ঢাকা , বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৯ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
হোয়াটসঅ্যাপ চ্যাট ফাঁস ঠেকাতে,এই ৩ সেটিংস এখনই চালু করুন। গঙ্গাচড়ায় অভিযানে দেশীয় তৈরি ওয়ান শ্যুটার পিস্তল উদ্ধার গঙ্গাচড়ায় জমি বিরোধে অন্তঃসত্ত্বা নারীকে রড দিয়ে আঘাতের অভিযোগ গোসলের সময় ব্যথায় কেঁদে ওঠে ২ বছরের শিশু, কারণ জানার পর হতবাক স্বজনরা মোবাইলেই জানুন বাবা-দাদার নামে কোথায় কতটুকু জমি ডিএনসির অভিযানে ২০০ পিস ইয়াবাসহ আটক ১ আজ সিঙ্গেল দিবস, একাই যখন নিজের সঙ্গী! এক্সের প্রোফাইল দেখা ছাড়তে পারছেন না? কাজে দেবে ৫ সহজ কৌশল ​চাঁপাইনবাবগঞ্জ পৌরবাসীর বাড়ি বাড়ি বিশুদ্ধ পানি পৌঁছে দেওয়ার উদ্যোগ: এমপি নূরুল ইসলাম বুলবুল ব্যাটারি চালিত রিকশার রোড পারমিট ও ১০ দফা দাবিতে দুই সিটি কর্পোরেশনে স্মারকলিপি পেশ

গঙ্গাচড়ায় জমি বিরোধে অন্তঃসত্ত্বা নারীকে রড দিয়ে আঘাতের অভিযোগ

মোঃ শফিকুজ্জামান সোহেল
মোঃ শফিকুজ্জামান সোহেল, গঙ্গাচড়া (রংপুর) প্রতিনিধি
  • প্রকাশের সময় : ০২:৪১:৩৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • / 6 বার পড়া হয়েছে

রংপুরের গঙ্গাচড়ায় পৈতৃক জমি নিয়ে বিরোধের জেরে উঠান বৈঠকে হামলা ও মারধরের অভিযোগ উঠেছে। এ সময় দুই মাসের অন্তঃসত্ত্বা এক নারীকে লোহার রড দিয়ে তলপেটে আঘাত করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন তাঁর স্বামী। একই ঘটনায় ওই নারীর গলায় থাকা প্রায় ৬০ হাজার টাকা মূল্যের স্বর্ণের চেইন ছিনিয়ে নেওয়া এবং শ্লীলতাহানির অভিযোগও করা হয়েছে।

‎এ ঘটনায় উত্তর খলেয়া সরদারপাড়া গ্রামের মো. আব্দুল হাকিম (৩৯) গঙ্গাচড়া থানায় ছয়জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতনামা আরও কয়েকজনের বিরুদ্ধে এজাহার দিয়েছেন।

‎এজাহার সূত্রে জানা যায়, আব্দুল হাকিমের পৈতৃক জমি কয়েকজন ব্যক্তি জবরদখল করে রেখেছেন বলে অভিযোগ তাঁর। জমি উদ্ধারের জন্য স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও গণ্যমান্য ব্যক্তিদের কাছে বিচার চান তিনি। এরই ধারাবাহিকতায় গত ১০ সেপ্টেম্বর রাত সাড়ে ৭টার দিকে তাঁর বাড়ির উঠানে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও গণ্যমান্য ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে বৈঠক বসে।

‎এজাহারে আব্দুল হাকিম অভিযোগ করেন, বৈঠকে নিজের বক্তব্য দেওয়ার সময় অভিযুক্তরা উত্তেজিত হয়ে তাঁকে গালিগালাজ করেন এবং বৈঠকের সিদ্ধান্ত না মেনে উপস্থিত ব্যক্তিদের চলে যেতে বলেন। এর প্রতিবাদ করলে এক আসামির নির্দেশে অন্যরা লাঠি, দা, ছোরা, লোহার রড ও হাসুয়াসহ দেশীয় অস্ত্র নিয়ে তাঁকে মারধর শুরু করেন।

‎স্বামীকে রক্ষা করতে এগিয়ে এলে তাঁর দুই মাসের অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রী মোছা. ফাতেমা বেগম (২৩) ও ছোট ভাই শাহীন বাদশাকেও মারধর করা হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে। এ সময় এক নম্বর আসামি লোহার রড দিয়ে ফাতেমা বেগমের তলপেটে আঘাত করেন বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে। এতে তিনি মাটিতে পড়ে গেলে তাঁর পরনের কাপড় টানাহেঁচড়া করে শ্লীলতাহানির অভিযোগও করা হয়েছে।

‎এজাহারে আরও বলা হয়, হামলার সময় ফাতেমা বেগমের গলায় থাকা প্রায় ৬০ হাজার টাকা মূল্যের স্বর্ণের চেইন জোর করে নিয়ে যাওয়া হয়। একই ঘটনায় আব্দুল হাকিম ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের শরীরের বিভিন্ন স্থানে জখম করা হয়েছে বলেও অভিযোগ করা হয়েছে।

‎তাঁদের চিৎকার শুনে স্থানীয় কয়েকজন এগিয়ে এসে আহতদের উদ্ধার করেন বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে। এ সময় অভিযুক্তরা তাঁদের প্রাণনাশসহ বিভিন্ন ধরনের ভয়ভীতি ও হুমকি দিয়ে ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন বলেও অভিযোগ করা হয়েছে।

‎ঘটনার পর আব্দুল হাকিম ও তাঁর স্ত্রী স্থানীয় পল্লি চিকিৎসকের কাছ থেকে প্রাথমিক চিকিৎসা নেন। পরে ফাতেমা বেগমের শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে গত ১৪ সেপ্টেম্বর তাঁকে গঙ্গাচড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসক তাঁর গর্ভের সন্তান ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে বলে জানিয়েছেন—এমন দাবি করা হয়েছে এজাহারে।

‎আব্দুল হাকিম জানান, স্ত্রীকে হাসপাতালে ভর্তি রেখে চিকিৎসা করানো এবং স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও গণ্যমান্য ব্যক্তিদের সঙ্গে পরামর্শের কারণে থানায় এজাহার দিতে কিছুটা বিলম্ব হয়েছে।

‎এ ঘটনায় গঙ্গাচড়া থানায় দণ্ডবিধির বিভিন্ন ধারায় মামলা রুজু হয়েছে বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।

‎অভিযোগের বিষয়ে গঙ্গাচড়া মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ আব্দুর ছবুর জানান, দুই পক্ষ থানায় অভিযোগ করেছে, তদন্ত করে আইনগত পদক্ষেপ প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

এই নিউজটি শেয়ার করুন

গঙ্গাচড়ায় জমি বিরোধে অন্তঃসত্ত্বা নারীকে রড দিয়ে আঘাতের অভিযোগ

প্রকাশের সময় : ০২:৪১:৩৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬

রংপুরের গঙ্গাচড়ায় পৈতৃক জমি নিয়ে বিরোধের জেরে উঠান বৈঠকে হামলা ও মারধরের অভিযোগ উঠেছে। এ সময় দুই মাসের অন্তঃসত্ত্বা এক নারীকে লোহার রড দিয়ে তলপেটে আঘাত করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন তাঁর স্বামী। একই ঘটনায় ওই নারীর গলায় থাকা প্রায় ৬০ হাজার টাকা মূল্যের স্বর্ণের চেইন ছিনিয়ে নেওয়া এবং শ্লীলতাহানির অভিযোগও করা হয়েছে।

‎এ ঘটনায় উত্তর খলেয়া সরদারপাড়া গ্রামের মো. আব্দুল হাকিম (৩৯) গঙ্গাচড়া থানায় ছয়জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতনামা আরও কয়েকজনের বিরুদ্ধে এজাহার দিয়েছেন।

‎এজাহার সূত্রে জানা যায়, আব্দুল হাকিমের পৈতৃক জমি কয়েকজন ব্যক্তি জবরদখল করে রেখেছেন বলে অভিযোগ তাঁর। জমি উদ্ধারের জন্য স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও গণ্যমান্য ব্যক্তিদের কাছে বিচার চান তিনি। এরই ধারাবাহিকতায় গত ১০ সেপ্টেম্বর রাত সাড়ে ৭টার দিকে তাঁর বাড়ির উঠানে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও গণ্যমান্য ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে বৈঠক বসে।

‎এজাহারে আব্দুল হাকিম অভিযোগ করেন, বৈঠকে নিজের বক্তব্য দেওয়ার সময় অভিযুক্তরা উত্তেজিত হয়ে তাঁকে গালিগালাজ করেন এবং বৈঠকের সিদ্ধান্ত না মেনে উপস্থিত ব্যক্তিদের চলে যেতে বলেন। এর প্রতিবাদ করলে এক আসামির নির্দেশে অন্যরা লাঠি, দা, ছোরা, লোহার রড ও হাসুয়াসহ দেশীয় অস্ত্র নিয়ে তাঁকে মারধর শুরু করেন।

‎স্বামীকে রক্ষা করতে এগিয়ে এলে তাঁর দুই মাসের অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রী মোছা. ফাতেমা বেগম (২৩) ও ছোট ভাই শাহীন বাদশাকেও মারধর করা হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে। এ সময় এক নম্বর আসামি লোহার রড দিয়ে ফাতেমা বেগমের তলপেটে আঘাত করেন বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে। এতে তিনি মাটিতে পড়ে গেলে তাঁর পরনের কাপড় টানাহেঁচড়া করে শ্লীলতাহানির অভিযোগও করা হয়েছে।

‎এজাহারে আরও বলা হয়, হামলার সময় ফাতেমা বেগমের গলায় থাকা প্রায় ৬০ হাজার টাকা মূল্যের স্বর্ণের চেইন জোর করে নিয়ে যাওয়া হয়। একই ঘটনায় আব্দুল হাকিম ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের শরীরের বিভিন্ন স্থানে জখম করা হয়েছে বলেও অভিযোগ করা হয়েছে।

‎তাঁদের চিৎকার শুনে স্থানীয় কয়েকজন এগিয়ে এসে আহতদের উদ্ধার করেন বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে। এ সময় অভিযুক্তরা তাঁদের প্রাণনাশসহ বিভিন্ন ধরনের ভয়ভীতি ও হুমকি দিয়ে ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন বলেও অভিযোগ করা হয়েছে।

‎ঘটনার পর আব্দুল হাকিম ও তাঁর স্ত্রী স্থানীয় পল্লি চিকিৎসকের কাছ থেকে প্রাথমিক চিকিৎসা নেন। পরে ফাতেমা বেগমের শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে গত ১৪ সেপ্টেম্বর তাঁকে গঙ্গাচড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসক তাঁর গর্ভের সন্তান ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে বলে জানিয়েছেন—এমন দাবি করা হয়েছে এজাহারে।

‎আব্দুল হাকিম জানান, স্ত্রীকে হাসপাতালে ভর্তি রেখে চিকিৎসা করানো এবং স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও গণ্যমান্য ব্যক্তিদের সঙ্গে পরামর্শের কারণে থানায় এজাহার দিতে কিছুটা বিলম্ব হয়েছে।

‎এ ঘটনায় গঙ্গাচড়া থানায় দণ্ডবিধির বিভিন্ন ধারায় মামলা রুজু হয়েছে বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।

‎অভিযোগের বিষয়ে গঙ্গাচড়া মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ আব্দুর ছবুর জানান, দুই পক্ষ থানায় অভিযোগ করেছে, তদন্ত করে আইনগত পদক্ষেপ প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।