কালীগঞ্জে আড়াই বছরের শিশুকে বালতিতে চুবিয়ে হত্যা, কিশোরীর থানায় আত্মসমর্পণ
- প্রকাশের সময় : ০৮:৪৪:৩৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ২১ জুন ২০২৬
- / ৫ বার পড়া হয়েছে
গাজীপুরের কালীগঞ্জ পৌরসভার দেওপাড়া এলাকায় আড়াই বছরের শিশুকে বালতির পানিতে চুবিয়ে হত্যা করে হাসপাতালে মৃত্যু নিশ্চিত হয়ে অভিযুক্ত কিশোরী থানায় আত্মসমর্পণ করেছেন। নিহত শিশুর নাম আরিশা আক্তার জান্নাত। থানা সূত্রে জানা যায়, রাজবাড়ীর আলহাজ শেখ কালীগঞ্জের সেভেন রিংস সিমেন্ট কারখানায় চাকরীর সুবাদে পরিবার নিয়ে পৌরসভার দেওপাড়া এলাকায় আবুল কালামের বাড়িতে ভাড়ায় থাকেন। দুই পরিবারের মধ্যে সম্পর্ক ছিল বন্ধুত্বপূর্ণ। শনিবার (২০ জুন) দুপুরে বাড়ির উঠানে দুজন একসঙ্গে খেলছিল। সে সময় দুই পরিবারের লোকজন ঘরের ভেতরে কথা বল ছিলেন। কিছুক্ষণ পর আরিশাকে দেখতে না পেয়ে খুঁজতে বেরিয়ে পড়েন তার বাবা-মা। খোজাখুজির এক পর্যায়ে শিশু আরিশাকে বালতির পানিতে ডুবন্ত অবস্থায় দেখতে পায়। তাকে দ্রুত উদ্ধার করে কালীগঞ্জ উপজেলা সরকারি হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক আরিশাকে মৃত ঘোষণা করেন। কিশোরী মিম হাসপাতালে গিয়ে আরিশার মৃত্যুর খবর নিশ্চিত হয়ে কালীগঞ্জ থানায় আত্মসমর্পণ করে। কিশোরী মীম পুলিশকে জানায়, সে নিজেই আরিশাকে বালতির পানিতে চুবিয়ে হত্যা করেছে। পরে থানা পুলিশ তাকে হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করে। জিজ্ঞাসাবাদে কিশোরী মীম আরিশাকে হত্যার বিস্তারিত বর্ণনা দেন। পুলিশ তার বক্তব্য শুনে কয়েকটি সম্ভাব্য কারণ চিহ্নিত করেছেন। মিমের মা আরিশাকে অতিরিক্ত আদর করতেন এই বিষয়টি মিম মেনে নিতে পারেনি বলে পুলিশ মনে করছেন। ধারণা করা হচ্ছে এ থেকে তার মধ্যে হতাশা ও ক্ষোভ তৈরি হয়। এ ছাড়া সে দীর্ঘদিন ধরে মানসিক ভাবে ক্ষতিগ্রস্থ। এলোমেলো জীবন পার করছেন বলে জানিয়েছেন মীমের বিদ্যালয়ের শিক্ষক ও সহপাঠীরা। বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জানান কোরবানির ঈদের পরে মীম বিদ্যালয়ে আসে নাই। তার মাথায় চুল ছিল বড়। এখন দেখছি বয় কার্ট চুল তার মাথায়। মিম মানসিকভাবে সম্পূর্ণ সুস্থ নয় বলেও জানা গেছে।কালীগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. জাকির হোসেন বলেন, ‘মীমের স্বীকারোক্তি অনুযায়ী সে হত্যা করেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাকে আরও জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। এ বিষয়ে কালীগঞ্জ থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে মামলার নং ২২(৬)২৬।মৃত দেহ ময়না তদন্তের জন্য গাজীপুর শহিদ তাজউদ্দীন আহম্মেদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। অপরাধীরকে ১৬৪ ধারা জবানবন্দি অনুযায়ী গাজীপুর আদালতে প্রেরন করা হয়েছে।





















