ধর্ম আলাদা, বন্ধুত্ব নয়—বন্ধুর জানাজায় বাকরুদ্ধ প্রদীপ
- প্রকাশের সময় : ০৬:০১:৫২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৩ অগাস্ট ২০২৬
- / ১২ বার পড়া হয়েছে
বন্ধুত্বের কোনো ধর্ম নেই, নেই জাত-পাতের বিভেদ। সুখে-দুঃখে পাশে থাকা সেই বন্ধুত্ব কখনো কখনো মৃত্যুর পরও অটুট থাকে— যার এক আবেগঘন দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন সনাতন ধর্মাবলম্বী প্রদীপ সরকার। তার বাড়ি চাঁদপুরের কচুয়া উপজেলার দোয়াটি গ্রামে।
একই উপজেলার দহুলিয়া গ্রামের প্রিয় বন্ধু কামাল হোসেন বাবুলের মৃত্যুর খবর কিছুতেই মেনে নিতে পারছিলেন না প্রদীপ সরকার। বুকভরা কষ্ট আর চোখের জলে বন্ধুর জানাজায় নীরবে দাঁড়িয়ে ছিলেন তিনি। চারপাশে যখন সবাই প্রিয়জন হারানোর শোকে কাতর, তখন প্রদীপ সরকারের নির্বাক উপস্থিতি ও অশ্রুসিক্ত চোখ যেন মনে করিয়ে দিচ্ছিল— বন্ধু হারানোর বেদনা কোনো ধর্মের সীমারেখায় আটকে থাকে না।
জীবনের একসময়ে একই সঙ্গে পথ হেঁটেছেন এই দুই বন্ধু। হাসি-আনন্দ আর সুখ-দুঃখ ভাগাভাগি করে কেটেছে তাদের জীবনের অনেকটা সময়। কিন্তু কে জানত, একদিন সেই প্রিয় বন্ধুকেই এভাবে শেষ বিদায় জানাতে হবে!
কামাল হোসেন বাবুল (৫৫) ছিলেন একজন সহজ-সরল ও স্নেহময় মানুষ। বুধবার রাত ১১টার দিকে অসুস্থতাজনিত কারণে তিনি মৃত্যুবরণ করেন। মৃত্যুকালে তিনি স্ত্রী, তিন ছেলে ও এক মেয়ে রেখে গেছেন।
বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) তার জানাজায় পরিবারের সদস্য, স্বজন, বন্ধুবান্ধবসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মী ও স্থানীয়রা উপস্থিত ছিলেন। তবে সবার নজর কেড়েছিল সনাতন ধর্মাবলম্বী বন্ধু প্রদীপ সরকারের উপস্থিতি। ধর্মীয় ভিন্নতা ভুলে বন্ধুর শেষ বিদায়ে অংশ নেওয়ার এই দৃশ্য উপস্থিত অনেকের চোখেই জল এনে দেয়।
জানাজার কাতারে দাঁড়িয়ে প্রদীপ সরকার যেন বারবার ফিরে যাচ্ছিলেন পুরোনো দিনগুলোতে। প্রিয় বন্ধুর সঙ্গে কাটানো স্মৃতিগুলো মনে করে তিনি আর চোখের পানি ধরে রাখতে পারেননি। শেষবারের মতো বন্ধুকে দেখতে এসে নীরবে তাকিয়ে ছিলেন তিনি, তার অশ্রু যেন বলছিল— বন্ধু, তুই চলে গেলি, কিন্তু আমাদের বন্ধুত্বের স্মৃতিগুলো অমলিন রয়ে যাবে।
প্রদীপ সরকারের এই উপস্থিতি আবারও প্রমাণ করল— মানুষের হৃদয়ের সম্পর্ক যেকোনো ধর্মীয় পরিচয়ের চেয়েও অনেক বড়। একজন মুসলিম বন্ধুর শেষ বিদায়ে সনাতন ধর্মাবলম্বী বন্ধুর এই অশ্রুসিক্ত উপস্থিতি আমাদের সমাজে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি, মানবিকতা ও অকৃত্রিম বন্ধুত্বের এক অনন্য উদাহরণ হয়ে রইল।






















