ঢাকা , বৃহস্পতিবার, ১৩ অগাস্ট ২০২৬, ২৯ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
রুটি খেতে গিয়ে গলায় আটকে মৃত্যু, প্রাণ গেল সপ্তম শ্রেণির ছাত্রীর প্রবাস জীবন ফেলে কৃষিতে সফল আনসার মিয়া; শ্রেষ্ঠ কৃষকের সংবর্ধনা একটি মাছেই ভাগ্য খুলল জেলেদের, ২২ কেজির দাতিনার দাম আড়াই লাখ সাপ মারতে বেজি এনে বিপাকে জাপান, নির্মূল করতেই কেটে গেল ৪৫ বছর জোড়া খুনের দায়ে নোয়াখালীতে একজনের ফাঁসির রায় মৌলভীবাজার অনলাইন প্রেসক্লাবের একযুগপূর্তি বনাঢ্য আয়োজনে পালিত নবীনগরে লাথির আঘাতে পল্লী চিকিৎসকের মৃত্যু, অভিযুক্ত ভাবি ধর্ম আলাদা, বন্ধুত্ব নয়—বন্ধুর জানাজায় বাকরুদ্ধ প্রদীপ ভাইয়ে ভাইয়ে বিরোধে তালাবদ্ধ কলেজ, ১৬ বছর পর খুলল দ্বার রাষ্ট্রপতি নির্বাচন নিয়ে হাইকোর্টে রিট, চাওয়া হলো তফসিল স্থগিত

সাপ মারতে বেজি এনে বিপাকে জাপান, নির্মূল করতেই কেটে গেল ৪৫ বছর

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
  • প্রকাশের সময় : ০৮:৪১:০৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৩ অগাস্ট ২০২৬
  • / ১২ বার পড়া হয়েছে

জাপানের আমামি ওশিমা দ্বীপে ‘হাবু’ নামের মারাত্মক বিষধর পিট ভাইপার সাপের উপদ্রব কমাতে বাংলাদেশ থেকে বেজি নিয়ে গিয়ে বড় ধরনের পরিবেশগত বিপদে পড়েছিল দেশটির কর্তৃপক্ষ।

টাইমস অব ইন্ডিয়া ও ক্যামব্রিজ ইউনিভার্সিটি প্রেসের প্রতিবেদন সূত্রে জানা যায়, ১৯৬৭ থেকে ১৯৭৬ সাল পর্যন্ত ওই অঞ্চলে ২ হাজার ৬৭৩ জন মানুষ হাবু সাপের কামড়ের শিকার হন। সাপ থেকে রক্ষা পেতে ১৯৭৯ সালে বাংলাদেশ থেকে আগে ওকিনাওয়ায় নেওয়া বেজির বংশধর থেকে ৩০টি বেজি আনা হয়েছিল আমামি ওশিমা দ্বীপে।

তবে সাপের উৎপাত বন্ধে গৃহীত এই পরিকল্পনাটি হিতে বিপরীত হয়। এর অন্যতম মূল কারণ ছিল- হাবু মূলত একটি নিশাচর প্রাণী এবং বেজি দিনের বেলা সক্রিয় থাকে। ফলে সাপের সাথে বেজির দেখা হওয়ার সম্ভাবনা ছিল খুবই কম।

জাপানের পরিবেশ মন্ত্রণালয় জানায়, হাবু সাপ শিকারের বদলে দিনের বেলা সক্রিয় থাকা বিপন্ন আমামি খরগোশ সহ দ্বীপটির বিরল বন্যপ্রাণিদের শিকার করতে শুরু করে বেজিগুলো। প্রাকৃতিক শিকারি না থাকায় এবং পর্যাপ্ত খাবারের কারণে ২০০০ সালের দিকে ৩০টি বেজি থেকে তা প্রায় ১০ হাজারে পরিণত হয়।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ২০০০ সাল থেকে শুরু হয় ব্যাপক নিধন অভিযান। ‘আমামি মঙ্গুজ বাস্টার্স’ দল গঠন করে ৩০ হাজারের বেশি ফাঁদ, ৩০০ ক্যামেরা এবং প্রশিক্ষিত কুকুর দিয়ে পুরো দ্বীপে বেজি খোঁজার কাজ চালানো হয়।

দীর্ঘ অভিযানের পর ২০১৮ সালের এপ্রিলে শেষবারের মতো একটি বেজি ফাঁদে ধরা পড়ে। এরপর টানা কয়েক বছর ব্যাপক নজরদারি চালিয়ে অবশেষে ২০২৪ সালের ৩ সেপ্টেম্বর দ্বীপটিকে পুরোপুরি বেজিমুক্ত ঘোষণা করে দেশটির পরিবেশ মন্ত্রণালয়।

বাংলাদেশ থেকে যাওয়া এই বেজির হাত থেকে বিরল প্রাণী ও পরিবেশ বাঁচাতে জাপানের সময় লাগে দীর্ঘ ৪৫ বছর। অন্যদিকে ২০০০ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত এই নিধন অভিযানে জাপানের ব্যয় হয়েছে ৩.৫৭ বিলিয়ন ইয়েন, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ২৯০ কোটি টাকা।

ট্যাগস :
প্রফেশনাল নিউজ পোর্টাল দিচ্ছে থিম বিক্রয় ডটকম

এই নিউজটি শেয়ার করুন

সাপ মারতে বেজি এনে বিপাকে জাপান, নির্মূল করতেই কেটে গেল ৪৫ বছর

প্রকাশের সময় : ০৮:৪১:০৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৩ অগাস্ট ২০২৬

জাপানের আমামি ওশিমা দ্বীপে ‘হাবু’ নামের মারাত্মক বিষধর পিট ভাইপার সাপের উপদ্রব কমাতে বাংলাদেশ থেকে বেজি নিয়ে গিয়ে বড় ধরনের পরিবেশগত বিপদে পড়েছিল দেশটির কর্তৃপক্ষ।

টাইমস অব ইন্ডিয়া ও ক্যামব্রিজ ইউনিভার্সিটি প্রেসের প্রতিবেদন সূত্রে জানা যায়, ১৯৬৭ থেকে ১৯৭৬ সাল পর্যন্ত ওই অঞ্চলে ২ হাজার ৬৭৩ জন মানুষ হাবু সাপের কামড়ের শিকার হন। সাপ থেকে রক্ষা পেতে ১৯৭৯ সালে বাংলাদেশ থেকে আগে ওকিনাওয়ায় নেওয়া বেজির বংশধর থেকে ৩০টি বেজি আনা হয়েছিল আমামি ওশিমা দ্বীপে।

তবে সাপের উৎপাত বন্ধে গৃহীত এই পরিকল্পনাটি হিতে বিপরীত হয়। এর অন্যতম মূল কারণ ছিল- হাবু মূলত একটি নিশাচর প্রাণী এবং বেজি দিনের বেলা সক্রিয় থাকে। ফলে সাপের সাথে বেজির দেখা হওয়ার সম্ভাবনা ছিল খুবই কম।

জাপানের পরিবেশ মন্ত্রণালয় জানায়, হাবু সাপ শিকারের বদলে দিনের বেলা সক্রিয় থাকা বিপন্ন আমামি খরগোশ সহ দ্বীপটির বিরল বন্যপ্রাণিদের শিকার করতে শুরু করে বেজিগুলো। প্রাকৃতিক শিকারি না থাকায় এবং পর্যাপ্ত খাবারের কারণে ২০০০ সালের দিকে ৩০টি বেজি থেকে তা প্রায় ১০ হাজারে পরিণত হয়।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ২০০০ সাল থেকে শুরু হয় ব্যাপক নিধন অভিযান। ‘আমামি মঙ্গুজ বাস্টার্স’ দল গঠন করে ৩০ হাজারের বেশি ফাঁদ, ৩০০ ক্যামেরা এবং প্রশিক্ষিত কুকুর দিয়ে পুরো দ্বীপে বেজি খোঁজার কাজ চালানো হয়।

দীর্ঘ অভিযানের পর ২০১৮ সালের এপ্রিলে শেষবারের মতো একটি বেজি ফাঁদে ধরা পড়ে। এরপর টানা কয়েক বছর ব্যাপক নজরদারি চালিয়ে অবশেষে ২০২৪ সালের ৩ সেপ্টেম্বর দ্বীপটিকে পুরোপুরি বেজিমুক্ত ঘোষণা করে দেশটির পরিবেশ মন্ত্রণালয়।

বাংলাদেশ থেকে যাওয়া এই বেজির হাত থেকে বিরল প্রাণী ও পরিবেশ বাঁচাতে জাপানের সময় লাগে দীর্ঘ ৪৫ বছর। অন্যদিকে ২০০০ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত এই নিধন অভিযানে জাপানের ব্যয় হয়েছে ৩.৫৭ বিলিয়ন ইয়েন, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ২৯০ কোটি টাকা।