতি অডিট টিমের সদস্যদের অসদাচরণ ও আপত্তিকর মন্তব্যের ঘটনায় দুঃখ প্রকাশ ও ক্ষমা চান। তিনি শ্রমিকদের বকেয়া মজুরী পরিশোধ ও অন্যান্য দাবি-দাওয়া পুরণে টি বোর্ডকে যথাযথভাবে অবহিত করবেন আশ্বস্ত করায় বিক্ষুব্দ চা শ্রমিকরা অবরোধ প্রত্যাহার করেন। ইউএনও, থানার ওসি, ইউপি চেয়ারম্যান, শ্রমিক নেতা ও রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ তখনই বিষয়টির মীমাংসার মাধ্যমে সমাপ্তি করেন।

এদিকে, ঘটনাটি মীমাংসার একমাস তিন দিন পর ১৬ই ফেব্রুয়ারি চা বোর্ডের সচিব মো. মমিনুর রশীদ স্বাক্ষরিত চিঠিতে ১৩ই জানুয়ারির ঘটনায় বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির অভিযোগ এনে বাগানের সহকারি ববস্থাপক রাজ নারায়ন পাল, করণিক রামসুজন ভর, ষ্টোর ক্লার্ক শ্রীকুমার, হেডক্লার্ক এসএম শাহিন, টিলা ক্লার্ক দীপক কুর্মি, কামাল হোসেন, সঞ্জিত রবিদাস, সন্দ্বিপ সিংহ, টিলা স্টাফ জিতেন, নিখিল সাঁওতাল, অজিত রবি দাসসহ ৯৪ জন কর্মকর্তা, শ্রমিক-কর্মচারির বিরুদ্ধে ১৭ই ফেব্রুয়ারির মধ্যে থানায় ফৌজদারি মামলা দায়েরের জন্য নিউ সমনবাগ চা বাগান ব্যবস্থাপক এমদাদুর রহমানকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আর এই খবরে ফুঁসে উঠেছে সমনবাগ, পাথারিয়া ও মোকাম সেকশনের চা শ্রমিকরা। মঙ্গলবার সকালেই তারা ব্যবস্থাপকের কার্যালয় ঘিরে প্রতিবাদ ও নিন্দা জানিয়েছে।

শ্রমিক নেতারা জানান, শ্রমিকদের বকেয়া বেতন-ভাতা পরিশোধের ব্যবস্থা না নিয়ে চা বোর্ড তাদের চাকুরিচ্যুতির ষড়যন্ত্র চালাচ্ছে। ওইদিন অডিটের লোকজন আমাদের মা-বোনদের নিয়ে অশ্লীল মন্তব্য করায় আমরা প্রতিবাদ করেছি। উনারা এমন ব্যবহারের জন্য ক্ষমা চাইল ও দুঃখ প্রকাশ করল। একমাস পর এখন আমাদের বিরুদ্ধে ফৌজদারি অপরাধে মামলার নির্দেশ কিসের ইঙ্গিত। টি বোর্ডের কিছু অফিসার আমাদের চা বাগান ধ্বংস লিলায় মেতেছে। নিউ সমনবাগ চা বাগানের ম্যানেজার এমদাদুর রহমান জানান, টি বোর্ড থেকে ৯৪ জন কর্মকর্তা-কর্মচারি ও শ্রমিকদের একটি তালিকা পাঠানো হয়েছে। ১৩ই জানুয়ারি ঘটনায় তাদের বিরুদ্ধে মঙ্গলবারের মধ্যে থানায় ফৌজদারি মামলা দায়েরের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এই আসনের নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য নাসির উদ্দিন আহমেদ মিঠু প্রতিনিধির মাধ্যমে তিনি এলাকায় ফেরার পূর্ব পর্যন্ত মামলা দায়ের না করার অনুরোধ করেছেন। তিনি বিষয়টি চা বোর্ডকে জানিয়েছেন।

সংসদ সদস্য নাসির উদ্দিন আহমেদ মিঠুর প্রতিনিধি উপজেলা যুবদলের সদস্য সচিব ইকবাল হোসেন ও দক্ষিণভাগ দক্ষিণ ইউনিয়ন বিএনপি’র সভাপতি সাইফুল ইসলাম জানান, ১৩ই জানুয়ারি ঘটনাটি ইউএনও ও থানার ওসিসহ মীমাংসা করেছেন। তখন অনেকের সাথে তারা উপস্থিত ছিলেন। ওই ঘটনায় নিরীহ শ্রমিক-কর্মচারিদের বিরুদ্ধে মামলা দেওয়ার মতো কিছু ঘটেনি। বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের সরকার গঠনের মুহূর্তে দেশকে অস্থিতিশীল করার লক্ষ্যে ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনার কতিপয় আমলা পরিকল্পিতভাবে ষড়যন্ত্র করছে। তারা ইচ্ছে করে শ্রমিকদের উসকে দিতে চাচ্ছে যা অসুভনীয়। চা শ্রমিক-কর্মচারিদের বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের নির্দেশনার বিষয়টি আমাদের এমপি অবহিত হন। তিনি এলাকায় ফেরার পূর্ব পর্যন্ত মামলা দায়ের না করতে ম্যানেজারকে জানাতে আমাদের পাঠিয়েছেন। আমরা এমপির প্রতিনিধিদল ম্যানেজারকে অবহিত করেছি।