ঢাকা , বৃহস্পতিবার, ১৩ অগাস্ট ২০২৬, ২৯ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
রুটি খেতে গিয়ে গলায় আটকে মৃত্যু, প্রাণ গেল সপ্তম শ্রেণির ছাত্রীর প্রবাস জীবন ফেলে কৃষিতে সফল আনসার মিয়া; শ্রেষ্ঠ কৃষকের সংবর্ধনা একটি মাছেই ভাগ্য খুলল জেলেদের, ২২ কেজির দাতিনার দাম আড়াই লাখ সাপ মারতে বেজি এনে বিপাকে জাপান, নির্মূল করতেই কেটে গেল ৪৫ বছর জোড়া খুনের দায়ে নোয়াখালীতে একজনের ফাঁসির রায় মৌলভীবাজার অনলাইন প্রেসক্লাবের একযুগপূর্তি বনাঢ্য আয়োজনে পালিত নবীনগরে লাথির আঘাতে পল্লী চিকিৎসকের মৃত্যু, অভিযুক্ত ভাবি ধর্ম আলাদা, বন্ধুত্ব নয়—বন্ধুর জানাজায় বাকরুদ্ধ প্রদীপ ভাইয়ে ভাইয়ে বিরোধে তালাবদ্ধ কলেজ, ১৬ বছর পর খুলল দ্বার রাষ্ট্রপতি নির্বাচন নিয়ে হাইকোর্টে রিট, চাওয়া হলো তফসিল স্থগিত

ভাইয়ে ভাইয়ে বিরোধে তালাবদ্ধ কলেজ, ১৬ বছর পর খুলল দ্বার

পিরোজপুর প্রতিনিধি
  • প্রকাশের সময় : ০৫:৫২:০৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৩ অগাস্ট ২০২৬
  • / ১১ বার পড়া হয়েছে

পিরোজপুরের নেছারাবাদ উপজেলার কবি নজরুল ইসলাম বিজনেস ম্যানেজমেন্ট কলেজে দীর্ঘ ১৬ বছর পর তালা ভেঙে প্রবেশ করেছেন সদ্য আদালতের রায় পাওয়ার দাবি করা অধ্যক্ষ আসাদুজ্জামান টুলু।

বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) সকালে স্থানীয় বাসিন্দাদের সহায়তায় কলেজের অফিস কক্ষের দুটি তালা ও একটি শ্রেণিকক্ষের তালা ভেঙে তিনি প্রতিষ্ঠানে প্রবেশ করেন।

জানা গেছে, কবি নজরুল ইসলাম বিজনেস ম্যানেজমেন্ট কলেজটি ২০০৪ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়। ২০০৫ সালে তৎকালীন বিএনপি এমপি ও জাতীয় সংসদের হুইপ সৈয়দ শহিদুল হক জামাল কলেজটির উদ্বোধন করেন। প্রতিষ্ঠার ছয় বছর পর ২০১০ সালে কলেজটি এমপিওভুক্ত হয়। এরপর কলেজের অধ্যক্ষের পদ নিয়ে দুই সহোদর বড় ভাই কামরুজ্জামান ও ছোট ভাই আসাদুজ্জামান টুলুর মধ্যে বিরোধ শুরু হয়। উভয়েই অধ্যক্ষের দায়িত্ব দাবি করে মামলা-মোকদ্দমায় জড়িয়ে পড়েন। দীর্ঘদিনের এ বিরোধ ও মামলা জটিলতার কারণে কলেজটির কার্যক্রম কার্যত বন্ধ হয়ে যায়।

আসাদুজ্জামান টুলুর দাবি, তিনি কলেজ প্রতিষ্ঠার শুরু থেকেই অধ্যক্ষের দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন। তার বড় ভাই কামরুজ্জামান তখন গ্র্যাজুয়েশন সম্পন্ন না থাকায় কম্পিউটার অপারেটর পদে চাকরিতে যোগ দেন। পরবর্তীতে তিনি মাস্টার্স পাসের সনদ দেখিয়ে অধ্যক্ষের পদ দাবি করেন বলে অভিযোগ করেন আসাদুজ্জামান। ওই সনদ জাল প্রমাণিত হওয়ায় তার ভাইকে জেল ও জরিমানা ভোগ করতে হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।

আসাদুজ্জামান আরও বলেন, দীর্ঘদিন মামলা পরিচালনার পর তিনি আদালতের রায় পেয়েছেন। এরপর এলাকাবাসী তাকে পুনরায় প্রতিষ্ঠানটি চালুর উদ্যোগ নিতে বলেন। সেই অনুযায়ী বৃহস্পতিবার স্থানীয়দের সঙ্গে নিয়ে কলেজে প্রবেশ করেন তিনি।

কলেজটির ভূমিদাতা পরিবারের সদস্য শরীফ মো. মাসুদ পারভেজ বলেন, তার দাদা মরহুম আব্দুল হাকিম শরীফ কলেজ প্রতিষ্ঠার জন্য জমি দান করেছিলেন। বর্তমানে সেখানে একটি প্রাথমিক বিদ্যালয় চলমান থাকলেও কলেজ প্রতিষ্ঠার পর রাজনৈতিক বিরোধ এবং দুই ভাইয়ের অধ্যক্ষ পদ নিয়ে মামলা-মোকদ্দমার কারণে এর কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায়। একাধিকবার কলেজটি চালুর চেষ্টা করা হলেও তা সম্ভব হয়নি। ছোট ভাই আদালতের রায় পেয়েছেন এমন দাবি পাওয়ার পর কলেজটি চালুর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

কলেজটির ইংরেজি শিক্ষক সুশোভন তালুকদার বলেন, তিনি ২০০৭ থেকে ২০০৮ সাল পর্যন্ত ওই প্রতিষ্ঠানে ইংরেজি শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। সে সময় ছোট ভাই আসাদুজ্জামান টুলু অধ্যক্ষের দায়িত্বে ছিলেন। তার ভাষ্য, বড় ভাই কামরুজ্জামানের মামলার বিপরীতে দুইবার আসাদুজ্জামানের পক্ষে আদালতের রায় হয়েছিল।

অন্যদিকে, অভিযুক্ত শিক্ষক মো. কামরুজ্জামান বলেন, প্রতিষ্ঠানটি বন্ধ থাকলেও এখান থেকে প্রতিবছর শিক্ষার্থীরা পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছেন। চলতি বছরও ২৭ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছেন। বিভিন্ন সমস্যার কারণে স্থানীয়রা কলেজটিতে তালা দিয়ে রেখেছিলেন। আদালতের রায়ের বিষয়ে জানতে চাইলে এ বিষয়ে তিনি কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।

এ বিষয়ে নেছারাবাদ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) অমিত দত্ত বলেন, কলেজটি চালুর জন্য একাধিকবার উদ্যোগ নেওয়া হলেও দুই ভাইয়ের মামলা জটিলতার কারণে তা সম্ভব হয়নি। দুই ভাই-ই অধ্যক্ষের দাবি করে আসছিলেন। তবে আদালতের রায়ের বিষয়ে তিনি অবগত নন বলে জানান।

ট্যাগস :
প্রফেশনাল নিউজ পোর্টাল দিচ্ছে থিম বিক্রয় ডটকম

এই নিউজটি শেয়ার করুন

ভাইয়ে ভাইয়ে বিরোধে তালাবদ্ধ কলেজ, ১৬ বছর পর খুলল দ্বার

প্রকাশের সময় : ০৫:৫২:০৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৩ অগাস্ট ২০২৬

পিরোজপুরের নেছারাবাদ উপজেলার কবি নজরুল ইসলাম বিজনেস ম্যানেজমেন্ট কলেজে দীর্ঘ ১৬ বছর পর তালা ভেঙে প্রবেশ করেছেন সদ্য আদালতের রায় পাওয়ার দাবি করা অধ্যক্ষ আসাদুজ্জামান টুলু।

বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) সকালে স্থানীয় বাসিন্দাদের সহায়তায় কলেজের অফিস কক্ষের দুটি তালা ও একটি শ্রেণিকক্ষের তালা ভেঙে তিনি প্রতিষ্ঠানে প্রবেশ করেন।

জানা গেছে, কবি নজরুল ইসলাম বিজনেস ম্যানেজমেন্ট কলেজটি ২০০৪ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়। ২০০৫ সালে তৎকালীন বিএনপি এমপি ও জাতীয় সংসদের হুইপ সৈয়দ শহিদুল হক জামাল কলেজটির উদ্বোধন করেন। প্রতিষ্ঠার ছয় বছর পর ২০১০ সালে কলেজটি এমপিওভুক্ত হয়। এরপর কলেজের অধ্যক্ষের পদ নিয়ে দুই সহোদর বড় ভাই কামরুজ্জামান ও ছোট ভাই আসাদুজ্জামান টুলুর মধ্যে বিরোধ শুরু হয়। উভয়েই অধ্যক্ষের দায়িত্ব দাবি করে মামলা-মোকদ্দমায় জড়িয়ে পড়েন। দীর্ঘদিনের এ বিরোধ ও মামলা জটিলতার কারণে কলেজটির কার্যক্রম কার্যত বন্ধ হয়ে যায়।

আসাদুজ্জামান টুলুর দাবি, তিনি কলেজ প্রতিষ্ঠার শুরু থেকেই অধ্যক্ষের দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন। তার বড় ভাই কামরুজ্জামান তখন গ্র্যাজুয়েশন সম্পন্ন না থাকায় কম্পিউটার অপারেটর পদে চাকরিতে যোগ দেন। পরবর্তীতে তিনি মাস্টার্স পাসের সনদ দেখিয়ে অধ্যক্ষের পদ দাবি করেন বলে অভিযোগ করেন আসাদুজ্জামান। ওই সনদ জাল প্রমাণিত হওয়ায় তার ভাইকে জেল ও জরিমানা ভোগ করতে হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।

আসাদুজ্জামান আরও বলেন, দীর্ঘদিন মামলা পরিচালনার পর তিনি আদালতের রায় পেয়েছেন। এরপর এলাকাবাসী তাকে পুনরায় প্রতিষ্ঠানটি চালুর উদ্যোগ নিতে বলেন। সেই অনুযায়ী বৃহস্পতিবার স্থানীয়দের সঙ্গে নিয়ে কলেজে প্রবেশ করেন তিনি।

কলেজটির ভূমিদাতা পরিবারের সদস্য শরীফ মো. মাসুদ পারভেজ বলেন, তার দাদা মরহুম আব্দুল হাকিম শরীফ কলেজ প্রতিষ্ঠার জন্য জমি দান করেছিলেন। বর্তমানে সেখানে একটি প্রাথমিক বিদ্যালয় চলমান থাকলেও কলেজ প্রতিষ্ঠার পর রাজনৈতিক বিরোধ এবং দুই ভাইয়ের অধ্যক্ষ পদ নিয়ে মামলা-মোকদ্দমার কারণে এর কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায়। একাধিকবার কলেজটি চালুর চেষ্টা করা হলেও তা সম্ভব হয়নি। ছোট ভাই আদালতের রায় পেয়েছেন এমন দাবি পাওয়ার পর কলেজটি চালুর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

কলেজটির ইংরেজি শিক্ষক সুশোভন তালুকদার বলেন, তিনি ২০০৭ থেকে ২০০৮ সাল পর্যন্ত ওই প্রতিষ্ঠানে ইংরেজি শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। সে সময় ছোট ভাই আসাদুজ্জামান টুলু অধ্যক্ষের দায়িত্বে ছিলেন। তার ভাষ্য, বড় ভাই কামরুজ্জামানের মামলার বিপরীতে দুইবার আসাদুজ্জামানের পক্ষে আদালতের রায় হয়েছিল।

অন্যদিকে, অভিযুক্ত শিক্ষক মো. কামরুজ্জামান বলেন, প্রতিষ্ঠানটি বন্ধ থাকলেও এখান থেকে প্রতিবছর শিক্ষার্থীরা পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছেন। চলতি বছরও ২৭ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছেন। বিভিন্ন সমস্যার কারণে স্থানীয়রা কলেজটিতে তালা দিয়ে রেখেছিলেন। আদালতের রায়ের বিষয়ে জানতে চাইলে এ বিষয়ে তিনি কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।

এ বিষয়ে নেছারাবাদ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) অমিত দত্ত বলেন, কলেজটি চালুর জন্য একাধিকবার উদ্যোগ নেওয়া হলেও দুই ভাইয়ের মামলা জটিলতার কারণে তা সম্ভব হয়নি। দুই ভাই-ই অধ্যক্ষের দাবি করে আসছিলেন। তবে আদালতের রায়ের বিষয়ে তিনি অবগত নন বলে জানান।